, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে রাহুল-মমতারা মিছিল করে যাবেন সুপ্রিম কোর্টে,মিছিলে গোটা ভারত হাঁটবে। সোমবার দিল্লি পুলিশ পরীক্ষায় রোটন তাঁর বাবার চেহলাম আয়োজনে ও বাধা ফজলে করিম চৌধুরী! আমাদের বিড়ি টানা,হাতাকাটা জামা পরার উপর যতক্ষণ না আক্রমণ আসবে ততোক্ষণ ? এই মানুষ এভাবে পচে গেল কেন? অবশেষে ডিপ স্টেট এবং ইউনূস ও খলিল সাহেবদের সাকসেস! রোটন ভাইয়ের জানাজা পড়তে যাওয়া মুসল্লীদের মসজিদ থেকে বের করে, নির্মম নির্যাতন করেছে বিএনপির ক্যাডাররা!! জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম মুসলিম সভাপতি — বদরুদ্দীন তৈয়বজী পাকিস্তানপন্থী খাঁটি মুসলমান ইনকিলাব মঞ্চ বাবা-মায়ের কাছ থেকে যা শিখেছি ত্রপা মজুমদার

ভারতে বিজেপি নেতাসহ তিনজনকে জ্যান্ত পুড়িয়ে হত্যা

  • প্রকাশের সময় : ০২:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
  • ৮৮ পড়া হয়েছে

১৮ জুন ২০২৬,

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ছত্তিশগড়ের কোরিয়া জেলায় ভয়াবহ এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, একাধিক ট্রাক দিয়ে একটি ফরচুনার এসইউভিকে ঘিরে ফেলে তাতে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর গাড়ির ভেতর থেকে স্থানীয় বিজেপি নেতা ও সাবেক জনপদ পঞ্চায়েত সভাপতি ভারত সিং ওরফে লাল্লা সিংসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মঙ্গলবার গভীর রাতে সোনহাত থানার নওগাইন গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত বিজেপি নেতার পরিবার বলেছে, বালু মহাল পরিচালনা সংক্রান্ত একটি বিরোধের মীমাংসা করতে গিয়েছিলেন ভারত সিং। তবে তিনি আসলে সুপরিকল্পিত ফাঁদে পা দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বজনরা।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত চার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা হলেন, অক্ষত ত্রিপাঠী, বিশাল ত্রিপাঠী, সত্যপ্রকাশ ত্রিপাঠী ও মন্নু ত্রিপাঠী। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। হত্যা ও হত্যাচেষ্টাসহ গুরুতর অপরাধের অভিযোগে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে স্থানীয় থানায় মামলা করা হয়েছে।

ত্রিপাঠী পরিবারের বেশ কিছু ট্রাক ছিল। এসব ট্রাক বৈকুণ্ঠপুরে বালু পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হতো। বালু উত্তোলনের টাকা এবং এর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ আরও তীব্র হয়। খনি সংক্রান্ত এই বিরোধ একপর্যায়ে প্রভাব বিস্তার, হুমকি ও আধিপত্যের লড়াইয়ে রূপ নেয়।

মঙ্গলবার রাতে এই সংঘাত সবচেয়ে নির্মম রূপ ধারণ করে। পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তারা বলেছেন, ‘ভারত সিং ও তার সঙ্গীরা যে ফরচুনার গাড়িতে ছিলেন, সেটিকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এসইউভিটির সামনে ও পেছনে ট্রাক দাঁড় করিয়ে পালানোর সব পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পরই গাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।’

গাড়ির ভেতরেই জ্যান্ত পুড়ে মারা যান ভারত সিং। এই হামলায় নিহত অন্য দুজন হলেন- বীরেন্দ্র সিং ও নগেন্দ্র সিং। মায়াঙ্ক সিং নামের আরেক আহত ব্যক্তি বিলাসপুরের অ্যাপোলো হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার মাথা ও মুখে গুরুতর আঘাত লেগেছে।

স্থানীয় বিধায়ক ভাইয়ালাল রাজওয়াড়ে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে বলেছেন, ‘কোরিয়া জেলার ইতিহাসে এমন ঘটনা নজিরবিহীন। দুই পক্ষের মধ্যে আগের বিরোধের কথা জানা থাকলেও পরিস্থিতি কীভাবে এমন ভয়াবহ রূপ নিল তা তদন্তের পর স্পষ্ট হবে।’

সাবেক বিধায়ক গুলাব কামরো এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন। আর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই বলেছেন, ‘কোরিয়া জেলার ঘটনাটি তার নজরে এসেছে। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। দোষী সাব্যস্ত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

জনপ্রিয়

গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে

ভারতে বিজেপি নেতাসহ তিনজনকে জ্যান্ত পুড়িয়ে হত্যা

প্রকাশের সময় : ০২:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

১৮ জুন ২০২৬,

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ছত্তিশগড়ের কোরিয়া জেলায় ভয়াবহ এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, একাধিক ট্রাক দিয়ে একটি ফরচুনার এসইউভিকে ঘিরে ফেলে তাতে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর গাড়ির ভেতর থেকে স্থানীয় বিজেপি নেতা ও সাবেক জনপদ পঞ্চায়েত সভাপতি ভারত সিং ওরফে লাল্লা সিংসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মঙ্গলবার গভীর রাতে সোনহাত থানার নওগাইন গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত বিজেপি নেতার পরিবার বলেছে, বালু মহাল পরিচালনা সংক্রান্ত একটি বিরোধের মীমাংসা করতে গিয়েছিলেন ভারত সিং। তবে তিনি আসলে সুপরিকল্পিত ফাঁদে পা দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বজনরা।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত চার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা হলেন, অক্ষত ত্রিপাঠী, বিশাল ত্রিপাঠী, সত্যপ্রকাশ ত্রিপাঠী ও মন্নু ত্রিপাঠী। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। হত্যা ও হত্যাচেষ্টাসহ গুরুতর অপরাধের অভিযোগে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে স্থানীয় থানায় মামলা করা হয়েছে।

ত্রিপাঠী পরিবারের বেশ কিছু ট্রাক ছিল। এসব ট্রাক বৈকুণ্ঠপুরে বালু পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হতো। বালু উত্তোলনের টাকা এবং এর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ আরও তীব্র হয়। খনি সংক্রান্ত এই বিরোধ একপর্যায়ে প্রভাব বিস্তার, হুমকি ও আধিপত্যের লড়াইয়ে রূপ নেয়।

মঙ্গলবার রাতে এই সংঘাত সবচেয়ে নির্মম রূপ ধারণ করে। পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তারা বলেছেন, ‘ভারত সিং ও তার সঙ্গীরা যে ফরচুনার গাড়িতে ছিলেন, সেটিকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এসইউভিটির সামনে ও পেছনে ট্রাক দাঁড় করিয়ে পালানোর সব পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পরই গাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।’

গাড়ির ভেতরেই জ্যান্ত পুড়ে মারা যান ভারত সিং। এই হামলায় নিহত অন্য দুজন হলেন- বীরেন্দ্র সিং ও নগেন্দ্র সিং। মায়াঙ্ক সিং নামের আরেক আহত ব্যক্তি বিলাসপুরের অ্যাপোলো হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার মাথা ও মুখে গুরুতর আঘাত লেগেছে।

স্থানীয় বিধায়ক ভাইয়ালাল রাজওয়াড়ে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে বলেছেন, ‘কোরিয়া জেলার ইতিহাসে এমন ঘটনা নজিরবিহীন। দুই পক্ষের মধ্যে আগের বিরোধের কথা জানা থাকলেও পরিস্থিতি কীভাবে এমন ভয়াবহ রূপ নিল তা তদন্তের পর স্পষ্ট হবে।’

সাবেক বিধায়ক গুলাব কামরো এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন। আর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই বলেছেন, ‘কোরিয়া জেলার ঘটনাটি তার নজরে এসেছে। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। দোষী সাব্যস্ত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’