, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে রাহুল-মমতারা মিছিল করে যাবেন সুপ্রিম কোর্টে,মিছিলে গোটা ভারত হাঁটবে। সোমবার দিল্লি পুলিশ পরীক্ষায় রোটন তাঁর বাবার চেহলাম আয়োজনে ও বাধা ফজলে করিম চৌধুরী! আমাদের বিড়ি টানা,হাতাকাটা জামা পরার উপর যতক্ষণ না আক্রমণ আসবে ততোক্ষণ ? এই মানুষ এভাবে পচে গেল কেন? অবশেষে ডিপ স্টেট এবং ইউনূস ও খলিল সাহেবদের সাকসেস! রোটন ভাইয়ের জানাজা পড়তে যাওয়া মুসল্লীদের মসজিদ থেকে বের করে, নির্মম নির্যাতন করেছে বিএনপির ক্যাডাররা!! জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম মুসলিম সভাপতি — বদরুদ্দীন তৈয়বজী পাকিস্তানপন্থী খাঁটি মুসলমান ইনকিলাব মঞ্চ বাবা-মায়ের কাছ থেকে যা শিখেছি ত্রপা মজুমদার

জুলাই এখন মুক্তচিন্তা আর মানবিক হৃদয়বৃত্তির বিরুদ্ধে

  • প্রকাশের সময় : ০৭:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
  • ৬২ পড়া হয়েছে

অনলাইন ২৫ জুলাই ২০২৬

জূলাই এখন
মোহন রায়হান
জুলাই এখন
ঝুলে আছে গণি রোডের ঝুলবারান্দায়—
লাল ফিতার ফাঁসিতে শ্বাসরুদ্ধ
শহীদের স্বপ্ন।
জুলাই এখন
হাসপাতালের আইসিইউতে,
জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে
এক রুগ্ণ শয্যার নিঃশব্দ আর্তনাদ।
জুলাই এখন
নিস্পন্দ মাটির নিচে,
অচেনা গণকবরের অন্ধকারে
নামহীন অগণিত কবরফুল।
জুলাই এখন
গুলিবিদ্ধ পাখির মতো
ডানা ঝাপটায়
অপরাজেয় বাংলা আর রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে।
জুলাই এখন
ধর্মব্যবসায়ী, ধর্ষক, খুনি আর লুণ্ঠনকারীদের
উল্লাস-উন্মত্ত নৃত্যমঞ্চ।
জুলাই এখন
স্বাধীনতার স্বঘোষিত সোল এজেন্টদের অট্টহাসি,
শিশুর আতঙ্কিত চিৎকার,
মায়ের অশ্রু,
বাবার দীর্ঘ হাহাকার।
জুলাই এখন
মুক্তচিন্তা আর মানবিক হৃদয়বৃত্তির বিরুদ্ধে
জারি হওয়া ফতোয়া;
কবিতা, কথা, সুর আর সংগীতের
গলায় ঝোলানো মৃত্যুঘণ্টা।
জুলাই এখন
অন্ধকারের বর্বরতার
অশনি-সংকেত।
জুলাই এখন
যুদ্ধবাজ হায়নাদের
রক্তাক্ত চারণভূমি।
জুলাই এখন
একাত্তরের পরাজিত শক্তির
নতুন মুখোশে ফিরে আসা
ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র।
জুলাই এখন
রাজাকার, আলবদর আর স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির
নির্লজ্জ পুনরুত্থানের প্রতিধ্বনি।
ভেবেছিলাম—
জুলাইয়ের যুদ্ধে বিজয়ী হলে
শৃঙ্খলমুক্ত স্বদেশে
মুক্ত আলো, মুক্ত বাতাসে
বুকভরে নেব নিঃশ্বাস।
কেউ আর চোখ রাঙাবে না,
কেউ আর ভয় দেখাবে না,
কেউ দাদাগিরির বিষদাঁত উঁচিয়ে
মানুষের স্বপ্ন গ্রাস করবে না।
আমিই হবো আমার নিজের রাজা,
তুমি থাকবে আমার হাত ধরে—
আমরা হাঁটব
স্বাধীন পৃথিবীর বিস্তীর্ণ প্রান্তরে,
মুক্ত মানুষের মতো।
কিন্তু আজ
স্বপ্নগুলো কেন এত দূরের নক্ষত্র?
কেন শহীদের রক্তের ওপর
আবারও অন্ধকারের ছায়া?
কেন স্বাধীনতার নামে
স্বাধীনতাই বন্দি?
তবে কি
জুলাইয়ের রক্তঋণ
এখনও শোধ হয়নি?
তবে কি
জুলাইয়ের আত্মত্যাগ
অপূর্ণই থেকে যাবে?
না—
ইতিহাসের শেষ বাক্য
এখনও লেখা হয়নি।
যতদিন মানুষের হৃদয়ে
স্বাধীনতার আগুন জ্বলবে
ভালবাসার ফুল ফুটবে
ততদিন জুলাই বেঁচে থাকবে—
প্রতিবাদে, প্রতিরোধে,
ন্যায়ের পতাকায়,
মুক্ত মানুষের অদম্য উচ্চারণে।
জুলাই কখনো বৃথা যেতে পারে না।
২৩ জুলাই ২০২৬
(বাংলা একাডেমিতে এই কবিতা পাঠের পর কী হয়েছে তা সবাই এখন জানে… কবিতাটা থাকুক টাইমলাইনে)

Ahsan Kabir’s Post

জনপ্রিয়

গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে

জুলাই এখন মুক্তচিন্তা আর মানবিক হৃদয়বৃত্তির বিরুদ্ধে

প্রকাশের সময় : ০৭:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

অনলাইন ২৫ জুলাই ২০২৬

জূলাই এখন
মোহন রায়হান
জুলাই এখন
ঝুলে আছে গণি রোডের ঝুলবারান্দায়—
লাল ফিতার ফাঁসিতে শ্বাসরুদ্ধ
শহীদের স্বপ্ন।
জুলাই এখন
হাসপাতালের আইসিইউতে,
জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে
এক রুগ্ণ শয্যার নিঃশব্দ আর্তনাদ।
জুলাই এখন
নিস্পন্দ মাটির নিচে,
অচেনা গণকবরের অন্ধকারে
নামহীন অগণিত কবরফুল।
জুলাই এখন
গুলিবিদ্ধ পাখির মতো
ডানা ঝাপটায়
অপরাজেয় বাংলা আর রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে।
জুলাই এখন
ধর্মব্যবসায়ী, ধর্ষক, খুনি আর লুণ্ঠনকারীদের
উল্লাস-উন্মত্ত নৃত্যমঞ্চ।
জুলাই এখন
স্বাধীনতার স্বঘোষিত সোল এজেন্টদের অট্টহাসি,
শিশুর আতঙ্কিত চিৎকার,
মায়ের অশ্রু,
বাবার দীর্ঘ হাহাকার।
জুলাই এখন
মুক্তচিন্তা আর মানবিক হৃদয়বৃত্তির বিরুদ্ধে
জারি হওয়া ফতোয়া;
কবিতা, কথা, সুর আর সংগীতের
গলায় ঝোলানো মৃত্যুঘণ্টা।
জুলাই এখন
অন্ধকারের বর্বরতার
অশনি-সংকেত।
জুলাই এখন
যুদ্ধবাজ হায়নাদের
রক্তাক্ত চারণভূমি।
জুলাই এখন
একাত্তরের পরাজিত শক্তির
নতুন মুখোশে ফিরে আসা
ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র।
জুলাই এখন
রাজাকার, আলবদর আর স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির
নির্লজ্জ পুনরুত্থানের প্রতিধ্বনি।
ভেবেছিলাম—
জুলাইয়ের যুদ্ধে বিজয়ী হলে
শৃঙ্খলমুক্ত স্বদেশে
মুক্ত আলো, মুক্ত বাতাসে
বুকভরে নেব নিঃশ্বাস।
কেউ আর চোখ রাঙাবে না,
কেউ আর ভয় দেখাবে না,
কেউ দাদাগিরির বিষদাঁত উঁচিয়ে
মানুষের স্বপ্ন গ্রাস করবে না।
আমিই হবো আমার নিজের রাজা,
তুমি থাকবে আমার হাত ধরে—
আমরা হাঁটব
স্বাধীন পৃথিবীর বিস্তীর্ণ প্রান্তরে,
মুক্ত মানুষের মতো।
কিন্তু আজ
স্বপ্নগুলো কেন এত দূরের নক্ষত্র?
কেন শহীদের রক্তের ওপর
আবারও অন্ধকারের ছায়া?
কেন স্বাধীনতার নামে
স্বাধীনতাই বন্দি?
তবে কি
জুলাইয়ের রক্তঋণ
এখনও শোধ হয়নি?
তবে কি
জুলাইয়ের আত্মত্যাগ
অপূর্ণই থেকে যাবে?
না—
ইতিহাসের শেষ বাক্য
এখনও লেখা হয়নি।
যতদিন মানুষের হৃদয়ে
স্বাধীনতার আগুন জ্বলবে
ভালবাসার ফুল ফুটবে
ততদিন জুলাই বেঁচে থাকবে—
প্রতিবাদে, প্রতিরোধে,
ন্যায়ের পতাকায়,
মুক্ত মানুষের অদম্য উচ্চারণে।
জুলাই কখনো বৃথা যেতে পারে না।
২৩ জুলাই ২০২৬
(বাংলা একাডেমিতে এই কবিতা পাঠের পর কী হয়েছে তা সবাই এখন জানে… কবিতাটা থাকুক টাইমলাইনে)

Ahsan Kabir’s Post