, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন সম্মানিত শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্তের প্রতিবাদে

  • প্রকাশের সময় : ০৭:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
  • ৫২ পড়া হয়েছে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন সম্মানিত শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্তের প্রতিবাদে বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের বিবৃতি
২৩শে জুন ২০২৬
বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও মতাদর্শগত অসহিষ্ণুতার ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন বিশিষ্ট শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। আমরা মনে করি, এই সিদ্ধান্ত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে স্বাধীন চিন্তা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদার ওপর একটি আঘাত।
সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া বরেণ্য শিক্ষকরা হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীল দলের আহ্বায়ক, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আ ক ম জামাল উদ্দীন; লোক প্রশাসন বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ; ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম; এবং বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের প্রচার সম্পাদক, নীল দলের কো-কনভেনর, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজমল হোসেন ভূঁইয়া।
আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বিশ্ববিদ্যালয় হলো মুক্তবুদ্ধি, যুক্তি, জ্ঞানচর্চা ও বহুমতের সহাবস্থানের স্থান। যথাযথ তদন্ত, স্বচ্ছ প্রক্রিয়া এবং ১৯৭৩-এর বিশ্ববিদ্যালয় আইন ও নীতিমালা অনুসরণ না করে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে এ ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ঐতিহ্যের পরিপন্থী। এ ধরনের পদক্ষেপ শিক্ষকদের মধ্যে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করবে এবং উচ্চশিক্ষার পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। শত শত প্রজ্ঞাবান, জ্ঞানী ও বরেণ্য শিক্ষকদের শাস্তি দিয়ে শুধু শিক্ষক সমাজ নয়, একই সঙ্গে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর শিক্ষার অধিকার থেকেও বঞ্চিত করা হচ্ছে। সংবিধানে প্রদত্ত “চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্-স্বাধীনতা” ধ্বংস হলে নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, দেশ ধ্বংস হতে বেশি সময় লাগবে না।
বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ এ অন্যায় ও অনৈতিক সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে। অবিলম্বে উল্লিখিত শিক্ষকসহ গত দুই বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে ড. মোহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার শাসনামলে শিক্ষকদের ওপর আরোপিত বহিষ্কার, বয়কট, একাডেমিক শাস্তি ও সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার এবং শিক্ষা পরিবারের সকলের প্রতি ন্যায়সঙ্গত আচরণ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা, স্বায়ত্তশাসন এবং শিক্ষকদের অধিকার রক্ষা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব।
ধন্যবাদান্তে
 ২৩/০৬/২০২৬
ড. মাহবুব আলম প্ৰদীপ
দপ্তর সম্পাদক, বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ ও
সহযোগী অধ্যাপক, লোক প্রসাশন বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
জনপ্রিয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন সম্মানিত শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্তের প্রতিবাদে

প্রকাশের সময় : ০৭:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন সম্মানিত শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্তের প্রতিবাদে বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের বিবৃতি
২৩শে জুন ২০২৬
বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও মতাদর্শগত অসহিষ্ণুতার ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন বিশিষ্ট শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। আমরা মনে করি, এই সিদ্ধান্ত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে স্বাধীন চিন্তা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদার ওপর একটি আঘাত।
সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া বরেণ্য শিক্ষকরা হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীল দলের আহ্বায়ক, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আ ক ম জামাল উদ্দীন; লোক প্রশাসন বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ; ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম; এবং বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের প্রচার সম্পাদক, নীল দলের কো-কনভেনর, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজমল হোসেন ভূঁইয়া।
আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বিশ্ববিদ্যালয় হলো মুক্তবুদ্ধি, যুক্তি, জ্ঞানচর্চা ও বহুমতের সহাবস্থানের স্থান। যথাযথ তদন্ত, স্বচ্ছ প্রক্রিয়া এবং ১৯৭৩-এর বিশ্ববিদ্যালয় আইন ও নীতিমালা অনুসরণ না করে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে এ ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ঐতিহ্যের পরিপন্থী। এ ধরনের পদক্ষেপ শিক্ষকদের মধ্যে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করবে এবং উচ্চশিক্ষার পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। শত শত প্রজ্ঞাবান, জ্ঞানী ও বরেণ্য শিক্ষকদের শাস্তি দিয়ে শুধু শিক্ষক সমাজ নয়, একই সঙ্গে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর শিক্ষার অধিকার থেকেও বঞ্চিত করা হচ্ছে। সংবিধানে প্রদত্ত “চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্-স্বাধীনতা” ধ্বংস হলে নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, দেশ ধ্বংস হতে বেশি সময় লাগবে না।
বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ এ অন্যায় ও অনৈতিক সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে। অবিলম্বে উল্লিখিত শিক্ষকসহ গত দুই বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে ড. মোহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার শাসনামলে শিক্ষকদের ওপর আরোপিত বহিষ্কার, বয়কট, একাডেমিক শাস্তি ও সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার এবং শিক্ষা পরিবারের সকলের প্রতি ন্যায়সঙ্গত আচরণ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা, স্বায়ত্তশাসন এবং শিক্ষকদের অধিকার রক্ষা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব।
ধন্যবাদান্তে
 ২৩/০৬/২০২৬
ড. মাহবুব আলম প্ৰদীপ
দপ্তর সম্পাদক, বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ ও
সহযোগী অধ্যাপক, লোক প্রসাশন বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়