
উনি ঢাকার সংরক্ষিত আসনের এমপি।
অনলাইন রবিবার,২৭সেপ্টেম্বর২০২৬
বিএনপির এই নেত্রীর সম্পর্কে আমার জানাশোনা ছিল না। সংসদে তার একটি আবেগঘন বক্তৃতা সামনে এসেছিল, তা দেখে জানতে পারি
তার ভাইকে হাসিনা পিলখানা মামলায় জেলে রেখে হত্যা করেছিল, স্বামীও সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারে হত্যার শিকার হয়েছেন, এসব বলতে গিয়ে কাঁদতেছিলেন সংসদে।
বেশ সিম্প্যাথি তৈরি হয়েছিল বক্তৃতাটা শুনেই। ভাবছিলাম পরে আরেকটু তথ্যানুসন্ধান করে তাকে নিয়ে একটা লেখা লিখব। কিন্তু পরে আর সেটা করা হয়ে ওঠেনি।
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার দু’দিন আগে রাতেরবেলা কয়েকশো সন্ত্রাসী গুঁড়িয়ে দিয়ে মালামাল লুট করার ঘটনা আপনাদের সবার জানা। এই সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ডে পেছনে অন্যতম ইন্ধনদাতা হিসেবে এ নেত্রীর যোগসূত্র রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রাড্ডা ক্লিনিক ৫২ বছর ধরে মানুষকে বিনামূল্যে সেবা দিয়ে আসছে। টিকাদান কর্মসূচী থেকে সরকারের নানান প্রকল্পে এ প্রতিষ্ঠান কাজ করে আসতেছে। এ প্রতিষ্ঠানটির জায়গা দখল করতে এরা রাতের আঁধারে এ কাজ কীভাবে করল!
এই নারী সংসদ সদস্য উনার সম্পৃক্ততা অস্বীকার করলেও নথিপত্র ঘেঁটে নিশ্চিত হওয়া যায়, উনি শুধু ইন্ধনদাতাই নন মূলহোতাও।
হেলথ কমপ্লেক্স ভেঙে যেই সমিতিটির সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে, তার অফিসিয়াল নথিপত্রে সভাপতি হিসেবে তারই নাম। এমনকি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় পাঠানো চিঠিতে তারই সাক্ষরে নোটিশ করা হয়। এবং সমিতির রেজিস্ট্রিতে সভাপতি হিসেবে নাম উল্লেখ, ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি।
বিনাভোটে এমপি হয়ে যদি এরকম পাওয়ার দেখাতে পারে, তাহলে ভোটে নির্বাচিত হলে কেমন ক্ষমতা দেখাতেন; চিন্তা করেন!
তার যেই ভাইয়ের কথা বলতে গিয়ে কাঁদতেছিল, তার নাম নাসিরু উদ্দিন পিন্টু। ঢাকাতে বিএনপির প্রতাপশালী নেতা ছিলেন। ২০০১ সালে বেগম জিয়া সরকার গঠনের পরপরই তাকে টেন্ডারবাজির মামলায় গ্রেপ্তার করেন। তখন উনি ঢাকায় সরকারের রানিং এমপি।
চিন্তা করেন, অপরাধে কতটা লিমিট ক্রস করে গেলে এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে একটা সরকার তার দলেরই প্রভাবশালী এমপিকে গ্রেপ্তার করার মতো।
এক বছর পরে জরিমানা ও মুচলেকা নিয়ে ছাড়া হয়েছিল। এরপর আবার আওয়ামীরা ক্ষমতায় আসার পর পিলখানা মামলায় গ্রেপ্তার করে দীর্ঘদিন রাজশাহীতে কারাবন্দী করে রাখে, সেখানে মৃত্যু ঘটে।
ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিদের কর্মকাণ্ডের কারণে জেনুইন বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীরা আজ বিব্রত হতে হচ্ছে।
সাধারণ মানুষদের এবং প্রতিপক্ষের ক্রিটিসিজম এমনকি গালাগালিও মুখ বুজে সহ্য করতে হচ্ছে।
বিএনপির অনেক প্রোগ্রামে আমার যাওয়া হয়, আমি এমন অসংখ্য ছাত্রদলের শীর্ষ নেতাদের দেখি যাদের জামাকাপড় দেখলে মায়া হয়, ৫-৭ বছর ধরে ভাঙাচোরা এক ফোন য়ুজ করছেন এমন অনেককে দেখি। ৫ আগস্ট-পরবর্তী দলের ভাগ্যের পরিবর্তন হলেও তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটেনি।
মিষ্টিদের কর্মকাণ্ড দেখলে তৃণমূলের ওই মানুষগুলোর কথা ভাবি, যারা ১৭ বছর বাড়িতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারতো না। ধানখেতে ঘুমাতো, ফেরারি হয়ে জীবন কাটাতেন।
Farid Uddin Rony’s Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।





















