, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এপিডিআর বিএসএফ : বন্দুক দেখিয়ে নারী-শিশুদের বাংলাদেশে ঢোকাচ্ছে

  • প্রকাশের সময় : ০৮:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
  • ১৯ পড়া হয়েছে
নওগাঁর সাপাহার সীমান্তে বিএসএফের ‘পুশ ইনের’ চেষ্টার পর সতর্ক অবস্থানে বিজিবি। শুক্রবার দুপুরে সাপাহারের হাপানিয়া এলাকায়ছবি: সংগৃহীত

ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে বাংলাদেশি সন্দেহে বহু মানুষকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছে পশ্চিমবঙ্গের প্রধান মানবাধিকার সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অব ডেমোক্রেটিক রাইটস (এপিডিআর)। এই ঘটনার জেরে এপিডিআর ১১ জুন মালদা শহরে একটি প্রতিবাদ মিছিল আহ্বান করে বলে সংগঠনের সহসভাপতি রঞ্জিত শূর জানিয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসা বিজেপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে লিখেছিল, ক্ষমতায় এলে তারা ‘ডিটেক্ট, ডিপোর্ট, ডিলিট’-এর (চিহ্নিতকরণ, ফেরত পাঠানো এবং মুছে ফেলা) নীতি নেবে। ক্ষমতা গ্রহণের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের পাশাপাশি ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বা আটককেন্দ্র চালু করে কথিত বাংলাদেশিদের চিহ্নিত করে সেখানে পাঠানোর জন্য। পাশাপাশি শুরু হয় বাংলাদেশে ‘পুশ ব্যাক’ (বাংলাদেশে পুশ ইন)। এর জেরে অসংখ্য মানুষ দুই দেশের মধ্যবর্তী অঞ্চলে আটকে রয়েছেন বলে আজ রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর।

পশ্চিমবঙ্গের প্রধান মানবাধিকার সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অব ডেমোক্রেটিক রাইটস (এপিডিআর) ভারত–বাংলাদেশ সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেছবি: এপিডিআর–এর ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া

এপিডিআর বলেছে, এর ফলে সীমান্তের বহু জায়গায় ‘নো ম্যানস ল্যান্ডে’ দিনের পর দিন এই মানুষেরা পড়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। এদের মধ্যে গর্ভধারিণী নারী ও শিশুরাও আছে। তারা খাবার, জল পাচ্ছে না। রোদ, বৃষ্টি, ঝড় জলে এক ভয়ংকর অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে তারা। ভয়ংকর এক অমানবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

বিএসএফ ঠেলে নো ম্যানস ল্যান্ডে ঢুকিয়ে দিয়ে দায়িত্ব অস্বীকার করছে জানিয়ে মানবাধিকার সংগঠনটি বলেছে, ‘বিএসএফ বলছে, ওরা বাংলাদেশি, তাই বিএসএফের কোনো দায়িত্ব থাকতে পারে না। অন্যদিকে বাংলাদেশের বিজিবি বলছে, ওরা যে বাংলাদেশি, তার কোনো প্রমাণ নেই। বিজিবির মতে, ওরা ভারতীয়। ফলে তাদের কোনো দায়িত্ব নেই। ফলে দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর বন্দুকের সামনে খাবার ও পানীয় জলহীন এক ভয়ংকর জীবন কাটাতে বাধ্য হচ্ছে বেশ কিছু মানুষ।’

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বেশ কয়েকটি জায়গায় এই অবস্থা বলে জানিয়েছে এপিডিআর। সংগঠনটি বলেছে, ‘আমরা মনে করি, ভারতের ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট (থ্রি ডি) নীতিটাই অসাংবিধানিক, বেআইনি। সংবিধানের ২১ এবং ১৪ নম্বর ধারার বিরোধী। এই নীতিই বর্তমান সংকটের উৎস।’ ভারতের সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদ ভারতের ভূখণ্ডের মধ্যে থাকা সমস্ত ব্যক্তির সমান মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা দেয়। ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে সব নাগরিকের জীবন এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা রক্ষার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।

পঞ্চগড় সদর উপজেলার বড়বাড়ি-প্রধানপাড়া সীমান্ত দিয়ে ঠেলে পাঠানো ১০ জন প্রায় ৫৯ ঘণ্টা ধরে শূন্যরেখার ফসলি জমির আইলে অবস্থান করছেন। রোববার বেলা আড়াইটার দিকে তোলাছবি: প্রথম আলো

এপিডিআরের তরফে রঞ্জিত শূর

ভারতের অসাংবিধানিক ‘থ্রি ডি’ নীতি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআরের সহসভাপতি রঞ্জিত শূর। তিনি বলেছেন, ‘নো ম্যানস ল্যান্ড বা জিরো পয়েন্টে বিএসএফের ফেলে আসা সব মানুষকে অবিলম্বে ফিরিয়ে নিতে হবে। আমরা চাই, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সৃষ্টিকারী পুশ ব্যাক নীতি অবিলম্বে বাতিল করুক ভারত সরকার। আমরা এই বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের (ইউএনএইচআরসি) দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এবং হস্তক্ষেপের দাবি জানাচ্ছি।’

জনপ্রিয়

এপিডিআর বিএসএফ : বন্দুক দেখিয়ে নারী-শিশুদের বাংলাদেশে ঢোকাচ্ছে

প্রকাশের সময় : ০৮:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
নওগাঁর সাপাহার সীমান্তে বিএসএফের ‘পুশ ইনের’ চেষ্টার পর সতর্ক অবস্থানে বিজিবি। শুক্রবার দুপুরে সাপাহারের হাপানিয়া এলাকায়ছবি: সংগৃহীত

ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে বাংলাদেশি সন্দেহে বহু মানুষকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছে পশ্চিমবঙ্গের প্রধান মানবাধিকার সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অব ডেমোক্রেটিক রাইটস (এপিডিআর)। এই ঘটনার জেরে এপিডিআর ১১ জুন মালদা শহরে একটি প্রতিবাদ মিছিল আহ্বান করে বলে সংগঠনের সহসভাপতি রঞ্জিত শূর জানিয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসা বিজেপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে লিখেছিল, ক্ষমতায় এলে তারা ‘ডিটেক্ট, ডিপোর্ট, ডিলিট’-এর (চিহ্নিতকরণ, ফেরত পাঠানো এবং মুছে ফেলা) নীতি নেবে। ক্ষমতা গ্রহণের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের পাশাপাশি ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বা আটককেন্দ্র চালু করে কথিত বাংলাদেশিদের চিহ্নিত করে সেখানে পাঠানোর জন্য। পাশাপাশি শুরু হয় বাংলাদেশে ‘পুশ ব্যাক’ (বাংলাদেশে পুশ ইন)। এর জেরে অসংখ্য মানুষ দুই দেশের মধ্যবর্তী অঞ্চলে আটকে রয়েছেন বলে আজ রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর।

পশ্চিমবঙ্গের প্রধান মানবাধিকার সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অব ডেমোক্রেটিক রাইটস (এপিডিআর) ভারত–বাংলাদেশ সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেছবি: এপিডিআর–এর ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া

এপিডিআর বলেছে, এর ফলে সীমান্তের বহু জায়গায় ‘নো ম্যানস ল্যান্ডে’ দিনের পর দিন এই মানুষেরা পড়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। এদের মধ্যে গর্ভধারিণী নারী ও শিশুরাও আছে। তারা খাবার, জল পাচ্ছে না। রোদ, বৃষ্টি, ঝড় জলে এক ভয়ংকর অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে তারা। ভয়ংকর এক অমানবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

বিএসএফ ঠেলে নো ম্যানস ল্যান্ডে ঢুকিয়ে দিয়ে দায়িত্ব অস্বীকার করছে জানিয়ে মানবাধিকার সংগঠনটি বলেছে, ‘বিএসএফ বলছে, ওরা বাংলাদেশি, তাই বিএসএফের কোনো দায়িত্ব থাকতে পারে না। অন্যদিকে বাংলাদেশের বিজিবি বলছে, ওরা যে বাংলাদেশি, তার কোনো প্রমাণ নেই। বিজিবির মতে, ওরা ভারতীয়। ফলে তাদের কোনো দায়িত্ব নেই। ফলে দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর বন্দুকের সামনে খাবার ও পানীয় জলহীন এক ভয়ংকর জীবন কাটাতে বাধ্য হচ্ছে বেশ কিছু মানুষ।’

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বেশ কয়েকটি জায়গায় এই অবস্থা বলে জানিয়েছে এপিডিআর। সংগঠনটি বলেছে, ‘আমরা মনে করি, ভারতের ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট (থ্রি ডি) নীতিটাই অসাংবিধানিক, বেআইনি। সংবিধানের ২১ এবং ১৪ নম্বর ধারার বিরোধী। এই নীতিই বর্তমান সংকটের উৎস।’ ভারতের সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদ ভারতের ভূখণ্ডের মধ্যে থাকা সমস্ত ব্যক্তির সমান মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা দেয়। ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে সব নাগরিকের জীবন এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা রক্ষার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।

পঞ্চগড় সদর উপজেলার বড়বাড়ি-প্রধানপাড়া সীমান্ত দিয়ে ঠেলে পাঠানো ১০ জন প্রায় ৫৯ ঘণ্টা ধরে শূন্যরেখার ফসলি জমির আইলে অবস্থান করছেন। রোববার বেলা আড়াইটার দিকে তোলাছবি: প্রথম আলো

এপিডিআরের তরফে রঞ্জিত শূর

ভারতের অসাংবিধানিক ‘থ্রি ডি’ নীতি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআরের সহসভাপতি রঞ্জিত শূর। তিনি বলেছেন, ‘নো ম্যানস ল্যান্ড বা জিরো পয়েন্টে বিএসএফের ফেলে আসা সব মানুষকে অবিলম্বে ফিরিয়ে নিতে হবে। আমরা চাই, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সৃষ্টিকারী পুশ ব্যাক নীতি অবিলম্বে বাতিল করুক ভারত সরকার। আমরা এই বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের (ইউএনএইচআরসি) দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এবং হস্তক্ষেপের দাবি জানাচ্ছি।’