, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দিনাজপুরেরমোহাম্মদ আবদুর রহিম

  • প্রকাশের সময় : ০৯:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
  • ২৭ পড়া হয়েছে

লিয়াকত হোসেন খোকন’s Post
·
সংবিধান প্রণয়নে যিনি মেধার স্বাক্ষর রেখেছিলেন, ইতিহাস তাকে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে
নাম তাঁর মোহাম্মদ আবদুর রহিম
দিনাজপুরের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ এম আবদুর রহিম ছিলেন বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য এবং মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক।
২০১৮ সালে মরণোত্তর স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করা হয়েছিল মোহাম্মদ আবদুর রহিমকে।
সামাজিক
ক্ষেত্রে
আবদুর রহিমের
অবদান –
দিনাজপুর ডায়াবেটিস হাসপাতাল, চক্ষু হাসপাতাল, রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতাল এবং মুক্তিযুদ্ধে নির্যাতিতা নারীদের জন্য পুনর্বাসন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠাসহ নানা ধরনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মোহাম্মদ আবদুর রহিম।
আবদুর রহিমের লেখা
গ্রন্থ –
মোহাম্মদ আবদুর রহিমের লেখা উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ
হল –
ধর্মের মুখোশ
৫ম সংশোধনী ও দেশ কোন পথে
বিসমিল্লাহর মজেজা।
তাঁর
জন্ম

শিক্ষা জীবন –
আবদুর রহিমের জন্ম ১৯২৭ সালের ২১ নভেম্বর দিনাজপুর জেলায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে। শৈশবে অর্থাৎ শুরুতে তিনি মাদ্রাসা ভর্তি হন। ১৯৪২ সালে জুনিয়র পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে রাজশাহী হাই মাদ্রাসা অর্থাৎ বর্তমান হাজী মুহম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় হতে মেট্রিকুলেশন পাশ করেন। ১৯৫০ সালে তিনি ইন্টারমিডিয়েট প্রথম বর্ষে ভর্তি হন রাজশাহী কলেজে। সেখান থেকে ভর্তি হন কারমাইকেল কলেজে। সেখান থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করার পর ১৯৫৬ সালে রাজশাহী কলেজ থেকে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেছিলেন। অতঃপর আবদুর রহিম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৫৯ সালে এল এল বি ডিগ্রি অর্জন করার পর তিনি আইনজীবী হিসেবে দিনাজপুর বারে আইন পেশা শুরু করেন।
ভাষা

স্বাধিকার আন্দোলনে
আবদুর রহিম –
ছাত্রাবস্থায় তিনি ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন এবং রাজশাহী কলেজের শহীদ মিনার নির্মাণে অগ্রণী ছিলেন। ১৯৫৪ সালে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্তফ্রন্টের পক্ষে কাজ করেছিলেন।
তাঁর
রাজনৈতিক
জীবন –
আবদুর রহিম ১৯৭০ সালের নির্বাচনে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য (এমপিএ) নির্বাচিত হন। ১৯৭২ সালে তিনি বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরবর্তীকালে তিনি ১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হন।
মুক্তিযুদ্ধে
আবদুর
রহিমের
অবদান –
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি জোনাল-৬ এর চেয়ারম্যান হিসেবে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত ও পরিচালিত করেন।
তাঁর
জীবনাবসান –
২০১৬ সালের ৪ সেপ্টেম্বর বার্ধক্যজনিত কারণে এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ আবদুর রহিম পরলোকগমন করেন।
তাঁর
সন্তানদের
কথা –
আবদুর রহিমের ছেলে এম এনায়েতুর রহমান বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী। এম ইকবালুর রহমান দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
আবদুর রহিম
ছিলেন
দিনাজপুরের
গৌরব –
দিনাজপুরের মাটি থেকে ওঠা এক মহীরুহ তিনি,
যার ত্যাগ আর সংগ্রামে ধন্য এ মুক্ত স্বদেশ ভূমি।
বায়ান্নর মিছিলে যিনি ঢেলেছেন প্রতিবাদের সুর,
একাত্তরে জ্বেলেছেন আশার আলো, তাড়িয়েছেন আঁধার ক্রুর।
তিনি ছিলেন না শুধু এক জননেতা, ছিলেন রূপকার,
সংবিধানের পাতায় এঁকেছেন সাম্যের অধিকার।
আজীবন হেঁটেছেন সততা আর সত্যের সরল পথে,
আজও তিনি অমর হয়ে আছেন জনতার স্মৃতি-রথে।
তিনি ছিলেন
আদর্শের
এক
জীবন্ত বাতিঘর –
মোহাম্মদ আবদুর রহিম ছিলেন ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর একজন কালজয়ী রাজনীতিক। ক্ষমতার মোহ বা পদ-পদবির লোভ কখনোই তাকে স্পর্শ করতে পারেনি; বরং আমৃত্যু তিনি কাজ করে গেছেন মেহনতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ—বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের প্রতিটি বাঁকে তার অবদান ছিল অনস্বীকার্য। জোনাল চেয়ারম্যান হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোতে তার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দিনাজপুর অঞ্চলকে করেছিল শত্রুমুক্ত। স্বাধীনতার পর দেশের মূল চালিকাশক্তি অর্থাৎ সংবিধান প্রণয়নে তিনি যে মেধার স্বাক্ষর রেখেছিলেন, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে তাকে চিরস্মরণীয় করে রাখবে। তিনি কেবল একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন না, ছিলেন নীতি ও আদর্শের এক জীবন্ত বাতিঘর।
লিয়াকত হোসেন খোকন
মোবাইল হোয়াটসঅ্যাপ বিকাশ নাম্বার
০১৭১৫২৩১৬৭৫
লেখা পড়ে ভাল লাগলে সম্মানী দিতে চেষ্টা করুন। লেখককে লিখতে উৎসাহিত করুন। একটা লেখা তৈরি করতে যথেষ্ট পরিশ্রম করতে হয়। যাঁরা সম্মানী নিয়ে বিরূপ কথা বলছেন, তাদেরকে বলছি, আমি তো অনেক কষ্ট করে একটা লেখা তৈরি করছি। এ জন্য যে মেধা খাটাতে হচ্ছে – এটাকে সহজ ভাবে নিচ্ছেন কেন? ট্রেন তো রাষ্ট্রের, সেখানে ভাড়া দিয়ে যেতে পারেন অথচ আমি একজন লেখক হিসেবে সম্মানী চাচ্ছি, এটা পাঠাতে বা দিতে কেন এতো কষ্ট! কেউ যদি সম্মানী পেয়ে খেয়েপড়ে বেঁচে থাকতে পারে – সেটা কি মন্দ?
If you enjoy my writing, please consider sending an honorarium to support my work. Your encouragement keeps a writer going. Creating content takes a tremendous amount of effort. If you can easily pay for a train ticket on state-owned transport, why does it feel so difficult to support a writer? There is nothing wrong with a writer trying to make a decent living through their craft.
✨ Leaquat Hossain Khokon (লিয়াকত হোসেন খোকন)
📱 Mobile / WhatsApp / bKash: 01715231675লিয়াকত হোসেন খোকন’s Pos

জনপ্রিয়

দিনাজপুরেরমোহাম্মদ আবদুর রহিম

প্রকাশের সময় : ০৯:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

লিয়াকত হোসেন খোকন’s Post
·
সংবিধান প্রণয়নে যিনি মেধার স্বাক্ষর রেখেছিলেন, ইতিহাস তাকে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে
নাম তাঁর মোহাম্মদ আবদুর রহিম
দিনাজপুরের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ এম আবদুর রহিম ছিলেন বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য এবং মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক।
২০১৮ সালে মরণোত্তর স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করা হয়েছিল মোহাম্মদ আবদুর রহিমকে।
সামাজিক
ক্ষেত্রে
আবদুর রহিমের
অবদান –
দিনাজপুর ডায়াবেটিস হাসপাতাল, চক্ষু হাসপাতাল, রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতাল এবং মুক্তিযুদ্ধে নির্যাতিতা নারীদের জন্য পুনর্বাসন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠাসহ নানা ধরনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মোহাম্মদ আবদুর রহিম।
আবদুর রহিমের লেখা
গ্রন্থ –
মোহাম্মদ আবদুর রহিমের লেখা উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ
হল –
ধর্মের মুখোশ
৫ম সংশোধনী ও দেশ কোন পথে
বিসমিল্লাহর মজেজা।
তাঁর
জন্ম

শিক্ষা জীবন –
আবদুর রহিমের জন্ম ১৯২৭ সালের ২১ নভেম্বর দিনাজপুর জেলায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে। শৈশবে অর্থাৎ শুরুতে তিনি মাদ্রাসা ভর্তি হন। ১৯৪২ সালে জুনিয়র পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে রাজশাহী হাই মাদ্রাসা অর্থাৎ বর্তমান হাজী মুহম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় হতে মেট্রিকুলেশন পাশ করেন। ১৯৫০ সালে তিনি ইন্টারমিডিয়েট প্রথম বর্ষে ভর্তি হন রাজশাহী কলেজে। সেখান থেকে ভর্তি হন কারমাইকেল কলেজে। সেখান থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করার পর ১৯৫৬ সালে রাজশাহী কলেজ থেকে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেছিলেন। অতঃপর আবদুর রহিম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৫৯ সালে এল এল বি ডিগ্রি অর্জন করার পর তিনি আইনজীবী হিসেবে দিনাজপুর বারে আইন পেশা শুরু করেন।
ভাষা

স্বাধিকার আন্দোলনে
আবদুর রহিম –
ছাত্রাবস্থায় তিনি ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন এবং রাজশাহী কলেজের শহীদ মিনার নির্মাণে অগ্রণী ছিলেন। ১৯৫৪ সালে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্তফ্রন্টের পক্ষে কাজ করেছিলেন।
তাঁর
রাজনৈতিক
জীবন –
আবদুর রহিম ১৯৭০ সালের নির্বাচনে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য (এমপিএ) নির্বাচিত হন। ১৯৭২ সালে তিনি বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরবর্তীকালে তিনি ১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হন।
মুক্তিযুদ্ধে
আবদুর
রহিমের
অবদান –
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি জোনাল-৬ এর চেয়ারম্যান হিসেবে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত ও পরিচালিত করেন।
তাঁর
জীবনাবসান –
২০১৬ সালের ৪ সেপ্টেম্বর বার্ধক্যজনিত কারণে এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ আবদুর রহিম পরলোকগমন করেন।
তাঁর
সন্তানদের
কথা –
আবদুর রহিমের ছেলে এম এনায়েতুর রহমান বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী। এম ইকবালুর রহমান দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
আবদুর রহিম
ছিলেন
দিনাজপুরের
গৌরব –
দিনাজপুরের মাটি থেকে ওঠা এক মহীরুহ তিনি,
যার ত্যাগ আর সংগ্রামে ধন্য এ মুক্ত স্বদেশ ভূমি।
বায়ান্নর মিছিলে যিনি ঢেলেছেন প্রতিবাদের সুর,
একাত্তরে জ্বেলেছেন আশার আলো, তাড়িয়েছেন আঁধার ক্রুর।
তিনি ছিলেন না শুধু এক জননেতা, ছিলেন রূপকার,
সংবিধানের পাতায় এঁকেছেন সাম্যের অধিকার।
আজীবন হেঁটেছেন সততা আর সত্যের সরল পথে,
আজও তিনি অমর হয়ে আছেন জনতার স্মৃতি-রথে।
তিনি ছিলেন
আদর্শের
এক
জীবন্ত বাতিঘর –
মোহাম্মদ আবদুর রহিম ছিলেন ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর একজন কালজয়ী রাজনীতিক। ক্ষমতার মোহ বা পদ-পদবির লোভ কখনোই তাকে স্পর্শ করতে পারেনি; বরং আমৃত্যু তিনি কাজ করে গেছেন মেহনতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ—বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের প্রতিটি বাঁকে তার অবদান ছিল অনস্বীকার্য। জোনাল চেয়ারম্যান হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোতে তার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দিনাজপুর অঞ্চলকে করেছিল শত্রুমুক্ত। স্বাধীনতার পর দেশের মূল চালিকাশক্তি অর্থাৎ সংবিধান প্রণয়নে তিনি যে মেধার স্বাক্ষর রেখেছিলেন, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে তাকে চিরস্মরণীয় করে রাখবে। তিনি কেবল একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন না, ছিলেন নীতি ও আদর্শের এক জীবন্ত বাতিঘর।
লিয়াকত হোসেন খোকন
মোবাইল হোয়াটসঅ্যাপ বিকাশ নাম্বার
০১৭১৫২৩১৬৭৫
লেখা পড়ে ভাল লাগলে সম্মানী দিতে চেষ্টা করুন। লেখককে লিখতে উৎসাহিত করুন। একটা লেখা তৈরি করতে যথেষ্ট পরিশ্রম করতে হয়। যাঁরা সম্মানী নিয়ে বিরূপ কথা বলছেন, তাদেরকে বলছি, আমি তো অনেক কষ্ট করে একটা লেখা তৈরি করছি। এ জন্য যে মেধা খাটাতে হচ্ছে – এটাকে সহজ ভাবে নিচ্ছেন কেন? ট্রেন তো রাষ্ট্রের, সেখানে ভাড়া দিয়ে যেতে পারেন অথচ আমি একজন লেখক হিসেবে সম্মানী চাচ্ছি, এটা পাঠাতে বা দিতে কেন এতো কষ্ট! কেউ যদি সম্মানী পেয়ে খেয়েপড়ে বেঁচে থাকতে পারে – সেটা কি মন্দ?
If you enjoy my writing, please consider sending an honorarium to support my work. Your encouragement keeps a writer going. Creating content takes a tremendous amount of effort. If you can easily pay for a train ticket on state-owned transport, why does it feel so difficult to support a writer? There is nothing wrong with a writer trying to make a decent living through their craft.
✨ Leaquat Hossain Khokon (লিয়াকত হোসেন খোকন)
📱 Mobile / WhatsApp / bKash: 01715231675লিয়াকত হোসেন খোকন’s Pos