, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ওরা দুজনই তৌকীর বুয়েটের বিপাশাচারুকলার

  • প্রকাশের সময় : ০৬:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
  • ৪১ পড়া হয়েছে

ওরা দুজনই কারিগরি শিক্ষা ও প্রকৌশলবিদ্যায় পারদর্শী এবং উভয়ই বুয়েটের গর্বিত কৃতী শিক্ষার্থী। এ কারণে তাদের বাস্তবসম্মত জ্ঞান রয়েছে। ফলে তাদের জীবনের হাসি-কান্না, আনন্দ, সুখ-দুঃখ, অনুভব-অনুভূতি, স্বপ্ন, চাহিদা ও ইচ্ছাগুলো সবই যুক্তিসম্মত। যার জন্য তাদের আর কৃত্রিম চুলে রঙ কিংবা মুখে মেকআপ বা মুখোশের প্রয়োজন পড়ে না।

ছবিতে থাকা অভিনেতা ও পরিচালক তৌকীর আহমেদ হলেন বুয়েটের (BUET) স্থাপত্যবিদ্যার কৃতি ছাত্র, আর অভিনেত্রী ও চিত্রশিল্পী বিপাশা হায়াত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী। তাঁরা দুজনেই এমন শিক্ষায় শিক্ষিত যা মানুষকে বাস্তবসম্মত, সৃজনশীল এবং যুক্তিভিত্তিক চিন্তা করতে শেখায়।

এই প্রায়োগিক ও কারিগরি শিক্ষার কারণেই জীবনের হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখ বা স্বপ্নগুলোকে তাঁরা খুব বাস্তবিকভাবে গ্রহণ করতে পেরেছেন। তাঁদের জীবন দর্শনে কোনো কৃত্রিমতা বা মুখোশের স্থান নেই, কারণ তাঁরা জানেন—’Simplicity is the best’ (সরলতাই শ্রেষ্ঠ সৌন্দর্য)।

আমাদের সমাজে সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার জন্য এই বোধটা আজ খুব প্রয়োজন। আসলে সচেতনতা ও প্রকৃত শিক্ষা একসাথে পেতে হলে কারিগরি, প্রকৌশল ও প্রায়োগিক শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। এই শিক্ষা মানুষকে শুধু ডিগ্রি দেয় না, বরং জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে ‘পারফেক্ট’ এবং আত্মনির্ভরশীল হতে শেখায়।

দুর্ভাগ্যবশত, আমরা এখনো সেই পুরোনো ব্রিটিশ পদ্ধতির মুখস্থ বিদ্যায় আটকে আছি, যা তরুণদের সৃজনশীলতা ও বাস্তব জ্ঞানকে ধ্বংস করছে। মুখস্থ বিদ্যা বাদ দিয়ে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে কারিগরি ও কর্মমুখী করা উচিত। তাহলেই সমাজ থেকে কৃত্রিমতার মুখোশ খসে পড়বে এবং মানুষ এই তারকা দম্পতির মতো সহজ, সুন্দর ও বিবেকবান মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে।”

কেন কারিগরি শিক্ষা ও প্রকৌশল বিদ্যা মানুষকে বাস্তবমুখী করে? (আমাদের সকলের জানার জন্য)

সমস্যা সমাধানের দক্ষতা (Problem Solving): প্রকৌশল বা কারিগরি বিদ্যায় শিক্ষার্থীদের কাল্পনিক বিষয়ের চেয়ে বাস্তব সমস্যা সমাধান করতে শেখানো হয়। ফলে বাস্তব জীবনে যেকোনো সংকটে তারা আবেগতাড়িত না হয়ে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

কৃত্রিমতার বর্জন: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা জানেন যে প্রকৃতির নিজস্ব একটা নিয়ম আছে। তাই তারা বাহ্যিক মেকআপ বা কৃত্রিম জৌলুসের চেয়ে ভেতরের যোগ্যতা ও সরলতাকে বেশি প্রাধান্য দেন।

মুখস্থ বিদ্যার অসারতা: ব্রিটিশ আমল থেকে চলে আসা মুখস্থ বিদ্যা মানুষকে শুধু কেরানি বানাতে শেখায়, কোনো নতুন আবিষ্কার বা চিন্তার জন্ম দেয় না। অন্যদিকে, কারিগরি শিক্ষা মানুষকে স্বাবলম্বী করে এবং বেকারত্ব দূর করতে সরাসরি ভূমিকা রাখে।

See less
জনপ্রিয়

ওরা দুজনই তৌকীর বুয়েটের বিপাশাচারুকলার

প্রকাশের সময় : ০৬:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

ওরা দুজনই কারিগরি শিক্ষা ও প্রকৌশলবিদ্যায় পারদর্শী এবং উভয়ই বুয়েটের গর্বিত কৃতী শিক্ষার্থী। এ কারণে তাদের বাস্তবসম্মত জ্ঞান রয়েছে। ফলে তাদের জীবনের হাসি-কান্না, আনন্দ, সুখ-দুঃখ, অনুভব-অনুভূতি, স্বপ্ন, চাহিদা ও ইচ্ছাগুলো সবই যুক্তিসম্মত। যার জন্য তাদের আর কৃত্রিম চুলে রঙ কিংবা মুখে মেকআপ বা মুখোশের প্রয়োজন পড়ে না।

ছবিতে থাকা অভিনেতা ও পরিচালক তৌকীর আহমেদ হলেন বুয়েটের (BUET) স্থাপত্যবিদ্যার কৃতি ছাত্র, আর অভিনেত্রী ও চিত্রশিল্পী বিপাশা হায়াত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী। তাঁরা দুজনেই এমন শিক্ষায় শিক্ষিত যা মানুষকে বাস্তবসম্মত, সৃজনশীল এবং যুক্তিভিত্তিক চিন্তা করতে শেখায়।

এই প্রায়োগিক ও কারিগরি শিক্ষার কারণেই জীবনের হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখ বা স্বপ্নগুলোকে তাঁরা খুব বাস্তবিকভাবে গ্রহণ করতে পেরেছেন। তাঁদের জীবন দর্শনে কোনো কৃত্রিমতা বা মুখোশের স্থান নেই, কারণ তাঁরা জানেন—’Simplicity is the best’ (সরলতাই শ্রেষ্ঠ সৌন্দর্য)।

আমাদের সমাজে সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার জন্য এই বোধটা আজ খুব প্রয়োজন। আসলে সচেতনতা ও প্রকৃত শিক্ষা একসাথে পেতে হলে কারিগরি, প্রকৌশল ও প্রায়োগিক শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। এই শিক্ষা মানুষকে শুধু ডিগ্রি দেয় না, বরং জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে ‘পারফেক্ট’ এবং আত্মনির্ভরশীল হতে শেখায়।

দুর্ভাগ্যবশত, আমরা এখনো সেই পুরোনো ব্রিটিশ পদ্ধতির মুখস্থ বিদ্যায় আটকে আছি, যা তরুণদের সৃজনশীলতা ও বাস্তব জ্ঞানকে ধ্বংস করছে। মুখস্থ বিদ্যা বাদ দিয়ে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে কারিগরি ও কর্মমুখী করা উচিত। তাহলেই সমাজ থেকে কৃত্রিমতার মুখোশ খসে পড়বে এবং মানুষ এই তারকা দম্পতির মতো সহজ, সুন্দর ও বিবেকবান মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে।”

কেন কারিগরি শিক্ষা ও প্রকৌশল বিদ্যা মানুষকে বাস্তবমুখী করে? (আমাদের সকলের জানার জন্য)

সমস্যা সমাধানের দক্ষতা (Problem Solving): প্রকৌশল বা কারিগরি বিদ্যায় শিক্ষার্থীদের কাল্পনিক বিষয়ের চেয়ে বাস্তব সমস্যা সমাধান করতে শেখানো হয়। ফলে বাস্তব জীবনে যেকোনো সংকটে তারা আবেগতাড়িত না হয়ে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

কৃত্রিমতার বর্জন: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা জানেন যে প্রকৃতির নিজস্ব একটা নিয়ম আছে। তাই তারা বাহ্যিক মেকআপ বা কৃত্রিম জৌলুসের চেয়ে ভেতরের যোগ্যতা ও সরলতাকে বেশি প্রাধান্য দেন।

মুখস্থ বিদ্যার অসারতা: ব্রিটিশ আমল থেকে চলে আসা মুখস্থ বিদ্যা মানুষকে শুধু কেরানি বানাতে শেখায়, কোনো নতুন আবিষ্কার বা চিন্তার জন্ম দেয় না। অন্যদিকে, কারিগরি শিক্ষা মানুষকে স্বাবলম্বী করে এবং বেকারত্ব দূর করতে সরাসরি ভূমিকা রাখে।

See less