, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে রাহুল-মমতারা মিছিল করে যাবেন সুপ্রিম কোর্টে,মিছিলে গোটা ভারত হাঁটবে। সোমবার দিল্লি পুলিশ পরীক্ষায় রোটন তাঁর বাবার চেহলাম আয়োজনে ও বাধা ফজলে করিম চৌধুরী! আমাদের বিড়ি টানা,হাতাকাটা জামা পরার উপর যতক্ষণ না আক্রমণ আসবে ততোক্ষণ ? এই মানুষ এভাবে পচে গেল কেন? অবশেষে ডিপ স্টেট এবং ইউনূস ও খলিল সাহেবদের সাকসেস! রোটন ভাইয়ের জানাজা পড়তে যাওয়া মুসল্লীদের মসজিদ থেকে বের করে, নির্মম নির্যাতন করেছে বিএনপির ক্যাডাররা!! জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম মুসলিম সভাপতি — বদরুদ্দীন তৈয়বজী পাকিস্তানপন্থী খাঁটি মুসলমান ইনকিলাব মঞ্চ বাবা-মায়ের কাছ থেকে যা শিখেছি ত্রপা মজুমদার

বিশ্বজুড়ে পুরোনো বইয়ের বাজার চাঙা

  • প্রকাশের সময় : ১১:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
  • ৫৩ পড়া হয়েছে
অনলাইন রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
যুক্তরাজ্যের নর্দাম্বারল্যান্ডের ‘বার্টার বুকস’-এর মালিক স্টুয়ার্ট ম্যানলি জানান, ৩০ বছরের ব্যবসায় এমন ঘটনা তিনি আগে দেখেননি। সম্প্রতি কানাডার একটি প্রতিষ্ঠান একবারে তাঁর কাছ থেকে যে পরিমাণ বই কিনেছে, তা তাঁর সাধারণ এক সপ্তাহের বিক্রির সমান।

শুধু যুক্তরাজ্য নয়, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের স্বাধীন বই বিক্রেতারাও একই ধরনের বড় অর্ডারের কথা জানিয়েছেন। ল্যাটিন ভাষার প্রাচীন বই থেকে শুরু করে সাধারণ কাউবয় উপন্যাস, নানা ধরনের পুরোনো বইই কেনা হচ্ছে।

এআইয়ের এই বাড়তি চাহিদার পেছনের কারণ খুঁজতে গিয়ে সামনে এসেছে মার্কিন আদালতের একটি মামলার নথি। ২০২৫ সালে এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিকের বিরুদ্ধে তিনজন লেখক কপিরাইট লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা করেন।

মামলার বিচারক উইলিয়াম আলসাপের রায়ে বলা হয়, এআই সফটওয়্যার প্রশিক্ষণের জন্য বই ব্যবহার কপিরাইট আইন লঙ্ঘন করে না, কারণ এটি প্রযুক্তির একটি রূপান্তরমূলক ব্যবহার।

মামলার নথিতে আরও জানা যায়, অ্যানথ্রোপিক তাদের চ্যাটবট ‘ক্লদ’ প্রশিক্ষণের জন্য ‘প্রজেক্ট পানামা’ নামে একটি প্রকল্প পরিচালনা করছিল। এর আওতায় বিশ্বজুড়ে পুরোনো বই সংগ্রহ করে সেগুলো ডিজিটাইজ করার পরিকল্পনা ছিল।

দ্রুত বই ডিজিটাইজ করার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে ‘ডেস্ট্রাকটিভ স্ক্যানিং’ পদ্ধতি। এতে দ্রুত স্ক্যান করার সুবিধার জন্য বইয়ের বাঁধাই কেটে ফেলা হয়। স্ক্যানের পর কাগজের অবশিষ্টাংশ পুনর্ব্যবহার বা ধ্বংস করা হয়।

তবে অ্যানথ্রোপিকের একজন মুখপাত্র বলেছেন, তাদের কোনো তথ্য সংগ্রহ কর্মসূচির মাধ্যমে দুর্লভ বা বিরল পুরোনো বই কিনে ধ্বংস করা হয় না। এআই শিল্পে তথ্য সংগ্রহের জন্য বই ব্যবহার একটি সাধারণ প্রক্রিয়া বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে যুক্তরাজ্যের কপিরাইট আইন এ ক্ষেত্রে ভিন্ন। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাস্বত্ব বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এমিলি হাডসন জানান, যুক্তরাজ্যে এআই প্রশিক্ষণের জন্য ডেটাসেট তৈরি করতে কপিরাইট মালিকের পূর্বানুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক।

পুরোনো বই ধ্বংসের বিষয়টি নিয়ে বই বিক্রেতাদের মধ্যেও রয়েছে ভিন্নমত। লন্ডনের ‘ওয়ালডেন বুকস’-এর মালিক ডেভিড টোবিন বলেন, বহু বছর ধরে অবিক্রিত বই বিক্রি হওয়া আনন্দের হলেও সেগুলো শেষ পর্যন্ত ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে ভাবলে কষ্ট হয়।

এডিনবার্গের ‘ম্যাকনটনস’ বইয়ের দোকানের মালিক ডেরেক ওয়াকার আরও উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। তাঁর মতে, ১৮ শতকের কোনো বিরল ও একমাত্র টিকে থাকা সংস্করণ স্ক্যান করার জন্য ধ্বংস করা হলে সেটি অপূরণীয় ক্ষতি হবে।

তবে স্টুয়ার্ট ম্যানলি মনে করেন, দীর্ঘদিন অবিক্রিত থাকা অপ্রয়োজনীয় বই বিক্রি হয়ে যাওয়া খারাপ কিছু নয়। তাঁর ভাষায়, ২০ বছর ধরে ওয়েবসাইটে পড়ে থেকেও যেসব বই বিক্রি হয়নি, সেগুলো এখন বিক্রি হচ্ছে।

সূত্র: বিবিসি

জনপ্রিয়

গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে

বিশ্বজুড়ে পুরোনো বইয়ের বাজার চাঙা

প্রকাশের সময় : ১১:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
অনলাইন রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
যুক্তরাজ্যের নর্দাম্বারল্যান্ডের ‘বার্টার বুকস’-এর মালিক স্টুয়ার্ট ম্যানলি জানান, ৩০ বছরের ব্যবসায় এমন ঘটনা তিনি আগে দেখেননি। সম্প্রতি কানাডার একটি প্রতিষ্ঠান একবারে তাঁর কাছ থেকে যে পরিমাণ বই কিনেছে, তা তাঁর সাধারণ এক সপ্তাহের বিক্রির সমান।

শুধু যুক্তরাজ্য নয়, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের স্বাধীন বই বিক্রেতারাও একই ধরনের বড় অর্ডারের কথা জানিয়েছেন। ল্যাটিন ভাষার প্রাচীন বই থেকে শুরু করে সাধারণ কাউবয় উপন্যাস, নানা ধরনের পুরোনো বইই কেনা হচ্ছে।

এআইয়ের এই বাড়তি চাহিদার পেছনের কারণ খুঁজতে গিয়ে সামনে এসেছে মার্কিন আদালতের একটি মামলার নথি। ২০২৫ সালে এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিকের বিরুদ্ধে তিনজন লেখক কপিরাইট লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা করেন।

মামলার বিচারক উইলিয়াম আলসাপের রায়ে বলা হয়, এআই সফটওয়্যার প্রশিক্ষণের জন্য বই ব্যবহার কপিরাইট আইন লঙ্ঘন করে না, কারণ এটি প্রযুক্তির একটি রূপান্তরমূলক ব্যবহার।

মামলার নথিতে আরও জানা যায়, অ্যানথ্রোপিক তাদের চ্যাটবট ‘ক্লদ’ প্রশিক্ষণের জন্য ‘প্রজেক্ট পানামা’ নামে একটি প্রকল্প পরিচালনা করছিল। এর আওতায় বিশ্বজুড়ে পুরোনো বই সংগ্রহ করে সেগুলো ডিজিটাইজ করার পরিকল্পনা ছিল।

দ্রুত বই ডিজিটাইজ করার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে ‘ডেস্ট্রাকটিভ স্ক্যানিং’ পদ্ধতি। এতে দ্রুত স্ক্যান করার সুবিধার জন্য বইয়ের বাঁধাই কেটে ফেলা হয়। স্ক্যানের পর কাগজের অবশিষ্টাংশ পুনর্ব্যবহার বা ধ্বংস করা হয়।

তবে অ্যানথ্রোপিকের একজন মুখপাত্র বলেছেন, তাদের কোনো তথ্য সংগ্রহ কর্মসূচির মাধ্যমে দুর্লভ বা বিরল পুরোনো বই কিনে ধ্বংস করা হয় না। এআই শিল্পে তথ্য সংগ্রহের জন্য বই ব্যবহার একটি সাধারণ প্রক্রিয়া বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে যুক্তরাজ্যের কপিরাইট আইন এ ক্ষেত্রে ভিন্ন। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাস্বত্ব বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এমিলি হাডসন জানান, যুক্তরাজ্যে এআই প্রশিক্ষণের জন্য ডেটাসেট তৈরি করতে কপিরাইট মালিকের পূর্বানুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক।

পুরোনো বই ধ্বংসের বিষয়টি নিয়ে বই বিক্রেতাদের মধ্যেও রয়েছে ভিন্নমত। লন্ডনের ‘ওয়ালডেন বুকস’-এর মালিক ডেভিড টোবিন বলেন, বহু বছর ধরে অবিক্রিত বই বিক্রি হওয়া আনন্দের হলেও সেগুলো শেষ পর্যন্ত ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে ভাবলে কষ্ট হয়।

এডিনবার্গের ‘ম্যাকনটনস’ বইয়ের দোকানের মালিক ডেরেক ওয়াকার আরও উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। তাঁর মতে, ১৮ শতকের কোনো বিরল ও একমাত্র টিকে থাকা সংস্করণ স্ক্যান করার জন্য ধ্বংস করা হলে সেটি অপূরণীয় ক্ষতি হবে।

তবে স্টুয়ার্ট ম্যানলি মনে করেন, দীর্ঘদিন অবিক্রিত থাকা অপ্রয়োজনীয় বই বিক্রি হয়ে যাওয়া খারাপ কিছু নয়। তাঁর ভাষায়, ২০ বছর ধরে ওয়েবসাইটে পড়ে থেকেও যেসব বই বিক্রি হয়নি, সেগুলো এখন বিক্রি হচ্ছে।

সূত্র: বিবিসি