, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে রাহুল-মমতারা মিছিল করে যাবেন সুপ্রিম কোর্টে,মিছিলে গোটা ভারত হাঁটবে। সোমবার দিল্লি পুলিশ পরীক্ষায় রোটন তাঁর বাবার চেহলাম আয়োজনে ও বাধা ফজলে করিম চৌধুরী! আমাদের বিড়ি টানা,হাতাকাটা জামা পরার উপর যতক্ষণ না আক্রমণ আসবে ততোক্ষণ ? এই মানুষ এভাবে পচে গেল কেন? অবশেষে ডিপ স্টেট এবং ইউনূস ও খলিল সাহেবদের সাকসেস! রোটন ভাইয়ের জানাজা পড়তে যাওয়া মুসল্লীদের মসজিদ থেকে বের করে, নির্মম নির্যাতন করেছে বিএনপির ক্যাডাররা!! জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম মুসলিম সভাপতি — বদরুদ্দীন তৈয়বজী পাকিস্তানপন্থী খাঁটি মুসলমান ইনকিলাব মঞ্চ বাবা-মায়ের কাছ থেকে যা শিখেছি ত্রপা মজুমদার

শান্তিতে থেকো সিমলা …

  • প্রকাশের সময় : ১০:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪৬ পড়া হয়েছে

অনলাইন সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তোমার চির বিদায়ের খবরটা শুনে মনটাকে স্থির করতে পারছি না। তোমাকে নিয়ে তো আমার কিছু লিখতেই হবে । ও পাবনার মেয়ে, আমাদের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অত‍্যন্ত মেধাবী ছাত্রী ছিল, আমি পড়তাম অর্থনীতিতে । সিমলা আমার এক ব‍্যাচ জুনিয়র । সব সময় অর্ঘ‍্য দা, তুমি বলে সম্মোধন করতো । এমনভাবে ডাকতো মনে হয় ও আমার ছোট বোন । আমার আপন বোন নেই বলে সিমলার “তুমি” বলে ডাকটা আমারে হৃদয়ে গিয়ে ধাক্কা লাগতো । সিমলার ড্রেস আপ ও ড্রেসের কালার বিষয়ে সবসময় ডিসেন্সি ভাব ছিল ।
ক‍্যাফেটারিয়া কিংবা প্রান্তিক দেখা হলে বলতো “ কিছু খাওয়াবে না, খাওয়াও না !” । মনে হতো বড় ভাইয়ের কাছে বোনের আবদার । ভাইয়ের লিমিটেড ইনকাম থেকে আমাকে পড়ার জন‍্য যে টাকা দিতো সেখান থেকে আবদার মেটানোর চেষ্টা করতাম ।
একবার আমরা (রেজা স‍্যার, নীলা আপা, শিলা আপা, পারভিন আপা, লিটন ভাই, কাকলী, চঞ্চল ভাই, রাজীব ভাই, আক্তার, প্রমুখ) বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করবো বলে মন স্থির করেছি । ইংরেজি বিভাগের অধ‍্যাপক আহমেদ রেজা স‍্যার একদিন বললো অর্ঘ‍্য, আমাদের বিভাগে একটি মেয়ে ভর্তি হয়েছে মনে হয় ভালো গান গায় আমরা নিতে পারি । স‍্যারের মাধ‍্যমে ওর সাথে হলো । শুনলাম ও পাবনা রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের সাথে যুক্ত ছিল ।
অনুষ্ঠানটিতে বিভিন্ন ধারার গান হবে বলে সিদ্ধান্ত হলো । আমরা রবীন্দ্রসঙ্গীত ও নজরুল গীতি, তিন কবির গানের শিল্পী ।এখন লালনগীতি “ জাত গেলো জাত গেলো …” কে গাইবে ? আমরা তো পারি না । সিমলা বললো দাদা তুমি আমাকে দাও , আমি বললাম তুই তো রবীন্দ্রসঙ্গীতের শিল্পী ( অসম্ভব সুরে রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইতো ), পারবি লালনগীতি ? ওর উত্তর “দাওনা” ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ধ‍্যার সেই অনুষ্ঠানে সিমলার সেই লালনগীতি ওকে রীতিমতো বিখ্যাত করে দিলো বিশ্ববিদ্যালয়ে । প্রচুর সিনিয়র জুনিয়র ওর ভক্ত হলো । আমার এখনও কানে লেগে আছে ওর গাওয়া গানটি । এক সময় গান শিখতে ঢাকায় ছায়ানটেও ভর্তি হয়ে ছিল ।
সিমলা অনেক আবেগী ছিল, সেই জন‍্য ওর বিশ্ববিদ‍্যালয় জীবন ও পরবর্তীতে সাংসারিক জীবন সুখকর ছিল না । শুনেছি একসময় বিশ্ববিদ্যালয়ে frustration পড়ে অনার্সে পড়া অবস্থায় পাবনার এক ছেলেকে ও বিয়ে করে । আজকে অনেকের পোষ্ট পড়ে অনেক কিছু জানলাম । শেষ জীবনে বাবার বাড়ীতে গিয়ে থাকতো ।
কোলন ক্যান্সার সিমলাকে আজ আমাদের থেকে চিরতরে দূরে নিয়ে গেছে। শান্তিতে থেকো সিমলা …
অর্ঘ্য দা
সতর্কতা: উন্নতদেশে মানুষের বয়স ৪৫ হবার পর পরেই সবাইকে ডাক্তার বাধ্যতামূলক ভাবে Colonoscopy Test করাতে বলে, কোন সিনটম থাকুক বা না থাকুক । রেজাল্ট দেখে ডাক্তার বলতে পারে তোমার আগামী …. বছর কোলন ক্যান্সার হবার সম্ভাবনা নাই । সুতরাং ৪৫ বছর পরে সবাইকে Colonoscopy test করা উচিত ।

Arghya Sarathi Sikder’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।

জনপ্রিয়

গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে

শান্তিতে থেকো সিমলা …

প্রকাশের সময় : ১০:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অনলাইন সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তোমার চির বিদায়ের খবরটা শুনে মনটাকে স্থির করতে পারছি না। তোমাকে নিয়ে তো আমার কিছু লিখতেই হবে । ও পাবনার মেয়ে, আমাদের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অত‍্যন্ত মেধাবী ছাত্রী ছিল, আমি পড়তাম অর্থনীতিতে । সিমলা আমার এক ব‍্যাচ জুনিয়র । সব সময় অর্ঘ‍্য দা, তুমি বলে সম্মোধন করতো । এমনভাবে ডাকতো মনে হয় ও আমার ছোট বোন । আমার আপন বোন নেই বলে সিমলার “তুমি” বলে ডাকটা আমারে হৃদয়ে গিয়ে ধাক্কা লাগতো । সিমলার ড্রেস আপ ও ড্রেসের কালার বিষয়ে সবসময় ডিসেন্সি ভাব ছিল ।
ক‍্যাফেটারিয়া কিংবা প্রান্তিক দেখা হলে বলতো “ কিছু খাওয়াবে না, খাওয়াও না !” । মনে হতো বড় ভাইয়ের কাছে বোনের আবদার । ভাইয়ের লিমিটেড ইনকাম থেকে আমাকে পড়ার জন‍্য যে টাকা দিতো সেখান থেকে আবদার মেটানোর চেষ্টা করতাম ।
একবার আমরা (রেজা স‍্যার, নীলা আপা, শিলা আপা, পারভিন আপা, লিটন ভাই, কাকলী, চঞ্চল ভাই, রাজীব ভাই, আক্তার, প্রমুখ) বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করবো বলে মন স্থির করেছি । ইংরেজি বিভাগের অধ‍্যাপক আহমেদ রেজা স‍্যার একদিন বললো অর্ঘ‍্য, আমাদের বিভাগে একটি মেয়ে ভর্তি হয়েছে মনে হয় ভালো গান গায় আমরা নিতে পারি । স‍্যারের মাধ‍্যমে ওর সাথে হলো । শুনলাম ও পাবনা রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের সাথে যুক্ত ছিল ।
অনুষ্ঠানটিতে বিভিন্ন ধারার গান হবে বলে সিদ্ধান্ত হলো । আমরা রবীন্দ্রসঙ্গীত ও নজরুল গীতি, তিন কবির গানের শিল্পী ।এখন লালনগীতি “ জাত গেলো জাত গেলো …” কে গাইবে ? আমরা তো পারি না । সিমলা বললো দাদা তুমি আমাকে দাও , আমি বললাম তুই তো রবীন্দ্রসঙ্গীতের শিল্পী ( অসম্ভব সুরে রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইতো ), পারবি লালনগীতি ? ওর উত্তর “দাওনা” ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ধ‍্যার সেই অনুষ্ঠানে সিমলার সেই লালনগীতি ওকে রীতিমতো বিখ্যাত করে দিলো বিশ্ববিদ্যালয়ে । প্রচুর সিনিয়র জুনিয়র ওর ভক্ত হলো । আমার এখনও কানে লেগে আছে ওর গাওয়া গানটি । এক সময় গান শিখতে ঢাকায় ছায়ানটেও ভর্তি হয়ে ছিল ।
সিমলা অনেক আবেগী ছিল, সেই জন‍্য ওর বিশ্ববিদ‍্যালয় জীবন ও পরবর্তীতে সাংসারিক জীবন সুখকর ছিল না । শুনেছি একসময় বিশ্ববিদ্যালয়ে frustration পড়ে অনার্সে পড়া অবস্থায় পাবনার এক ছেলেকে ও বিয়ে করে । আজকে অনেকের পোষ্ট পড়ে অনেক কিছু জানলাম । শেষ জীবনে বাবার বাড়ীতে গিয়ে থাকতো ।
কোলন ক্যান্সার সিমলাকে আজ আমাদের থেকে চিরতরে দূরে নিয়ে গেছে। শান্তিতে থেকো সিমলা …
অর্ঘ্য দা
সতর্কতা: উন্নতদেশে মানুষের বয়স ৪৫ হবার পর পরেই সবাইকে ডাক্তার বাধ্যতামূলক ভাবে Colonoscopy Test করাতে বলে, কোন সিনটম থাকুক বা না থাকুক । রেজাল্ট দেখে ডাক্তার বলতে পারে তোমার আগামী …. বছর কোলন ক্যান্সার হবার সম্ভাবনা নাই । সুতরাং ৪৫ বছর পরে সবাইকে Colonoscopy test করা উচিত ।

Arghya Sarathi Sikder’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।