
অনলাইন সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬
গত ১৮ সেপ্টেম্বর জননেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাদের সরাসরি বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বৈঠকের ধরন পরিবর্তন হয় এবং ভার্চুয়াল অংশগ্রহণের বিষয়টি সামনে আসে। এ নিয়ে তখন পত্রপত্রিকায় প্রচুর লেখালেখি, আলোচনা ও তর্কবিতর্ক হয়েছিল।
সবচেয়ে অবাক হয়েছিলাম ডেইলি ওয়াদা পত্রিকার সংবাদটি দেখে। বৈঠকের আগে পত্রিকাটি আওয়ামী লীগের একজন নেতার বরাত দিয়ে খবর প্রকাশ করেছিল যে সরাসরি বৈঠকটি হচ্ছে না। কিন্তু সেই আওয়ামী লীগ নেতা কে, তাঁর নাম প্রকাশ করা হয়নি।
তখন থেকেই আমার মাথায় একটা প্রশ্ন ঘুরছিল। আওয়ামী লীগের এত ভেতরের খবর ডেইলি ওয়াদা পেল কোথা থেকে? কে সেই আওয়ামী লীগ নেতা, যিনি বৈঠকের খবর সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন?
আজ এই পুরোনো ছবিটি দেখার পর প্রশ্নটা আবার নতুন করে মাথায় এল!
ছবিটি সম্পর্কে প্রকাশিত একটি পুরোনো পোস্টে দাবি করা হয়েছে, ২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগের এক কেন্দ্রীয় নেতা তাঁর ধানমন্ডির বাসায় কয়েকজনকে নিমন্ত্রণ করে আপ্যায়ন করেছিলেন। অতিথিদের মধ্যে সাবেক ইউনূস সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং উপপ্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদারও ছিলেন বলে ওই পোস্টে দাবি করা হয়েছে। কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের একটি অনুষ্ঠানেও তাঁদের আমন্ত্রণের কথা সেখানে উল্লেখ রয়েছে।
এখানেই শেষ নয়। যতদূর শোনা যায়, ওই আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক শুধু রাজনৈতিক বা আনুষ্ঠানিক পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। এমন কথাও শোনা যায়, তাঁরা নাকি সপ্তাহে এক-দুবার পরিবারসহ দেখা-সাক্ষাৎ করতেন, একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া করতেন। যদিও এসব ব্যক্তিগত যোগাযোগের বিস্তারিত তথ্য আমার কাছে নিশ্চিত নয়।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আওয়ামী লীগের একজন কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে তাঁদের এত ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ কীভাবে গড়ে উঠেছিল? সেই যোগাযোগ কি পরবর্তী সময়েও বজায় ছিল?
বিশেষ করে ১৮ সেপ্টেম্বরের বৈঠক নিয়ে ডেইলি ওয়াদার সেই সংবাদটি আবার মনে পড়ছে। পত্রিকাটি যখন আওয়ামী লীগের একজন নেতাকে সূত্র হিসেবে উল্লেখ করেছিল, তখন সেই নেতার পরিচয় কী ছিল? তিনি কীভাবে বৈঠকের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানতে পেরেছিলেন?
আমি বলছি না, এই ছবির কেউ বৈঠকের খবর ফাঁস করেছেন। একটি পুরোনো ছবি কিংবা ব্যক্তিগত পরিচয় দিয়ে তা প্রমাণ করা যায় না। কিন্তু এসব প্রশ্নের উত্তর জানার আগ্রহ তো থাকতেই পারে।
আজ আওয়ামী লীগের অসংখ্য নেতা-কর্মী কঠিন সময় পার করছেন। অনেকেই মামলা, গ্রেপ্তার ও নানা অনিশ্চয়তার মুখে রয়েছেন। অথচ অতীতে দলের প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে যাঁদের এমন যোগাযোগ ছিল বলে দাবি করা হচ্ছে, তাঁদের কেউ কেউ পরবর্তী সময়ে ইউনূস সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
**আমার প্রশ্ন খুব সাধারণ—আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ বৈঠকের খবর বাইরে যাচ্ছে কোন পথে? ডেইলি ওয়াদাকে তথ্য দেওয়া সেই নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগ নেতা কে ছিলেন?**
দলের সাধারণ কর্মীরা যখন বিপদে, তখন নিজেদের নেতাদের অতীত ও বর্তমান যোগাযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা কি অন্যায়?
” আওয়ামী লীগের সাধারণ কর্মীদের কাছে জবাবদিহি শুধু বিরোধীদের নয়, নিজেদের নেতাদেরও থাকা উচিত। “
حمد فرهاد حسين’s Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।





















