
অনলাইন শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
১৫ বছরের একটা মেয়ে যদি ঘর থেকে পালায়, যদি বাসায় না বলে ঘুরতে যায়, যদি প্রেম করে তবে তাকে শাসন করা যায়, তাকে আটকে বাপ মায়ের হাতে তুলে দেওয়া যায়, ধরে কষায়ে দুইটা চড় দেওয়া যায়। মেয়ে শাসন করে না বলে বাপ মাকেও হয়ত দু একটা গালি দেওয়া যায়।
কিন্তু তারে রে/\ইপ করা যায় না। কেটে দু ভাগ করে এক ভাগ গাছে ঝুলায়ে দেওয়া যায় না। তারে ধান ক্ষেতে পুতে দেওয়া যায় না। তারে মে\রে ফেলা যায় না।
আমি জানি আমার এই পোস্টেও অনেকে এসে গালি দেবে, এই খু\/ন কেন জায়েজ তার হাজারটা নসিহত দেবে।
তবে কার্মা কি জিনিস জানেন? আজকে আপনি যতটা হিংস্রতা নিয়ে অন্যের স্ত্রী-কন্যা-মাতা-ভগিনিকে এট্যাক করবেন, আপনি চান বা না চান একই হিংস্রতা আপনার মতোই কেউ না কেউ আপনার পরিবারের নারীদের প্রতি দেখাবে, দেখাচ্ছে। কারণ যেই হিংস্রতা আপনি প্রডিউস করছেন তার কোনো ফিল্টার নাই যে আপনার পরিবারকে আক্রমনের বাইরে রাখবেন, নিরাপদ রাখবেন। কারণ সমাজটাই এমন। আর এটা আপনিও জানেন। জানেন বলেই আপনার বাড়ির মেয়ে-স্ত্রী-প্রেমিকাকে কোথাও একা ছাড়তে চান না, বা সন্ধ্যা পার হলে বাড়ি না ফিরলে, স্কুল থেকে একটু ফিরতে দেরি হলে আপনিও অস্থির হয়ে যান। এবং আমি শিওর আপনি কোনো কোনো জম্বির ভয়ে অস্থির হোন না। কোন জুজুর ভয় পান?
ইত্তেফাকের খবর অনুযায়ী লালমাই এর যেখানে তাজমিনকে পাওয়া গেছে, তার আশপাশের ৪/৫টা ধানক্ষেতের ধানগাছ ভাঙ্গা। দৌড়-ধস্তাধস্তির চিহ্ন পাওয়া গেছে।
মানিকগঞ্জের মারিয়ার লা*শ যেখানে পাওয়া যায় সেখানেও ধস্তাধস্তির চিহ্ন ছিলো।
১৫ বছরের একটা অন্ধকার রাতে বাঁচার আর্তনাদ নিয়ে ফাঁকা ধানক্ষেতে ছুটে বেড়াচ্ছে, ১৫ বছরের একটা মেয়ের লা*শ পাওয়া গেলো কাঁদায় মাথা গাঁড়ানো অবস্থায়, ১৫ বছরের আরেকটা মেয়ের অর্ধেক শরীর ঝুলে ছিলো গাছে, মুখটা এসিডে ঝলসানো।
এই মেয়ে গুলোর অপরাধ ছিলো কিশোরী বয়সের স্বাভাবিক টেন্ডেন্সি। কেউ প্রেম করেছিলো, কেউ ঘুরতে গিয়েছিলো। দুটোর কোনটির শাস্তিই মৃ*ত্যুদন্ড নয়।
অথচ ৫ বছরের পূজার যৌ*নাঙ্গ ব্লেড দিয়ে কেটে রে\/ইপ করা সাইফুল এখনো স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কেউ তার মৃত্যুদন্ড চাচ্ছে না। মৃত্যুদণ্ড পায় নাই রামিসার মাথা কেটে বালতিতে চুবিয়ে রাখা জানোয়ারটাও কিংবা আছিয়াকে রে/\ইপ করে মেরে ফেলে হিটু বিশ্বাস ও।
এই দেশে মেয়েদের লক্ষী হওয়ার শিক্ষা দেওয়া হয় জন্ম থেকেই। তবে লক্ষী একটু চঞ্চলা হলেই তারে মে*রে ফেলার জাস্টিফিকেশান দেওয়া যায়।
Rimana Aktar’s Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।





















