
অনলাইন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানের তিন বছর আগের একটি পোস্ট পড়লাম। তিনি তার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিনের স্মৃতিচারণ করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরেরদিন সকালে উঠেই তিনি মধুর ক্যান্টিনে যান। মধুর ক্যান্টিনে গিয়ে অন্যদের সাথে রাজনৈতিক আড্ডায় অংশ নেন। এই দিনই তিনি জাসদ ছাত্রলীগ নেতা ওবায়দুর রহমান চুন্নুর নজরে আসেন। ওবায়দুর রহমান চুন্নু তাকে নিয়ে আইবিএ ক্যান্টিন্টে খেতে নিয়ে যায়। খাওয়ার সময় ওবায়দুর রহমান চুন্নু আসাদুজ্জামানকে বলেন, একা একা নাশতা খাবো, তাই ভাবলাম তোকে নিয়ে যাই!
এই সময়ের অনুভূতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আসাদুজ্জামান লিখেছেন, ‘এই এতটুকু কথাতেই একজন কর্মীর হৃদয় জয় করা যায়, এই এতটুকুতেই একজন রাজনৈতিক সহযোদ্ধার হৃদয়ের প্রতিবেশী হওয়া যায়, ওই অতটুকুতেই চুন্নু ভাই আমার অপার আনন্দের সাথী হয়ে গেলেন।’ বলতে গেলে ওই মুহূর্ত থেকেই আসাদুজ্জামান ওবায়দুর রহমান চুন্নুর কর্মী হয়ে যান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাসদ ছাত্রলীগের রাজনীতিতে নাম লেখান।
পরবর্তী বহুকাল তারা একসাথে রাজনীতি করেছেন। ওবায়দুর রহমান চুন্নু যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জাসদ ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন আসাদুজ্জামান তখন একই কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। পরবর্তীতে ওবায়দুর রহমান যখন জাসদ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হন আসাদুজ্জামান তখন একই কমিটির প্রচার সম্পাদক হন।
আসাদুজ্জামান আজ বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী। আর ওবায়দুর রহমানকে আসাদুজ্জামানের অনুগত পুলিশ বাহিনী আওয়ামী লীগ তকমা দিয়ে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। আসাদুজ্জামানের নিজ দলের আট নাম্বার সারির একজন কর্মী জনসম্মুখে ওবায়দুর রহমানকে পেটে ঘুষি মারলো। কোনো কারণ ছাড়াই। লজ্জায়-অপমানে ওবায়দুর রহমান তাকাতে পারছিলো না পর্যন্ত।
ভিডিওটা কি আসাদুজ্জামান দেখেন নি? নিশ্চয় দেখেছেন। তবুও কোনো ব্যবস্থা নেন নি। আইনগতভাবেও না, দলীয়ভাবেও না। আসাদুজ্জামান বড় হতে হতে এমনই বড় হয়ে গেছেন যে, যার হাত ধরে রাজনীতিতে এসেছেন তাকে জনসম্মুখে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত হতে দেখেও কোনো অনুভূতি কাজ করছে না।
জীবনে বড় হওয়া দরকার, কিন্তু আসাদুজ্জামানের মতো এতেটা বড় যেনো কেউ না হয়!
বি. দ্র. আসাদুজ্জামানের পোস্টের লিংক কমেন্টে।
Arif Istiak’s Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।





















