
অনলাইন সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২
কিশোরী বয়স থেকেই বাঁধন ছিলেন উগ্র উশৃঙ্খল স্বভাবের। দুইভাই একবোন। বাঁধন মেজো। কথায় কথায় ছেলেদের সাথে ডেটিংয়ে যেতেন। তার বাবা বুয়েটের ডিগ্রীপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার। বাবা মা’র শাসনকে থোড়াই কেয়ার করতেন। বাবা মা যা যা বলতেন, তিনি করতেন ঠিক উল্টো। তবে মেধাবী ছাত্রী ছিলেন। ডেন্টালে ভর্তি হয়ে প্রেম শুরু করেন “ম” অদ্যাক্ষরের এক সহপাঠীর সাথে। এটাও তার বাবা মা’র কানে যায়। তারা প্রমাদ গুনলেন। বিয়ে দিলেন বুয়েটের এক ইঞ্জিনিয়ার কলিগের ছেলের সাথে। ভাবলেন বিয়ে দিলে মেয়ের স্বভাব চরিত্র শোধরাবে হয়ত। কিন্তু যেই লাউ সেই কদু। স্বামীকে ব্যাংকক নেপাল ঘুরতে গেলেন। প্রচন্ড লোভী মেয়ে। বড় বড় বায়না ছিল তার। তাকে ডায়মন্ডের জুয়েলারি কিনে দিতে হবে। সাধ্যের বাইরে স্বামী যাবেন কিভাবে?এছাড়া স্বামী আবিস্কার করলেন, বাঁধন বিভিন্ন পুরুষের সাথে ঘন্টার পর ঘন্টা ফোনে কথা বলতেন। তাকে প্রশ্ন করলে প্রচন্ড চিৎকার দিয়ে দুর্ব্যবহার করতেন। অসময়ে ছেলেবন্ধুদের সাথে ঘুরতে চলে যেতেন। কোনো ভদ্র পরিবারের বউ এভাবে ঘর থেকে বের হয়না। এটা তাকে বলা হলে তিনি আরও ক্ষেপে যেতেন। সেই মুহূর্তে তার রুদ্রমূর্তি দেখলে মনে হতো মারাত্মক সাইকো। আস্তে আস্তে স্বামীর উপর থেকে তার মন উঠে গেল। এই স্বামী দিয়ে তার পোষাবেনা বলে ডিভোর্স দিলেন অকারণে। তিনবছর পড়াশোনা করেননি। যখন পড়াশোনা ফিরে এলেন পরিক্ষায় স্ট্যান্ড করলেন।তারপর টার্গেট করলেন আর্মি অফিসার সনেটকে।
এটা কারো অজানা নয় আজমেরি হক বাঁধন ২০০৮ সালের জানুয়ারি মাসে থাইল্যান্ডে কসমেটিকস সামগ্রী চুরি করে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন। পুলিশ এয়ারপোর্টে মালামালসহ তাকে গ্রেফতার করে। তাকে ছাড়ানোর জন্য বিশেষ তদবির করেন চ্যানেল আইয়ের মাফিয়া সর্দার ফরিদুর রেজা সাগর। দুষ্টু লোকেরা বলে আজমেরি বাঁধন সাগরের মনোরঞ্জিনী ছিলেন। মাফিয়া সাগরের চান্দ কপাল। ডজনখানেক নায়িকা গায়িকা অ্যাংকর তার মনোরঞ্জিনীদের তালিকায় আছে। বাঁধনকে ছাড়ানোর জন্য চ্যানেল আই থেকে কয়েকবার ফোন যায় ব্যাংককে মরহুম মোহন খানের কাছে। কারণ মোহন খানের নাটকে অভিনয়ের জন্য ব্যাংককের পাতায়া গিয়েছিলেন বাঁধন। বাঁধনের চুরি কান্ডের সাক্ষী ছিলেন ইন্তেখাব দিনার,চিত্রলেখা গুহ,শতাব্দী ওয়াদুদ,শাহেদ শরীফ খান, আবুল হায়াত,রাজিবুল ইসলাম রাজিব, লুৎফর রহমান জর্জ,এম সাখাওয়াত হোসেন সহ আরও কয়েকজন।
“খুফিয়া” সিনেমায় অভিনেত্রী টাবুর ঠোঁটে চুমু খেতে হবে শুনে বাঁধনের জিহবা লকলকিয়ে উঠেছিল। স’ম’কা’মী’র চুমুর দৃশ্যে অভিনয় করতে পেরে তার জীবন নাকি সার্থক হয়ে গিয়েছিল। ওয়েব ফিল্ম “গুটি”তে যে বাঁধন বাথরুমে ঢুকে চোখ মুখ খিঁচিয়ে কোঁথ মেরে পায়ূপথ দিয়ে ইয়াবা বের করে আনতেন। সেই ব্যক্তিকে লে’স’বি প্যাটার্ণে দেখে আমার ঘেন্নাপিত্তি জেগে উঠেছিল। তার জীবন ঘটনাবহুল। বিয়ে সেরেছেন একজোড়া। প্রথম স্বামী তথ্যগত দিক দিয়ে নিরুদ্দেশ। দ্বিতীয় স্বামী মাশরুর সিদ্দিকী সনেট। সনেট বহুদিন পর মুখ খুলেছেন প্রাক্তন স্ত্রীর বিরুদ্ধে। সনেট বুঝতে পারেননি তার প্রেমিকা স্ত্রী মুখোশের আড়ালে আস্ত এক ভ্যাম্পায়ার! যে প্রতিরাতে সনেটের গলায় তার লম্বাটে ধারালো দাঁত বসিয়ে রক্ত সব শুষে নিতো। বেচারা সনেটের শরীরে শুরু হল রক্তশূন্যতা। তিনি এখন মনে করেন বাঁধন তার জীবনের চরম এক অভিশাপ। স্বামী স্ত্রীর মধ্যে প্রেম তো ছিলই না। বরং তা ছিল সনেটের বরবাদির বিপদজনক ফাঁদ। তিক্ততায় ভরা দাম্পত্য জীবনে সুখের মুখ দেখেননি সনেট।
আর্মির চাকরি ছেড়ে তিনি ব্যবসায় নেমেছিলেন। কিন্তু বাঁধন আর তার পরিবারের নির্যাতনে সনেটের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল। বিয়ের পর সনেটের উপর নেমে আসে অর্থলোভী বাঁধন ও তার ভাইদের নির্যাতনের খড়্গ। বাঁধনের দাবি ছিল প্রতিমাসে ১ লাখ টাকা তাকে হাত খরচ দিতে হবে। টাকা দিতে দেরি হলে বাজখাঁই গলায় চিৎকার করে বাড়ি মাথায় তুলতেন। অশ্রাব্য গালিগালাজ করতেন সনেটের বাবা মা’কে উদ্দেশ্য করে। বাঁধনের চারতলার বাসা পাঁচতলায় রুপান্তরিত করে দিয়েছিলেন সনেট। ফ্ল্যাট নির্মাণ সম্পন্ন করতে এবং ফ্ল্যাট সাজাতে গিয়ে দুই কোটি ত্রিশ হাজার টাকা খরচ হয়। ভদ্রলোকের জীবনের সমস্ত সঞ্চয় স্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের পেছনে ব্যয় করতে হয়েছে। এমনকি সনেটের মায়ের নামের জমি বিক্রি করতে তাকে বাধ্য করা হয়েছিল। বাঁধনের গু’ন্ডা ভাই তার ভগ্নীপতির গায়ে হাত তুলতেও দ্বিধা করেনি।
Mili Sultana’s Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।





















