
অনলাইন শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬
বাংলাদেশের শিক্ষা ও রাজনীতি পরিপূরক হবে চলে আসছে সেই ১৯৪৮ সাল থেকে ।একটি ছাত্র সংগঠনের জন্ম হয়েছিল যার নাম ছাত্রলীগ এই ছাত্রলীগ জন্মের পর অধিকার আদায়ের সংগ্রামে সোচ্চার হয়েছে। উল্লেখ্য যে, এই ছাত্রলীগের জন্য দিয়েছিলেন বাংলার অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমান।দেশ বিভাগের পর পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯৪৮ সালে বললেন, পাকিস্তানে রাষ্ট্র হবা ভাষা হবে উর্দু। বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করেছিল এবং বলেছিল না না এ দেশের রাষ্ট্রভাষা হবে বাংলা । এরপর শুরু হলো আন্দোলন। বাংলা ভাষার দাবিতে, বাংলা ভাষা প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলনচলছিল। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে সরকার।তারা জেনেছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাত্ররা রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবীতে মিছিল বের করবে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মিছিল বের হতে থাকলো ১০ জন করে।ভঙ্গ হলো ১৪৪ ধারা। ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যে মিছিল এসেম্বলি হলের দিকে যাচ্ছিল সেই মিছিলে সরকারের পেটুয়া বাহিনী পুলিশ গুলি করেছিল। শহীদ হয়েছিলেন সালাম,রফিক, জব্বার, বরকত শফিক সহ অনেকে। বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে বাংলা ভাষাকে সেদিন ছিনিয়ে আনতে হয়েছিল। পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল ভাষার জন্য এই বাঙালিকেই প্রাণ দিতে হয়েছিল। প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল রাষ্ট্রভাষা বাংলা। এরপর ৫৪ যুক্ত ফ্রন্ট নির্বাচন ৬২ শিক্ষা আন্দোলন , ১৯৬৬ সালে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত বাঙালির মুক্তির সনদ ৬ দফা এবং ছাত্রদের ১১ দফা নিয়ে আন্দোলন শুরু হয় । এই আন্দোলনে ছাত্রসমাজের সক্রিয় ভূমিকা রাখে। এরপর আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় শেখ মুজিব সহ ৩৫ জনকে রাষ্ট্রদ্রোহী করা হয় এবং তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয় । ছাত্র সমাজের আন্দোলন গতি দিন দিন বাড়তে থাকে। ১৯৬৯ সালে ছাত্র সমাজের ব্যাপক আন্দোলনের কারণেই সেই সময়কার পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ এর সভাপতি শেখ মুজিব সহ রাজবন্দীদের মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। মুক্তি পাওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু এর জনসভার আয়োজন করে সেই জনসভায় ডাকসু ভিপি তোফায়েল আহমেদ শেখ মুজিবকে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করেন।
রাজনৈতিক ধারাবাহিকতায় আইয়ুব খানের পর ইয়াহিয়া খান ক্ষমতায় আসে ইয়াহিয়া খান । তিনি সাধারণ নির্বাচন দিবেন বলে ঘোষণা দেন।অতঃপর ১৯৭০ সালে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কা সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়লাভ করেন। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানিরা শেখ মুজিবকে ক্ষমতা দিতে তালবাহানা করে। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা করেন , “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম। ” এরপর মার্চের ২৫ তারিখ পশ্চিমা হায়না বাহিনীরা ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন প্রধান শহরে বিনা কারণে বাঙালিদের ওপর গুণী বর্ষণ করে। হাজার হাজার বাঙ্গালীকে হত্যা করে। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের রাতে অর্থাৎ ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে ধানমন্ডির ৩২ নাম্বার থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তার এই স্বাধীনতার ঘোষণাটি তৎকালীন ১৯ জেলায় তার বার্তার মাধ্যমে প্রেরণ করা হয় । এর পরপরই ধানমন্ডি ৩২ নাম্বার ঘেরাও করে সরকারের পুলিশ বাহিনী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কে গ্রেফতার করে। পশ্চিমা বাহিনী বঙ্গবন্ধুকে শুধু গ্রেপ্তার করেই ক্ষান্ত হয়নি তাকে পশ্চিম পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি করে রাখে।এদিকে ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় এবং ১৭ই এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথ তলায় আমঝুপিতে স্বাধীন বাংলার অস্থায়ী সরকার শপথ নেয়।
দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে পশ্চিমা বাহিনীকে পরাস্ত করে বীর মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশকে স্বাধীন করে।
বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুক্ত হয়ে বাংলার মাটিতে পা রাখেন। লক্ষ লক্ষ মানুষের উপস্থিতিতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভায় তিনি বললেন, হে রবি ঠাকুর তুমি এসে দেখে যাও আমার বাঙালিরা আজ মানুষ হয়েছে। তারা পশ্চিমা বাহিনীকে পরাস্ত করে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছে। লাল সবুজের পতাকা বাংলাদেশের আকাশে উড়িয়েছে । আমার বাংলাদেশ আজ স্বাধীন।
এরপর ছাত্র সমাজ লেখাপড়ার পাশাপাশি সমাজ সেবায় অংশগ্রহণ করে। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে পুনর্গঠনের কাজে লেগে যায়।
১৯৭৫ সালের ১৫ ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে সপরিবারে হত্যা করা হয় । নেতৃত্ব দেন তরুণ সেনাবাহিনীর সদস্য ও স্বাধীনতা বিরোধীচক্র।
১৯৭৫ সালে নভেম্বর জেলখানায় চার জাতীয় নেতাকে হত্যা করা হয় । এরপর ছাত্র সমাজ রাজপথে নেমে আসে এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ করে । মেজর জিয়া ক্ষমতার সিংহাসনে আরোহণ করেন। সামরিক শাসক মেজর জিয়া প্রথমে হা, না ভোট দেন। অতঃপর ১৯৭৯ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই নির্বাচনেও ছাত্র সমাজের ব্যাপক ভূমিকা ছিল। যুগে যুগে ছাত্র সমাজ তার লেখাপড়ার পাশাপাশি ছাত্র রাজনীতি করে আসছে।অধিকার আদায়ের সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়েছে। স্বয়ং জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর ছাত্র রাজনীতিকে উৎসাহ দিয়েছে।১৯৮১ সালে জেনারেল জিয়াউর রহমান কে সেনাবাহিনীর একটি গ্রুপ হত্যা করে।এরপর ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট এর দায়িত্ব পালন করেন বিচারপতি আব্দুস সাত্তার।১৯৮২ সালে ২৪ শে মার্চ হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদ বিচারপতি আব্দুস সাত্তার কে হটিয়ে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন জেনারেল হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ। তিনি বলেন এদেশে ছাত্ররাজনীতির দরকার নেই ।ছাত্র সমাজ এর বিরোধীতা করে। বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতি দরকার নেই ছাত্রসমাজ ক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলে। দীর্ঘ নয় বৎসর আন্দোলন সংগ্রামের পথ ধরে জাতীয় রাজনীতিবিদ এবং ছাত্রসমাজ এবং বাংলাদেশের আপামর জনতা ৯০ এর গণ অভ্যুত্থান সৃষ্টি করে। হো
হামিদুল আলম সখা :বিশ্লেষণধর্মী কলাম লেখক
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন। https://jatvbd.com/login-door





















