, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে রাহুল-মমতারা মিছিল করে যাবেন সুপ্রিম কোর্টে,মিছিলে গোটা ভারত হাঁটবে। সোমবার দিল্লি পুলিশ পরীক্ষায় রোটন তাঁর বাবার চেহলাম আয়োজনে ও বাধা ফজলে করিম চৌধুরী! আমাদের বিড়ি টানা,হাতাকাটা জামা পরার উপর যতক্ষণ না আক্রমণ আসবে ততোক্ষণ ? এই মানুষ এভাবে পচে গেল কেন? অবশেষে ডিপ স্টেট এবং ইউনূস ও খলিল সাহেবদের সাকসেস! রোটন ভাইয়ের জানাজা পড়তে যাওয়া মুসল্লীদের মসজিদ থেকে বের করে, নির্মম নির্যাতন করেছে বিএনপির ক্যাডাররা!! জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম মুসলিম সভাপতি — বদরুদ্দীন তৈয়বজী পাকিস্তানপন্থী খাঁটি মুসলমান ইনকিলাব মঞ্চ বাবা-মায়ের কাছ থেকে যা শিখেছি ত্রপা মজুমদার

আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় স্ট্র্যাটেজিক ভুলগুলোর একটা ছিল

  • প্রকাশের সময় : ০৬:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৪ পড়া হয়েছে

অনলাইন রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬

আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় স্ট্র্যাটেজিক ভুলগুলোর একটা ছিল—বসুন্ধরা গ্রুপকে, বিশেষ করে আনভির সোবহান ভাইকে, রাজনৈতিকভাবে সঠিকভাবে রিড করতে না পারা।

আহমেদ আকবর সোবহান সাহেব বাংলাদেশের ব্যবসায়িক ইতিহাসের অন্যতম বড় self-made success story। জিরো থেকে উঠে এসে তিনি যে সাম্রাজ্য দাঁড় করিয়েছেন, সেটা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই।
হ্যাঁ, বসুন্ধরাকে নিয়ে হাজারটা সমালোচনা আছে। ভূমি ব্যবসা নিয়ে প্রশ্ন আছে। কিন্তু একটা বিষয় অস্বীকার করা কঠিন—বাংলাদেশের রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় তারা এমন একটা সিস্টেম দাঁড় করিয়েছে, যেখানে ক্রেতা জমি বুঝে পায়, বিক্রেতাও টাকা বুঝে পায়। ব্যবসায়িক দক্ষতা আর স্কেল—এই জায়গায় বসুন্ধরার শক্তি নিয়ে প্রশ্ন করা কঠিন।
কিন্তু আমার কাছে আরও ইন্টারেস্টিং চরিত্র আনভির সোবহান।কারণ উনি শুধু ব্যবসায়ী নন—উনি ঢাকার লোকাল সাইকোলজি বোঝেন। ঢাকার কোন পাড়ায় কী চলে, কোন বয়সের পোলাপান কীভাবে ভাবে, কার সঙ্গে কার কানেকশন, কে কাকে ভাই বলে, কোথায় গেলে মানুষ জমে—এই জিনিসগুলো বই পড়ে শেখা যায় না। এগুলো বুঝতে হয় মাঠে থেকে আর এটাকে বলে স্ট্রিট স্মার্ট। আনভির ভাইয়ের মধ্যে সেই জিনিসটা আছে।উনার কথাবার্তায় একটা অদ্ভুত ‘ঢাকা ঢাকা’ ব্যাপার আছে। একটা লোকাল কানেক্টিভিটি আছে। আর রাজনীতিতে এই জিনিসটা অনেক সময় কোটি টাকার চেয়েও বেশি দামি।সালমান এফ রহমানের পর বাংলাদেশে ব্যবসায়ী সমাজে যদি কাউকে আমি ‘বাপের ব্যাটা’ বলতে চাই, আমার চোখে যেই নামটা ভেসে ওঠে সেটা হলো আনভির সোবহান। আর একটা জিনিস বুঝতে হবে—
ম্যান ম্যানেজমেন্ট আর ম্যান পাওয়ার এক জিনিস না।
টাকা দিয়ে মানুষকে পাশে রাখা যায়, কিন্তু ভালোবাসা দিয়ে মানুষকে নিজের লোক বানানো যায়।
আমি যতটুকু বুঝি, আনভির ভাইয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি এখানেই। ছোটদের সঙ্গে মিশতে পারেন, পোলাপানকে আপন করে নিতে পারেন, মানুষকে গুরুত্ব দিতে পারেন। ফলে মানুষও তার কাছে যায়—ভাই ভাই করে।
রাজনীতিতে এই জিনিসটাই আসল capital।
আমি যদি শেখ হাসিনার জায়গায় থাকতাম, তাহলে এই social capital-টাকে বহু বছর আগেই রাজনৈতিকভাবে ক্যাশ করতাম। স্কলাস্টিকা থেকে শুরু করে ঢাকার elite স্কুল-কলেজের যে নতুন প্রজন্ম তৈরি হচ্ছে—তাদের সঙ্গে সম্পর্ক, network, leadership এবং সাংগঠনিক যোগাযোগ তৈরি করার জন্য এই ধরনের পরিবার গুলোকে ব্যবহার করা যেত।কারণ রাজনীতি শুধু মিছিল-মিটিং দিয়ে হয় না।রাজনীতি হয় মানুষ দিয়ে। আর মানুষকে পড়তে পারা, মানুষকে নিজের করে নিতে পারা, মানুষকে একসঙ্গে রাখা—এটা একটা আর্ট আর এটা সবাই পারেনা।
ম্যান ম্যানেজিং একটা আর্ট।
আর এই আর্টের সবচেয়ে বড় শিল্পীদের একজন—আনভির সোবহান।

Fahim Faisal Arnob’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।

জনপ্রিয়

গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে

আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় স্ট্র্যাটেজিক ভুলগুলোর একটা ছিল

প্রকাশের সময় : ০৬:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

অনলাইন রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬

আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় স্ট্র্যাটেজিক ভুলগুলোর একটা ছিল—বসুন্ধরা গ্রুপকে, বিশেষ করে আনভির সোবহান ভাইকে, রাজনৈতিকভাবে সঠিকভাবে রিড করতে না পারা।

আহমেদ আকবর সোবহান সাহেব বাংলাদেশের ব্যবসায়িক ইতিহাসের অন্যতম বড় self-made success story। জিরো থেকে উঠে এসে তিনি যে সাম্রাজ্য দাঁড় করিয়েছেন, সেটা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই।
হ্যাঁ, বসুন্ধরাকে নিয়ে হাজারটা সমালোচনা আছে। ভূমি ব্যবসা নিয়ে প্রশ্ন আছে। কিন্তু একটা বিষয় অস্বীকার করা কঠিন—বাংলাদেশের রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় তারা এমন একটা সিস্টেম দাঁড় করিয়েছে, যেখানে ক্রেতা জমি বুঝে পায়, বিক্রেতাও টাকা বুঝে পায়। ব্যবসায়িক দক্ষতা আর স্কেল—এই জায়গায় বসুন্ধরার শক্তি নিয়ে প্রশ্ন করা কঠিন।
কিন্তু আমার কাছে আরও ইন্টারেস্টিং চরিত্র আনভির সোবহান।কারণ উনি শুধু ব্যবসায়ী নন—উনি ঢাকার লোকাল সাইকোলজি বোঝেন। ঢাকার কোন পাড়ায় কী চলে, কোন বয়সের পোলাপান কীভাবে ভাবে, কার সঙ্গে কার কানেকশন, কে কাকে ভাই বলে, কোথায় গেলে মানুষ জমে—এই জিনিসগুলো বই পড়ে শেখা যায় না। এগুলো বুঝতে হয় মাঠে থেকে আর এটাকে বলে স্ট্রিট স্মার্ট। আনভির ভাইয়ের মধ্যে সেই জিনিসটা আছে।উনার কথাবার্তায় একটা অদ্ভুত ‘ঢাকা ঢাকা’ ব্যাপার আছে। একটা লোকাল কানেক্টিভিটি আছে। আর রাজনীতিতে এই জিনিসটা অনেক সময় কোটি টাকার চেয়েও বেশি দামি।সালমান এফ রহমানের পর বাংলাদেশে ব্যবসায়ী সমাজে যদি কাউকে আমি ‘বাপের ব্যাটা’ বলতে চাই, আমার চোখে যেই নামটা ভেসে ওঠে সেটা হলো আনভির সোবহান। আর একটা জিনিস বুঝতে হবে—
ম্যান ম্যানেজমেন্ট আর ম্যান পাওয়ার এক জিনিস না।
টাকা দিয়ে মানুষকে পাশে রাখা যায়, কিন্তু ভালোবাসা দিয়ে মানুষকে নিজের লোক বানানো যায়।
আমি যতটুকু বুঝি, আনভির ভাইয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি এখানেই। ছোটদের সঙ্গে মিশতে পারেন, পোলাপানকে আপন করে নিতে পারেন, মানুষকে গুরুত্ব দিতে পারেন। ফলে মানুষও তার কাছে যায়—ভাই ভাই করে।
রাজনীতিতে এই জিনিসটাই আসল capital।
আমি যদি শেখ হাসিনার জায়গায় থাকতাম, তাহলে এই social capital-টাকে বহু বছর আগেই রাজনৈতিকভাবে ক্যাশ করতাম। স্কলাস্টিকা থেকে শুরু করে ঢাকার elite স্কুল-কলেজের যে নতুন প্রজন্ম তৈরি হচ্ছে—তাদের সঙ্গে সম্পর্ক, network, leadership এবং সাংগঠনিক যোগাযোগ তৈরি করার জন্য এই ধরনের পরিবার গুলোকে ব্যবহার করা যেত।কারণ রাজনীতি শুধু মিছিল-মিটিং দিয়ে হয় না।রাজনীতি হয় মানুষ দিয়ে। আর মানুষকে পড়তে পারা, মানুষকে নিজের করে নিতে পারা, মানুষকে একসঙ্গে রাখা—এটা একটা আর্ট আর এটা সবাই পারেনা।
ম্যান ম্যানেজিং একটা আর্ট।
আর এই আর্টের সবচেয়ে বড় শিল্পীদের একজন—আনভির সোবহান।

Fahim Faisal Arnob’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।