, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে রাহুল-মমতারা মিছিল করে যাবেন সুপ্রিম কোর্টে,মিছিলে গোটা ভারত হাঁটবে। সোমবার দিল্লি পুলিশ পরীক্ষায় রোটন তাঁর বাবার চেহলাম আয়োজনে ও বাধা ফজলে করিম চৌধুরী! আমাদের বিড়ি টানা,হাতাকাটা জামা পরার উপর যতক্ষণ না আক্রমণ আসবে ততোক্ষণ ? এই মানুষ এভাবে পচে গেল কেন? অবশেষে ডিপ স্টেট এবং ইউনূস ও খলিল সাহেবদের সাকসেস! রোটন ভাইয়ের জানাজা পড়তে যাওয়া মুসল্লীদের মসজিদ থেকে বের করে, নির্মম নির্যাতন করেছে বিএনপির ক্যাডাররা!! জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম মুসলিম সভাপতি — বদরুদ্দীন তৈয়বজী পাকিস্তানপন্থী খাঁটি মুসলমান ইনকিলাব মঞ্চ বাবা-মায়ের কাছ থেকে যা শিখেছি ত্রপা মজুমদার

নিউ গিনিতে হামলা:লোক জোগান দেয় দুই বাহিনী

  • প্রকাশের সময় : ১২:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৩ পড়া হয়েছে

অনলাইন সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

জমি ও চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধ। সেই বিরোধের জেরে আবাসন প্রকল্পে হামলার পরিকল্পনা হয় খাবারের দোকানে বসে। এরপর দুই বাহিনী থেকে লোক জোগাড় করে রাতে চালানো হয় সশস্ত্র হামলা। রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগিনি আবাসন প্রকল্পে হামলার তদন্তে এমন তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র।

সূত্রগুলোর ভাষ্য, হামলার দিন দুপুরে বৈঠকের পর বিকেলে দুই জায়গায় লোক জড়ো করা হয়। পাঁচটি পিকআপে করে ও হেঁটে ঘটনাস্থলে যায় প্রায় ২০০ হামলাকারী। রাত সাড়ে ১০টার দিকে মূল ফটকে গুলি ছুড়ে হামলা শুরু করে তারা। হামলায় অংশ নেন মিরপুরের মো. ইব্রাহিম ও মামুন বাহিনীর সদস্যরা। এই ইব্রাহিম ভাষানটেক থানা বিএনপির আহ্বায়ক। পুলিশের তালিকায় তাঁর নাম ‘কিলার ইব্রাহিম’।

দুপুরে রাজধানীর ইসিবি চত্বরের একটি খাবারের দোকানে বৈঠক হয়। বিকেল চারটার দিকে ভাষানটেকের দেওয়ানপাড়া দোতলা মসজিদের সামনের মাঠে একদল লোক জড়ো হয়। আরেক দল জড়ো হয় মানিকদী এলাকায়। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, এসব জায়গা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে পাঁচটি পিকআপে করে এবং হেঁটে নিউগিনি আবাসন প্রকল্পে যায় প্রায় ২০০ হামলাকারী। রাত সাড়ে ১০টার দিকে মূল ফটকে গুলি ছুড়ে প্রকল্পে হামলা চালায় তারা।

হামলায় অংশ নেন মিরপুরের মো. ইব্রাহিম ও মামুন বাহিনীর সদস্যরা। এই ইব্রাহিম ভাষানটেক থানা বিএনপির আহ্বায়ক। পুলিশের তালিকায় তাঁর নাম ‘কিলার ইব্রাহিম’।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে ইসিবি চত্বর এলাকায় নিউগিনি প্রপার্টিজ আবাসন প্রকল্পে হামলার সময় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতেও ভাঙচুর–লুটপাট করা হয়। ওই রাতেই ঘটনার বিবরণ দিয়ে সালমান একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়।

হামলার পরিকল্পনায় কারা জড়িত, কারা অংশ নিয়েছে, কারা অস্ত্র সরবরাহ করেছে—এসব বিষয়ে তদন্ত চলছে। কিছু তথ্য পাওয়া গেছে, সেগুলো যাচাই–বাছাই করা হচ্ছে।

ডিবি গুলশান বিভাগের উপকমিশনার আ ফ ম আনোয়ার হোসেন

হামলা ও ভাঙচুরের মামলায় এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁরা হলেন মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী, মিজানুর রহমান, শাহরিয়ার মাহমুদ, শাহ আলম, মামুন, আসলাম ও মুন্না। সর্বশেষ গত বুধবার গ্রেপ্তার হন মামলার ৪ নম্বর আসামি গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী। পুলিশ জানিয়েছে, সাতজনই রিমান্ডে আছেন। গ্রেপ্তার হওয়া মামুন ও বাহিনীপ্রধান মফিজুর রহমান মামুন আলাদা ব্যক্তি।

মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব ক্যান্টনমেন্ট থানা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলশান বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে। ডিবি গুলশান বিভাগের উপকমিশনার আ ফ ম আনোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তিনি আরও জানান, হামলার পরিকল্পনায় কারা জড়িত, কারা অংশ নিয়েছে, কারা অস্ত্র সরবরাহ করেছে—এসব বিষয়ে তদন্ত চলছে। কিছু তথ্য পাওয়া গেছে, সেগুলো যাচাই–বাছাই করা হচ্ছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, এসব জায়গা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে পাঁচটি পিকআপে করে এবং হেঁটে নিউগিনি আবাসন প্রকল্পে যায় প্রায় ২০০ হামলাকারী। রাত সাড়ে ১০টার দিকে মূল ফটকে গুলি ছুড়ে প্রকল্পে হামলা চালায় তারা।

মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা  বলেন, হামলার দিন দুপুরে ইসিবি চত্বরের একটি খাবারের দোকানে বৈঠক হয়। দোকানের সিসিটিভি ফুটেজে সেখানে ১৩ জনকে দেখা গেছে। তাঁদের মধ্যে দুজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। একজন গ্রেপ্তার শাহরিয়ার মাহমুদ, অন্যজন বিকাশ চন্দ্র শাহ। বাকি ১১ জনকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। বৈঠকটি ছিল হামলার পরিকল্পনা নিয়ে। শাহরিয়ার ও বিকাশ সেই পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিকাশ বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পে ভবন নির্মাণের কাজ করেন। নিউগিনি আবাসন প্রকল্পের মালিক নাজিম উদ্দিন ভুঁইয়ার

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ভবন নির্মাণের পাশাপাশি নিউগিনির মালিকের সঙ্গে কথা বলে চলাচলের রাস্তার ব্যবস্থা করার কথা ছিল বিকাশের। কিন্তু নাজিম উদ্দিন রাস্তা দিতে রাজি হননি। এই বিরোধের সঙ্গে হামলার যোগসূত্র রয়েছে বলে তদন্তকারীরা মনে করছেন।

পরিকল্পনায় সংশ্লিষ্টতা ও হামলার জন্য লোক জোগাড়ের অভিযোগের বিষয়ে বিকাশ চন্দ্র শাহের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি আত্মগোপনে আছেন। পুলিশ বলছে, তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, হামলার দিন দুপুরে ইসিবি চত্বরের একটি খাবারের দোকানে বৈঠক হয়। দোকানের সিসিটিভি ফুটেজে সেখানে ১৩ জনকে দেখা গেছে। তাঁদের মধ্যে দুজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। একজন গ্রেপ্তার শাহরিয়ার মাহমুদ, অন্যজন বিকাশ চন্দ্র শাহ।

দুই বাহিনীর লোক জোগাড়

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, খাবারের দোকানের বৈঠক থেকে হামলার সিদ্ধান্ত হয়। লোক জোগাড়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় বিকাশকে। তিনি মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ আলম অনিকের মাধ্যমে ইব্রাহিম ও মফিজুর রহমান মামুনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এই দুই বাহিনীর লোকজন ভাড়াটে হিসেবে হামলায় অংশ নেয় বলে সূত্রের দাবি।

ভাষানটেকের দেওয়ানপাড়া এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা  বলেন, দোতলা মসজিদের সামনে ইব্রাহিমের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কার্যালয় রয়েছে। ঘটনার দিন বিকেল চারটার দিকে ভাষানটেক বস্তি ও পল্লবী এলাকা থেকে লোকজন এনে মসজিদের সামনের মাঠে জড়ো করা হয়। তাঁদের অভিযোগ, ইব্রাহিমের বাহিনীর মাসুম ওরফে ফরসা মাসুম হামলাকারীদের জড়ো করে নিউগিনি আবাসন প্রকল্পে নিয়ে যান।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, হামলাকারীদের বড় অংশ এসেছিল ভাষানটেক বস্তি থেকে। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার দুজনও সেখানকার বাসিন্দা। তাঁরা ইব্রাহিমের অনুসারী বলে সূত্রটি জানিয়েছে।

পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, হামলায় ইব্রাহিমের অনুসারী যুবরাজ, শাহেদ, শাকিল, রূপচান, বাবলু ও বুকপোড়া সুমনও জড়িত ছিলেন। ভাষানটেক এলাকার নানা অপরাধের সঙ্গে তাঁদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, খাবারের দোকানের বৈঠক থেকে হামলার সিদ্ধান্ত হয়। লোক জোগাড়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় বিকাশকে। তিনি মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ আলম অনিকের মাধ্যমে ইব্রাহিম ও মফিজুর রহমান মামুনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এই দুই বাহিনীর লোকজন ভাড়াটে হিসেবে হামলায় অংশ নেয় বলে সূত্রের দাবি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভাষানটেক এলাকায় ভবন নির্মাণের কথা শুনলেই সেখানে হাজির হন ইব্রাহিমের অনুসারীরা। তাঁদের কাছ থেকে মাটি ভরাটের সেবা এবং ইট, বালু, সিমেন্টসহ নির্মাণসামগ্রী নিতে বাধ্য করা হয়।

একজন ভবনমালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, ইব্রাহিমের লোকেরা তাঁকে তাঁদের কাছ থেকে নির্মাণসামগ্রী কেনার প্রস্তাব দেন। রাজি না হওয়ায় তাঁর নির্মাণাধীন ভবনের সামনে গিয়ে গুলি করা হয়। পরে তিনি ইব্রাহিমের কাছ থেকে নিম্নমানের ইট ও বালু কিনতে বাধ্য হন।

নিউগিনিতে হামলায় পল্লবীর মফিজুর রহমান মামুনের বাহিনীর সদস্যরাও অংশ নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের অভিযোগ, মিরপুর ও আশপাশের এলাকায় জোর করে জমি দখল করে দিতে ভাড়াটে হিসেবে কাজ করেন এই বাহিনীর সদস্যরা। মিরপুর ও পল্লবী এলাকার নানা অপরাধেও তাঁদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

মফিজুর রহমান মামুন পল্লবী থানার ৯১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ছিলেন। খুন, জমি দখল, চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে গত মঙ্গলবার তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

নিউগিনি আবাসন প্রকল্পের মালিক নাজিম উদ্দিন ভুঁইয়াও  বলেন, তাঁর প্রতিষ্ঠানে হামলায় ইব্রাহিম ও মামুন বাহিনীর লোকজন জড়িত।

সন্ত্রাসী পাঠিয়ে হামলা করানোসহ বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে জানতে মো. ইব্রাহিম ও মফিজুর রহমান মামুনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তাঁদের পাওয়া যায়নি

 

জনপ্রিয়

গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে

নিউ গিনিতে হামলা:লোক জোগান দেয় দুই বাহিনী

প্রকাশের সময় : ১২:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

অনলাইন সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

জমি ও চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধ। সেই বিরোধের জেরে আবাসন প্রকল্পে হামলার পরিকল্পনা হয় খাবারের দোকানে বসে। এরপর দুই বাহিনী থেকে লোক জোগাড় করে রাতে চালানো হয় সশস্ত্র হামলা। রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগিনি আবাসন প্রকল্পে হামলার তদন্তে এমন তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র।

সূত্রগুলোর ভাষ্য, হামলার দিন দুপুরে বৈঠকের পর বিকেলে দুই জায়গায় লোক জড়ো করা হয়। পাঁচটি পিকআপে করে ও হেঁটে ঘটনাস্থলে যায় প্রায় ২০০ হামলাকারী। রাত সাড়ে ১০টার দিকে মূল ফটকে গুলি ছুড়ে হামলা শুরু করে তারা। হামলায় অংশ নেন মিরপুরের মো. ইব্রাহিম ও মামুন বাহিনীর সদস্যরা। এই ইব্রাহিম ভাষানটেক থানা বিএনপির আহ্বায়ক। পুলিশের তালিকায় তাঁর নাম ‘কিলার ইব্রাহিম’।

দুপুরে রাজধানীর ইসিবি চত্বরের একটি খাবারের দোকানে বৈঠক হয়। বিকেল চারটার দিকে ভাষানটেকের দেওয়ানপাড়া দোতলা মসজিদের সামনের মাঠে একদল লোক জড়ো হয়। আরেক দল জড়ো হয় মানিকদী এলাকায়। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, এসব জায়গা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে পাঁচটি পিকআপে করে এবং হেঁটে নিউগিনি আবাসন প্রকল্পে যায় প্রায় ২০০ হামলাকারী। রাত সাড়ে ১০টার দিকে মূল ফটকে গুলি ছুড়ে প্রকল্পে হামলা চালায় তারা।

হামলায় অংশ নেন মিরপুরের মো. ইব্রাহিম ও মামুন বাহিনীর সদস্যরা। এই ইব্রাহিম ভাষানটেক থানা বিএনপির আহ্বায়ক। পুলিশের তালিকায় তাঁর নাম ‘কিলার ইব্রাহিম’।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে ইসিবি চত্বর এলাকায় নিউগিনি প্রপার্টিজ আবাসন প্রকল্পে হামলার সময় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতেও ভাঙচুর–লুটপাট করা হয়। ওই রাতেই ঘটনার বিবরণ দিয়ে সালমান একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়।

হামলার পরিকল্পনায় কারা জড়িত, কারা অংশ নিয়েছে, কারা অস্ত্র সরবরাহ করেছে—এসব বিষয়ে তদন্ত চলছে। কিছু তথ্য পাওয়া গেছে, সেগুলো যাচাই–বাছাই করা হচ্ছে।

ডিবি গুলশান বিভাগের উপকমিশনার আ ফ ম আনোয়ার হোসেন

হামলা ও ভাঙচুরের মামলায় এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁরা হলেন মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী, মিজানুর রহমান, শাহরিয়ার মাহমুদ, শাহ আলম, মামুন, আসলাম ও মুন্না। সর্বশেষ গত বুধবার গ্রেপ্তার হন মামলার ৪ নম্বর আসামি গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী। পুলিশ জানিয়েছে, সাতজনই রিমান্ডে আছেন। গ্রেপ্তার হওয়া মামুন ও বাহিনীপ্রধান মফিজুর রহমান মামুন আলাদা ব্যক্তি।

মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব ক্যান্টনমেন্ট থানা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলশান বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে। ডিবি গুলশান বিভাগের উপকমিশনার আ ফ ম আনোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তিনি আরও জানান, হামলার পরিকল্পনায় কারা জড়িত, কারা অংশ নিয়েছে, কারা অস্ত্র সরবরাহ করেছে—এসব বিষয়ে তদন্ত চলছে। কিছু তথ্য পাওয়া গেছে, সেগুলো যাচাই–বাছাই করা হচ্ছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, এসব জায়গা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে পাঁচটি পিকআপে করে এবং হেঁটে নিউগিনি আবাসন প্রকল্পে যায় প্রায় ২০০ হামলাকারী। রাত সাড়ে ১০টার দিকে মূল ফটকে গুলি ছুড়ে প্রকল্পে হামলা চালায় তারা।

মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা  বলেন, হামলার দিন দুপুরে ইসিবি চত্বরের একটি খাবারের দোকানে বৈঠক হয়। দোকানের সিসিটিভি ফুটেজে সেখানে ১৩ জনকে দেখা গেছে। তাঁদের মধ্যে দুজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। একজন গ্রেপ্তার শাহরিয়ার মাহমুদ, অন্যজন বিকাশ চন্দ্র শাহ। বাকি ১১ জনকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। বৈঠকটি ছিল হামলার পরিকল্পনা নিয়ে। শাহরিয়ার ও বিকাশ সেই পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিকাশ বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পে ভবন নির্মাণের কাজ করেন। নিউগিনি আবাসন প্রকল্পের মালিক নাজিম উদ্দিন ভুঁইয়ার

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ভবন নির্মাণের পাশাপাশি নিউগিনির মালিকের সঙ্গে কথা বলে চলাচলের রাস্তার ব্যবস্থা করার কথা ছিল বিকাশের। কিন্তু নাজিম উদ্দিন রাস্তা দিতে রাজি হননি। এই বিরোধের সঙ্গে হামলার যোগসূত্র রয়েছে বলে তদন্তকারীরা মনে করছেন।

পরিকল্পনায় সংশ্লিষ্টতা ও হামলার জন্য লোক জোগাড়ের অভিযোগের বিষয়ে বিকাশ চন্দ্র শাহের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি আত্মগোপনে আছেন। পুলিশ বলছে, তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, হামলার দিন দুপুরে ইসিবি চত্বরের একটি খাবারের দোকানে বৈঠক হয়। দোকানের সিসিটিভি ফুটেজে সেখানে ১৩ জনকে দেখা গেছে। তাঁদের মধ্যে দুজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। একজন গ্রেপ্তার শাহরিয়ার মাহমুদ, অন্যজন বিকাশ চন্দ্র শাহ।

দুই বাহিনীর লোক জোগাড়

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, খাবারের দোকানের বৈঠক থেকে হামলার সিদ্ধান্ত হয়। লোক জোগাড়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় বিকাশকে। তিনি মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ আলম অনিকের মাধ্যমে ইব্রাহিম ও মফিজুর রহমান মামুনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এই দুই বাহিনীর লোকজন ভাড়াটে হিসেবে হামলায় অংশ নেয় বলে সূত্রের দাবি।

ভাষানটেকের দেওয়ানপাড়া এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা  বলেন, দোতলা মসজিদের সামনে ইব্রাহিমের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কার্যালয় রয়েছে। ঘটনার দিন বিকেল চারটার দিকে ভাষানটেক বস্তি ও পল্লবী এলাকা থেকে লোকজন এনে মসজিদের সামনের মাঠে জড়ো করা হয়। তাঁদের অভিযোগ, ইব্রাহিমের বাহিনীর মাসুম ওরফে ফরসা মাসুম হামলাকারীদের জড়ো করে নিউগিনি আবাসন প্রকল্পে নিয়ে যান।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, হামলাকারীদের বড় অংশ এসেছিল ভাষানটেক বস্তি থেকে। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার দুজনও সেখানকার বাসিন্দা। তাঁরা ইব্রাহিমের অনুসারী বলে সূত্রটি জানিয়েছে।

পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, হামলায় ইব্রাহিমের অনুসারী যুবরাজ, শাহেদ, শাকিল, রূপচান, বাবলু ও বুকপোড়া সুমনও জড়িত ছিলেন। ভাষানটেক এলাকার নানা অপরাধের সঙ্গে তাঁদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, খাবারের দোকানের বৈঠক থেকে হামলার সিদ্ধান্ত হয়। লোক জোগাড়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় বিকাশকে। তিনি মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ আলম অনিকের মাধ্যমে ইব্রাহিম ও মফিজুর রহমান মামুনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এই দুই বাহিনীর লোকজন ভাড়াটে হিসেবে হামলায় অংশ নেয় বলে সূত্রের দাবি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভাষানটেক এলাকায় ভবন নির্মাণের কথা শুনলেই সেখানে হাজির হন ইব্রাহিমের অনুসারীরা। তাঁদের কাছ থেকে মাটি ভরাটের সেবা এবং ইট, বালু, সিমেন্টসহ নির্মাণসামগ্রী নিতে বাধ্য করা হয়।

একজন ভবনমালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, ইব্রাহিমের লোকেরা তাঁকে তাঁদের কাছ থেকে নির্মাণসামগ্রী কেনার প্রস্তাব দেন। রাজি না হওয়ায় তাঁর নির্মাণাধীন ভবনের সামনে গিয়ে গুলি করা হয়। পরে তিনি ইব্রাহিমের কাছ থেকে নিম্নমানের ইট ও বালু কিনতে বাধ্য হন।

নিউগিনিতে হামলায় পল্লবীর মফিজুর রহমান মামুনের বাহিনীর সদস্যরাও অংশ নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের অভিযোগ, মিরপুর ও আশপাশের এলাকায় জোর করে জমি দখল করে দিতে ভাড়াটে হিসেবে কাজ করেন এই বাহিনীর সদস্যরা। মিরপুর ও পল্লবী এলাকার নানা অপরাধেও তাঁদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

মফিজুর রহমান মামুন পল্লবী থানার ৯১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ছিলেন। খুন, জমি দখল, চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে গত মঙ্গলবার তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

নিউগিনি আবাসন প্রকল্পের মালিক নাজিম উদ্দিন ভুঁইয়াও  বলেন, তাঁর প্রতিষ্ঠানে হামলায় ইব্রাহিম ও মামুন বাহিনীর লোকজন জড়িত।

সন্ত্রাসী পাঠিয়ে হামলা করানোসহ বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে জানতে মো. ইব্রাহিম ও মফিজুর রহমান মামুনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তাঁদের পাওয়া যায়নি