, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে রাহুল-মমতারা মিছিল করে যাবেন সুপ্রিম কোর্টে,মিছিলে গোটা ভারত হাঁটবে। সোমবার দিল্লি পুলিশ পরীক্ষায় রোটন তাঁর বাবার চেহলাম আয়োজনে ও বাধা ফজলে করিম চৌধুরী! আমাদের বিড়ি টানা,হাতাকাটা জামা পরার উপর যতক্ষণ না আক্রমণ আসবে ততোক্ষণ ? এই মানুষ এভাবে পচে গেল কেন? অবশেষে ডিপ স্টেট এবং ইউনূস ও খলিল সাহেবদের সাকসেস! রোটন ভাইয়ের জানাজা পড়তে যাওয়া মুসল্লীদের মসজিদ থেকে বের করে, নির্মম নির্যাতন করেছে বিএনপির ক্যাডাররা!! জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম মুসলিম সভাপতি — বদরুদ্দীন তৈয়বজী পাকিস্তানপন্থী খাঁটি মুসলমান ইনকিলাব মঞ্চ বাবা-মায়ের কাছ থেকে যা শিখেছি ত্রপা মজুমদার

বিদ্যুৎ খাতে এ পর্যন্ত দেওয়া ২ লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকার ক্যাপাসিটি চার্জের অডিট

  • প্রকাশের সময় : ১১ ঘন্টা আগে
  • ২ পড়া হয়েছে

অনলাইন রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় সংসদ ভবনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক।
বিদ্যুৎ খাতে এ পর্যন্ত দেওয়া ২ লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকার ক্যাপাসিটি চার্জের ফরেনসিক অডিট, জ্বালানি তেলের মজুত বৃদ্ধি এবং তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) বাজারে সরকারের নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছে এ-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। একই সঙ্গে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার এবং জ্বালানি খাতের আমদানিনির্ভরতা কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

গতকাল শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে। বৈঠকে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে জাতীয় গ্রিডে কত বিদ্যুৎ যুক্ত হচ্ছে, তার বিস্তারিত তথ্য এবং সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের লিখিত উত্তর পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়।

কমিটির সভাপতি মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপুর সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, রফিকুল ইসলাম হিলালী, এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, নায়াব ইউসুফ আহমেদ, মমতাজ আলো, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান এবং মো. আবুল হাসনাত।

সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বিদ্যুৎ বিভাগের ৪১টি চলমান প্রকল্পের তথ্য তুলে ধরা হয়। এসব প্রকল্পে প্রকল্প সাহায্য ১০ হাজার ৬৫৩ কোটি টাকা, সরকারি অর্থায়ন ৪ হাজার ৭১ কোটি ৩৯ লা

বৈঠকে আরও উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১২০২২ মেগাওয়াট, আর প্রকৃত উৎপাদন ৪০০০-৫০০০ মেগাওয়াট। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৬৯২৭ মেগাওয়াট, আর প্রকৃত উৎপাদন ৫০০০-৬০০০ মেগাওয়াট। তরল জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ সক্ষমতা ৬৪০৯ মেগাওয়াট, আর প্রকৃত উৎপাদন ২৫০০-৩০০০ মেগাওয়াট।

সক্ষমতার তুলনায় উৎপাদন কম: বৈঠক শেষে আবুল হাসনাত বলেন, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট হলেও প্রকৃত উৎপাদন প্রায় ১৪ হাজার ১২৫ মেগাওয়াট। অথচ এ পর্যন্ত বিদ্যুৎ খাতে ২ লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়া হয়েছে। ২০১০ সালের বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইনের অধীনে হওয়া ব্যয়ের ফরেনসিক অডিট প্রয়োজন।

তিনি বলেন, প্রকৃত উৎপাদন সক্ষমতার ভিত্তিতে ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হবে। সক্ষমতার অতিরিক্ত ব্যয়, ভর্তুকি ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করছে। এসব ব্যয় কমাতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা জানতে চেয়েছে কমিটি।

কমিটির সদস্য নাজিবুর রহমান বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের পেছনে অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও পরিকল্পনাহীনতার বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের উপস্থাপনায় উঠে এসেছে। ক্যাপাসিটি চার্জ নিয়ে উচ্চ আদালতের রায়ের পর গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশ এবং সেগুলো বাস্তবায়নের অগ্রগতি পরবর্তী বৈঠকে জানাতে বলা হয়েছে।

সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে প্রশ্ন বৈঠকে জানানো হয়, ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনকারী গ্রাহকরা ২০৩০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা উদ্বৃত্ত বিদ্যুতের প্রতি ইউনিটের জন্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা পাবেন।

হাসনাত বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে জাতীয় গ্রিডে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ দিনে যুক্ত হয়েছে মাত্র ৬০ মেগাওয়াট। এই গতিতে চললে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে না।

এ জন্য সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের মাসভিত্তিক অগ্রগতি এবং সৌর প্যানেল ও ইনভার্টার আমদানির জন্য খোলা ঋণপত্রের হিসাব চেয়েছে কমিটি। প্রতিটি প্রকল্পের ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাবও পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে।

হাসনাতের দাবি, ৫০ মেগাওয়াটের একটি ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে আনুমানিক ১৫০ কোটি টাকা খরচ হওয়ার কথা থাকলেও মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫০ কোটি টাকার বেশি।

গ্যাস অনুসন্ধান ও জ্বালানির মজুত দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে নাজিবুর রহমান বলেন, ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা থাকলেও আগামী ছয় মাস, এক বছর বা দুই বছরের মধ্যে কোন কূপ থেকে গ্যাস পাওয়া সম্ভব, তার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই। নতুন খননযন্ত্র কেনার পাশাপাশি সেগুলো পরিচালনার সক্ষমতা এবং সমুদ্রাঞ্চলে গ্যাস অনুসন্ধানের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হবে।

এ বিষয়ে হাসনাত বলেন, অল্প সময়ে ৩২টি কূপ খননের বিষয়ে প্রচারিত তথ্যের ব্যাখ্যা প্রয়োজন। কোনগুলো অনুসন্ধান কূপ আর কোনগুলো উন্নয়ন কূপ, তা স্পষ্ট করতে হবে। একই সঙ্গে মহেশখালী ও পায়রায় নতুন এলএনজি ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা আমদানি-নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা জানতে চেয়েছে কমিটি।

তিনি আরও বলেন, দেশে ডিজেলের মজুত মাত্র ৩১ দিনের। গ্রামীণ কৃষি, যোগাযোগ ও অর্থনীতি ডিজেলের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। তাই ডিজেলের মজুত বাড়ানোর উপায় নির্ধারণ জরুরি।

এলপিজির দাম ও জবাবদিহি এলপিজির বাজারে সরকারি নজরদারির ঘাটতির অভিযোগ করে হাসনাত বলেন, সরকার নির্ধারিত দাম প্রায় ১ হাজার ৮০০ টাকা হলেও বাজারে একটি সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকায়। বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।

অন্যদিকে, নাজিবুর রহমান বলেন, ২০০৩ সালের আইনের ৩৪ ধারায় গণশুনানির মাধ্যমে জ্বালানির দাম নির্ধারণ ও এ-সংক্রান্ত প্রবিধান তৈরির বিধান থাকলেও তা কার্যকর হয়নি। এলপিজির দাম নির্ধারণ এবং সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে গণশুনানি হয়েছিল কি না, সে প্রশ্নও তুলেছে কমিটি।

তিনি আরও বলেন, উচ্চমূল্যে আন্তর্জাতিক খোলাবাজার থেকে জ্বালানি কেনা, এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের ব্যয় এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের বিষয়েও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। হাসনাত আবদুল্লাহর অভিযোগ, কোনো কোনো গ্রাহকের নামে ৩ কোটি থেকে ৭ কোটি টাকা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিল এসেছে।

 

জনপ্রিয়

গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে

বিদ্যুৎ খাতে এ পর্যন্ত দেওয়া ২ লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকার ক্যাপাসিটি চার্জের অডিট

প্রকাশের সময় : ১১ ঘন্টা আগে

অনলাইন রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় সংসদ ভবনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক।
বিদ্যুৎ খাতে এ পর্যন্ত দেওয়া ২ লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকার ক্যাপাসিটি চার্জের ফরেনসিক অডিট, জ্বালানি তেলের মজুত বৃদ্ধি এবং তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) বাজারে সরকারের নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছে এ-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। একই সঙ্গে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার এবং জ্বালানি খাতের আমদানিনির্ভরতা কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

গতকাল শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে। বৈঠকে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে জাতীয় গ্রিডে কত বিদ্যুৎ যুক্ত হচ্ছে, তার বিস্তারিত তথ্য এবং সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের লিখিত উত্তর পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়।

কমিটির সভাপতি মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপুর সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, রফিকুল ইসলাম হিলালী, এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, নায়াব ইউসুফ আহমেদ, মমতাজ আলো, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান এবং মো. আবুল হাসনাত।

সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বিদ্যুৎ বিভাগের ৪১টি চলমান প্রকল্পের তথ্য তুলে ধরা হয়। এসব প্রকল্পে প্রকল্প সাহায্য ১০ হাজার ৬৫৩ কোটি টাকা, সরকারি অর্থায়ন ৪ হাজার ৭১ কোটি ৩৯ লা

বৈঠকে আরও উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১২০২২ মেগাওয়াট, আর প্রকৃত উৎপাদন ৪০০০-৫০০০ মেগাওয়াট। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৬৯২৭ মেগাওয়াট, আর প্রকৃত উৎপাদন ৫০০০-৬০০০ মেগাওয়াট। তরল জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ সক্ষমতা ৬৪০৯ মেগাওয়াট, আর প্রকৃত উৎপাদন ২৫০০-৩০০০ মেগাওয়াট।

সক্ষমতার তুলনায় উৎপাদন কম: বৈঠক শেষে আবুল হাসনাত বলেন, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট হলেও প্রকৃত উৎপাদন প্রায় ১৪ হাজার ১২৫ মেগাওয়াট। অথচ এ পর্যন্ত বিদ্যুৎ খাতে ২ লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়া হয়েছে। ২০১০ সালের বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইনের অধীনে হওয়া ব্যয়ের ফরেনসিক অডিট প্রয়োজন।

তিনি বলেন, প্রকৃত উৎপাদন সক্ষমতার ভিত্তিতে ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হবে। সক্ষমতার অতিরিক্ত ব্যয়, ভর্তুকি ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করছে। এসব ব্যয় কমাতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা জানতে চেয়েছে কমিটি।

কমিটির সদস্য নাজিবুর রহমান বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের পেছনে অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও পরিকল্পনাহীনতার বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের উপস্থাপনায় উঠে এসেছে। ক্যাপাসিটি চার্জ নিয়ে উচ্চ আদালতের রায়ের পর গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশ এবং সেগুলো বাস্তবায়নের অগ্রগতি পরবর্তী বৈঠকে জানাতে বলা হয়েছে।

সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে প্রশ্ন বৈঠকে জানানো হয়, ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনকারী গ্রাহকরা ২০৩০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা উদ্বৃত্ত বিদ্যুতের প্রতি ইউনিটের জন্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা পাবেন।

হাসনাত বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে জাতীয় গ্রিডে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ দিনে যুক্ত হয়েছে মাত্র ৬০ মেগাওয়াট। এই গতিতে চললে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে না।

এ জন্য সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের মাসভিত্তিক অগ্রগতি এবং সৌর প্যানেল ও ইনভার্টার আমদানির জন্য খোলা ঋণপত্রের হিসাব চেয়েছে কমিটি। প্রতিটি প্রকল্পের ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাবও পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে।

হাসনাতের দাবি, ৫০ মেগাওয়াটের একটি ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে আনুমানিক ১৫০ কোটি টাকা খরচ হওয়ার কথা থাকলেও মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫০ কোটি টাকার বেশি।

গ্যাস অনুসন্ধান ও জ্বালানির মজুত দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে নাজিবুর রহমান বলেন, ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা থাকলেও আগামী ছয় মাস, এক বছর বা দুই বছরের মধ্যে কোন কূপ থেকে গ্যাস পাওয়া সম্ভব, তার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই। নতুন খননযন্ত্র কেনার পাশাপাশি সেগুলো পরিচালনার সক্ষমতা এবং সমুদ্রাঞ্চলে গ্যাস অনুসন্ধানের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হবে।

এ বিষয়ে হাসনাত বলেন, অল্প সময়ে ৩২টি কূপ খননের বিষয়ে প্রচারিত তথ্যের ব্যাখ্যা প্রয়োজন। কোনগুলো অনুসন্ধান কূপ আর কোনগুলো উন্নয়ন কূপ, তা স্পষ্ট করতে হবে। একই সঙ্গে মহেশখালী ও পায়রায় নতুন এলএনজি ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা আমদানি-নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা জানতে চেয়েছে কমিটি।

তিনি আরও বলেন, দেশে ডিজেলের মজুত মাত্র ৩১ দিনের। গ্রামীণ কৃষি, যোগাযোগ ও অর্থনীতি ডিজেলের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। তাই ডিজেলের মজুত বাড়ানোর উপায় নির্ধারণ জরুরি।

এলপিজির দাম ও জবাবদিহি এলপিজির বাজারে সরকারি নজরদারির ঘাটতির অভিযোগ করে হাসনাত বলেন, সরকার নির্ধারিত দাম প্রায় ১ হাজার ৮০০ টাকা হলেও বাজারে একটি সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকায়। বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।

অন্যদিকে, নাজিবুর রহমান বলেন, ২০০৩ সালের আইনের ৩৪ ধারায় গণশুনানির মাধ্যমে জ্বালানির দাম নির্ধারণ ও এ-সংক্রান্ত প্রবিধান তৈরির বিধান থাকলেও তা কার্যকর হয়নি। এলপিজির দাম নির্ধারণ এবং সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে গণশুনানি হয়েছিল কি না, সে প্রশ্নও তুলেছে কমিটি।

তিনি আরও বলেন, উচ্চমূল্যে আন্তর্জাতিক খোলাবাজার থেকে জ্বালানি কেনা, এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের ব্যয় এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের বিষয়েও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। হাসনাত আবদুল্লাহর অভিযোগ, কোনো কোনো গ্রাহকের নামে ৩ কোটি থেকে ৭ কোটি টাকা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিল এসেছে।