, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশে

  • প্রকাশের সময় : ০৪:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
  • ৪০ পড়া হয়েছে

অনলাইন মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির (সিআইএ) ডিরেক্টরেট অব অপারেশন্সের প্রভাবশালী সাবেক প্রধান জেরাল্ড পি হ্যামিল্টনের আকস্মিক ঢাকা আগমনকে ঘিরে জুড়ে তৈরি হয়েছে চরম ধোঁয়াশা।
দীর্ঘ ৩৫ বছর সিআইএর স্পেশাল অ্যাক্টিভিটিস ডিভিশনে অপারেশন্স পরিচালনা করা এই মাস্টারমাইন্ড গতকাল রাজধানীর এক অভিজাত পাঁচ তারকা হোটেলে গোপনে চেক-ইন করেছেন। দক্ষিণ এশিয়া থেকে লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকা ও ইউরোপের জটিল ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে নেপথ্য কারিগর হিসেবে পরিচিত এই সাবেক সিআইএ কর্মকর্তার ঢাকায় আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত অবস্থান করার কথা রয়েছে। বিস্ময়কর বিষয় হলো, তাঁর এই অত্যন্ত গোপনীয় ঢাকা সফর নিয়ে মার্কিন দূতাবাস বা বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে একটি শব্দও উচ্চারণ করা হয়নি। এমনকি কোনো অফিশিয়াল মিটিং বা শিডিউলেও তাঁর নাম নেই।
আবার ২৯ জুলাই ঢাকায় আসছে ওয়াশিংটনের প্রভাবশালী বিশেষ দূত সার্জিও গোর। যখন বঙ্গভবনে রদবদল ও দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন তা নিয়ে ক্ষমতার শীর্ষস্তরে চরম জল্পনা চলছে ঠিক সেই মুহূর্তেই এই জোড়া হাই-প্রোফাইল সফরকে কেবল ‘কাকতালীয়’ বলে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই । বাংলাদেশের পরবর্তী বঙ্গভবনের ভাগ্যচিত্র আঁকতেই বিশ্বরাজনীতির এই ‘ডিপস্টেট’ আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
ওয়াশিংটন ও গ্লোবাল ডিপস্টেট নেটওয়ার্কের জন্য বঙ্গভবনের পরবর্তী অভিভাবক হিসেবে তিনজনের নাম নিয়ে চেষ্টা করা হচ্ছে। এরা হলেন টিআইবি প্রধান ড. ইফতেখারুজ্জামান, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. আলী রিয়াজ এবং জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার আইরিন খান। এই তিন ব্যক্তি ক্যারিয়ার এবং ওয়াশিংটনকেন্দ্রিক থিঙ্কট্যাঙ্ক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সাথে তাঁদের কাঠামোগত গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
রাজনীতি ও সুশাসনের নামে দীর্ঘ সময় ধরে দক্ষিণ এশিয়ায় পশ্চিমাদের মনস্তাত্ত্বিক ও নীতিগত স্বার্থের অনুকূলে ভূমিকা রাখার এক দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে এই তিনজনের। ড. আলী রিয়াজ দীর্ঘদিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনার পাশাপাশি আটলান্টিক কাউন্সিলসহ একাধিক প্রভাবশালী ওয়াশিংটনভিত্তিক ডিপস্টেট থিঙ্কট্যাঙ্কের নিয়মিত নীতিনির্ধারক ও ফেলো হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন, এবং সংস্কার কমিশন এর প্রধান হিসেবে বাংলাদেশে আমেরিকার নীতি বাস্তবায়নে তার ব্যপক ভূমিকা দেখস গেছে যা আমেরিকার কৌশলগত চিন্তার খুব কাছাকাছি অবস্থান । অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার আন্দোলনের বিশ্বস্ত মুখ হিসেবে আইরিন খান বিশ্বমঞ্চে ইউএসএইড ও অ্যাগলো-আমেরিকান থিঙ্কট্যাঙ্কগুলোর সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সুদীর্ঘকাল কাজ করেছেন। আর ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের রূপকার হিসেবে ড. ইফতেখারুজ্জামান সুশাসন প্রতিষ্ঠার আড়ালে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা ও পশ্চিমা কাঠামোর সাথে যে সুদৃঢ় নেটওয়ার্ক বজায় রেখেছেন তা ওয়াশিংটনের কাছে তাঁকে অত্যন্ত আস্থাভাজন করে তুলেছে।
জেরাল্ড হ্যামিল্টনের মতো একজন অভিজ্ঞ ফিল্ড-অপারেটর ও স্ট্র্যাটেজিস্টের এই ছায়াসফর মূলত কোনো সাধারণ ট্রিপ নয় বরং ক্ষমতা রদবদলের এই সংবেদনশীল ট্রানজিশন পিরিয়ডে নিজেদের অনুগত বা কৌশলগতভাবে সুবিধাজনক কাউকে শীর্ষ পদে প্রতিষ্ঠিত করার ছক কষতেই এই তৎপরতা। এর মাধ্যমে ঢাকাকে নিজেদের একক প্রভাবব

Shakhawat Hossain’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।

জনপ্রিয়

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশে

প্রকাশের সময় : ০৪:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

অনলাইন মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির (সিআইএ) ডিরেক্টরেট অব অপারেশন্সের প্রভাবশালী সাবেক প্রধান জেরাল্ড পি হ্যামিল্টনের আকস্মিক ঢাকা আগমনকে ঘিরে জুড়ে তৈরি হয়েছে চরম ধোঁয়াশা।
দীর্ঘ ৩৫ বছর সিআইএর স্পেশাল অ্যাক্টিভিটিস ডিভিশনে অপারেশন্স পরিচালনা করা এই মাস্টারমাইন্ড গতকাল রাজধানীর এক অভিজাত পাঁচ তারকা হোটেলে গোপনে চেক-ইন করেছেন। দক্ষিণ এশিয়া থেকে লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকা ও ইউরোপের জটিল ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে নেপথ্য কারিগর হিসেবে পরিচিত এই সাবেক সিআইএ কর্মকর্তার ঢাকায় আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত অবস্থান করার কথা রয়েছে। বিস্ময়কর বিষয় হলো, তাঁর এই অত্যন্ত গোপনীয় ঢাকা সফর নিয়ে মার্কিন দূতাবাস বা বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে একটি শব্দও উচ্চারণ করা হয়নি। এমনকি কোনো অফিশিয়াল মিটিং বা শিডিউলেও তাঁর নাম নেই।
আবার ২৯ জুলাই ঢাকায় আসছে ওয়াশিংটনের প্রভাবশালী বিশেষ দূত সার্জিও গোর। যখন বঙ্গভবনে রদবদল ও দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন তা নিয়ে ক্ষমতার শীর্ষস্তরে চরম জল্পনা চলছে ঠিক সেই মুহূর্তেই এই জোড়া হাই-প্রোফাইল সফরকে কেবল ‘কাকতালীয়’ বলে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই । বাংলাদেশের পরবর্তী বঙ্গভবনের ভাগ্যচিত্র আঁকতেই বিশ্বরাজনীতির এই ‘ডিপস্টেট’ আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
ওয়াশিংটন ও গ্লোবাল ডিপস্টেট নেটওয়ার্কের জন্য বঙ্গভবনের পরবর্তী অভিভাবক হিসেবে তিনজনের নাম নিয়ে চেষ্টা করা হচ্ছে। এরা হলেন টিআইবি প্রধান ড. ইফতেখারুজ্জামান, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. আলী রিয়াজ এবং জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার আইরিন খান। এই তিন ব্যক্তি ক্যারিয়ার এবং ওয়াশিংটনকেন্দ্রিক থিঙ্কট্যাঙ্ক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সাথে তাঁদের কাঠামোগত গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
রাজনীতি ও সুশাসনের নামে দীর্ঘ সময় ধরে দক্ষিণ এশিয়ায় পশ্চিমাদের মনস্তাত্ত্বিক ও নীতিগত স্বার্থের অনুকূলে ভূমিকা রাখার এক দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে এই তিনজনের। ড. আলী রিয়াজ দীর্ঘদিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনার পাশাপাশি আটলান্টিক কাউন্সিলসহ একাধিক প্রভাবশালী ওয়াশিংটনভিত্তিক ডিপস্টেট থিঙ্কট্যাঙ্কের নিয়মিত নীতিনির্ধারক ও ফেলো হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন, এবং সংস্কার কমিশন এর প্রধান হিসেবে বাংলাদেশে আমেরিকার নীতি বাস্তবায়নে তার ব্যপক ভূমিকা দেখস গেছে যা আমেরিকার কৌশলগত চিন্তার খুব কাছাকাছি অবস্থান । অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার আন্দোলনের বিশ্বস্ত মুখ হিসেবে আইরিন খান বিশ্বমঞ্চে ইউএসএইড ও অ্যাগলো-আমেরিকান থিঙ্কট্যাঙ্কগুলোর সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সুদীর্ঘকাল কাজ করেছেন। আর ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের রূপকার হিসেবে ড. ইফতেখারুজ্জামান সুশাসন প্রতিষ্ঠার আড়ালে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা ও পশ্চিমা কাঠামোর সাথে যে সুদৃঢ় নেটওয়ার্ক বজায় রেখেছেন তা ওয়াশিংটনের কাছে তাঁকে অত্যন্ত আস্থাভাজন করে তুলেছে।
জেরাল্ড হ্যামিল্টনের মতো একজন অভিজ্ঞ ফিল্ড-অপারেটর ও স্ট্র্যাটেজিস্টের এই ছায়াসফর মূলত কোনো সাধারণ ট্রিপ নয় বরং ক্ষমতা রদবদলের এই সংবেদনশীল ট্রানজিশন পিরিয়ডে নিজেদের অনুগত বা কৌশলগতভাবে সুবিধাজনক কাউকে শীর্ষ পদে প্রতিষ্ঠিত করার ছক কষতেই এই তৎপরতা। এর মাধ্যমে ঢাকাকে নিজেদের একক প্রভাবব

Shakhawat Hossain’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।