
অনলাইন শুক্রবার ০৯ অক্টোবর ২০২৬
মিয়ানমারে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত, পেছনে বিরল খনিজের সমীকরণ।
ওয়াশিংটন | আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারের সামরিক নেতৃত্বকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার নীতি নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটনের অবস্থানে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের Intelligence and Research শাখার Assistant Secretary Michael Vance সেপ্টেম্বর মাসে নেপিদোতে মিয়ানমারের নেতা মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। Reuters-এর মতে, ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বরের এই বৈঠক ছিল অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারের সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগগুলোর একটি।
প্রাথমিকভাবে মার্কিন ব্যবসায়ী Adam Castillo-কে মুক্ত করার বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রে থাকলেও, পরবর্তী পর্যায়ে মিয়ানমারের scam-centre বন্ধ করা এবং দেশটির বিপুল rare-earth mineral সম্পদে সম্ভাব্য প্রবেশাধিকার নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে Reuters জানিয়েছে।
মিয়ানমারের বিরল খনিজ সম্পদের গুরুত্ব মূলত heavy rare earths-এর কারণে। মার্কিন Geological Survey-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে মিয়ানমার বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম rare-earth উৎপাদক ছিল এবং বৈশ্বিক উৎপাদনের প্রায় ৭.১ শতাংশ তার দখলে ছিল। একই বছর দেশটি প্রায় ২৭ হাজার টন rare-earth oxide equivalent চীনে রপ্তানি করেছে।
বিশেষ করে কাচিন অঞ্চলের rare-earth খনিগুলো বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ। Reuters-এর আগের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, কাচিনে বিশ্বের heavy rare earth-এর একটি বড় অংশ উৎপাদিত হয় এবং এসব খনিজ মূলত চীনে যায়, যেখানে এগুলো প্রক্রিয়াজাত করে বৈদ্যুতিক গাড়ি ও উইন্ড টারবাইনের মতো প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় ম্যাগনেট তৈরি করা হয়।
এই কারণেই মিয়ানমারের rare-earth সম্পদ এখন শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি বা চীন-মিয়ানমার সম্পর্কের বিষয় নয়, বরং বৃহত্তর US-China critical-minerals competition-এর অংশ হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র চীনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা তৈরি করতে চাইছে। Reuters-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের rare-earth deposits নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের আলোচনাও সেই বৃহত্তর সরবরাহ-বৈচিত্র্যকরণের প্রচেষ্টার অংশ।
তবে মিয়ানমারের rare-earth খাতের নিয়ন্ত্রণ জটিল। কাচিনের গুরুত্বপূর্ণ খনি অঞ্চলগুলোর কিছু অংশ মিয়ানমারের সামরিক সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে এবং জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি এই সম্পদে প্রবেশ করতে চাইলে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত বাধা তৈরি হতে পারে।
এর আগে ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের সামরিক নেতৃত্ব ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ওপর একাধিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। তবে সাম্প্রতিক মার্কিন নীতিতে নিরাপত্তা, scam networks এবং critical minerals-এর মতো বাস্তব স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে মিয়ানমারের বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন বলছে, এই যোগাযোগের অর্থ মিয়ানমারের অন্যান্য রাজনৈতিক ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা নয়।
ফলে মিয়ানমারকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কূটনৈতিক তৎপরতার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। তবে rare earth access যে এই নীতিগত পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা, তা সাম্প্রতিক মার্কিন-মিয়ানমার যোগাযোগে ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
Indian Defence Policy And Reality’s Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।





















