
অনলাইন রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬
লিখেছিলেন ‘Pls forgive me’। ক্ষমা মেলেনি। আজ রেললাইনের ধারে নিথর সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বাবলু…
একটা ছোট্ট মন্তব্য। পাঁচ মিনিটের মধ্যে মুছেও ফেলেছিলেন। তারপর ভয়ে কাঁপা হাতে বিপ্লব বড়ুয়াকে এসএমএস: ‘Dear Biplob da, I did a mistake n deleted the msg after 5 min. Pls forgive me.’
ক্ষমা মেলেনি।
সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতাধর বিশেষ সহকারী ও আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া আর তার ছোটভাই বিদ্যুৎ বড়ুয়া ক্ষমতা দেখাতে দেরি করেননি। বুলেটের গতিতে এল ‘কুখ্যাত’ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলা। পুলিশের বড় বড় টিম অভিযানে নেমে তুলে নিয়ে গেল আশির দশকে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের এই সাবেক সভাপতিকে। যে দলের জন্য একসময় রাজপথে ছিলেন, সেই দলেরই আমলে সিএমপির ডিসি বিজয় বসাককে ভিডিওকলে রেখে সাতকানিয়া থানার ওসি ও সেকেন্ড অফিসার তাকে পেটালেন ইচ্ছেমতো।
বিচারক পাঠালেন কারাগারে। বারবার রিমান্ড, অসহনীয় নির্যাতন। টানা ছয় মাস। কারাগারের ভেতরেও থামেনি মানসিক নির্যাতন।
পাঁচ মিনিটে মুছে ফেলা একটা মন্তব্যের জন্য।
আওয়ামী লীগেরই এক মন্ত্রীর চেষ্টায় ছয় মাস পর বেরিয়ে এলেন। কিন্তু ভেতরে যা ভেঙেছে, তা আর জোড়া লাগেনি। সাজানো জীবন তছনছ। পরিবারও এত ঝামেলা মেনে নিতে চায়নি। একবার ধানমণ্ডির পার্টি অফিসে গিয়েও বড় নেতার ইশারায় হামলার শিকার হন। আশির দশকের বৈরী সময়ে যিনি দলকে কাঁধে নিয়েছিলেন, হাইব্রিডের ভিড়ে তার আর জায়গা হলো না কোথাও।
নিঃসঙ্গ সেই ফখরুদ্দিন বাবলু আজ মারা গেলেন।
পুলিশ বলছে, ষোলশহরে ট্রেনে উঠতে গিয়ে মৃত্যু। যে ট্রেন, সেটা ষোলশহরে দাঁড়ায় না। দাঁড়ালেও পকেটে তার টিকিট ছিল না।
একজন বাবলু তৈরি হতে লাগে চার দশক। তাকে নিঃস্ব করে ট্রেনের চাকার কাছে পৌঁছে দিতে লাগে একটামাত্র ডিলিট করা মন্তব্য।
Hossain Thoufique Ifthekher ভাইয়ের ওয়াল থেকে
Asaduzzaman Kanon’s Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।





















