, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে রাহুল-মমতারা মিছিল করে যাবেন সুপ্রিম কোর্টে,মিছিলে গোটা ভারত হাঁটবে। সোমবার দিল্লি পুলিশ পরীক্ষায় রোটন তাঁর বাবার চেহলাম আয়োজনে ও বাধা ফজলে করিম চৌধুরী! আমাদের বিড়ি টানা,হাতাকাটা জামা পরার উপর যতক্ষণ না আক্রমণ আসবে ততোক্ষণ ? এই মানুষ এভাবে পচে গেল কেন? অবশেষে ডিপ স্টেট এবং ইউনূস ও খলিল সাহেবদের সাকসেস! রোটন ভাইয়ের জানাজা পড়তে যাওয়া মুসল্লীদের মসজিদ থেকে বের করে, নির্মম নির্যাতন করেছে বিএনপির ক্যাডাররা!! জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম মুসলিম সভাপতি — বদরুদ্দীন তৈয়বজী পাকিস্তানপন্থী খাঁটি মুসলমান ইনকিলাব মঞ্চ বাবা-মায়ের কাছ থেকে যা শিখেছি ত্রপা মজুমদার

গেরিলা যোদ্ধা ফোরকান বেগম

  • প্রকাশের সময় : ০৮:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২৭ পড়া হয়েছে

অনলাইন ক্রবার,০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে অসংখ্য নারী অংশগ্রহণ করেন। এইসব নারীদের উৎসাহ উদ্দীপনা অকুতোভয় দুঃসাহসী কর্মসূচী প্রণয়ন যথেষ্ট অবদান রেখেছে আমাদের স্বাধীনতার মহান মুক্তিযুদ্ধে। তার মধ্যে ফোরকান বেগম ছিলেন অন্যতম।
ফোরকান বেগম ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত মুক্তির সকল আন্দোলন সংগ্রামে নারী সমাজের নেতৃত্ব দেন।
তিনি নিজে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন ও মুক্তির সংগ্রামের জন্য বহু মানুষকে প্রস্তুত করেন।
মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরুর আগে ১৯৭১ সালে ফোরকান বেগম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে অধ্যয়নরত ছিলেন। সে সময় তিনি সক্রিয়ভাবে স্বাধীনতা আন্দোলনের জন্য কাজ করেন।
ফোরকান বেগম ১৯৭১ সালের ২রা মার্চ প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠান ও ২৩ মার্চ পল্টনে সশস্ত্র প্যারেডে অংশ নেন। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঢাকায় হত্যাযজ্ঞ শুরু করলে ফোরকান বেগম তার নিজ গ্রামের মানুষদেরকে মুক্তিযুদ্ধের জন্য সংগঠিত করতে কাজ শুরু করেন।
ফোরকান বেগম স্থানীয় পুটিনা বিদ্যালয় মাঠে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন। এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেন তার গ্রামের দুজন সেনা ও বিমান বাহিনীর একজন সদস্য। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তিনি নিজ গ্রামে মুক্তিযোদ্ধাদের দশটি বাহিনী গড়ে তোলেন।
ফোরকান বেগম ভারতের লেম্বুছড়া প্রশিক্ষণ ক্যাম্প থেকে মুক্তিযুদ্ধের সময় বিশেষ প্রশিক্ষণ নেন। সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশারফ তাকে গেরিলা যুদ্ধে পাঠাতে চেয়েছিলেন।
কিন্তু পরে জানা গেল পাকিস্তানি সৈন্যরা গোয়েন্দাদের তথ্যসূত্র অনুসারে ফোরকান বেগমকে হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছে। যে কারণে তাকে ঢাকায় গেরিলা যুদ্ধের জন্য আর পাঠানো যায়নি।
তবে ফোরকান বেগমের গ্রামের প্রশিক্ষণ শিবিরের অকুতোভয় দুঃসাহসী লড়াকু মুক্তিযোদ্ধারা সেই গেরিলা যুদ্ধে প্রাণপণে অংশ নেন।
ফোরকান বেগমের জন্ম ১৯৫০ সালের ৬ মে বর্তমান নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জে। তার মা রোকেয়া একজন ভাষা সৈনিক ছিলেন। তিনিও মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ফোরকান বেগম তার অসমাপ্ত উচ্চ শিক্ষা সম্পন্ন করে দেশ গঠনে আত্মনিয়োগ করেন।
বাংলাদেশের লড়াই ও মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে ফোরকান বেগমের মতো বীর কন্যারা আমাদের প্রেরণা হয়ে থাকবেন। আজকের এই দিনে উনাকে গভীর শ্রদ্ধা।

Alim Al Rashid’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।

জনপ্রিয়

গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে

গেরিলা যোদ্ধা ফোরকান বেগম

প্রকাশের সময় : ০৮:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অনলাইন ক্রবার,০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে অসংখ্য নারী অংশগ্রহণ করেন। এইসব নারীদের উৎসাহ উদ্দীপনা অকুতোভয় দুঃসাহসী কর্মসূচী প্রণয়ন যথেষ্ট অবদান রেখেছে আমাদের স্বাধীনতার মহান মুক্তিযুদ্ধে। তার মধ্যে ফোরকান বেগম ছিলেন অন্যতম।
ফোরকান বেগম ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত মুক্তির সকল আন্দোলন সংগ্রামে নারী সমাজের নেতৃত্ব দেন।
তিনি নিজে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন ও মুক্তির সংগ্রামের জন্য বহু মানুষকে প্রস্তুত করেন।
মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরুর আগে ১৯৭১ সালে ফোরকান বেগম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে অধ্যয়নরত ছিলেন। সে সময় তিনি সক্রিয়ভাবে স্বাধীনতা আন্দোলনের জন্য কাজ করেন।
ফোরকান বেগম ১৯৭১ সালের ২রা মার্চ প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠান ও ২৩ মার্চ পল্টনে সশস্ত্র প্যারেডে অংশ নেন। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঢাকায় হত্যাযজ্ঞ শুরু করলে ফোরকান বেগম তার নিজ গ্রামের মানুষদেরকে মুক্তিযুদ্ধের জন্য সংগঠিত করতে কাজ শুরু করেন।
ফোরকান বেগম স্থানীয় পুটিনা বিদ্যালয় মাঠে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন। এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেন তার গ্রামের দুজন সেনা ও বিমান বাহিনীর একজন সদস্য। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তিনি নিজ গ্রামে মুক্তিযোদ্ধাদের দশটি বাহিনী গড়ে তোলেন।
ফোরকান বেগম ভারতের লেম্বুছড়া প্রশিক্ষণ ক্যাম্প থেকে মুক্তিযুদ্ধের সময় বিশেষ প্রশিক্ষণ নেন। সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশারফ তাকে গেরিলা যুদ্ধে পাঠাতে চেয়েছিলেন।
কিন্তু পরে জানা গেল পাকিস্তানি সৈন্যরা গোয়েন্দাদের তথ্যসূত্র অনুসারে ফোরকান বেগমকে হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছে। যে কারণে তাকে ঢাকায় গেরিলা যুদ্ধের জন্য আর পাঠানো যায়নি।
তবে ফোরকান বেগমের গ্রামের প্রশিক্ষণ শিবিরের অকুতোভয় দুঃসাহসী লড়াকু মুক্তিযোদ্ধারা সেই গেরিলা যুদ্ধে প্রাণপণে অংশ নেন।
ফোরকান বেগমের জন্ম ১৯৫০ সালের ৬ মে বর্তমান নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জে। তার মা রোকেয়া একজন ভাষা সৈনিক ছিলেন। তিনিও মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ফোরকান বেগম তার অসমাপ্ত উচ্চ শিক্ষা সম্পন্ন করে দেশ গঠনে আত্মনিয়োগ করেন।
বাংলাদেশের লড়াই ও মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে ফোরকান বেগমের মতো বীর কন্যারা আমাদের প্রেরণা হয়ে থাকবেন। আজকের এই দিনে উনাকে গভীর শ্রদ্ধা।

Alim Al Rashid’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।