
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশে মূল্যস্ফীতির চাপ আরো তীব্র হয়েছে। গত বুধবার নতুন করে বেড়েছে বিদ্যুতের দাম।
ফলে সাধারণ মানুষের পারিবারিক খরচ চালানো আরো কঠিন হয়ে পড়বে।
এতে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। দেশের অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত দুর্বলতা ও বৈশ্বিক নানা ধাক্কার কারণে অর্থনীতি এখনো বেশ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দেশের অর্থনীতির চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো উচ্চ মূল্যস্ফীতি।
মূলত জ্বালানি, পরিবহন ও সেবা খাতের খরচ বৃদ্ধির কারণেই উচ্চ মূল্যস্ফীতি হয়েছে। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতির তুলনায় মানুষের মজুরি বৃদ্ধির হার কম। ফলে সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে সীমিত ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে।
এ বিষয়ে ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘আমাদের খাদ্য মূল্যস্ফীতি মূলত সরবরাহচালিত, চাহিদাচালিত নয়। তাই সরবরাহ ঠিক রাখাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য কৌশলগত মজুদ বাড়ানো ও বাজার তদারকি জোরদার করা জরুরি। সরবরাহ শৃঙ্খলে মধ্যস্বত্বভোগীদের সংখ্যা কমিয়ে কৃষক ও খুচরা পর্যায়ের দামের ব্যবধান কমাতে হবে। একই সঙ্গে নিম্ন আয়ের মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া জরুরি।
রেমিট্যান্স বাড়লেও কেন এত ঘন ঘন ওঠানামা হচ্ছে, তার মূল কারণ খুঁজে বের করার পরামর্শ দেন ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন, রপ্তানিমুখী কার্যক্রম যাতে কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকে নজর দিয়ে দেশীয় মূল্য সংযোজনকে উৎসাহিত করতে হবে।
ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘শ্রম অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিকভাবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে আমরা এ বিষয়ে নেতিবাচক ইঙ্গিত পাচ্ছি। ফলে সময়মতো মজুরি প্রদান, কারখানার নিরাপত্তা ও ট্রেড ইউনিয়নের স্বীকৃতি দেওয়ার মতো বিষয়গুলোতে জোর দিতে হবে। প্রয়োজনে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল থেকে অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে শ্রম অধিকার নিশ্চিতকরণের শর্ত যুক্ত করে দেওয়া উচিত।





















