
অনলাইন রবিবার, ০৯ আগস্ট, ২০২৬
পঁচাত্তর, নব্বই, চব্বিশ — তিনটি ভিন্নধর্মী গণঅভ্যুত্থান। তিনটির মধ্যে সবচেয়ে বিস্মৃত, অবহেলিত এবং লাঞ্ছিত অভ্যুত্থান সম্ভবত নব্বই। কেউ মনে রাখেনি। কেউ মনে রাখতে চায়নি। এবং বিস্ময়করভাবে প্রতিটি অভ্যুত্থানের পরেই ক্ষমতাসীন হয়েছে বিএনপি এবং আজকের চব্বিশের সাথে তাদের যে আচরণ একই আচরণ তারা করেছে বাকি দুই অভ্যুত্থানের সাথেও। প্রতিটা অভ্যুত্থানের মাখনটুকু খেয়েছে বিএনপি আর সাথে সাথে খেয়েছে অভ্যুত্থানের স্পিরিটকেও। জিয়া বাকশালীদের বিচার করেনি। খালেদা জিয়া এরশাদ ও তার সহযোগীদের বিচার করেনি। এবং এবারও সে পথেই হাঁটছে। পঁচাত্তরের নায়করা রক্ষা পায়নি। নব্বইকে এমনভাবে মুছে ফেলা হয়েছে যেন নব্বই কোনোকালে ঘটেইনি। তার কোনো শহীদ নেই। গাজী নেই। নব্বইয়ের অধিকাংশ খলনায়ককেই বিএনপি সসম্মানে পুনর্বাসিত করেছে। কোনো হত্যার, কোনো দূর্নীতির বিচার হয়নি। চব্বিশ তো সামনেই।
রুহুল আমিনের সাথে আমার পরিচয় নেই। থাকলে আমি তাকে অনুরোধ করতাম চব্বিশের ইতিহাস সংকলন করতে। কারণ তার বইটা আমার কাছে নব্বইয়ের সবচেয়ে সুশৃঙ্খল দলিল মনে হয়েছে। দলের প্রতি একটা টান তো থাকবেই কিন্তু সেই টান দলিলের ঘাটতিতে পর্যবসিত হয়নি। পঁচাত্তর নিয়ে এমন কোনো বই নেই। প্রচুর আছে কিন্তু এমন গোছানো না। এই বই পড়ে আপনি শুধু নব্বইয়ের দিনগুলিতেই ভ্রমণ করবেন না, আপনি অবাক বিস্ময় এবং গভীর বেদনার সাথে চব্বিশ পরবর্তী আমাদের স্বপ্নভঙ্গের যাতনাগুলিও উপলব্ধি করবেন। সেই একই প্যাটার্ন। একই দলের প্রত্যাবর্তন। একই গাদ্দারী। একই পুনর্বাসন। একইভাবে শহীদের রক্ত মাড়িয়ে ক্ষমতায় আরোহন করে শহীদদের ভুলে যাওয়া। কিছু কিছু শব্দে পর্যন্ত মওদুদের সাথে শিলং-এর আশ্চর্য মিল। হাহাহা ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য নামে একজন কলাম লিখেছেন “The Second Liberation” শিরোনামে। বুঝলাম এই যে আমরা দ্বিতীয় স্বাধীনতার গপ্পো ফাঁদছি চব্বিশে, সেই গপ্পো নব্বইতেও ফাঁদা হয়েছিল। এই স্বাধীনতার গপ্পো দিয়েই আসলে এই ক্ষমতার মাখন খাওয়া চক্রটা আমাদের বারবার প্রতারিত করে। যার জান তার নয়, শামা ওবায়েদ মারে দই।
মুনির উদ্দীনের ‘বাংলাদেশ: বাহাত্তর থেকে পঁচাত্তর’, অ্যান্থনি মাসকারেনহাসের ‘Bangladesh: A Legacy of Blood’ কিংবা মওদুদের ‘Era of Sheikh Mujibur Rahman’ কোনোটাই এককভাবে একটা অভ্যুত্থানের পটভূমি ফুটিয়ে তোলেনা। একে অপরের পরিপূরক হিসেবেই ভালো কাজে আসে। আর চব্বিশ নিয়ে তো কোনো আশাই আমি দেখিনা। একাত্তর যদি হয় একটা দলের মিথ্যাচারে কলঙ্কিত তেমনি চব্বিশ হবে অসংখ্য ব্যক্তির মিথ্যাচারে ক্লেদাক্ত। সে প্রসঙ্গে আশাবাদ না রাখাই ভালো।
এই জাতির আরেকটা দূর্ভাগ্য দেখবেন, পক্ষ-প্রতিপক্ষ যে-ই হোক জান যায় সাধারণের আর ক্ষমতার মধু খায় ঘুরেফিরে সেই শ তিনেক কিংবা তারও কম পরিবার। তাদের খুনের বিচার হয়না। তাদের দূর্নীতির বিচার হয়না। তাদের সেই লুটপাটের টাকায় তাদের সন্তানরাই আবারও ফিরে আসে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে।
সেই তাদেরই একজন নাজিউর রহমান মঞ্জুর। এরশাদের খাস তল্পিবাহক, আপাদমস্তক এক দূর্নীতিবাজ। রাষ্ট্রের সম্পদ লুন্ঠনকারী। তার কিছুই হয়নি। তার লুটের ভাগ হয়তো পেয়েছে পরবর্তী ক্ষমতাসীনরা। আর আজ তার পুত্র আন্দালিব রহমান পার্থ সেই লুটের টাকায় মৌজ মাস্তি করে বেড়াচ্ছে। চোরের পোলার গলা আজ অনেক অনেক উঁচা।
সেই চোর সম্পর্কে একদিন সবিস্তারে জানাবো। আজ কিছু মুহ মিঠা করে ছেড়ে দিলাম।
Kai Kaus’s Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।





















