, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমি একজন ধর্ষিতার বাবা, খণ্ডিত লাশের বাবা,

  • প্রকাশের সময় : ০২:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
  • ২৬ পড়া হয়েছে

অনলাইন:০৬ জুন ২০২৬,
‘বাংলাদেশে শিশু নির্যাতন ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে পল্লবীতে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার শিকার শিশুটির বাবা বক্তব্য দেন। আজ শনিবার রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে (নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং প্রথম আলোর নীতিমালা অনুসারে বাবার ছবি অস্পষ্ট করে দেওয়া হলো)
‘বাংলাদেশে শিশু নির্যাতন ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে পল্লবীতে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার শিকার শিশুটির বাবা বক্তব্য দেন। আজ শনিবার রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে (নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং প্রথম আলোর নীতিমালা অনুসারে বাবার ছবি অস্পষ্ট করে দেওয়া হলো)ছবি: প্রথম আলো
‘আমি একজন ধর্ষিতার বাবা, একজন খণ্ডিত লাশের বাবা। কিন্তু আমি তো এভাবে পরিচিত হতে চাইনি। আমি গর্বিত পিতা হয়ে থাকতে চেয়েছিলাম।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার শিকার আট বছর বয়সী শিশুর বাবা।

আজ শনিবার রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে ‘বাংলাদেশে শিশু নির্যাতন ও করণীয়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত হয়ে তিনি এ কথা বলেন। বিএনপির উদ্যোগে গঠিত ‘নিপীড়িত নারী ও শিশুদের আইনি ও স্বাস্থ্যসহায়তা সেল’ এ বৈঠকের আয়োজন করে।

পল্লবীর শিশুটির বাবা বলেন, ‘আমি জানতে চাই—এই দায়িত্ব কে নেবে? এই দায়িত্ব কি আমার অবহেলা, সমাজের অবহেলা, না রাষ্ট্রের অবহেলা? আমি আজকে খণ্ডবিখণ্ড আমার খুকুর সোনার টুকরা সন্তান—তার দায়িত্ব কে নেবে? আমি কি তার জন্য দায়ী? না কে দায়ী?’

বৈঠকে হাত জোড় করে সবার কাছে আবেদন জানান পল্লবীর শিশুটির বাবা। তিনি বলেন, ‘আমি তো একজন ধর্ষিতার বাবা হয়ে থাকতে চাই না। আমি তো গর্বিত পিতা হয়ে থাকতে চেয়েছি। আপনারা আমাকে সেই নাম ফিরিয়ে দেন। আমাকে সেই সম্মান ফিরিয়ে দেন।’

১৯ দিনের মাথায় রায় হচ্ছে, আদালতে যা বলল রাষ্ট্রপক্ষ–আসামিপক্ষ
এই বাবা আরও বলেন, ‘যদি তা না পারেন, তাহলে আপনারা কী দিতে পারবেন? এমন একটা অন্তত সমাজব্যবস্থা দেন, যেই ব্যবস্থায় আর কোনো দিন বাবা-মায়ের বুক খালি হবে না। আর কোনো বাবা-মায়ের সারা জীবনের জন্য কান্নার পথ খোলা থাকবে না। সারা জীবন তারা জিন্দা লাশ হয়ে থাকবে না।’

ধর্ষণের শিকার শিশুটির বাবা আরও জানান, ঘটনার ১৩ দিন পরও তাঁর স্ত্রী মানসিক ট্রমায় ভুগছেন। তিনি বলেন, ‘আমার স্ত্রী কোথায় যায়, কী বলে, নিজেই জানে না। তাকে প্রতিনিয়ত দেখভাল করতে হচ্ছে। সে সুস্থ হবে কি না, আল্লাহই
শুধু নিজের মেয়েরাই নয়, সব শিশুকে নিয়েই উদ্বেগ জানান এই বাবা। একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, গতকাল তাঁর বাড়িতে পাঁচ বছরের একটি মেয়ে এসেছিল। সে ‘ধর্ষণ’ শব্দটি শিখে গেছে, অথচ এই বয়সে তার তা জানার কথা নয়। সেই শিশুটি এখন একা টয়লেটেও যেতে পারছে না, মায়ের আঁচল ছাড়া এক পা নড়ছে না। , তিনি বলেন ‘এটাই আজকে বাংলাদেশের শিশুদের মনের অবস্থা।’
মেয়ে হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন এই বাবা।

গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক কাজী গোলাম মোখলেছুর রহমান, আইনজীবী রাশনা ইমাম প্রমুখ। বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম।

গত ১৯ মে পল্লবীর একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে ধর্ষণের শিকার শিশুটির খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়। ফ্ল্যাটটির বাসিন্দা আসামি সোহেল ঘটনার পর বাসার শৌচাগারের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান। বাসা থেকে তাঁর স্ত্রীকে তখনই আটক করা হয়। আর সেদিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়। আদালত ৭ জুন রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছেন।

The father of seven-year-old Ramisa Akter, who was brutally murdered in the capital's Pallabi area yesterday (19 May), has refused to seek justice from the authorities, stating that the state holds no

জনপ্রিয়

আমি একজন ধর্ষিতার বাবা, খণ্ডিত লাশের বাবা,

প্রকাশের সময় : ০২:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

অনলাইন:০৬ জুন ২০২৬,
‘বাংলাদেশে শিশু নির্যাতন ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে পল্লবীতে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার শিকার শিশুটির বাবা বক্তব্য দেন। আজ শনিবার রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে (নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং প্রথম আলোর নীতিমালা অনুসারে বাবার ছবি অস্পষ্ট করে দেওয়া হলো)
‘বাংলাদেশে শিশু নির্যাতন ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে পল্লবীতে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার শিকার শিশুটির বাবা বক্তব্য দেন। আজ শনিবার রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে (নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং প্রথম আলোর নীতিমালা অনুসারে বাবার ছবি অস্পষ্ট করে দেওয়া হলো)ছবি: প্রথম আলো
‘আমি একজন ধর্ষিতার বাবা, একজন খণ্ডিত লাশের বাবা। কিন্তু আমি তো এভাবে পরিচিত হতে চাইনি। আমি গর্বিত পিতা হয়ে থাকতে চেয়েছিলাম।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার শিকার আট বছর বয়সী শিশুর বাবা।

আজ শনিবার রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে ‘বাংলাদেশে শিশু নির্যাতন ও করণীয়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত হয়ে তিনি এ কথা বলেন। বিএনপির উদ্যোগে গঠিত ‘নিপীড়িত নারী ও শিশুদের আইনি ও স্বাস্থ্যসহায়তা সেল’ এ বৈঠকের আয়োজন করে।

পল্লবীর শিশুটির বাবা বলেন, ‘আমি জানতে চাই—এই দায়িত্ব কে নেবে? এই দায়িত্ব কি আমার অবহেলা, সমাজের অবহেলা, না রাষ্ট্রের অবহেলা? আমি আজকে খণ্ডবিখণ্ড আমার খুকুর সোনার টুকরা সন্তান—তার দায়িত্ব কে নেবে? আমি কি তার জন্য দায়ী? না কে দায়ী?’

বৈঠকে হাত জোড় করে সবার কাছে আবেদন জানান পল্লবীর শিশুটির বাবা। তিনি বলেন, ‘আমি তো একজন ধর্ষিতার বাবা হয়ে থাকতে চাই না। আমি তো গর্বিত পিতা হয়ে থাকতে চেয়েছি। আপনারা আমাকে সেই নাম ফিরিয়ে দেন। আমাকে সেই সম্মান ফিরিয়ে দেন।’

১৯ দিনের মাথায় রায় হচ্ছে, আদালতে যা বলল রাষ্ট্রপক্ষ–আসামিপক্ষ
এই বাবা আরও বলেন, ‘যদি তা না পারেন, তাহলে আপনারা কী দিতে পারবেন? এমন একটা অন্তত সমাজব্যবস্থা দেন, যেই ব্যবস্থায় আর কোনো দিন বাবা-মায়ের বুক খালি হবে না। আর কোনো বাবা-মায়ের সারা জীবনের জন্য কান্নার পথ খোলা থাকবে না। সারা জীবন তারা জিন্দা লাশ হয়ে থাকবে না।’

ধর্ষণের শিকার শিশুটির বাবা আরও জানান, ঘটনার ১৩ দিন পরও তাঁর স্ত্রী মানসিক ট্রমায় ভুগছেন। তিনি বলেন, ‘আমার স্ত্রী কোথায় যায়, কী বলে, নিজেই জানে না। তাকে প্রতিনিয়ত দেখভাল করতে হচ্ছে। সে সুস্থ হবে কি না, আল্লাহই
শুধু নিজের মেয়েরাই নয়, সব শিশুকে নিয়েই উদ্বেগ জানান এই বাবা। একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, গতকাল তাঁর বাড়িতে পাঁচ বছরের একটি মেয়ে এসেছিল। সে ‘ধর্ষণ’ শব্দটি শিখে গেছে, অথচ এই বয়সে তার তা জানার কথা নয়। সেই শিশুটি এখন একা টয়লেটেও যেতে পারছে না, মায়ের আঁচল ছাড়া এক পা নড়ছে না। , তিনি বলেন ‘এটাই আজকে বাংলাদেশের শিশুদের মনের অবস্থা।’
মেয়ে হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন এই বাবা।

গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক কাজী গোলাম মোখলেছুর রহমান, আইনজীবী রাশনা ইমাম প্রমুখ। বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম।

গত ১৯ মে পল্লবীর একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে ধর্ষণের শিকার শিশুটির খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়। ফ্ল্যাটটির বাসিন্দা আসামি সোহেল ঘটনার পর বাসার শৌচাগারের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান। বাসা থেকে তাঁর স্ত্রীকে তখনই আটক করা হয়। আর সেদিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়। আদালত ৭ জুন রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছেন।

The father of seven-year-old Ramisa Akter, who was brutally murdered in the capital's Pallabi area yesterday (19 May), has refused to seek justice from the authorities, stating that the state holds no