যুক্তরাষ্ট্রে পা রাখা বর্তমান আর্জেন্টিনা স্কোয়াডের দিকে তাকালে দেখা যায়, কাতার বিশ্বকাপের প্রায় পুরো দলটাকেই ধরে রেখেছেন স্কালোনি। ২৬ জনের মধ্যে ১৭ জনই পুরোনো মুখ, শুধু ফাইনালে ম্যাচসেরা হওয়া আনহেল দি মারিয়া আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ায় তাকে দেখা যাবে না। দলের এই ধারাবাহিকতা ও খেলোয়াড়দের মধ্যকার পারিবারিক বন্ধন তাদের সাফল্যের বড় শক্তি হলেও এখন এটিই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দলের মূল তারকাদের ওপর বয়সের ছাপ পড়তে শুরু করেছে। গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেস, রদ্রিগো দে পল এবং অবশ্যই রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া অধিনায়ক লিওনেল মেসিসহ দলের ৯ জন ফুটবলারের বয়স এখন ত্রিশের ওপরে। অন্যদিকে, ফ্রান্সিসকো মাস্তানতুয়ানো বা আলেহান্দ্রো গারনাচোর মতো প্রতিভাবানদের বাদ দেওয়ায় ২৫ বছরের কম বয়সী খেলোয়াড় আছেন মাত্র তিনজন।
বয়সের পাশাপাশি ক্লান্তিও এখন আর্জেন্টিনা শিবিরের অন্যতম বড় মাথাব্যথার কারণ। গত কয়েক মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে টানা খেলার ধকল স্পষ্ট ফুটে উঠছে ফুটবলারদের শরীরে। বিশেষ করে এনজো ফের্নান্দেস ও হুলিয়ান আলভারেসের মতো তরুণরা গত দুই বছরে ১২০টিরও বেশি ম্যাচ খেলে ফেলেছেন, যার প্রভাব পড়েছে তাদের ফিটনেসে। লিভারপুলের মিডফিল্ডার আলেক্সিস মাক আলিস্তারের ফর্মের নাটকীয় পতনও স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে অতিরিক্ত ম্যাচ খেলার কারণে তার চেনা ধার হারিয়ে গেছে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে তিনি শুরুর একাদশে থাকলেও স্কালোনিকে অবশ্যই বিকল্প ভেবে রাখতে হবে। লিওনেল মেসির সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপকে একটি নিখুঁত ও গৌরবময় বিদায়ের রূপ দিতে হলে স্কালোনিকে তার অতি-পরিচিত ছক থেকে বেরিয়ে এসে বেঞ্চে থাকা তরুণ তুর্কিদের মাঠের লড়াইয়ে নামাতেই হবে।




























