
অনলাইন বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রতিবাদ বিবৃতি
বাঙালি জাতির আত্মপরিচয় ও বাংলাদেশ সৃষ্টির ইতিহাস রক্ষা করার আহ্বান
বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে, বাংলাদেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং বাঙালির দীর্ঘ গণতান্ত্রিক ও মুক্তির সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ ও ঐতিহাসিক দলিলের প্রকাশ, পাঠ, প্রচার ও গবেষণার ক্ষেত্রে নানামুখী প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।
আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই—ইতিহাস কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দলের একক সম্পত্তি নয়। ইতিহাস একটি জাতির আত্মপরিচয়, সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও অর্জনের সামষ্টিক দলিল। বাঙালি জাতির ভাষা, অধিকার, স্বাধিকার ও স্বাধীনতা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের ইতিহাস জানা এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে তার প্রামাণ্য দলিল পৌঁছে দেওয়া আমাদের ঐতিহাসিক ও নৈতিক দায়িত্ব।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনী, কারাগারের রোজনামচা এবং আমার দেখা নয়া-চীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দলিল। এসব গ্রন্থে ভাষা আন্দোলন, বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম, পাকিস্তান আমলের রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং স্বাধীনতার পূর্বাপর ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা সংরক্ষিত হয়েছে। এসব গ্রন্থের পাঠ, গবেষণা ও বিশ্লেষণের সুযোগ সংকুচিত নয়, বরং আরও বিস্তৃত হওয়া জরুরি। দেশের ইতিহাস সংরক্ষণ করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব।
আমরা মনে করি, বাংলাদেশের পরিশুদ্ধ ইতিহাসকে কোনো গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রামাণ্য দলিল, গবেষণা, যুক্তি ও মুক্তবুদ্ধির চর্চার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। প্রকাশনার স্বাধীনতা, জ্ঞানচর্চার স্বাধীনতা এবং ইতিহাস পাঠের অধিকার একটি মুক্ত ও গণতান্ত্রিক সমাজের মৌলিক ভিত্তি। কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা সংগঠনের অনানুষ্ঠানিক চাপ কিংবা খেয়ালখুশির কারণে বই প্রকাশ, বিক্রয়, পাঠ, সংরক্ষণ বা গবেষণার অধিকার বাধাগ্রস্ত করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
আমরা দাবি জানাচ্ছি, বাংলাদেশের ইতিহাস ও মুক্তির সংগ্রাম-সম্পর্কিত সকল গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ, প্রামাণ্য দলিল ও ঐতিহাসিক নথির অবাধ প্রকাশ, পাঠ, সংরক্ষণ ও গবেষণার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। এসব ঐতিহাসিক উপাদান অযথা গোপন, সীমাবদ্ধ বা অপ্রাপ্য রাখা যাবে না। একই সঙ্গে প্রামাণ্য দলিলসমূহ যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও ডিজিটালাইজ করে গবেষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য করতে হবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নির্ভরযোগ্য উৎসের ভিত্তিতে দেশের ইতিহাস জানার ও গবেষণার সুযোগ পায়।





















