, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে রাহুল-মমতারা মিছিল করে যাবেন সুপ্রিম কোর্টে,মিছিলে গোটা ভারত হাঁটবে। সোমবার দিল্লি পুলিশ পরীক্ষায় রোটন তাঁর বাবার চেহলাম আয়োজনে ও বাধা ফজলে করিম চৌধুরী! আমাদের বিড়ি টানা,হাতাকাটা জামা পরার উপর যতক্ষণ না আক্রমণ আসবে ততোক্ষণ ? এই মানুষ এভাবে পচে গেল কেন? অবশেষে ডিপ স্টেট এবং ইউনূস ও খলিল সাহেবদের সাকসেস! রোটন ভাইয়ের জানাজা পড়তে যাওয়া মুসল্লীদের মসজিদ থেকে বের করে, নির্মম নির্যাতন করেছে বিএনপির ক্যাডাররা!! জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম মুসলিম সভাপতি — বদরুদ্দীন তৈয়বজী পাকিস্তানপন্থী খাঁটি মুসলমান ইনকিলাব মঞ্চ বাবা-মায়ের কাছ থেকে যা শিখেছি ত্রপা মজুমদার

এক গ্রামের বাড়ির এক মাসের বিদ্যুৎ বিল ৫০৬ কোটি টাকা?

  • প্রকাশের সময় : ১১:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৭ পড়া হয়েছে
অনলাইন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
\এক মাসে মাত্র ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে মাগুরার এক আবাসিক গ্রাহকের নামে বিল এসেছে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা। অবিশ্বাস্য ও অস্বাভাবিক অঙ্কের এই বিদ্যুৎ বিল হাতে পেয়ে চরম বিস্ময় ও আতঙ্কের মধ্যে পড়েছেন গ্রাহক এবং তার পরিবারের সদস্যরা। চোখ কপালে ওঠার মতো এই ঘটনায় স্থানীয় এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামের বাসিন্দা ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী মোছা. আলেয়া খাতুনের নামে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসের এই বিলটি ইস্যু করা হয়।

গ্রাহকের বিলের নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, আবাসিক (এলটি-এ) শ্রেণির এই সংযোগে এক মাসে বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে মাত্র ২৩৫ ইউনিট। তবে মূল বিপত্তি বেঁধেছে অন্যান্য খরচের হিসাবে। বিলের কপিতে ডিমান্ড চার্জ দেখানো হয়েছে ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা এবং এর সঙ্গে অতিরিক্ত ২৪ কোটি ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৭১ টাকা ভ্যাট যুক্ত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট প্রদেয় বিলের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা। শুধু তা-ই নয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করতে না পারলে বিলম্ব মাশুলসহ বিলের অঙ্ক বেড়ে দাঁড়াবে ৫৩০ কোটি ৯৬ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ টাকা।

বিদ্যুৎ বিভাগের স্বাভাবিক ট্যারিফ কাঠামো অনুযায়ী, ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচের বিপরীতে ওই গ্রাহকের প্রকৃত বিল আসার কথা ছিল মাত্র ১ হাজার ৯৬৩ টাকা; যা বিলম্ব মাশুলসহ পরিশোধ করলেও পরিমাণ হতো সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫৬ টাকা। গত ১০ সেপ্টেম্বর ইস্যু করা এই বিলটি পরিশোধের সর্বশেষ সময়সীমা নির্ধারণ করা ছিল ২৯ সেপ্টেম্বর।

ভুলের ব্যাখ্যা পেতে শালিখা উপজেলার চুকিনগরে অবস্থিত মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিসে যোগাযোগ করা হলে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. রেজাউল করিম। তিনি জানান, গ্রাহকের মিটার পরিবর্তনের পর যান্ত্রিক ও অসাবধানতাবশত মিটারের সিল নম্বরের অঙ্কগুলো ডিমান্ড চার্জের ঘরে পোস্টিং হয়ে যাওয়ায় এই বিশালাকার অঙ্কের বিল তৈরি হয়েছিল। তবে বিষয়টি নজরে আসার পরই দ্রুত ভুল সংশোধন করে পরিমার্জিত বিলটি গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বে এমন চরম গাফিলতির ঘটনায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. মহিতুল ইসলাম জানান, বিলিং প্রক্রিয়ায় এমন অমার্জনীয় ভুলের পেছনে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. রেজাউল করিম এবং বিলিং সহকারী সোমা রানীসহ মোট চারজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) জারি করা হয়েছে।

জনপ্রিয়

গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে

এক গ্রামের বাড়ির এক মাসের বিদ্যুৎ বিল ৫০৬ কোটি টাকা?

প্রকাশের সময় : ১১:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অনলাইন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
\এক মাসে মাত্র ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে মাগুরার এক আবাসিক গ্রাহকের নামে বিল এসেছে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা। অবিশ্বাস্য ও অস্বাভাবিক অঙ্কের এই বিদ্যুৎ বিল হাতে পেয়ে চরম বিস্ময় ও আতঙ্কের মধ্যে পড়েছেন গ্রাহক এবং তার পরিবারের সদস্যরা। চোখ কপালে ওঠার মতো এই ঘটনায় স্থানীয় এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামের বাসিন্দা ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী মোছা. আলেয়া খাতুনের নামে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসের এই বিলটি ইস্যু করা হয়।

গ্রাহকের বিলের নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, আবাসিক (এলটি-এ) শ্রেণির এই সংযোগে এক মাসে বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে মাত্র ২৩৫ ইউনিট। তবে মূল বিপত্তি বেঁধেছে অন্যান্য খরচের হিসাবে। বিলের কপিতে ডিমান্ড চার্জ দেখানো হয়েছে ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা এবং এর সঙ্গে অতিরিক্ত ২৪ কোটি ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৭১ টাকা ভ্যাট যুক্ত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট প্রদেয় বিলের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা। শুধু তা-ই নয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করতে না পারলে বিলম্ব মাশুলসহ বিলের অঙ্ক বেড়ে দাঁড়াবে ৫৩০ কোটি ৯৬ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ টাকা।

বিদ্যুৎ বিভাগের স্বাভাবিক ট্যারিফ কাঠামো অনুযায়ী, ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচের বিপরীতে ওই গ্রাহকের প্রকৃত বিল আসার কথা ছিল মাত্র ১ হাজার ৯৬৩ টাকা; যা বিলম্ব মাশুলসহ পরিশোধ করলেও পরিমাণ হতো সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫৬ টাকা। গত ১০ সেপ্টেম্বর ইস্যু করা এই বিলটি পরিশোধের সর্বশেষ সময়সীমা নির্ধারণ করা ছিল ২৯ সেপ্টেম্বর।

ভুলের ব্যাখ্যা পেতে শালিখা উপজেলার চুকিনগরে অবস্থিত মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিসে যোগাযোগ করা হলে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. রেজাউল করিম। তিনি জানান, গ্রাহকের মিটার পরিবর্তনের পর যান্ত্রিক ও অসাবধানতাবশত মিটারের সিল নম্বরের অঙ্কগুলো ডিমান্ড চার্জের ঘরে পোস্টিং হয়ে যাওয়ায় এই বিশালাকার অঙ্কের বিল তৈরি হয়েছিল। তবে বিষয়টি নজরে আসার পরই দ্রুত ভুল সংশোধন করে পরিমার্জিত বিলটি গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বে এমন চরম গাফিলতির ঘটনায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. মহিতুল ইসলাম জানান, বিলিং প্রক্রিয়ায় এমন অমার্জনীয় ভুলের পেছনে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. রেজাউল করিম এবং বিলিং সহকারী সোমা রানীসহ মোট চারজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) জারি করা হয়েছে।