, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দূর্নীতির অরেক নাম নাফিজ সরাফাত

  • প্রকাশের সময় : ১০:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
  • ১১ পড়া হয়েছে

Farazi Azmal Hossain’s Post

দূর্নীতির অরেক নাম নাফিজ সরাফাত
বিগত দেড় দশকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সেক্টরে
যিনি সবচেয়ে বড় জালিয়াতি করেছেন তিনি হচ্ছেন
চৌধুরী নাফিজ সরাফত ওরফে মাফিয়া ডন।
কেউ বলেন ব্যাংক খেকো নাফিজ।
শারিরীক প্রতিবন্ধী এই বাটপারের বাড়ি
গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ায়।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরপরই
প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নির্বাচনী এলাকার
লোক পরিচয় দিয়ে শুরু করেন নানারকম
ধান্দাবাজি, প্রতারনা, দুর্নীতি আর জালিয়াতি।
হাজারো অপকর্মের কারণে, নাফিজ আর দূর্নীতি
সমার্থক শব্দ হয়ে গিয়েছিল।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই ব্যক্তি রাতারাতি
হয়ে ওঠেন শেখ হাসিনার চেয়েও বড় আওয়ামী লীগার।
সামান্য একজন ব্যাংক কর্মচারী থেকে
হয়ে যান ব্যাংকের মালিক।
শুধু তাই নয়, ধুরন্ধর এই ব্যাক্তি নিজেকে
‘ডক্টরেট ডিগ্রীধারী‘ বলে পরিচয় দিয়ে বেড়াতেন।
ইতিপূর্বে একটি স্টাটাসে তার অপকর্মের কিছু চিত্র তুলে ধরেছি।
এই ধান্ধাবাজ প্রথমে সখ্যতা গড়ে তোলেন
তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীরের সঙ্গে।
এরপর একে একে সালমান এফ রহমান, লোটাস কামাল,
সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ, গভর্নর রউফ তালুকদার, সিকিউরিটিস এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান
অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতের সঙ্গে।
এদেরকে ব্যবহার করে অর্থনীতিসহ নানা খাতে
দুর্নীতিসহ নানাবিধ অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়েন।
ক্রমশ হয়ে উঠেন দেশের শীর্ষ মাফিয়া ডন, মহা জালিয়াত।
মাত্র তিন পুরুষ আগে নিম্ন বর্নের হিন্দু থেকে মুসলমান হওয়া
এই নাফিজের বাবা চৌধুরী সরাফাত হোসেন
একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ছিলেন একজন রাজকার।
বিগত পনের বছরে পুঁজিবাজার ও ব্যাংকিং সেক্টরে হেন কোনো
অপরাধ নেই যা এই নব্য মুসলিম পরিবারের সন্তান,
নব্য আওয়ামী লীগার নাফিজ সরাফাত করেনি।
তার জালিয়াতি ও প্রতারণার শিকার হয়ে হাজার হাজার
ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী রাস্তার ফকির হয়ে গেছে।
এছাড়া, এই ব্যক্তি পদ্মা ব্যাংকের মালিক হয়ে
জালিয়াতির মাধ্যমে হাজার কোটি টাকা
আত্মসাৎ করে ব্যাংকটিকে দেউলিয়া করে দিয়েছেন।
চব্বিশের ক্ষমতার পালাবদলের পর একটি
সরকারি সংস্থার অনুসন্ধানে তার বিরুদ্ধে শুধুমাত্র
শেয়ারবাজার থেকেই অর্থ লোপাটের মাধ্যমে ৮৮৭ কোটি টাকা
আত্মসাতের প্রমান পাওয়া গেলেও তিনি
এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন।
সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ,
এমনকি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার কাউকে কাউকে
ব্যবহার করে অনেককে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে
অনেক কোম্পানির মালিকানার অংশ
নিজের নামে লিখিয়ে নিয়েছেন।
তিনি এতই ক্ষমতাধর ছিলেন যে
আওয়ামী লীগের এমপি ও বিশিষ্ট সাংবাদিক শফিকুর রহমানের
কাছ থেকে জোর করে তার লাইসেন্সকৃত একটি প্রাইভেট
টিভি চ্যানেলের মালিকানার একটা বড় অংশ
নিজের নামে লিখে নিয়েছিলেন।
শুধু তাই নয়, প্রভাব খাটিয়ে এক সময়ের
সরকারি মালিকানাধীন ‘দৈনিক বাংলা’ পত্রিকার
মালিকানাও নিজের নামে নিয়ে নেন।
পত্রিকাটি নতুন করে প্রকাশের কিছুদিন পর
তার এক অথর্ব, অপদার্থ ভাইকে
সম্পাদক পদে বসিয়ে
পত্রিকাটির বারোটা বাজিয়ে দেন।
চব্বিশের ৫ আগস্টের পর নিজেকে এবং তার
হাজার হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ রক্ষার
নিমিত্তে মোটা অর্থের বিনিময়ে
বিএনপির একজন নেতাকে পত্রিকাটির
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক বানিয়ে দেন।
যদিও তিনি একদিনও অফিসে যাননি।
এই নেতা এক সময় সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট ছিলেন।
১৯৮৮ সালের এক তরফা নির্বাচনে তিনি
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বরগুনা থেকে ‘এমপি‘ হন।
এরপর এরশাদের জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন।
৯০ দশকের প্রথম দিকে তিনি বিএনপি-তে যোগদান করেন।
ইনুচ জমানায় লন্ডনে তার ঘন ঘন যাতায়াত ছিলো।
এ বছরের পাতানো নির্বাচনে বিএনপি‘র টিকিটে
এমপি হয়েছেন।
প্রায় পাঁচ মাস মন্ত্রী মর্যাদা ভোগ করছেন।
গাড়িতে জাতীয় পতাকা উড়িয়ে চলেন।
আবার পত্রিকার প্রিন্টার্স লাইনে সম্পাদক হিসেবে
এখনও তার নাম ছাপা হচ্ছে, সম্পূর্ণ বেআইনি।
নাফিজ সরাফাতের সামান্য বেতনের চাকর-বাকর
লেভেলের একজন কর্মচারী দিয়ে পত্রিকাটি চালানো হচ্ছে।
সেখানে কোনো সাংবাদিক নেই।
অন্য কোন আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকার মাস্টহেড চেঞ্জ করে
২০০ কপি ছাপিয়ে ডিএফপিতে দেখানো হচ্ছে
এক লাখ একান্ন হাজার সার্কুলেশন!
কিন্তু বর্তমানে রাস্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেও
শুধুমাত্র টাকার লোভে ও নাফিজ সরাফাতকে রক্ষা
করার জন্য বিএনপির ওই নেতা এই টয়লেট পেপারের
সম্পাদক হিসেবে রয়ে গেছেন।
এই নাফিজ শুধু অর্থনৈতিক জালিয়াতিই নয়,
লেখক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট মুশতাক আহমেদ
হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী।
২০২০ সালে কার্টুনিস্ট আহমেদ কবীর কিশোরের আঁকা
একটি কার্টুন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোড়ন তোলে।
চৌধুরী নাফিজ সরাফাতকে চিত্রায়িত করা ওই কার্টুনে
নাভির জায়গায় দেখা যায় ব্যাংকের প্রতীক সিন্দুকের হাতল।
তাতে ক্যাপশন ছিল,
‘‘আমি চৌ নাফিজ সারাফাত/জানি ব্যাংক খাওয়ার ধারাপাত!”
কিশোরের আঁকা ওই কার্টুনের উপরের
ক্যাপশনটি লিখেছিলেন মুশতাক আহমেদ।
ফেসবুকে এই কার্টুন আঁকার অপরাধে ২০২০ সালের মে মাসে
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার হন
কার্টুনিস্ট আহমেদ কবীর কিশোর ও লেখক মুশতাক আহমেদ।
আটকের পর তাঁদের উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়।
আটকাবস্থায় ২০২১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি
কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে মুশতাক আহমেদ মারা যান।
মূলত সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দিয়ে
কিশোর ও মুশতাককে অমানুষিক নির্যাতন
করিয়েছিলেন নাফিজ সরাফত।
কিন্তু রহস্যজনক কারণে, মুশতাক হত্যার দায়ে
নাফিজ সরাফাতের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত
কোন মামলা দায়ের হয়নি।
ইতিমধ্যে সিআইডি নাফিজ সরাফাত,
ছাড়াও তার স্ত্রী ও ছেলের বিরুদ্ধে ১ হাজার ৬১৩ কোটি টাকা
পাচারের অভিযোগে মামলা করলেও এর কোন অগ্রগতি নাই।
এটিও রহস্যজনকভাবে থেমে আছে।
একটি সুত্রে জানা গেছে,
নাফিজ সরাফাত ও তার স্ত্রীর
মালিকানায় কানাডায় দুটি, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসে
নিবন্ধিত একটি কোম্পানি এবং সিঙ্গাপুরে একটি কোম্পানির
১৫টি যৌথ হিসাব রয়েছে,
সেখানে লাখ লাখ ডলার জমা আছে।
এছাড়াও নামে কানাডা, সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন ব্যাংকে
মোট ৭৬টি হিসাব পরিচালনার তথ্য পাওয়া গেছে।
দুবাইয়ে নাফিজ সরাফাতের তিন কক্ষের
একটি ফ্ল্যাট ও পাঁচ কক্ষের একটি ভিলা রয়েছে।
এছাড়া, ৫২টি কোম্পানিতে তার বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে।
ইতিপূর্বে নাফিজ সরাফত ও তার পরিবারের বাড়ি,
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জমি ও ১৮টি ফ্ল্যাট
ক্রোকের আদেশ দিয়েছে আদালত।
কিন্তু এর কোন কার্যকারিতা নেই।
নাফিজ সরাফাতের স্ত্রীর নামে আছে
রাজধানীর গুলশানে একটি ২২তলা ভবন।
এই ভবন রক্ষা ও তার ব্যবসা ঠিক রাখতে বাটপার নাফিজ
সরাফাত বর্তমানে কতিপয় অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে
মোটা বেতনে চাকরি দিয়েছেন।
প্রশ্ন হচ্ছে, এতকিছুর পরও তার ব্যাপারে সরকার কেন নিশ্চুপ?
শোনা যাচ্ছে, নাফিজ সরাফাত বিএনপির
এক নেতার পিছনে প্রচুর বিনিয়োগ করেছেন।
কিন্তু এই বাটপার নাফিজ সবই করছেন নিজের স্বার্থে,
তা বিএনপির ওই নেতাকে বুঝতে হবে।
অন্যথায় আখেরে তাকেও এরজন্য মূল্য দিতে হবে।
অতএব সাধু সাবধান!!

Farazi Azmal Hossain

জনপ্রিয়

দূর্নীতির অরেক নাম নাফিজ সরাফাত

প্রকাশের সময় : ১০:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

Farazi Azmal Hossain’s Post

দূর্নীতির অরেক নাম নাফিজ সরাফাত
বিগত দেড় দশকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সেক্টরে
যিনি সবচেয়ে বড় জালিয়াতি করেছেন তিনি হচ্ছেন
চৌধুরী নাফিজ সরাফত ওরফে মাফিয়া ডন।
কেউ বলেন ব্যাংক খেকো নাফিজ।
শারিরীক প্রতিবন্ধী এই বাটপারের বাড়ি
গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ায়।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরপরই
প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নির্বাচনী এলাকার
লোক পরিচয় দিয়ে শুরু করেন নানারকম
ধান্দাবাজি, প্রতারনা, দুর্নীতি আর জালিয়াতি।
হাজারো অপকর্মের কারণে, নাফিজ আর দূর্নীতি
সমার্থক শব্দ হয়ে গিয়েছিল।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই ব্যক্তি রাতারাতি
হয়ে ওঠেন শেখ হাসিনার চেয়েও বড় আওয়ামী লীগার।
সামান্য একজন ব্যাংক কর্মচারী থেকে
হয়ে যান ব্যাংকের মালিক।
শুধু তাই নয়, ধুরন্ধর এই ব্যাক্তি নিজেকে
‘ডক্টরেট ডিগ্রীধারী‘ বলে পরিচয় দিয়ে বেড়াতেন।
ইতিপূর্বে একটি স্টাটাসে তার অপকর্মের কিছু চিত্র তুলে ধরেছি।
এই ধান্ধাবাজ প্রথমে সখ্যতা গড়ে তোলেন
তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীরের সঙ্গে।
এরপর একে একে সালমান এফ রহমান, লোটাস কামাল,
সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ, গভর্নর রউফ তালুকদার, সিকিউরিটিস এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান
অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতের সঙ্গে।
এদেরকে ব্যবহার করে অর্থনীতিসহ নানা খাতে
দুর্নীতিসহ নানাবিধ অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়েন।
ক্রমশ হয়ে উঠেন দেশের শীর্ষ মাফিয়া ডন, মহা জালিয়াত।
মাত্র তিন পুরুষ আগে নিম্ন বর্নের হিন্দু থেকে মুসলমান হওয়া
এই নাফিজের বাবা চৌধুরী সরাফাত হোসেন
একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ছিলেন একজন রাজকার।
বিগত পনের বছরে পুঁজিবাজার ও ব্যাংকিং সেক্টরে হেন কোনো
অপরাধ নেই যা এই নব্য মুসলিম পরিবারের সন্তান,
নব্য আওয়ামী লীগার নাফিজ সরাফাত করেনি।
তার জালিয়াতি ও প্রতারণার শিকার হয়ে হাজার হাজার
ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী রাস্তার ফকির হয়ে গেছে।
এছাড়া, এই ব্যক্তি পদ্মা ব্যাংকের মালিক হয়ে
জালিয়াতির মাধ্যমে হাজার কোটি টাকা
আত্মসাৎ করে ব্যাংকটিকে দেউলিয়া করে দিয়েছেন।
চব্বিশের ক্ষমতার পালাবদলের পর একটি
সরকারি সংস্থার অনুসন্ধানে তার বিরুদ্ধে শুধুমাত্র
শেয়ারবাজার থেকেই অর্থ লোপাটের মাধ্যমে ৮৮৭ কোটি টাকা
আত্মসাতের প্রমান পাওয়া গেলেও তিনি
এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন।
সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ,
এমনকি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার কাউকে কাউকে
ব্যবহার করে অনেককে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে
অনেক কোম্পানির মালিকানার অংশ
নিজের নামে লিখিয়ে নিয়েছেন।
তিনি এতই ক্ষমতাধর ছিলেন যে
আওয়ামী লীগের এমপি ও বিশিষ্ট সাংবাদিক শফিকুর রহমানের
কাছ থেকে জোর করে তার লাইসেন্সকৃত একটি প্রাইভেট
টিভি চ্যানেলের মালিকানার একটা বড় অংশ
নিজের নামে লিখে নিয়েছিলেন।
শুধু তাই নয়, প্রভাব খাটিয়ে এক সময়ের
সরকারি মালিকানাধীন ‘দৈনিক বাংলা’ পত্রিকার
মালিকানাও নিজের নামে নিয়ে নেন।
পত্রিকাটি নতুন করে প্রকাশের কিছুদিন পর
তার এক অথর্ব, অপদার্থ ভাইকে
সম্পাদক পদে বসিয়ে
পত্রিকাটির বারোটা বাজিয়ে দেন।
চব্বিশের ৫ আগস্টের পর নিজেকে এবং তার
হাজার হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ রক্ষার
নিমিত্তে মোটা অর্থের বিনিময়ে
বিএনপির একজন নেতাকে পত্রিকাটির
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক বানিয়ে দেন।
যদিও তিনি একদিনও অফিসে যাননি।
এই নেতা এক সময় সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট ছিলেন।
১৯৮৮ সালের এক তরফা নির্বাচনে তিনি
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বরগুনা থেকে ‘এমপি‘ হন।
এরপর এরশাদের জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন।
৯০ দশকের প্রথম দিকে তিনি বিএনপি-তে যোগদান করেন।
ইনুচ জমানায় লন্ডনে তার ঘন ঘন যাতায়াত ছিলো।
এ বছরের পাতানো নির্বাচনে বিএনপি‘র টিকিটে
এমপি হয়েছেন।
প্রায় পাঁচ মাস মন্ত্রী মর্যাদা ভোগ করছেন।
গাড়িতে জাতীয় পতাকা উড়িয়ে চলেন।
আবার পত্রিকার প্রিন্টার্স লাইনে সম্পাদক হিসেবে
এখনও তার নাম ছাপা হচ্ছে, সম্পূর্ণ বেআইনি।
নাফিজ সরাফাতের সামান্য বেতনের চাকর-বাকর
লেভেলের একজন কর্মচারী দিয়ে পত্রিকাটি চালানো হচ্ছে।
সেখানে কোনো সাংবাদিক নেই।
অন্য কোন আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকার মাস্টহেড চেঞ্জ করে
২০০ কপি ছাপিয়ে ডিএফপিতে দেখানো হচ্ছে
এক লাখ একান্ন হাজার সার্কুলেশন!
কিন্তু বর্তমানে রাস্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেও
শুধুমাত্র টাকার লোভে ও নাফিজ সরাফাতকে রক্ষা
করার জন্য বিএনপির ওই নেতা এই টয়লেট পেপারের
সম্পাদক হিসেবে রয়ে গেছেন।
এই নাফিজ শুধু অর্থনৈতিক জালিয়াতিই নয়,
লেখক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট মুশতাক আহমেদ
হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী।
২০২০ সালে কার্টুনিস্ট আহমেদ কবীর কিশোরের আঁকা
একটি কার্টুন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোড়ন তোলে।
চৌধুরী নাফিজ সরাফাতকে চিত্রায়িত করা ওই কার্টুনে
নাভির জায়গায় দেখা যায় ব্যাংকের প্রতীক সিন্দুকের হাতল।
তাতে ক্যাপশন ছিল,
‘‘আমি চৌ নাফিজ সারাফাত/জানি ব্যাংক খাওয়ার ধারাপাত!”
কিশোরের আঁকা ওই কার্টুনের উপরের
ক্যাপশনটি লিখেছিলেন মুশতাক আহমেদ।
ফেসবুকে এই কার্টুন আঁকার অপরাধে ২০২০ সালের মে মাসে
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার হন
কার্টুনিস্ট আহমেদ কবীর কিশোর ও লেখক মুশতাক আহমেদ।
আটকের পর তাঁদের উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়।
আটকাবস্থায় ২০২১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি
কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে মুশতাক আহমেদ মারা যান।
মূলত সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দিয়ে
কিশোর ও মুশতাককে অমানুষিক নির্যাতন
করিয়েছিলেন নাফিজ সরাফত।
কিন্তু রহস্যজনক কারণে, মুশতাক হত্যার দায়ে
নাফিজ সরাফাতের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত
কোন মামলা দায়ের হয়নি।
ইতিমধ্যে সিআইডি নাফিজ সরাফাত,
ছাড়াও তার স্ত্রী ও ছেলের বিরুদ্ধে ১ হাজার ৬১৩ কোটি টাকা
পাচারের অভিযোগে মামলা করলেও এর কোন অগ্রগতি নাই।
এটিও রহস্যজনকভাবে থেমে আছে।
একটি সুত্রে জানা গেছে,
নাফিজ সরাফাত ও তার স্ত্রীর
মালিকানায় কানাডায় দুটি, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসে
নিবন্ধিত একটি কোম্পানি এবং সিঙ্গাপুরে একটি কোম্পানির
১৫টি যৌথ হিসাব রয়েছে,
সেখানে লাখ লাখ ডলার জমা আছে।
এছাড়াও নামে কানাডা, সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন ব্যাংকে
মোট ৭৬টি হিসাব পরিচালনার তথ্য পাওয়া গেছে।
দুবাইয়ে নাফিজ সরাফাতের তিন কক্ষের
একটি ফ্ল্যাট ও পাঁচ কক্ষের একটি ভিলা রয়েছে।
এছাড়া, ৫২টি কোম্পানিতে তার বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে।
ইতিপূর্বে নাফিজ সরাফত ও তার পরিবারের বাড়ি,
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জমি ও ১৮টি ফ্ল্যাট
ক্রোকের আদেশ দিয়েছে আদালত।
কিন্তু এর কোন কার্যকারিতা নেই।
নাফিজ সরাফাতের স্ত্রীর নামে আছে
রাজধানীর গুলশানে একটি ২২তলা ভবন।
এই ভবন রক্ষা ও তার ব্যবসা ঠিক রাখতে বাটপার নাফিজ
সরাফাত বর্তমানে কতিপয় অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে
মোটা বেতনে চাকরি দিয়েছেন।
প্রশ্ন হচ্ছে, এতকিছুর পরও তার ব্যাপারে সরকার কেন নিশ্চুপ?
শোনা যাচ্ছে, নাফিজ সরাফাত বিএনপির
এক নেতার পিছনে প্রচুর বিনিয়োগ করেছেন।
কিন্তু এই বাটপার নাফিজ সবই করছেন নিজের স্বার্থে,
তা বিএনপির ওই নেতাকে বুঝতে হবে।
অন্যথায় আখেরে তাকেও এরজন্য মূল্য দিতে হবে।
অতএব সাধু সাবধান!!

Farazi Azmal Hossain