, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে রাহুল-মমতারা মিছিল করে যাবেন সুপ্রিম কোর্টে,মিছিলে গোটা ভারত হাঁটবে। সোমবার দিল্লি পুলিশ পরীক্ষায় রোটন তাঁর বাবার চেহলাম আয়োজনে ও বাধা ফজলে করিম চৌধুরী! আমাদের বিড়ি টানা,হাতাকাটা জামা পরার উপর যতক্ষণ না আক্রমণ আসবে ততোক্ষণ ? এই মানুষ এভাবে পচে গেল কেন? অবশেষে ডিপ স্টেট এবং ইউনূস ও খলিল সাহেবদের সাকসেস! রোটন ভাইয়ের জানাজা পড়তে যাওয়া মুসল্লীদের মসজিদ থেকে বের করে, নির্মম নির্যাতন করেছে বিএনপির ক্যাডাররা!! জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম মুসলিম সভাপতি — বদরুদ্দীন তৈয়বজী পাকিস্তানপন্থী খাঁটি মুসলমান ইনকিলাব মঞ্চ বাবা-মায়ের কাছ থেকে যা শিখেছি ত্রপা মজুমদার

রুমিন ফারহানা নমিনেশন কেন পেল না?

  • প্রকাশের সময় : ১১:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩৮ পড়া হয়েছে
অনলাইন সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রুমিন ফারহানা নমিনেশন কেন পেল না?
মেয়েদের নমিনেশন এবং মন্ত্রী—দুটো ক্রাইটেরিয়া। একটা ৩১ দফা, আর একটা মিডিয়া সেল। রুমিন দুই জায়গায় জড়িত ছিল। ৩১ দফার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর বলে যে প্রচারটা আছে সে, এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী—তারা তিনজন ছিল একই কোটারির।
বাবার মৃত্যুবার্ষিকী, জন্মবার্ষিকী, আচার-অনুষ্ঠান—সবকিছুতেই ছবি দেখেছি উনাদের তিনজনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। দুজন পেল, অথচ একজন পেল না। দিলেই হয়ে যেত। তিনজনেই তো হাইব্রিড।
দুজন হাইব্রিড পেল, রুমিন পেল না। তিনজনের জোট ছিল আমাদের মাঠের রাজনৈতিক কর্মীদের বিরুদ্ধে। কিন্তু তিনজনের ভিতর দুজন যখন পেল, একজন পেল না, তখন এরা তিনজন সুপার ইগোতে ভুগতে থাকল।
তিনজনের তদবিরকারক সব একই ব্যক্তি। তদবিরকারকের চেষ্টার কোনো ত্রুটি নেই। কিন্তু সফল হয়ে উঠতে পারেনি একটি জায়গায়। সেটা হচ্ছে, শেষ চেষ্টা করেও রুমিনকে মনোনয়ন দিতে পারেনি।
রুমিন ফারহানার স্বতন্ত্র এমপি নির্বাচিত হওয়ার প্রথম কারণ হচ্ছে, ওখানে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী ছিল না। দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে, স্বাভাবিক কারণেই রুমিন ফারহানা এমপি হওয়ার পর দলীয় লোকজনের সঙ্গে চলাফেরা, ওঠাবসা এবং এলাকার কিছু কাজও করতে সক্ষম হয়েছিল। সেখানে বিএনপি জোটকে প্রার্থী দিলেও ভোটাররা বিএনপির প্রার্থী হিসেবে রুমিন ফারহানাকে গ্রহণ করেছিল।
আর তৃতীয় ব্যাপারটা হচ্ছে, ভোটে অংশগ্রহণ করতে পারেনি আওয়ামী লীগ। স্বাভাবিক কারণেই আওয়ামী লীগের কারও সাথেই এর কোনো খারাপ সম্পর্ক কোনোদিনই ছিল না। বরঞ্চ আওয়ামী লীগের প্রত্যেকটা কেন্দ্রীয় নেতা তাকে অন্যরকম চোখে দেখত—টকশো করতে গিয়ে শুনেছি।
আওয়ামী লীগের কোনো ব্যক্তি যদি উচ্চস্বরে রুমিনের সঙ্গে কথা বলত, কেউ যদি তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করত, কেন্দ্রীয় নেতারা ফোন দিয়ে তাকে নিষেধ করত যে, ‘ও তো আমাদেরই মেয়ে, ওর সঙ্গে এরকম কথা বলবা না।’
শোনা কথা সত্য-মিথ্যা বলতে পারব না।
মতিন খসরু সাহেব অনেক চেষ্টা করেছিলেন শেখ হাসিনার কাছে নিয়ে গিয়ে তাকে একটা বড় পোস্ট অথবা এমপি মনোনয়ন দেওয়ার। কিন্তু সেখানে উনি ব্যর্থ হয়েছিলেন। ব্যর্থ হওয়ার পর তখন বিএনপির দিকে চেষ্টা করে পদ-পদবির জন্য।
বিএনপিতে এমনভাবে সফল হয়েছে যে, আমাদের মাথার উপরে সিরিয়ালে তার পোস্টটা দেওয়া হয়েছে। সিনিয়রিটি-জুনিয়রিটি, কন্ট্রিবিউশন না দেখে—সুপারিশ যার যত বেশি, পোস্ট তার তত বেশি।
সারা জীবন অপারগতা প্রকাশ করা ছাড়া কোনো উপায় ছিল না।
রুমিন নমিনেশন না পাওয়ায় আর পোষ্য কোটায় আরও দুজন মহিলা মনোনয়ন পাওয়া এবং মন্ত্রী হওয়া—ইগোতে লাগার কারণে সে স্বতন্ত্র ভোট করেছে।
এই ক্ষেত্রে নমিনেশন পেয়ে গেলে বিষয়টা ছিল ভিন্ন। যাদেরকে পোষ্য কোটায় মহিলাদের নমিনেশন দেওয়া হয়েছে, যে দুজনকে—সেই দুজন বিশেষ ব্যক্তি যখন বিশেষভাবে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য হয়, তখন মনটা খারাপ হওয়াটা স্বাভাবিক।
কারণ, স্বাভাবিক বিচারে রুমিন যেহেতু একবার এমপি হয়েছিল, ওই দুইজন যেহেতু কোনোদিনই এমপি হয়নি, এই ক্ষেত্রে তাদের নমিনেশন, এমপি হওয়া এবং মন্ত্রী হওয়ার বিষয়টা সহজে মেনে নিতে পারেনি। ইগোতে লেগেছে।
যারা দল করি, আমাদের ইগোর থলিটা আগে বোয়াল মাছের পেটে দিয়ে এসে, তারপরে আমরা দল করি। অতএব, আমরা যেটা মেনে নেব, কিন্তু সুবিধা এবং স্বার্থগত কারণে তারা তো সেটা মেনে নেবে না। তাদের আসারও যেমন ঠিক ঠিকানা নেই, যাওয়ারও তেমন কোনো ঠিক ঠিকানা নেই। এটাই হয়েছে এক্ষেত্রে।
এখন যারা এনেছেন, যারা পোস্ট দিয়েছেন, যারা এমপি বানিয়েছেন, যারা চিফ হুইপ করার জন্য পাগল হয়ে গেলেন—এখন তাদের জবাবদিহিতার প্রশ্ন এসেছে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান, পার্টির চেয়ারপারসন জনাব তারেক রহমান খুব ভালো করেই জানেন, তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিল কারা। তার পদ-পদবি, মহিলা এমপির জন্য আপনার কাছে তদবির করেছে কে, হাউস অব লর্ডসে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকারবিষয়ক শুনানিতে বিএনপিকে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। আমন্ত্রিত প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে সেখানে রুমিন ফারহানাও গিয়েছিল কারা তাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য পাগল হয়েছিল, কারা চায়না সফর থেকে বিদেশি যে কোনো ট্যুরে তার নামটি দেওয়ার জন্য তদবির করেছিল—সব প্রমাণ নিশ্চয়ই আপনার কাছে আছে।
আপনি ছিলেন বিদেশে নির্বাসনে, আর কারা আপনাকে এই সমস্ত পচা শামুকে পা কাটার পরামর্শ দিয়েছিলেন—একটু স্মরণ করলেই আপনি পেয়ে যাবেন।
এভাবেই ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়ন না করে সিনিয়র নেতারা একেকজনকে নিয়েই পাগল হয়। এই পাগলামির আশা করি পরিসমাপ্তি ঘটবে।
আব্দুস সাত্তার এবং হারুনার রশিদ জিয়াউর রহমান সাহেবের সময় থেকে রাজনীতি করেন, এমপি ছিলেন। বিএনপি—জিয়াউর রহমানের সময় থেকে। এই ভদ্রলোক দল কি কখনো ছেড়েছে?
শুধুমাত্র এই মহিলার কারণে মহিলা এমপি করার পর একজন নির্বাচিত এমপি এলাকায় গিয়ে বাড়াবাড়ি করেছে। একটা পিতৃতুল্য বড় মানুষ জীবনের শেষ প্রান্তে চলে আসার পর যদি রাজনৈতিক স্পেসের সমস্যা দেখা দেয়, তখন একুল-ওকুল সব হারা হিসেবে, প্রতিশোধ নেওয়ার মানসিকতায় প্রকৃত বিএনপি ছাড়ল ঘর, আর সুবিধাবাদী এসে কাক ও কোকিলের বাসার মতো দখল করা নিয়ে ব্যস্ত হলো।
বিএনপি সংগঠন হচ্ছে অর্জন করার বিষয়, দখল করার বিষয় নয়। আনুগত্যের বিষয়, স্যাক্রিফাইসের বিষয়, জাতীয়তাবাদের দর্শন ধারণ করার বিষয়। এই বিষয়টা এখন বড় বড় পোস্টধারী নেতাদের বুঝতে হবে। না হলে তৃণমূল শূন্যের কোঠায় পৌঁছাবে।
কিছু ব্যক্তির পছন্দের জের হিসেবে খেসারত দেওয়ার তখন আর কোনো জায়গা থাকবে না। সেই জায়গা থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হলো—ব্যক্তির সততা, যোগ্যতা, আনুগত্য, কন্ট্রিবিউশন মাফিক প্রকৃত মূল্যায়ন।
আজকে যদি আমার সুখের দিন অনেকে মনে করে থাকেন, কিন্তু আমি তো সুখ পাচ্ছি না, কষ্ট পাচ্ছি। আমার দলকে আজকে মিথ্যা পরিসংখ্যান দিয়ে হেয় প্রতিপন্ন করার যে অপচেষ্টা চলছে, এটাতে আমি মোটেও শান্তি পাচ্ছি না।
আর রিডিং পড়তে কষ্ট হয় এমন ব্যক্তিও পার্লামেন্টে গেছে। ক্ষমতায় আসলে প্রকৃত ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে, প্রকৃত অথচ অযোগ্য এমন ব্যক্তিদের মনোনীত না করে, যেখানে যার জায়গা সেখানে তাকে বসানোটাই হচ্ছে সমীচীন।
সরকারি দলকে মোকাবিলা করার জন্য ফিট, বিরোধী দলে আর সরকারি দলে আনফিট—এই সংজ্ঞার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। যাকে যেখানে দরকার, সুষ্ঠু পদায়ন, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, যোগ্যতা, অবদান ও সততার মাধ্যমে নির্ধারণ করা উচিত।
বিএনপির মধ্যে যারা কর্পোরেট পার্লামেন্ট করতে চেয়েছিলেন, পার্লামেন্ট কর্পোরেট হয়েছে মহিলাদের বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে—সেটা ঠিক। কিন্তু বিনোদনের পার্লামেন্ট পছন্দ করেন না—এই মর্মে বিনোদন কি বন্ধ করতে পেরেছেন?
মাঠের কর্মীদের অবমূল্যায়ন করে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে জ্ঞান প্রদান, উপদেশ প্রদান—বহু করা যায়। কিন্তু গ্রীষ্মের তপ্ত রৌদ্রে পুড়ে, কালবৈশাখীর ঝড়ে পড়ে, মাঘ মাসের হাড়কাঁপানো শীতের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল থেকে বেরিয়ে স্লোগান দিতে দিতে মতিহারের সবুজ চত্বর কিংবা অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে রাখা ভূমিকা—এত ছোট করে দেখার কোনো অধিকার কারো নেই। কারো অবদানকে খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই।
কর্পোরেট সংগঠন আর কর্পোরেট পার্লামেন্ট, ব্র্যাকেটবন্দি রাজনৈতিক জীবন—এই জীবন কোথাও কোনো কাজে লাগে না। এর পরিসমাপ্তি যত দ্রুত ঘটানো সম্ভব, ততই মঙ্গল, ততই ভালো।
রাজনীতি যেমন মাঠবিহীন, স্লোগানবিহীন, ঘামবিহীন, ঝড়বিহীন, শীতবিহীন হতে পারে না, ঠিক তেমনি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে কবিতা আবৃত্তি করা, আর গরম ধোঁয়াউড়া চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে দলের ভালো লাগার কথা বলা—বিলাসিতা ছাড়া কিছুই না।
এই বিলাসিতা দিয়ে কল্পনার জগতে হাবুডুবু খাওয়া যাবে, কবিতা লিখতে ভালো লাগবে, সুসজ্জিত মেকআপ অবস্থায় দামি পারফিউম দিয়ে দামি শাড়ি পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি ছাড়তে ভালো লাগবে।
কিন্তু রাজনীতিতে এর পরিণাম শুভ নয়।
শুধু অশুভ।
শুধু অশুভ।
শুধুই অশুভ।।
সৈয়দা আসিফা আশরাফি পাপিয়া
আইনজীবী সুপ্রিম কোর্ট
 মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।
জনপ্রিয়

গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে

রুমিন ফারহানা নমিনেশন কেন পেল না?

প্রকাশের সময় : ১১:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অনলাইন সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রুমিন ফারহানা নমিনেশন কেন পেল না?
মেয়েদের নমিনেশন এবং মন্ত্রী—দুটো ক্রাইটেরিয়া। একটা ৩১ দফা, আর একটা মিডিয়া সেল। রুমিন দুই জায়গায় জড়িত ছিল। ৩১ দফার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর বলে যে প্রচারটা আছে সে, এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী—তারা তিনজন ছিল একই কোটারির।
বাবার মৃত্যুবার্ষিকী, জন্মবার্ষিকী, আচার-অনুষ্ঠান—সবকিছুতেই ছবি দেখেছি উনাদের তিনজনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। দুজন পেল, অথচ একজন পেল না। দিলেই হয়ে যেত। তিনজনেই তো হাইব্রিড।
দুজন হাইব্রিড পেল, রুমিন পেল না। তিনজনের জোট ছিল আমাদের মাঠের রাজনৈতিক কর্মীদের বিরুদ্ধে। কিন্তু তিনজনের ভিতর দুজন যখন পেল, একজন পেল না, তখন এরা তিনজন সুপার ইগোতে ভুগতে থাকল।
তিনজনের তদবিরকারক সব একই ব্যক্তি। তদবিরকারকের চেষ্টার কোনো ত্রুটি নেই। কিন্তু সফল হয়ে উঠতে পারেনি একটি জায়গায়। সেটা হচ্ছে, শেষ চেষ্টা করেও রুমিনকে মনোনয়ন দিতে পারেনি।
রুমিন ফারহানার স্বতন্ত্র এমপি নির্বাচিত হওয়ার প্রথম কারণ হচ্ছে, ওখানে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী ছিল না। দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে, স্বাভাবিক কারণেই রুমিন ফারহানা এমপি হওয়ার পর দলীয় লোকজনের সঙ্গে চলাফেরা, ওঠাবসা এবং এলাকার কিছু কাজও করতে সক্ষম হয়েছিল। সেখানে বিএনপি জোটকে প্রার্থী দিলেও ভোটাররা বিএনপির প্রার্থী হিসেবে রুমিন ফারহানাকে গ্রহণ করেছিল।
আর তৃতীয় ব্যাপারটা হচ্ছে, ভোটে অংশগ্রহণ করতে পারেনি আওয়ামী লীগ। স্বাভাবিক কারণেই আওয়ামী লীগের কারও সাথেই এর কোনো খারাপ সম্পর্ক কোনোদিনই ছিল না। বরঞ্চ আওয়ামী লীগের প্রত্যেকটা কেন্দ্রীয় নেতা তাকে অন্যরকম চোখে দেখত—টকশো করতে গিয়ে শুনেছি।
আওয়ামী লীগের কোনো ব্যক্তি যদি উচ্চস্বরে রুমিনের সঙ্গে কথা বলত, কেউ যদি তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করত, কেন্দ্রীয় নেতারা ফোন দিয়ে তাকে নিষেধ করত যে, ‘ও তো আমাদেরই মেয়ে, ওর সঙ্গে এরকম কথা বলবা না।’
শোনা কথা সত্য-মিথ্যা বলতে পারব না।
মতিন খসরু সাহেব অনেক চেষ্টা করেছিলেন শেখ হাসিনার কাছে নিয়ে গিয়ে তাকে একটা বড় পোস্ট অথবা এমপি মনোনয়ন দেওয়ার। কিন্তু সেখানে উনি ব্যর্থ হয়েছিলেন। ব্যর্থ হওয়ার পর তখন বিএনপির দিকে চেষ্টা করে পদ-পদবির জন্য।
বিএনপিতে এমনভাবে সফল হয়েছে যে, আমাদের মাথার উপরে সিরিয়ালে তার পোস্টটা দেওয়া হয়েছে। সিনিয়রিটি-জুনিয়রিটি, কন্ট্রিবিউশন না দেখে—সুপারিশ যার যত বেশি, পোস্ট তার তত বেশি।
সারা জীবন অপারগতা প্রকাশ করা ছাড়া কোনো উপায় ছিল না।
রুমিন নমিনেশন না পাওয়ায় আর পোষ্য কোটায় আরও দুজন মহিলা মনোনয়ন পাওয়া এবং মন্ত্রী হওয়া—ইগোতে লাগার কারণে সে স্বতন্ত্র ভোট করেছে।
এই ক্ষেত্রে নমিনেশন পেয়ে গেলে বিষয়টা ছিল ভিন্ন। যাদেরকে পোষ্য কোটায় মহিলাদের নমিনেশন দেওয়া হয়েছে, যে দুজনকে—সেই দুজন বিশেষ ব্যক্তি যখন বিশেষভাবে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য হয়, তখন মনটা খারাপ হওয়াটা স্বাভাবিক।
কারণ, স্বাভাবিক বিচারে রুমিন যেহেতু একবার এমপি হয়েছিল, ওই দুইজন যেহেতু কোনোদিনই এমপি হয়নি, এই ক্ষেত্রে তাদের নমিনেশন, এমপি হওয়া এবং মন্ত্রী হওয়ার বিষয়টা সহজে মেনে নিতে পারেনি। ইগোতে লেগেছে।
যারা দল করি, আমাদের ইগোর থলিটা আগে বোয়াল মাছের পেটে দিয়ে এসে, তারপরে আমরা দল করি। অতএব, আমরা যেটা মেনে নেব, কিন্তু সুবিধা এবং স্বার্থগত কারণে তারা তো সেটা মেনে নেবে না। তাদের আসারও যেমন ঠিক ঠিকানা নেই, যাওয়ারও তেমন কোনো ঠিক ঠিকানা নেই। এটাই হয়েছে এক্ষেত্রে।
এখন যারা এনেছেন, যারা পোস্ট দিয়েছেন, যারা এমপি বানিয়েছেন, যারা চিফ হুইপ করার জন্য পাগল হয়ে গেলেন—এখন তাদের জবাবদিহিতার প্রশ্ন এসেছে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান, পার্টির চেয়ারপারসন জনাব তারেক রহমান খুব ভালো করেই জানেন, তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিল কারা। তার পদ-পদবি, মহিলা এমপির জন্য আপনার কাছে তদবির করেছে কে, হাউস অব লর্ডসে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকারবিষয়ক শুনানিতে বিএনপিকে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। আমন্ত্রিত প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে সেখানে রুমিন ফারহানাও গিয়েছিল কারা তাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য পাগল হয়েছিল, কারা চায়না সফর থেকে বিদেশি যে কোনো ট্যুরে তার নামটি দেওয়ার জন্য তদবির করেছিল—সব প্রমাণ নিশ্চয়ই আপনার কাছে আছে।
আপনি ছিলেন বিদেশে নির্বাসনে, আর কারা আপনাকে এই সমস্ত পচা শামুকে পা কাটার পরামর্শ দিয়েছিলেন—একটু স্মরণ করলেই আপনি পেয়ে যাবেন।
এভাবেই ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়ন না করে সিনিয়র নেতারা একেকজনকে নিয়েই পাগল হয়। এই পাগলামির আশা করি পরিসমাপ্তি ঘটবে।
আব্দুস সাত্তার এবং হারুনার রশিদ জিয়াউর রহমান সাহেবের সময় থেকে রাজনীতি করেন, এমপি ছিলেন। বিএনপি—জিয়াউর রহমানের সময় থেকে। এই ভদ্রলোক দল কি কখনো ছেড়েছে?
শুধুমাত্র এই মহিলার কারণে মহিলা এমপি করার পর একজন নির্বাচিত এমপি এলাকায় গিয়ে বাড়াবাড়ি করেছে। একটা পিতৃতুল্য বড় মানুষ জীবনের শেষ প্রান্তে চলে আসার পর যদি রাজনৈতিক স্পেসের সমস্যা দেখা দেয়, তখন একুল-ওকুল সব হারা হিসেবে, প্রতিশোধ নেওয়ার মানসিকতায় প্রকৃত বিএনপি ছাড়ল ঘর, আর সুবিধাবাদী এসে কাক ও কোকিলের বাসার মতো দখল করা নিয়ে ব্যস্ত হলো।
বিএনপি সংগঠন হচ্ছে অর্জন করার বিষয়, দখল করার বিষয় নয়। আনুগত্যের বিষয়, স্যাক্রিফাইসের বিষয়, জাতীয়তাবাদের দর্শন ধারণ করার বিষয়। এই বিষয়টা এখন বড় বড় পোস্টধারী নেতাদের বুঝতে হবে। না হলে তৃণমূল শূন্যের কোঠায় পৌঁছাবে।
কিছু ব্যক্তির পছন্দের জের হিসেবে খেসারত দেওয়ার তখন আর কোনো জায়গা থাকবে না। সেই জায়গা থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হলো—ব্যক্তির সততা, যোগ্যতা, আনুগত্য, কন্ট্রিবিউশন মাফিক প্রকৃত মূল্যায়ন।
আজকে যদি আমার সুখের দিন অনেকে মনে করে থাকেন, কিন্তু আমি তো সুখ পাচ্ছি না, কষ্ট পাচ্ছি। আমার দলকে আজকে মিথ্যা পরিসংখ্যান দিয়ে হেয় প্রতিপন্ন করার যে অপচেষ্টা চলছে, এটাতে আমি মোটেও শান্তি পাচ্ছি না।
আর রিডিং পড়তে কষ্ট হয় এমন ব্যক্তিও পার্লামেন্টে গেছে। ক্ষমতায় আসলে প্রকৃত ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে, প্রকৃত অথচ অযোগ্য এমন ব্যক্তিদের মনোনীত না করে, যেখানে যার জায়গা সেখানে তাকে বসানোটাই হচ্ছে সমীচীন।
সরকারি দলকে মোকাবিলা করার জন্য ফিট, বিরোধী দলে আর সরকারি দলে আনফিট—এই সংজ্ঞার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। যাকে যেখানে দরকার, সুষ্ঠু পদায়ন, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, যোগ্যতা, অবদান ও সততার মাধ্যমে নির্ধারণ করা উচিত।
বিএনপির মধ্যে যারা কর্পোরেট পার্লামেন্ট করতে চেয়েছিলেন, পার্লামেন্ট কর্পোরেট হয়েছে মহিলাদের বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে—সেটা ঠিক। কিন্তু বিনোদনের পার্লামেন্ট পছন্দ করেন না—এই মর্মে বিনোদন কি বন্ধ করতে পেরেছেন?
মাঠের কর্মীদের অবমূল্যায়ন করে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে জ্ঞান প্রদান, উপদেশ প্রদান—বহু করা যায়। কিন্তু গ্রীষ্মের তপ্ত রৌদ্রে পুড়ে, কালবৈশাখীর ঝড়ে পড়ে, মাঘ মাসের হাড়কাঁপানো শীতের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল থেকে বেরিয়ে স্লোগান দিতে দিতে মতিহারের সবুজ চত্বর কিংবা অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে রাখা ভূমিকা—এত ছোট করে দেখার কোনো অধিকার কারো নেই। কারো অবদানকে খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই।
কর্পোরেট সংগঠন আর কর্পোরেট পার্লামেন্ট, ব্র্যাকেটবন্দি রাজনৈতিক জীবন—এই জীবন কোথাও কোনো কাজে লাগে না। এর পরিসমাপ্তি যত দ্রুত ঘটানো সম্ভব, ততই মঙ্গল, ততই ভালো।
রাজনীতি যেমন মাঠবিহীন, স্লোগানবিহীন, ঘামবিহীন, ঝড়বিহীন, শীতবিহীন হতে পারে না, ঠিক তেমনি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে কবিতা আবৃত্তি করা, আর গরম ধোঁয়াউড়া চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে দলের ভালো লাগার কথা বলা—বিলাসিতা ছাড়া কিছুই না।
এই বিলাসিতা দিয়ে কল্পনার জগতে হাবুডুবু খাওয়া যাবে, কবিতা লিখতে ভালো লাগবে, সুসজ্জিত মেকআপ অবস্থায় দামি পারফিউম দিয়ে দামি শাড়ি পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি ছাড়তে ভালো লাগবে।
কিন্তু রাজনীতিতে এর পরিণাম শুভ নয়।
শুধু অশুভ।
শুধু অশুভ।
শুধুই অশুভ।।
সৈয়দা আসিফা আশরাফি পাপিয়া
আইনজীবী সুপ্রিম কোর্ট
 মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।