
অনলাইন রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬
দুই বধূ এক স্বামী!
তিনজনই দুর্নীতির মামলার আসামী!
বিষয়টি সিনেমার কাহিনীর মতো মনে হলেও
ঘটনাটি বাস্তব।
বাংলাদেশের শীর্ষ জালিয়াত, মহা বাটপার,
দুর্নীতির শিরোমনি চৌধুরী নাফিজ সরাফাত ও
তার দুই স্ত্রী দুর্নীতির মামলার আসামী।
এর আগেও একটি পোস্টে বলেছি,
যত ধরনের দূর্নীতি,ধান্ধাবাজি,বাটপারি,
ধাপ্পাবাজি আছে সবগুলোতেই নাফিজ সরাফাত
ওরফে মাফিয়া ডন ওরফে দুম্বা নাফিজ সিদ্ধহস্ত!
দুর্নীতি ছাড়াও নাফিজের ব্যক্তিগত জীবনেও
রয়েছে নারী কেলেংকারীর মতো জঘন্য ঘটনা।
তার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত একটি হচ্ছে,
দেশের এক বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠি আবদুল মোনেম লিমিটেডের
পরিচালক ফারহানা মোনেমের সঙ্গে পরকিয়ার কাহিনী।
এই নারীর সঙ্গে তিনি বিভিন্ন সময় দুবাই ও লন্ডনে
একত্রে সময় কাটিয়েছেন।
বছর খানেক আগে এই পরকিয়ার ঘটনা তার প্রথম স্ত্রী
আঞ্জুমান আরা শহীদ জেনে গেলে এ নিয়ে
দুজনের মধ্যে ভীষণ ঝগড়া-মারামারির ঘটনা ঘটে।
অন্যদিকে, এই অনৈতিক সম্পর্কের কারনে
ফারহানা মোনেমের সংসার ভেঙে যায়।
পরবর্তীতে অবস্থা বেগতিক দেখে ওই নারীর চাপে
তাকে বিয়ে করেন দুম্বা নাফিজ।
এখন আসি, দুই স্ত্রী ও তাদের স্বামী নাফিজের
দুর্নীতির মামলার আসামীর কাহিনীতে।
গত বছরের ২৭ নভেম্বর গুলশান থানায় নাফিজ সরাফাত,
তার প্রথম স্ত্রী আঞ্জুমান আরা শহীদের বিরুদ্ধে
১ হাজার ৬১৩ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে মামলা
করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
মামলায় নাফিজ সরাফাতের ছেলে
রাহীব সাফওয়ান সারাফাত চৌধুরীকেও
আসামি করা হয়েছে।
সিআইডি সুত্রে জানা গেছে,
নাফিজ সরাফাত ও তাঁর স্ত্রী আঞ্জুমান আরা শহীদের
মালিকানায় কানাডায় দুটি, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসে
নিবন্ধিত একটি কোম্পানি
এবং আঞ্জুমান আরা শহীদের নামে সিঙ্গাপুরে
একটি কোম্পানির ১৫টি যৌথ হিসাব রয়েছে,
সেখানে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা আছে।
এছাড়াও নাফিজ সরাফতের ছেলে
রাহীব সাফওয়ান সারাফাত চৌধুরীর নামে কানাডা,
সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন ব্যাংকে মোট ৭৬টি হিসাব
পরিচালনার তথ্য পাওয়া গেছে।
দুবাইয়ে নাফিজ সরাফাতের তিন কক্ষের একটি ফ্ল্যাট
ও পাঁচ কক্ষের একটি ভিলা রয়েছে।
অন্যদিকে, পদ্মা ব্যংকের ঋণ জালিয়াতির অভিযোগে
গত বছরের ১০ এপ্রিল নাফিজ সরাফাত ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী
ফারহানা মোনেমের (পরিচালক, আবদুল মোনেম লিমিটেড)
বিরুদ্ধে দুদক একটি মামলা দায়ের করেছে।
মামলার অপর দুই আসামি হচ্ছেন,
আবদুল মোনেম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক
এএসএম মঈনউদ্দীন মোনেম ও
পদ্মা ব্যংকের গুলশান কর্পোরেট শাখার তৎকালীন
ব্যবস্থাপক সাব্বির মোহাম্মদ সায়েম।
আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনামলে
গোপালগঞ্জের নাম ভাঙ্গিয়ে নানা দুর্নীতি, জালিয়াতি,
অনিয়ম ও প্রতারণার মাধ্যমে সম্পদের
পাহাড় গড়ে তোলেন এই নাফিজ সরাফাত।
২০০৯ সালের আগে তিনি ছিলেন
একজন সামান্য ব্যাংক কর্মচারী।
সচেতন মহলের প্রায় সকলেই জানেন,
ধান্ধাবাজ নাফিজ সরাফাত ছিলেন পুলিশের
সাবেক আইজি বেনজির আহমেদের ক্যাশিয়ার।
২০২৪ সালে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পরে তার বিরুদ্ধে
দুর্নীতি,জালিয়াতি, হত্যাসহ বহুবিধ অভিযোগ সামনে আসে। দেশের প্রায় সব গণমাধ্যমই তার যতসব ভয়ানক
অপকর্মের চিত্র তুলে ধরে।
দুদক, সিআইডিসহ বিভিন্ন সংস্থা তার বিরুদ্ধে
অনুসন্ধান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ
অবৈধ সম্পদের হিসাব পায়।
নাফিজ সরাফাত, তার দুই স্ত্রী, সন্তান তথা পরিবারের
বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করে।
এর প্রেক্ষিতে আদালত তাদের সম্পদ
বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেয়।
কিন্তু এরপর রহস্যজনকভাবে সবকিছুই থেমে যায়।
আদালতের আদেশেরও কার্যকারিতা নেই।
তিনি রয়ে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।
জানা গেছে, নাফিজ সরাফাতকে রক্ষা করতে
বিপুল পরিমাণ টাকার বিনিময়ে পিছন থেকে
কলকাঠি নাড়ছেন টিন চুরির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত
বরগুনার একজন বিতর্কিত জনপ্রতিনিধি।
তিনি নাফিজ সরাফাতের কাছ থেকে নেয়া
টাকা বিএনপি‘র কিছু সিনিয়র নেতাদের পিছনে
ব্যয় করে এখন দলের ও রাস্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদ
বাগিয়ে নিয়েছেন। এই বিতর্কিত ব্যক্তি
নাফিজ সরাফাতকে রক্ষা করতে উঠেপড়ে লেগেছেন।
এছাড়া, বাটপার নাফিজ সরাফাত
গুলশান-২ এর ২০ তলা বানিজ্যিক ভবনটি
রক্ষা করতে কয়েকজন সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে
মোটা বেতনে চাকরি দিয়েছেন।
তাদের একজনকে কোম্পানির চেয়ারম্যান বানিয়ে
বিএনপির ওই নেতার সহয়তায় দিব্বি ব্যবসা চালিয় যাচ্ছেন।
সারাদেশের মানুষ নাফিজ সরাফাতের মতো
সকল মাফিয়ার বিচার চায়।
সুতরাং এদের রক্ষা করার চেষ্টা সুফল বয়ে আনবে না।
অতএব, সাধু সাবধান।
Farazi Azmal Hossain’s Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।





















