, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে রাহুল-মমতারা মিছিল করে যাবেন সুপ্রিম কোর্টে,মিছিলে গোটা ভারত হাঁটবে। সোমবার দিল্লি পুলিশ পরীক্ষায় রোটন তাঁর বাবার চেহলাম আয়োজনে ও বাধা ফজলে করিম চৌধুরী! আমাদের বিড়ি টানা,হাতাকাটা জামা পরার উপর যতক্ষণ না আক্রমণ আসবে ততোক্ষণ ? এই মানুষ এভাবে পচে গেল কেন? অবশেষে ডিপ স্টেট এবং ইউনূস ও খলিল সাহেবদের সাকসেস! রোটন ভাইয়ের জানাজা পড়তে যাওয়া মুসল্লীদের মসজিদ থেকে বের করে, নির্মম নির্যাতন করেছে বিএনপির ক্যাডাররা!! জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম মুসলিম সভাপতি — বদরুদ্দীন তৈয়বজী পাকিস্তানপন্থী খাঁটি মুসলমান ইনকিলাব মঞ্চ বাবা-মায়ের কাছ থেকে যা শিখেছি ত্রপা মজুমদার

আমদানি ফলের উপর এই অস্বাভাবিক ট্যাক্স

  • প্রকাশের সময় : ০৭:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
  • ২০ পড়া হয়েছে

অনলাইন রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশে আপেল, আঙ্গুর, কমলা, মাল্টা ও নাশপাতির মতো অধিকাংশ সাধারণ তাজা ফল (Fresh Fruits) আমদানির ওপর সর্বমোট শুল্ক-কর বা মোট করভার (Total Tax Incidence – TTI) হচ্ছে ১২১.৭৮%। অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ১০০ টাকার ফল আমদানি করলে সরকারকে কর দিতে হয় প্রায় ১২২ টাকা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নিয়ম অনুযায়ী, ইমপোর্টেড ফলের ওপর মোট ৫টি স্তরে এই ট্যাক্স নির্ধারণ করা হয়:
• আমদানি শুল্ক (Customs Duty): ২৫%
• সম্পূরক শুল্ক (Supplementary Duty): ৩০%
• নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক (Regulatory Duty): ২০%
• মূল্য সংযোজন কর (VAT): ১৫%
• অগ্রিম আয়কর (Advance Income Tax): ৫%
টোটাল যোগ করে ৯৫% হয় তাই না ?
আচ্ছা ধরা যাক এক কেজি আপেলের ইম্পোর্ট (ভিত্তি) মূল্য ১০০ টাকা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) নিয়ম অনুযায়ী হিসাবটি যেভাবে ধাপে ধাপে হয় :
1. আমদানি শুল্ক (CD – ২৫%): ১০০ টাকার ২৫% = ২৫.০০ টাকা। (এখন ফলের মোট মূল্য দাঁড়াল ১০০ + ২৫ = ১২৫ টাকা)।
2. নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক (RD – ২০%): এটিও ভিত্তি মূল্যের ওপর হিসাব করা হয়। ১০০ টাকার ২০% = ২০.০০ টাকা। (এখন ফলের মোট মূল্য ১২৫ + ২০ = ১৪৫ টাকা)।
3. সম্পূরক শুল্ক (SD – ৩০%): এটি হিসাব করা হয় পূর্ববর্তী শুল্কগুলো যোগ করার পর (ভিত্তি মূল্য + CD + RD)। অর্থাৎ, ১৪৫ টাকার ৩০% = ৪৩.৫০ টাকা। (এখন ফলের মোট মূল্য ১৪৫ +৪৩.৫০ = ১৮৮.৫০ টাকা)।
4. মূল্য সংযোজন কর (VAT – ১৫%): ভ্যাট হিসাব করা হয় সব শুল্কসহ চূড়ান্ত মূল্যের ওপর (ভিত্তি মূল্য + CD + RD + SD)। অর্থাৎ ১৮৮.৫০ টাকার ১৫% = ২৮.২৭ টাকা।
5. অগ্রিম আয়কর (AIT – ৫%) এবং আগাম কর (AT – ৫%): এগুলো সাধারণত ভিত্তি মূল্যের ওপর ৫% করে যথাক্রমে ৫ টাকা যোগ হয়।
সর্বমোট শুল্কের যোগফল: ২৫ + ২০ +৪৩.৫০+ ২৮.২৭ + ৫ + = ১২১.৭৭ টাকা। এখানেই শেষ নয় এই হিসাবে এর সাথে কাস্টমসের অন্যান্য উপাদানের চক্রবৃদ্ধি ও ইন্স্যুরেন্স/ল্যান্ডিং চার্জ যোগ হয়ে চূড়ান্ত সরকারি হিসাবটি ১২১.৭৮%-এ গিয়ে পৌঁছায়।
সহজ কথায়, পরের ট্যাক্সগুলো আগের ট্যাক্সের টাকার ওপর চার্জ হওয়ার কারণেই ট্যাক্সের পরিমাণ ৯৫% থেকে লাফিয়ে ১২১.৭৮% হয়ে যায়।
এই হিসাবে ৪০০ টাকা আপেলের মূল্য হলে এর ভিত্তি মূল্য বা ইম্পোর্টেড মূল্য হয় ১৮০.৩৬ টাকা।
এতদিন আপনারা গাড়ি সহ বিভিন্ন লাক্সারি পণ্যে ১০০% ২০০% ট্যাক্স এর গল্প শুনতেন। কিন্তু মানুষের খাদ্য ফল এটাও যে লাক্সারিয়াস পণ্য সেটা কি জানতেন!? ফলের উপর এই অস্বাভাবিক ট্যাক্স সম্পর্কে আপনার মতামত কি ?
সরকার কে এই পচা ফলেরও কর দেওয়া হয় যেটা আমদানিকারকদের ফেলে দেওয়া ছাড়া আর কিছুই করার নেই!

Our Fruit Market’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।

জনপ্রিয়

গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে

আমদানি ফলের উপর এই অস্বাভাবিক ট্যাক্স

প্রকাশের সময় : ০৭:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

অনলাইন রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশে আপেল, আঙ্গুর, কমলা, মাল্টা ও নাশপাতির মতো অধিকাংশ সাধারণ তাজা ফল (Fresh Fruits) আমদানির ওপর সর্বমোট শুল্ক-কর বা মোট করভার (Total Tax Incidence – TTI) হচ্ছে ১২১.৭৮%। অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ১০০ টাকার ফল আমদানি করলে সরকারকে কর দিতে হয় প্রায় ১২২ টাকা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নিয়ম অনুযায়ী, ইমপোর্টেড ফলের ওপর মোট ৫টি স্তরে এই ট্যাক্স নির্ধারণ করা হয়:
• আমদানি শুল্ক (Customs Duty): ২৫%
• সম্পূরক শুল্ক (Supplementary Duty): ৩০%
• নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক (Regulatory Duty): ২০%
• মূল্য সংযোজন কর (VAT): ১৫%
• অগ্রিম আয়কর (Advance Income Tax): ৫%
টোটাল যোগ করে ৯৫% হয় তাই না ?
আচ্ছা ধরা যাক এক কেজি আপেলের ইম্পোর্ট (ভিত্তি) মূল্য ১০০ টাকা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) নিয়ম অনুযায়ী হিসাবটি যেভাবে ধাপে ধাপে হয় :
1. আমদানি শুল্ক (CD – ২৫%): ১০০ টাকার ২৫% = ২৫.০০ টাকা। (এখন ফলের মোট মূল্য দাঁড়াল ১০০ + ২৫ = ১২৫ টাকা)।
2. নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক (RD – ২০%): এটিও ভিত্তি মূল্যের ওপর হিসাব করা হয়। ১০০ টাকার ২০% = ২০.০০ টাকা। (এখন ফলের মোট মূল্য ১২৫ + ২০ = ১৪৫ টাকা)।
3. সম্পূরক শুল্ক (SD – ৩০%): এটি হিসাব করা হয় পূর্ববর্তী শুল্কগুলো যোগ করার পর (ভিত্তি মূল্য + CD + RD)। অর্থাৎ, ১৪৫ টাকার ৩০% = ৪৩.৫০ টাকা। (এখন ফলের মোট মূল্য ১৪৫ +৪৩.৫০ = ১৮৮.৫০ টাকা)।
4. মূল্য সংযোজন কর (VAT – ১৫%): ভ্যাট হিসাব করা হয় সব শুল্কসহ চূড়ান্ত মূল্যের ওপর (ভিত্তি মূল্য + CD + RD + SD)। অর্থাৎ ১৮৮.৫০ টাকার ১৫% = ২৮.২৭ টাকা।
5. অগ্রিম আয়কর (AIT – ৫%) এবং আগাম কর (AT – ৫%): এগুলো সাধারণত ভিত্তি মূল্যের ওপর ৫% করে যথাক্রমে ৫ টাকা যোগ হয়।
সর্বমোট শুল্কের যোগফল: ২৫ + ২০ +৪৩.৫০+ ২৮.২৭ + ৫ + = ১২১.৭৭ টাকা। এখানেই শেষ নয় এই হিসাবে এর সাথে কাস্টমসের অন্যান্য উপাদানের চক্রবৃদ্ধি ও ইন্স্যুরেন্স/ল্যান্ডিং চার্জ যোগ হয়ে চূড়ান্ত সরকারি হিসাবটি ১২১.৭৮%-এ গিয়ে পৌঁছায়।
সহজ কথায়, পরের ট্যাক্সগুলো আগের ট্যাক্সের টাকার ওপর চার্জ হওয়ার কারণেই ট্যাক্সের পরিমাণ ৯৫% থেকে লাফিয়ে ১২১.৭৮% হয়ে যায়।
এই হিসাবে ৪০০ টাকা আপেলের মূল্য হলে এর ভিত্তি মূল্য বা ইম্পোর্টেড মূল্য হয় ১৮০.৩৬ টাকা।
এতদিন আপনারা গাড়ি সহ বিভিন্ন লাক্সারি পণ্যে ১০০% ২০০% ট্যাক্স এর গল্প শুনতেন। কিন্তু মানুষের খাদ্য ফল এটাও যে লাক্সারিয়াস পণ্য সেটা কি জানতেন!? ফলের উপর এই অস্বাভাবিক ট্যাক্স সম্পর্কে আপনার মতামত কি ?
সরকার কে এই পচা ফলেরও কর দেওয়া হয় যেটা আমদানিকারকদের ফেলে দেওয়া ছাড়া আর কিছুই করার নেই!

Our Fruit Market’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।