, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজনৈতিক বন্দিদের দীর্ঘ আটক নিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের উদ্বেগ

  • প্রকাশের সময় : ৭ ঘন্টা আগে
  • ৪ পড়া হয়েছে

অনলাইন সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
রাজনৈতিক বন্দিদের দীর্ঘ আটক নিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের উদ্বেগ
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা: বাংলাদেশের সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও অন্যদের দীর্ঘদিন ধরে বিচার-পূর্ব আটক রাখার অবসান এবং কারাগারে মৃত্যুর ঘটনা স্বাধীনভাবে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (HRW)।
সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগের হাজারো নেতা-কর্মী ও সমর্থককে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে এখনও শত শত ব্যক্তি কোনো অপরাধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত না হয়েও কারাগারে রয়েছেন বলে দাবি করেছে HRW।
সংস্থাটির এশিয়া বিভাগের পরিচালক এলেইন পিয়ারসন বলেন, রাজনৈতিক বিরোধীদের দীর্ঘ সময় ধরে প্রমাণ ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই আটক রাখা বন্ধ করা উচিত। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের প্রতি দীর্ঘমেয়াদি ও ‘স্বেচ্ছাচারী’ আটক বন্ধ করে বিচারব্যবস্থায় সংস্কারের আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে কয়েকজন প্রবীণ রাজনৈতিক নেতার দীর্ঘ কারাবাস ও অসুস্থতার বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকসহ কয়েকজনের ক্ষেত্রে বারবার জামিন পাওয়ার পরও নতুন মামলায় গ্রেপ্তারের অভিযোগ করা হয়েছে।
HRW আরও বলেছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আটক ১৬০ জনের বেশি ব্যক্তির কাউকেই জামিন দেওয়া হয়নি। তাদের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী এবং সাবেক সংসদ সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদার ২২ মাস ধরে কারাগারে রয়েছেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
কারাগারে চিকিৎসার অভাব নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে সংস্থাটি। এ প্রসঙ্গে রমেশ চন্দ্র সেন ও এস এম জিয়াউল হক জিয়ার কারাগারে মৃত্যুর বিষয় উল্লেখ করে সব কারাগার মৃত্যুর স্বাধীন তদন্ত দাবি করেছে HRW।
সংস্থাটি বলেছে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে বিচার-পূর্ব আটক ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা হওয়া উচিত। আটক ব্যক্তির জামিন, স্বাধীনতা, নির্দোষিতার অনুমান এবং দ্রুত বিচারের অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে প্রতিটি আটকের বৈধতা ও যৌক্তিকতা বিচারিকভাবে পর্যালোচনা করা উচিত।
এলেইন পিয়ারসন বলেন, অভিযোগ গঠনের আগেই প্রবীণ ব্যক্তিদের কারাগারে মৃত্যুর ঘটনা বিচার-পূর্ব আটককে ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বাংলাদেশের সরকারের উচিত কারাগারে মৃত্যুর ঘটনাগুলোর স্বাধীন তদন্ত করা এবং অভিযোগ ছাড়াই দীর্ঘমেয়াদি আটক বন্ধ করা।

দিনপত্র’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।

জনপ্রিয়

রাজনৈতিক বন্দিদের দীর্ঘ আটক নিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের উদ্বেগ

প্রকাশের সময় : ৭ ঘন্টা আগে

অনলাইন সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
রাজনৈতিক বন্দিদের দীর্ঘ আটক নিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের উদ্বেগ
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা: বাংলাদেশের সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও অন্যদের দীর্ঘদিন ধরে বিচার-পূর্ব আটক রাখার অবসান এবং কারাগারে মৃত্যুর ঘটনা স্বাধীনভাবে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (HRW)।
সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগের হাজারো নেতা-কর্মী ও সমর্থককে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে এখনও শত শত ব্যক্তি কোনো অপরাধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত না হয়েও কারাগারে রয়েছেন বলে দাবি করেছে HRW।
সংস্থাটির এশিয়া বিভাগের পরিচালক এলেইন পিয়ারসন বলেন, রাজনৈতিক বিরোধীদের দীর্ঘ সময় ধরে প্রমাণ ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই আটক রাখা বন্ধ করা উচিত। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের প্রতি দীর্ঘমেয়াদি ও ‘স্বেচ্ছাচারী’ আটক বন্ধ করে বিচারব্যবস্থায় সংস্কারের আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে কয়েকজন প্রবীণ রাজনৈতিক নেতার দীর্ঘ কারাবাস ও অসুস্থতার বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকসহ কয়েকজনের ক্ষেত্রে বারবার জামিন পাওয়ার পরও নতুন মামলায় গ্রেপ্তারের অভিযোগ করা হয়েছে।
HRW আরও বলেছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আটক ১৬০ জনের বেশি ব্যক্তির কাউকেই জামিন দেওয়া হয়নি। তাদের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী এবং সাবেক সংসদ সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদার ২২ মাস ধরে কারাগারে রয়েছেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
কারাগারে চিকিৎসার অভাব নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে সংস্থাটি। এ প্রসঙ্গে রমেশ চন্দ্র সেন ও এস এম জিয়াউল হক জিয়ার কারাগারে মৃত্যুর বিষয় উল্লেখ করে সব কারাগার মৃত্যুর স্বাধীন তদন্ত দাবি করেছে HRW।
সংস্থাটি বলেছে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে বিচার-পূর্ব আটক ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা হওয়া উচিত। আটক ব্যক্তির জামিন, স্বাধীনতা, নির্দোষিতার অনুমান এবং দ্রুত বিচারের অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে প্রতিটি আটকের বৈধতা ও যৌক্তিকতা বিচারিকভাবে পর্যালোচনা করা উচিত।
এলেইন পিয়ারসন বলেন, অভিযোগ গঠনের আগেই প্রবীণ ব্যক্তিদের কারাগারে মৃত্যুর ঘটনা বিচার-পূর্ব আটককে ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বাংলাদেশের সরকারের উচিত কারাগারে মৃত্যুর ঘটনাগুলোর স্বাধীন তদন্ত করা এবং অভিযোগ ছাড়াই দীর্ঘমেয়াদি আটক বন্ধ করা।

দিনপত্র’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।