, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা: কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ক্ষমা চাইলেন মূল আসামি সোহেল

  • প্রকাশের সময় : ০২:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
  • ৫৮ পড়া হয়েছে

রাজধানীর পল্লবীতে মাত্র আট বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মূল আসামি সোহেল রানা আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমাপ্রার্থনা করেছেন। একই সঙ্গে ‘ডলার’ নামের এক ব্যক্তিও এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল দাবি করে তাকে গ্রেপ্তারের আকুতি জানিয়েছেন তিনি। অপরদিকে মামলার অপর আসামি ও সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার আদালতে নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বলে দাবি করেছেন।

আজ বুধবার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে উভয় আসামির আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি শেষ হয়। বিচারক মাসরুর সালেকীন যুক্তিতর্কের জন্য আগামীকাল বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সোহেল ও স্বপ্নাকে কারাগার থেকে আদালত প্রাঙ্গণে আনা হয়। বেলা ১১টা ১০ মিনিটে কার্যক্রম শুরু হলে বিচারক আসামি সোহেলকে জানান, এই মামলায় তার বিরুদ্ধে মোট ১৬ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। এরপর আদালত তার বিরুদ্ধে আনা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও সাক্ষীদের বক্তব্য পড়ে শোনান এবং এ বিষয়ে সোহেলের বক্তব্য জানতে চান।

আসামি সোহেল বলেন আমি নির্দোষ স্যার। আমার সাথে যে ছিল ডলার, তাঁরে আপনারা ধরেন। আমি দোষ করি নাই তা না, আমিও দোষ করেছি, ডলারও দোষ করেছে। আমারে মাফ করে দেন, আমার একটা ছোটো ছাওয়াল আছে।

একই সময় নিজের স্ত্রীর সম্পর্কে সোহেল আদালতকে বলেন, “আমার বউটা একদম নির্দোষ স্যার।

তবে স্বপ্না আক্তারকে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও সাক্ষ্য পড়ে শোনানো হলে তিনি স্পষ্টভাবে দাবি করেন, “আমি কিছু করি নাই, আমি নির্দোষ।

গত ১৯ মে পল্লবীর একটি ভবনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাট থেকে ওই শিশুটির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পরপরই ফ্ল্যাটের বাসিন্দা সোহেল শৌচাগারের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান; তবে তার স্ত্রী স্বপ্নাকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়। পরে ওই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এই ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর সোহেল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যার কথা স্বীকার করেছিলেন। গতকাল মঙ্গলবার এই মামলায় ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়।

আজ আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি শেষ হওয়ার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু যুক্তিতর্কের জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণের আবেদন করেন। আদালত তা মঞ্জুর করে আগামীকাল বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্কের দিন ধার্য করেন। মামলাটি এখন রায়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

 

জনপ্রিয়

পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা: কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ক্ষমা চাইলেন মূল আসামি সোহেল

প্রকাশের সময় : ০২:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

রাজধানীর পল্লবীতে মাত্র আট বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মূল আসামি সোহেল রানা আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমাপ্রার্থনা করেছেন। একই সঙ্গে ‘ডলার’ নামের এক ব্যক্তিও এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল দাবি করে তাকে গ্রেপ্তারের আকুতি জানিয়েছেন তিনি। অপরদিকে মামলার অপর আসামি ও সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার আদালতে নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বলে দাবি করেছেন।

আজ বুধবার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে উভয় আসামির আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি শেষ হয়। বিচারক মাসরুর সালেকীন যুক্তিতর্কের জন্য আগামীকাল বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সোহেল ও স্বপ্নাকে কারাগার থেকে আদালত প্রাঙ্গণে আনা হয়। বেলা ১১টা ১০ মিনিটে কার্যক্রম শুরু হলে বিচারক আসামি সোহেলকে জানান, এই মামলায় তার বিরুদ্ধে মোট ১৬ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। এরপর আদালত তার বিরুদ্ধে আনা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও সাক্ষীদের বক্তব্য পড়ে শোনান এবং এ বিষয়ে সোহেলের বক্তব্য জানতে চান।

আসামি সোহেল বলেন আমি নির্দোষ স্যার। আমার সাথে যে ছিল ডলার, তাঁরে আপনারা ধরেন। আমি দোষ করি নাই তা না, আমিও দোষ করেছি, ডলারও দোষ করেছে। আমারে মাফ করে দেন, আমার একটা ছোটো ছাওয়াল আছে।

একই সময় নিজের স্ত্রীর সম্পর্কে সোহেল আদালতকে বলেন, “আমার বউটা একদম নির্দোষ স্যার।

তবে স্বপ্না আক্তারকে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও সাক্ষ্য পড়ে শোনানো হলে তিনি স্পষ্টভাবে দাবি করেন, “আমি কিছু করি নাই, আমি নির্দোষ।

গত ১৯ মে পল্লবীর একটি ভবনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাট থেকে ওই শিশুটির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পরপরই ফ্ল্যাটের বাসিন্দা সোহেল শৌচাগারের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান; তবে তার স্ত্রী স্বপ্নাকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়। পরে ওই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এই ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর সোহেল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যার কথা স্বীকার করেছিলেন। গতকাল মঙ্গলবার এই মামলায় ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়।

আজ আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি শেষ হওয়ার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু যুক্তিতর্কের জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণের আবেদন করেন। আদালত তা মঞ্জুর করে আগামীকাল বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্কের দিন ধার্য করেন। মামলাটি এখন রায়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।