
২০২৪ সালে পাবনার ভবানীপুরে চালু হয় ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র। পদ্মার ধু ধু বালুচরে ৪০০ একর জমির ওপর কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়েছে। দিনের বেলা বিদ্যুৎকেন্দ্রটি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে সৌরবিদ্যুৎ।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়া এবং সরবরাহসংকটে যখন দেশের জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে, খরচ বেড়ে গেছে, তখন পদ্মার চরের সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র মানুষকে বিদ্যুৎ দিচ্ছে। সৌরবিদ্যুতের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করে জ্বালানি আমদানির প্রয়োজন হচ্ছে না, পরিবেশদূষণও হচ্ছে না। দামও তুলনামূলক কম।
ভবানীপুরের সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রটি করেছে প্যারামাউন্ট গ্রুপ। ২০২১ সালে তাদের সঙ্গে করা ২০ বছরের ক্রয়চুক্তিতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম পড়ছে সাড়ে ১১ সেন্ট, যা এখন প্রায় ১৩ টাকা। ওদিকে ফার্নেস তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রতি ইউনিটে ব্যয় ২৮ টাকার বেশি। কয়লাবিদ্যুতের খরচ প্রতি ইউনিট ১৫ টাকার আশপাশে। কয়লায় পরিবেশদূষণের ঝুঁকিও আছে।
অন্যদিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল দরপত্র ছাড়াই। তখন সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের সরঞ্জামের দামও বেশি ছিল। ফলে বিদ্যুতের দাম বেশি পড়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দরপত্র ডেকে প্রতি ইউনিট ৮ টাকার কম দরে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তি করা গেছে। ফলে দেখা যাচ্ছে, কয়লা ও তেলের চেয়ে এই বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়া এবং সরবরাহসংকটে যখন দেশের জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে, খরচ বেড়ে গেছে, তখন পদ্মার চরের সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র মানুষকে বিদ্যুৎ দিচ্ছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য বলছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মোট ১৩৬টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের চুক্তি হয়, যার অধিকাংশই ছিল জাবীশ্ম জ্বালানিভিত্তিক। সব মিলে এখন বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ২৮ হাজার ৩৪৭ মেগাওয়াট। এর মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির (সৌর, পানি ও বায়ু) ১৯টি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ৮৯ মেগাওয়াট। গ্রিডে যুক্ত মোট বিদ্যুতের মাত্র ৪ শতাংশ আসে নবায়নযোগ্য খাত থেকে। পিডিবির তথ্য বলছে, ২০১২-১৩ অর্থবছরেও নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ছিল ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
নবায়নযোগ্য জ্বালানির (সৌর, পানি ও বায়ু) ১৯টি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ৮৯ মেগাওয়াট। গ্রিডে যুক্ত মোট বিদ্যুতের মাত্র ৪ শতাংশ আসে নবায়নযোগ্য খাত থেকে। পিডিবির তথ্য বলছে, ২০১২-১৩ অর্থবছরেও নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ছিল ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
নতুন বিএনপি সরকার সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে। এ খাতকে নানা সুবিধা দিচ্ছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বর্তমান নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। আগামী গ্রীষ্মের আগে দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতেই ছাদবিদ্যুতে জোর দেওয়া হয়েছে। এতে অন্তত গত গ্রীষ্মের মতো ভোগান্তি হবে না। ছাদের পাশাপাশি সরকারি জমিতে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দেশি–বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক আগ্রহ আছে। ইতিমধ্যে বাগেরহাটের রামপালে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য নির্ধারিত জমিতে ৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র অনুমোদন করেছে সরকার।





















