, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সিনেমা হলের আধুনিকায়ন ও দর্শক ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নেবে সরকার :প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী আওয়ামী লীগেরপুনরুত্থান ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত:সাবেক ২ সেনা কর্মকর্তা ৪ দিনের রিমান্ডে সারের ডিলার নিয়োগে পয়সার বিনিময়ে লাইসেন্স:এমপি প্রশাসনে অপারেশন ক্লিনহার্ট” চালানো দরকার।’ জেলা প্রশাসন এমপিকে পাত্তা দিচ্ছেন না:পরিষ্কার বললাম।অভদ্র হতে বাধ্য করবেন না জামায়াত এমপি সৌদি বিমানবন্দর বন্ধ৫১ ফ্লাইট বাতিলঢাকা থেকে৫ হাজার ৪১৮ যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত ধর্ম নয়, নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী মায়েদের সঙ্গে কারাগারে বন্দি ৩০৩ শিশু পূর্ণাঙ্গ রায়:ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতে হবে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর লাশের পাশে ধূমপান করছেন স্বামী:আটক কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই রোটনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

জেলা প্রশাসন এমপিকে পাত্তা দিচ্ছেন না:পরিষ্কার বললাম।অভদ্র হতে বাধ্য করবেন না জামায়াত এমপি

  • প্রকাশের সময় : ৫১ মিনিট আগে
  • ০ পড়া হয়েছে
অনলাইন সোমবার,১২ অক্টোবর ২০২৬
রংপুর জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বক্তব্য রাখছেন রংপুর–৩ আসনে জামায়াতের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান। গতকাল রোববারছবি: ভিডিও থেকে সংগৃহীত

রংপুরের জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সমালোচনা করে বক্তব্য দিয়েছেন রংপুর-৩ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য (এমপি) মাহবুবুর রহমান। এমপি হওয়া সত্ত্বেও প্রশাসন থেকে গুরুত্ব না পাওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘আমাকে বাধ্য করবেন না থানা ঘেরাওয়ের জন্য, আমাকে বাধ্য করবেন না ডিসি অফিস ঘেরাওয়ের জন্য। পরিষ্কার বললাম। আমি ভদ্র লোক, কিন্তু অভদ্র হতে বাধ্য করবেন না।’

মাহবুবুর রহমানের ওই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, চিৎকারের সুরে সংসদ সদস্য বলছেন, ‘আপনারা এমপিকে পাত্তা দিচ্ছেন না? হোয়াই? হোয়াই? কী মনে করেন, আমরা আসমান থেকে আসছি? মঙ্গল গ্রহ থেকে আসছি? উই আর দ্য সন অব দিস সয়েল, অব দিস ল্যান্ড। জনগণ আমাকে ভোট দিয়েছে। আপনারা পাত্তা দিচ্ছেন না কেন? চেয়ার দিতে চান না কেন? জনগণ নিয়ে কি ঘেরাও করব? রাস্তাঘাট চলাচল বন্ধ করে দেব?’

কী মনে করেন, আমরা আসমান থেকে আসছি? মঙ্গল গ্রহ থেকে আসছি? উই আর দ্য সন অব দিস সয়েল, অব দিস ল্যান্ড। জনগণ আমাকে ভোট দিয়েছে। আপনারা পাত্তা দিচ্ছেন না কেন? চেয়ার দিতে চান না কেন? জনগণ নিয়ে কি ঘেরাও করব? রাস্তাঘাট চলাচল বন্ধ করে দেব?

মাহবুবুর রহমান, সংসদ সদস্য, রংপুর–৩

প্রশাসনের লোকজনকে উদ্দেশ করে মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘যদি পাবলিক খেপে যায়, তাহলে কিন্তু সেই খ্যাপানো আপনারা থামাতে পারবেন না, পরিষ্কার বলে দিলাম। সেই ক্ষমতা পুলিশের নাই, কারও নাই। পাবলিক অত বোকা আর নাই। পুলিশকে, র‍্যাবকে আর ভয় পায় না, তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য।’

সংসদ সদস্য অভিযোগ করেন, এমনও হয়েছে, একই পরিবারের তিনজন সারের ডিলারশিপ পেয়েছেন। মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘এ রকম ঘটনা ইতিপূর্বে ঘটছে বলে আমি মনে করি না। এটা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ জনগণের মধ্যে আছে। এই অসন্তোষ কত দূর পর্যন্ত যাবে, আমি জানি না। আমি জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনগণের কাছে এর জবাবদিহি দিতে পারতেছি না। জবাবটা কী হবে, মাননীয় ডিসি ঠিক করে দিলে ভালো হয়।’

আইনশৃঙ্খলা কমিটি জেলার সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম। এখানে সরকারি কর্মকর্তাসহ উপস্থিত সবার পারস্পরিক সম্মান ও মর্যাদা বজায় রেখে আলোচনা করা সমীচীন। যেকোনো বক্তব্য উপস্থাপনের ক্ষেত্রে সবারই শব্দচয়নের ব্যাপারে আরও দায়িত্বশীল ও সতর্ক থাকা উচিত।

ইসরাত জাহান, জেলা প্রশাসক, রংপুর

ওই আইনশৃঙ্খলা সভায় মহানগর পুলিশ কমিশনার ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক উপস্থিত ছিলেন না। এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ওই সংসদ সদস্য বলেন, ‘সিটি নিয়ে আলোচনা হবে; সিটি প্রশাসক নাই, মেয়র নাই, এ তো হতে পারে না! তাঁরা আসবেন না কেন, আমার মাথায় ঢোকে না। এমপিরা যদি থাকতে পারেন, হোয়াই নট প্রশাসক? হোয়াই নট মেয়র? আমি বুঝি না। হোয়াই নট পুলিশ কমিশনার? তাহলে কী তাঁরা আমাদের চেয়েও সুপেরিওর। রুল অব প্রিসিডেন্স, আমি থাকব ওরা থাকবে না কেন? ওরা কি বড় লাটসাহেব হয়ে গেছে? নিজেকে লাটসাহেব ভাববেন না। ইউ আর দ্য সার্ভেন্ট অব দ্য পিপল।’

সংসদ সদস্য সভাটি পুনর্নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেন।

জেলার বিভিন্ন সরকারি কমিটিতে সংসদ সদস্যদের প্রতিনিধি না রাখার অভিযোগও তোলেন মাহবুবুর রহমান। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘জেলায় অনেক কমিটি আছে, কিন্তু এমপির কতজন প্রতিনিধি সেখানে আছেন। স্পষ্ট বলা আছে, এমপির প্রতিনিধি থাকতে হবে, সেখানেও নাই। সমস্ত একটা দল তাদের কুক্ষিগত করে নিয়েছে। এটা কি গণতন্ত্র? এর মাধ্যমে কি জনগণের মতামত প্রতিফলিত হবে?’

জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহানের সভাপতিত্বে ওই আইনশৃঙ্খলা সভায় রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী, রংপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রব্বানী এবং রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল আমিনসহ মহানগর ও জেলা পুলিশের কর্মকর্তা এবং জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয়

সিনেমা হলের আধুনিকায়ন ও দর্শক ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নেবে সরকার :প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী

জেলা প্রশাসন এমপিকে পাত্তা দিচ্ছেন না:পরিষ্কার বললাম।অভদ্র হতে বাধ্য করবেন না জামায়াত এমপি

প্রকাশের সময় : ৫১ মিনিট আগে
অনলাইন সোমবার,১২ অক্টোবর ২০২৬
রংপুর জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বক্তব্য রাখছেন রংপুর–৩ আসনে জামায়াতের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান। গতকাল রোববারছবি: ভিডিও থেকে সংগৃহীত

রংপুরের জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সমালোচনা করে বক্তব্য দিয়েছেন রংপুর-৩ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য (এমপি) মাহবুবুর রহমান। এমপি হওয়া সত্ত্বেও প্রশাসন থেকে গুরুত্ব না পাওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘আমাকে বাধ্য করবেন না থানা ঘেরাওয়ের জন্য, আমাকে বাধ্য করবেন না ডিসি অফিস ঘেরাওয়ের জন্য। পরিষ্কার বললাম। আমি ভদ্র লোক, কিন্তু অভদ্র হতে বাধ্য করবেন না।’

মাহবুবুর রহমানের ওই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, চিৎকারের সুরে সংসদ সদস্য বলছেন, ‘আপনারা এমপিকে পাত্তা দিচ্ছেন না? হোয়াই? হোয়াই? কী মনে করেন, আমরা আসমান থেকে আসছি? মঙ্গল গ্রহ থেকে আসছি? উই আর দ্য সন অব দিস সয়েল, অব দিস ল্যান্ড। জনগণ আমাকে ভোট দিয়েছে। আপনারা পাত্তা দিচ্ছেন না কেন? চেয়ার দিতে চান না কেন? জনগণ নিয়ে কি ঘেরাও করব? রাস্তাঘাট চলাচল বন্ধ করে দেব?’

কী মনে করেন, আমরা আসমান থেকে আসছি? মঙ্গল গ্রহ থেকে আসছি? উই আর দ্য সন অব দিস সয়েল, অব দিস ল্যান্ড। জনগণ আমাকে ভোট দিয়েছে। আপনারা পাত্তা দিচ্ছেন না কেন? চেয়ার দিতে চান না কেন? জনগণ নিয়ে কি ঘেরাও করব? রাস্তাঘাট চলাচল বন্ধ করে দেব?

মাহবুবুর রহমান, সংসদ সদস্য, রংপুর–৩

প্রশাসনের লোকজনকে উদ্দেশ করে মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘যদি পাবলিক খেপে যায়, তাহলে কিন্তু সেই খ্যাপানো আপনারা থামাতে পারবেন না, পরিষ্কার বলে দিলাম। সেই ক্ষমতা পুলিশের নাই, কারও নাই। পাবলিক অত বোকা আর নাই। পুলিশকে, র‍্যাবকে আর ভয় পায় না, তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য।’

সংসদ সদস্য অভিযোগ করেন, এমনও হয়েছে, একই পরিবারের তিনজন সারের ডিলারশিপ পেয়েছেন। মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘এ রকম ঘটনা ইতিপূর্বে ঘটছে বলে আমি মনে করি না। এটা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ জনগণের মধ্যে আছে। এই অসন্তোষ কত দূর পর্যন্ত যাবে, আমি জানি না। আমি জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনগণের কাছে এর জবাবদিহি দিতে পারতেছি না। জবাবটা কী হবে, মাননীয় ডিসি ঠিক করে দিলে ভালো হয়।’

আইনশৃঙ্খলা কমিটি জেলার সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম। এখানে সরকারি কর্মকর্তাসহ উপস্থিত সবার পারস্পরিক সম্মান ও মর্যাদা বজায় রেখে আলোচনা করা সমীচীন। যেকোনো বক্তব্য উপস্থাপনের ক্ষেত্রে সবারই শব্দচয়নের ব্যাপারে আরও দায়িত্বশীল ও সতর্ক থাকা উচিত।

ইসরাত জাহান, জেলা প্রশাসক, রংপুর

ওই আইনশৃঙ্খলা সভায় মহানগর পুলিশ কমিশনার ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক উপস্থিত ছিলেন না। এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ওই সংসদ সদস্য বলেন, ‘সিটি নিয়ে আলোচনা হবে; সিটি প্রশাসক নাই, মেয়র নাই, এ তো হতে পারে না! তাঁরা আসবেন না কেন, আমার মাথায় ঢোকে না। এমপিরা যদি থাকতে পারেন, হোয়াই নট প্রশাসক? হোয়াই নট মেয়র? আমি বুঝি না। হোয়াই নট পুলিশ কমিশনার? তাহলে কী তাঁরা আমাদের চেয়েও সুপেরিওর। রুল অব প্রিসিডেন্স, আমি থাকব ওরা থাকবে না কেন? ওরা কি বড় লাটসাহেব হয়ে গেছে? নিজেকে লাটসাহেব ভাববেন না। ইউ আর দ্য সার্ভেন্ট অব দ্য পিপল।’

সংসদ সদস্য সভাটি পুনর্নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেন।

জেলার বিভিন্ন সরকারি কমিটিতে সংসদ সদস্যদের প্রতিনিধি না রাখার অভিযোগও তোলেন মাহবুবুর রহমান। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘জেলায় অনেক কমিটি আছে, কিন্তু এমপির কতজন প্রতিনিধি সেখানে আছেন। স্পষ্ট বলা আছে, এমপির প্রতিনিধি থাকতে হবে, সেখানেও নাই। সমস্ত একটা দল তাদের কুক্ষিগত করে নিয়েছে। এটা কি গণতন্ত্র? এর মাধ্যমে কি জনগণের মতামত প্রতিফলিত হবে?’

জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহানের সভাপতিত্বে ওই আইনশৃঙ্খলা সভায় রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী, রংপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রব্বানী এবং রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল আমিনসহ মহানগর ও জেলা পুলিশের কর্মকর্তা এবং জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।