
অনলাইন বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর ২০২৬
কেউ আছে বিপদে
কেউ আছে প্রমোদে!
হ্যাঁ, ২০২৪-এর ৫ আগস্ট বাংলাদেশে
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় থেকে
তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের
গভীর সংকটের মধ্য দিন কাটছে।
যারা দেশ ছেড়ে বিদেশে চলে গিয়েছেন
তারাও ভালো নেই।
কেননা, তাদের পরিবারের ওপরেও চলছে
অমানবিক অত্যাচার-নির্যাতন।
উপরন্তু হয়রানিমূলক মামলাতো আছেই।
কিন্তু আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগীদের মধ্যে
কেউ কেউ বিপদে থাকলেও কেউ কেউ আবার
বেশ আমোদ-প্রমোদেই সময় পার করছেন।
এর জলজ্যান্ত প্রমাণ নজরুল ইসলাম মজুমদার
ও চৌধুরী নাফিজ সরাফাত।
আলোচিত-সমালোচিত এই দুই ব্যক্তি
আওয়ামী লীগ থেকে সবচেয়ে বেশি
সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন।
এদের মধ্যে নজরুল ইসলাম মজুমদার আগে
থেকেই ব্যবসায়ী,একটি শিল্প গ্রুপের মালিক।
অপরদিকে, ধুরন্ধর নাফিজ সরাফাত
একজন সামান্য ব্যাংক কর্মচারী থেকে
রাতারাতি হয়ে গেলেন হাজার হাজার
কোটি টাকার মালিক,
দেশের ইকোনোমিক খাতের ‘হিটম্যান‘।
একজন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘মা’
বলে সম্বোধন করতেন, আরেকজন বাড়ি
গোপালগঞ্জ হওয়ার সুবাদে ‘ফুপু’ বলতেন।
নানা উছিলায়,অজুহাতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে
দেখা করতেন।
আবার ছবি তুলে তা পত্রিকায় ছাপিয়ে
ধান্দাবাজিএ করতেন।
এই পোস্টে তাদের দু’জনের
একটা ছবি সংযুক্ত করলাম।
বাটপার নাফিজ সরাফাত তার ব্যবসা প্রসারের
লক্ষ্যে গুরু ধরেছিলেন নজরুল ইসলামকে।
কিন্তু নাফিজ যে একটা প্রতারক,
‘গুরু মারা শিষ্য’ তা হয়তো
মজুমদারের জানা ছিলো না।
যতদুর জেনেছি, ২৪-এর ৫ আগস্টেই দেশ থেকে
ভেগে যান নাফিজ সরাফাত ওরফে মাফিয়া ডন।
কিন্তু দেশেই থেকে যান নজরুল ইসলাম মজুমদার।
শুনে আশ্চর্য হবেন,
মজুমদারের গ্রেফতারের ব্যাপারে নাকি
নাফিজের হাত ছিলো!
তার নিজস্ব কিছু চ্যালার মাধ্যমে গোয়েন্দা সংস্থার
কাছে মজুমদারের অবস্থান জানিয়ে দেন।
উদ্দেশ্য ছিল,কৌশলে মজুমদারের
কিছু সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়া।
এর মধ্যে ছিল, তেজগাঁও এলাকায়
মজুমদারের কয়েক বিঘা জমিসহ ইমারত।
গ্রেফতার হওয়ার সাথে সাথেই মজুমদারকে
তাদের যৌথ মালিকানাধীন দৈনিক বাংলা
পত্রিকার চেয়ারম্যানের দ্বায়িত্ব থেকে
বাদ দিয়ে দেয়া হয়।
পত্রিকার প্রিন্টার্সলাইন থেকে
মজুমদারের নাম মুছে দেয়।
কিন্তু প্রিন্টার্স লাইনে প্রকাশক হিসেবে
নাফিজ সরাফতের নাম ঠিকই আছে।
অথচ পত্রিকাটির অফিস এখনও
মজুমদারের তেজগাঁয়ের ওই বিশাল সম্পত্তির
একটি ভবনেই আছে।
বিএনপির এক বিতর্কিত জনপ্রতিনিধিকে
সম্পাদক বানিয়ে নাফিজ পত্রিকাটি পুরোপুরি
নিজের কব্জায় নিয়েছেন।
পাশাপাশি, এইআন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকা
ব্যবহার করে মজুমদারের ওই ভবনের
কয়েকটি ফ্লোর দখলে রেখেছেন।
মাফিয়া ডন নাফিজ সরাফাত সম্পর্কে
তার এক সময়ের ঘনিষ্ঠ এক অবসরপ্রাপ্ত
সেনা কর্মকর্তা আমার কাছে আক্ষেপ করে
মন্তব্য করেছিলেন,
‘নিজের স্বার্থ হাসিলে কাউকে প্রয়োজন হলে
নাফিজ সাহেব তার কাছে একেবারে
নতজানু হয়ে যান।
কাজ আদায় হয়ে গেলে তাকে ছুড়ে ফেলে দেন‘!
নজরুল ইসলাম মজুমদারের সাথেও
তিনি এই কাজটিই করেছেন।
বৃদ্ধ বয়সে মজুমদার জেলে কষ্ট করছেন
আর দুম্বা নাফিজ কিছুদিন কানাডায়
এক স্ত্রীর সঙ্গে,
কিছুদিন দুবাই কিংবা লন্ডনে
আরেক স্ত্রীকে নিয়ে
আমোদ-প্রমোদেই দিন পার করছেন।
বরগুনার সেই বিতর্কিত জনপ্রতিনিধির
মাধ্যমে বিপুল অংকের টাকা ঢেলে
নাফিজ সরাফত বিএনপি‘র সঙ্গে
ইতিমধ্যে গড়ে তুলেছেন বিশেষ সম্পর্ক।
আর সেই সম্পর্কের সূত্রে চুটিয়ে
ব্যবসা-বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন!
প্রবাদ আছে,
‘কয়লা যায়না ধুইলে, ইল্লত যায়না মইলে’!
মাত্র তিন পুরুষ আগে নিম্নবর্ণের হিন্দু থেকে
মুসলমান হওয়া নাফিজ সরাফাতের খাসলত
জীবনেও ভালো হবেনা।
Farazi Azmal Hossain’s Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।





















