
অনলাইন রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
মো. ইউনূস,তারেক রহমান ও শফিকুর রহমান :কবলে বাংলাদেশভূরাজনীতি
বাটপার মো. ইউনূস, বাটপার তারেক রহমান ও বাটপার শফিকুর রহমান—এই তিনজনের কবলে বাংলাদেশ: ভূরাজনীতি এবং শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন
মার্কিন সরকার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে “খাই দাই” প্রজেক্ট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। এই প্রজেক্টের ভবিষ্যতের উপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রেখেছে রাশিয়া , চীন ও ভারত। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এই প্রজেক্টের “ফূর্তি কর” অংশের নেতৃত্ব দিচ্ছে বিএনপি ও জামায়াত। ভারত , চীন ও রাশিয়া তাদের উপরও সতর্ক নজর রেখেছে ।তাই বলে হঠাৎ শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন ?
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের সরকার পরিবর্তনের মাত্র ২ মাসের মাথায় আমেরিকা সফর করেছিলেন সেনাপ্রধান ওয়াকার ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান।ফলে দীর্ঘ দুইটি বছর তারেক রহমানকে ছাড়াই আমেরিকার বানানো পাপেট ইউনূস নামক পুতুল সরকার দেখেছে বাংলাদেশ। ২০২৬ সালের নির্বাচনের মাত্র তিনদিন আগে আমেরিকার সাথে গোপন চুক্তি “Agreement on Reciprocal Trade “(ART) চুক্তি হয়ে বর্তমান বাংলাদেশে বিএনপি ও জামায়াত – এর “ফূর্তি কর” সরকার রাষ্ট্র ক্ষমতায়।
আজ দুই বছর পর বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ওয়াকার আবার আমেরিকা সফরে আছেন।তাই গুজব ও গজবের দেশে রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডার অভাব নেই। বাংলাদেশের বর্তমান সরকার ও সেনাবাহিনী দুটোই আমেরিকার পকেটে। এটা বাংলাদেশের একজন শিশু পর্যন্ত বুঝে।
শেখ হাসিনার সরকার পরিবর্তন ছিল আমেরিকার বিলিয়ন ডলারের কালার রেভ্যুলেশন এর অংশ।সেই আমেরিকা দাবার বোর্ডে শেখ হাসিনার রাজকীয় প্রত্যাবর্তন অর্থাৎ নিজেদের পরাজয় মেনে নিবে কখনও
দিল্লীর নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত দীনেশ ত্রিবেদী ভারতে গিয়ে একটা বক্তব্য রাখার পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন সরগরম হয়ে উঠেছে । আমেরিকার দক্ষিণ এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের জোসেফ ভাওয়েল এর সাথে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ওয়াকারজ্জামান এর অস্ট্রেলিয়া সফরের ছবি নিয়ে কথা উঠছে।
আর নির্বোধের দল , “ওয়াকার অস্ট্রেলিয়ায় ” দ্য চীফ অব আর্মি সিম্পোজিয়াম ২০২৬ ” অনুষ্ঠানে গেছেন। অস্ট্রেলিয়া হচ্ছে চীনকে ঠেকাতে আমেরিকার সামরিক জোট কোয়াডের অংশ। তাই মার্কিন সেনা কমান্ডার জোসেফ ভাওয়েল সেখানে গেছেন।কারণ মার্কিন সেনাবাহিনীর এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের দায়িত্বে তিনি অন্যতম।আর একদল মানুষ ঘুমের মধ্যে “শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন” দেখে। এদের আইকিউ লেভেল দেখেও আমার বিরক্তি আসে।
দীনেশ ত্রিবেদীর ভারত সফর ছিল বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করার প্রস্তুতি।এই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিসরি ও ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠের সাথে বৈঠক করেছেন।
কারণ এই বৈঠকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে “শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন ও তারেক রহমানের ভারত সফর।এসব ভারতের কনসাল্টেশন বা নিয়মিত আলোচনার একটা অংশ।
হঠাৎ ভারত বাংলাদেশের শেখ হাসিনার প্রশ্নে সক্রিয় হয়েছে বিষয়টি এমন নয়। ভারতের সেনাবাহিনী ৫০ টি দেশের ৬৫ জন ডিফেন্স অ্যাটাশে কূটনৈতিকদের সাথে আলোচনায় অংশ নিয়েছেন তাদের “অ্যানুয়াল ফরেন সার্ভিস অ্যাটাশে ব্রিফিং” – এর অংশ হিসেবে। এই আলোচনার কোথাও বাংলাদেশের শেখ হাসিনা ছিলেন না।
অপরদিকে, ভারতে ১১ টি দেশের মার্কিন রাষ্ট্রদূতদের বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার কূটনৈতিক বিষয় নিয়ে । প্রায়ই তাদের মধ্যে এমন গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। যেহেতু বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ , তাই বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখানে আলোচনায় উঠা অস্বাভাবিক নয়। তার মানে এই নয় যে , তারা শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এসব সম্পূর্ণ ডাহা মিথ্যা কথা।
বাংলাদেশের শেখ হাসিনা ২০২৬ সালে ভারতের এনডিটিভিতে ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার ঘোষণা দিতেই আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। তারেক রহমানের দিল্লী সফরে এখনো আলোচনাধীন। বাংলাদেশ প্রশ্নে আমেরিকা ও রাশিয়ার মেলবন্ধন বর্তমান ভৌগলিক বাস্তবতায় সম্পূর্ণ অসম্ভব।
ওয়াশিংটন কোনভাবেই বাংলাদেশে তাদের নির্বাচিত পাপেট “ফূর্তি কর” সরকার হটাবে না। তারেক রহমানের ভারত সফরের উদ্দেশ্য হচ্ছে , গঙ্গা নদীর পানি চুক্তি নবায়ন। এক্ষেত্রে অবশ্যই ভারত বাংলাদেশের শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে বিএনপির সাথে একটি সমঝোতায় আসতে চাইবে।এটা এখন ভারতের জন্য একটি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে।
যুক্তরাজ্য হচ্ছে আমেরিকার একটি পালিত রাষ্ট্র।তারা কোনভাবেই আমেরিকার নীতির বাইরে যাবে না। শেখ হাসিনার প্রশ্নে তারা ভারত ও রাশিয়া কারো সাথেই আপোষ করবে না।অপরদিকে চীন ও ভারতের মধ্যকার সমস্যা কারো অজানা নয়।
এক্ষেত্রে ভারত আমেরিকা ও রাশিয়ার সাথে ব্যালান্সড করে তাদের সরকার ব্যবস্থা টিকিয়ে রেখেছে। ভৌগলিকভাবে চীনের উপস্থিতি ঠেকাতে ভারত আমেরিকার উপর নির্ভরশীল একটা রাষ্ট্র।চীনকে ঠেকাতে তারা (ভারত) অস্ট্রেলিয়ার মতো আমেরিকার সামরিক জোট কোয়াডের সদস্য।
বর্তমান সময়ে ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদারের নাম হচ্ছে আমেরিকা। ভারত চাইলেও আমেরিকার সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কিছুই করবে না। ভারতীয়দের কাছে তাদের নিজেদের দেশের স্বার্থ সবার আগে।তাই এক্ষেত্রে ভারত যাই করবে নিজ দেশের ভালোর জন্য করবে।
সমস্যা এখন যতটুকু না ভারত ও আমেরিকার, তার চেয়ে অনেক বেশি বাংলাদেশের।দেশ চালাতে বিএনপি ও জামায়াত ফূর্তি কর সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ। গঙ্গার পানি চুক্তি শেষ হয়ে গেলে বাংলাদেশের বড় একটা অঞ্চল মরুভূমিতে পরিণত হবে।
অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে বাংলাদেশ। তাই বল এখন ভারতের কোর্টে হলেও শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার পর থেকে বাংলাদেশের কোটি কোটি আওয়ামী লীগ সমর্থক এখন উজ্জীবিত। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় একটি পরিবর্তনের সংকেত সারা বিশ্ব দেখেছে।
শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিয়ে আমেরিকা , রাশিয়া , ভারত ও চীন সবাই চিন্তিত।এমনকি শেখ হাসিনাও এসব কূটনৈতিক বিষয় বুঝেন বলেই বিচক্ষণতার সাথে আন্তর্জাতিক বিশ্বের কাছে প্রশ্ন রেখেছিলেন , কেন এবং কীভাবে এই দুটো প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন। তাই শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন এখন বাংলাদেশ সহ আমেরিকা , রাশিয়া , চীন ও ভারত সবার মাথাব্যথা।
বর্তমান বাংলাদেশের বিএনপি ও জামায়াতের খাই দাই ফূর্তি সরকারের অবস্থা এখন তলাবিহীন ঝুড়ির মতো।তাই মাথা নত করে প্রস্তাব মেনে নেওয়া ছাড়া তাদের আর তেমন কিছুই করার নেই।শেখ হাসিনা এখন শুধু বাংলাদেশের ইস্যু নন, তিনি এখন আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতির ইস্যু।
শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের সাথে জড়িত সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি হলো , শেখ হাসিনার নিরাপত্তা। এই বিষয়ে ভারত আমেরিকাকে চাপ প্রয়োগ করছে এতে কোন সন্দেহই নেই। শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিয়ে চীন এখন পর্যন্ত (Non interference) তথা নিরপেক্ষ নীতি বজায় রাখছে।
চীন নিজের বিষয়ে সবসময় একটা সুবিধাবাদী রাষ্ট্র। শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “এটা সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়।”
শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিয়ে আন্ডারগ্রাউন্ড একটি খেলা চলছে সারাবিশ্বে। চীন উপরে উপরে যতোই বলুক , বাংলাদেশের মার্কিন শাসিত পাপেট গভর্নমেন্ট নিয়ে তারা মোটেও সন্তুষ্ট নয়।একই অসন্তুষ্টি রাশিয়া ও ভারতেরও আছে।
কিন্তু বাংলাদেশের ভাগ্য বাংলাদেশের জনগণকে নিশ্চিত করতে হবে। স্বপ্নের মধ্যে গা ভাসিয়ে দিলে স্বপ্নদোষ হবে। আন্তর্জাতিক বিশ্ব বাংলাদেশের শেখ হাসিনার নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক মানের বিচারের উপর জোর দিবে । কাউকে ক্ষমতায় বসিয়ে দেয়া তাদের উদ্দেশ্য নয়।
ভারতের মাটিতে অবস্থান নিয়ে কূটনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে শেখ হাসিনা তার স্বাভাবিক রাজনৈতিক কার্যক্রম পর্যন্ত চালাতে পারছেন না। শেখ হাসিনার বাংলাদেশের পাসপোর্ট যেহেতু নিষিদ্ধ করা হয়েছে তাই তিনি চাইলেও বাংলাদেশের সরকারের সম্মতি ছাড়া কোন বিমানে করে বাংলাদেশে ফেরা অসম্ভব।
তাই তার বিকল্প ব্যবস্থা হচ্ছে স্থলপথ অথবা বাংলাদেশের সেনাবাহিনী। বর্তমান সরকারের নির্দেশে ছাড়া বাংলাদেশের হাইকমিশন কিছুতেই বাংলাদেশের শেখ হাসিনাকে ট্রাভেল পাস দিবে না। এটা রাজনৈতিক বাস্তবতা।
বাংলাদেশের শেখ হাসিনা ইতিমধ্যে ভারতের সরকারের বিশেষ ট্রাভেল ডকুমেন্ট বহন ও তাদের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে আছেন। তাই শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন এখন বাংলাদেশ , ভারত ও আমেরিকার মাথাব্যথার কারণ।
শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিয়ে মূল কাজ করবে বাংলাদেশ ও ভারত সরকার। এখানে অনুঘটক হয়ে কাজ করতে পারে আমেরিকা। কিন্তু শেখ হাসিনার দায়িত্ব বাংলাদেশের মানুষকেই নিতে হবে।
জনমত যার পক্ষে থাকে তাকে পরাজিত করার ক্ষমতা বিশ্বের কোন পরাশক্তির কাছে নেই। তাছাড়া শেখ হাসিনা এখন একটি আন্তর্জাতিক ইস্যু। এজন্য বিচক্ষণ শেখ হাসিনা তার নিজের পায়ের উপর ভর করেই দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন।
বিএনপি ও জামায়াতের সাথে সমঝোতার বিষয়টি পর্যন্ত তিনি নাকচ করে দিয়েছেন । তাই তিনি বাংলাদেশের সাহসী নেত্রী।
এজন্য বলা হয়, “Fortune favours the brave” (ভাগ্য সাহসীদের পক্ষ নেয়।) শেখ হাসিনার এই সাহসের নাম দেশপ্রেম ও বাংলাদেশের জনগণ। তাই বাংলাদেশের শেখ হাসিনার ভাগ্য নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের জনগণ। বাংলাদেশের শেখ হাসিনার সবচেয়ে বড় সাহসের নাম বাংলাদেশের জনগণ।
এজন্য বলা হয়, “He who dares, wins” (যে সাহস দেখায়, সে জয়ী হয়।) বাংলাদেশের শেখ হাসিনা তার জীবনে অসংখ্যবার এই সাহস দেখিয়ে জয়ী হয়েছেন। এইবারও নেত্রীর জয় হবে এতে কোন সন্দেহই নেই।
এজন্য ফরাসি বিপ্লবের নেতা জর্জ ডাল্টন বলেছেন, “Audacity, more audacity, always Audacity” (সাহস, আরও সাহস এবং সর্বদা সাহস বিজয়ী হয়।)
বাংলাদেশের প্রশাসনের প্রতি বিশেষ বার্তা:
বাংলাদেশের প্রশাসনের যেসব অফিসাররা বর্তমানে দায়িত্বে আছেন, আপনাদের পরবর্তীতেও এই দেশেই চাকরি করতে হবে—এই বিষয়টি আপনারা মাথায় রাখবেন। আপনাদের বিবেককে প্রশ্ন করবেন কোনটা সঠিক, কোনটা বেঠিক।
এর বেশি কিছু আমি আপনাদেরকে বলতে চাই না। মাননীয় নেত্রী শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে কাম ব্যাক করবেন জনগণের অধিকারের জন্য। যা কিছু করা লাগে তিনি জনগণকে সাথে নিয়ে তাই করবেন।
সবাই এই পেজটা ফলো রাখবেন, সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকবেন। নেত্রীর জন্য দোয়া করবেন। সবাই ভালো থাকবেন।
Mohamed Saleh’s Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।





















