
অনলাইন শুক্রবার ০৯ অক্টোবর ২০২৬
পলাতক প্রভাবশালী এবং তাদের পেছনে থাকা প্রক্সি সিন্ডিকেটের এই মনস্তত্ত্ব।
দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া প্রভাবশালী অলিগার্ক ও তাদের চামচা প্রক্সি নেটওয়ার্ক এর বর্তমান হিসাব নিকাশ অত্যন্ত নিখুঁত। তারা তাদের ব্যাপারে প্রচন্ড আত্মবিশ্বাসী।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, অপরাধী ও অর্থ পাচারকারীদের এই আত্মবিশ্বাস কিন্তু আকাশ থেকে পড়েনি। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকেই তারা এই ওয়েট অ্যান্ড সি কৌশল গ্রহণ করেছে।
তাদের প্রচন্ড আশাবাদী হওয়ার পেছনে দীর্ঘমেয়াদি বাস্তবতা কাজ করে৷
বর্তমানেও তারা অতীত অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তির আশা করছে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ক্ষমতার রদবদল হলে পূর্ববর্তী সরকারের আমলে দায়ের করা অনেক মামলাকেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক হিসেবে ব্যাখ্যা করার একটি ঐতিহ্য তৈরি হয়েছে। পলাতক নেতারা এখন ভাবছেন, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সমীকরণ একটু শিথিল হলেই আইনি ফাঁকফোকর ব্যবহার করে তারা মামলা থেকে অব্যাহতি পাবেন। ফ্রিজ হওয়া অ্যাকাউন্ট ও বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি আইনি প্রক্রিয়াতেই ফেরত পাবেন।
প্রাতিষ্ঠানিক মেমোরি শর্টেজকে কাজে লাগাবেন। জনআকাঙ্ক্ষার ভাটা পড়বে সময় গড়ালে। জনমানুষের ক্ষোভ ও নজরদারি আস্তে আস্তে কমে আসছে। নতুন নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক ঘটনা সামনে এলে পুরোনো দুর্নীতির বিষয়টি আড়ালে চলে যায়। অপরাধীরা ভালো করেই এসব জানে। তদন্তকারী সংস্থাগুলো শুরুতে যে গতিতে কাজ শুরু করেছিল সময়ের সাথে সাথে প্রশাসনিক আমলাতন্ত্রের জটিলতায় সেই গতি মন্থর হয়ে পড়বে। তারা মূলত এই সময় ক্ষেপণ এর সুযোগটাই নিতে চায়।
যেহেতু বেনামে থাকা মূল অর্থ সম্পদের প্রবাহ ফ্রন্টম্যানদের ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক এর মাধ্যমে এখনও সচল আছে। তাই তারা সাময়িকভাবে আর্থিক সংকটে পড়লেও একেবারে নিঃস্ব হয়ে যাননি। ওপারে বসে এই প্রক্সি নেটওয়ার্কের মাধ্যমেই তারা আইনি লড়াই চালানোর ফান্ড এবং অন্তর্বর্তীকালীন খরচ জোগাচ্ছেন। যাতে পরিস্থিতি অনুকূলে না আসা পর্যন্ত টিকে থাকা যায়।
পলাতক অপরাধীদের এই আশা কি ধূলিসাৎ করা যাবে না? রাষ্ট্র কি পারবে প্রথাগত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক দেয়াল তুলতে?
স্বচ্ছ ও অরাজনৈতিক বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু করতে?
মামলাগুলোকে কোনো রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে না দেখে সুনির্দিষ্ট মানি লন্ডারিং, দুর্নীতি ও আর্থিক অপরাধের শক্ত তথ্য-প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে দাঁড় করানো যাতে সরকার বদলালেও আদালত থেকে তা সহজে খারিজ হতে না পারে। এটা কি কখনো সম্ভব হবে?
সাময়িকভাবে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে রাখলেই হবে না এখন। একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পদের বৈধ উৎস প্রমাণ করতে ব্যর্থ হলে তা চূড়ান্তভাবে রাষ্ট্রীয় কোষাাগারে বাজেয়াপ্ত করার আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
আন্তর্জাতিক রেড নোটিশ ও ট্র্যাকিং অব্যাহত রাখা চালিয়ে যেতে হবে। ইন্টারপোল এবং আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলোর সাথে দীর্ঘমেয়াদি ট্র্যাকিং বজায় রাখার জন্য আইনি ও অন্যান্য কারিগরি সকল পদক্ষেপ নিতে হবে। যাতে দেশের ভেতরের আইনি প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হলেও বিদেশে থাকা তাদের সম্পদ আর নিরাপদ না থাকে।
অপরাধীরা বাজি ধরছে সময়ের ওপর। আর রাষ্ট্রের সাফল্য নির্ভর করছে প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতা ও আইনি সুরক্ষার দৃঢ়তার ওপর। এই দৌড়ে শেষ পর্যন্ত কে জিতবে?
নির্ভর করছে রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো কতটুকু দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে তার ওপর।
Bipasha Chakraborty’s Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।





















