
অনলাইন সোমবার২৩সেপ্টেম্বর ২০২৬
বর্তমান সরকার, সরকারের মন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং আমলা মহলে যারা লাগামহীন ও হঠকারী বক্তব্য দিয়ে বেড়াচ্ছেন, তাদের প্রতি স্পষ্ট হুশিয়ারি উচ্চারণ করা প্রয়োজন।
এই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অবাস্তব কথাবার্তা অবিলম্বে বন্ধ করুন।
বাংলার মাটিতে শেখ হাসিনার ফাঁসি হবে না এবং তাঁর কোনো একজন নেতাকর্মীরও ফাঁসি হওয়ার কোনো আইনি সুযোগ নেই।
বরং উল্টো এই সরকারের ভেতরের এমন বহু বিতর্কিত ও মামলার আসামি ব্যক্তিরা রয়েছেন, যাদের নিজেদের বিরুদ্ধেই গুরুতর অভিযোগ ও ফাঁসিযোগ্য অপরাধের মামলা রয়েছে—তাদেরই একটা অংশকে নিয়ে আজ সরকার গঠন করা হয়েছে।
আপনারা যদি এই ধরনের লাগামহীন ও প্ররোচনামূলক কথা বলে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতে থাকেন, তবে একদিন দেশের ক্ষুব্ধ জনতা আপনাদেরকেই ধাওয়া করে কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে এবং আইন অনুযায়ী বিচারের মুখোমুখি করবে।
কার সাথে আগলা কথা বলছেন, কার সাথে লাগামছাড়া আচরণ করছেন—তা ভালো করে বুঝে নিন।
রাষ্ট্র চলে আইন ও সংবিধানের নিয়মে, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর আবেগ, স্লোগান বা হুঙ্কারে নয়।
আসুন, একটু ঠান্ডা মাথায় দেশের আইন, সংবিধান, আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং ইতিহাস বিশ্লেষণ করে দেখি কেন কাউকে জোর করে বা বিচার ছাড়াই সরাসরি ফাঁসি দেওয়া আইনগতভাবে অসম্ভব।
বাংলাদেশের আইনি ইতিহাসে নারীর ফাঁসি কার্যকরের শূন্য রেকর্ড
শুরুতেই আমাদের দেশের একটি ঐতিহাসিক আইনি সত্য জানা দরকার।
১৯৭৪ সাল থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত—স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে বিচারিক প্রক্রিয়ায় বহু নারী অপরাধীকে মৃত্যুদণ্ড বা ফাঁসির রায় দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু নির্মম বা চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের দায়ে নিম্ন আদালতে ফাঁসির আদেশ হলেও, আপিল বিভাগ, উচ্চ আদালত কিংবা রাষ্ট্রপতির ক্ষমার মারপ্যাচে আজ পর্যন্ত কোনো একজন নারী আসামিরও ফাঁসি কার্যকর করা হয়নি।
যে দেশে গত পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ে সাধারণ বা দাগী অপরাধের দায়েও কোনো নারীর ফাঁসি কার্যকর করার ইতিহাস নেই, সে দেশের একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও নারী নেত্রীকে নিয়ে হুট করে “সরাসরি ফাঁসি” দেওয়ার কথা বলা নিছক রাজনৈতিক জনরোষ বা অতি আবেগ ছাড়া আর কিছুই নয়।
বিচারহীনতা ও বিচারবহির্ভূত শাস্তির সাংবিধানিক নিষেধাজ্ঞা
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি নাগরিকের আইনগত সুরক্ষা এবং যথাযথ বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
অপরাধ যত গুরুতরই হোক না কেন, প্রজাতন্ত্রের আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তিকে ট্রায়াল বা বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করে সরাসরি কোনো শাস্তি দেওয়া সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক ও অবৈধ।
কাউকে অপরাধী সাব্যস্ত করতে হলে আদালতে সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করতে হয়, আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনের আইনি সুযোগ থাকতে হয় এবং বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর উচ্চ আদালতের চূড়ান্ত অনুমোদন বা ডেথ রেফারেন্স লাগবে।
সুতরাং, রাস্তাঘাটে, গণমাধ্যমে বা জনসভায় চিৎকার করে কাউকে ধরে এনে সরাসরি ফাঁসির মঞ্চে ঝুলিয়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ দেশের প্রচলিত ফৌজদারি কার্যবিধিতে নেই।
আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও ভারত-বাংলাদেশ বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি
বর্তমান বাস্তবতায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন।
তাঁকে দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তির মুখোমুখি করার বিষয়টি কেবল ইচ্ছা বা দাবির ওপর নির্ভর করে না; এটি সম্পূর্ণভাবে আন্তর্জাতিক আইন এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে।
এই চুক্তির নিয়ম অনুযায়ী, হুট করে চাইলেই কাউকে জবরদস্তি করে সীমান্ত পার করে বা তুলে আনা যায় না।
কোনো ব্যক্তিকে ফিরিয়ে আনতে হলে সুনির্দিষ্ট আইনি নথিপত্র দিয়ে ভারতের আদালতে আইনি লড়াই জিততে হয়।
ভারত সরকার বা ভারতীয় আদালত যদি মনে করে যে বিচার প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা আন্তর্জাতিক মানের নিরপেক্ষতার ঘাটতি রয়েছে, তবে তারা সেই প্রত্যর্পণ আটকে দিতে পারে।
ফলে, কেউ যদি মনে করেন যে রাতারাতি অন্য দেশ থেকে কাউকে ধরে এনে ফাঁসি দিয়ে দেওয়া সম্ভব, তবে তা আন্তর্জাতিক কূটনীতির বাস্তবতায় সম্পূর্ণ অসম্ভব এবং একধরনের অবাস্তব মিথ্যা প্রচারণা।
আইনি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা ও আপিলের অধিকার
আইন অনুযায়ী যদি কোনো আদালতে কারও বিরুদ্ধে চূড়ান্ত রায় বা ফাঁসির আদেশও হয়, তবুও তার আইনি পথ শেষ হয়ে যায় না।
দণ্ডিত ব্যক্তির উচ্চ আদালতে (আপিল বিভাগে) আপিল করার সাংবিধানিক অধিকার থাকে এবং আপিলেও রায় বহাল থাকলে মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা বা ক্ষমা প্রার্থনার সুযোগ থাকে।
এই দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে কাউকে ফাঁসি দেওয়ার কোনো আইনি এখতিয়ার রাষ্ট্রের কোনো কর্তৃপক্ষের নেই।
অতি উৎসাহী প্রচারণার অবাস্তবতা বনাম আইনের শাসন
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বা অতি উৎসাহী জনতা অনেক সময় চটকদার ও আবেগঘন কথাবার্তা বলে থাকে।
কিন্তু রাষ্ট্র চলে আইনের নিয়মে, কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির আবেগ বা জনরোষের ওপর ভিত্তি করে নয়।
একটি গণতান্ত্রিক ও সভ্য রাষ্ট্রব্যবস্থায় প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে বিচারবহির্ভূত পন্থায় কিছু করা হলে তা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে এবং আইনের শাসনকে পুরোপুরি ধ্বংস করে।
উপসংহার
পরিশেষে বলা যায়, শেখ হাসিনাকে ঘিরে বা যেকোনো হাই-প্রোফাইল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে নিয়ে জনসমক্ষে যেসব অতি উত্তেজনাকর কথা বলা হয়, তার সঙ্গে আইনি ও ঐতিহাসিক বাস্তবতার কোনো মিল নেই।
ইতিহাসের পাতা সাক্ষ্য দেয় যে বাংলাদেশে নারী ফাঁসির কোনো নজির যেমন নেই, তেমনি আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও দেশের সংবিধানের বেড়াজাল ভেদ করে কাউকে “সরাসরি ফাঁসি” দেওয়ার কোনো আইনি পথও খোলা নেই।
জনগণকে এই সত্য ও আইনি জটিলতাগুলো পরিষ্কারভাবে জানানো উচিত, যাতে কেউ ভুল বা অবাস্তব প্রত্যাশার মোহে বিভ্রান্ত না হন।
রাষ্ট্র চলবে সংবিধানের ধারায়, আইনের শাসন এবং স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই কেবল প্রকৃত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব।
বিশেষ ঘোষণা: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুব শীঘ্রই এই বাংলাদেশে আসবে ইনশাআল্লাহ।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্য সবাই দোয়া করবেন।
সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকবেন।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু!
আমিন ভাই এগিয়ে যাও’s Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।





















