
শেখ হাসিনার নিরাপত্তা নিশ্চিতে ভারতের বিশেষ উদ্যোগ, নেপথ্যে কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ: দ্য ডিপ্লোম্যাট!
বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়ে নতুন এক কূটনৈতিক সমীকরণ সামনে এসেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ডিপ্লোম্যাট’-এর এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, শেখ হাসিনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত পর্দার আড়ালে বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করছে।
প্রতিবেদনের মূল তথ্য:-‘দ্য ডিপ্লোম্যাট’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত শেখ হাসিনাকে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর পক্ষে নয়। বরং দিল্লি চায় একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত হওয়ার পরই তাঁর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে। এই প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত এখন ইউরোপীয় দেশগুলোকে যুক্ত করার কৌশল নিয়েছে।
কেন ইউরোপীয় দেশগুলোকে যুক্ত করা হচ্ছে? কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার ওপর বর্তমানে আন্তর্জাতিক চাপের পাশাপাশি বাংলাদেশে তাঁর বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার দাবি জোরালো হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ভারত যদি সরাসরি তাঁকে সুরক্ষা দেয়, তবে তা বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে দিল্লির সম্পর্কের অবনতি ঘটাতে পারে। এই ঝুঁকি এড়াতে এবং শেখ হাসিনার জন্য একটি নিরাপদ গন্তব্য (সম্ভাব্য তৃতীয় কোনো দেশে রাজনৈতিক আশ্রয়) নিশ্চিত করতে ভারত ইউরোপীয় দেশগুলোর কূটনৈতিক সমর্থন ও সহযোগিতা চাইছে।
ভারতের নতুন কৌশল ও রাজনৈতিক বার্তা:-প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, শেখ হাসিনাকে নিয়ে ভারত কোনো তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নিতে চায় না। ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এমন একটি পথ খুঁজছে যেখানে শেখ হাসিনার সম্মান ও নিরাপত্তা বজায় থাকবে, আবার বাংলাদেশের নতুন প্রশাসনের সঙ্গেও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বড় কোনো ক্ষতি হবে না।
কূটনৈতিক পাড়ায় নতুন হিসাব-নিকাশ:-ইউরোপীয় দেশগুলোর এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়া বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন মোড় নিতে পারে। যদি কোনো ইউরোপীয় দেশ শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক আশ্রয় দিতে সম্মত হয়, তবে ভারতের ওপর থেকে বড় একটি কূটনৈতিক বোঝা নেমে যাবে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই পদক্ষেপকে দিল্লির একটি দূরদর্শী ‘ডিপ্লোম্যাটিক মুভ’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং তাঁর পরবর্তী গন্তব্য নিয়ে বিশ্বরাজনীতিতে যে নতুন হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে, ‘দ্য ডিপ্লোম্যাট’-এর এই প্রতিবেদনটি তাকে আরও জোরালো করল। এখন দেখার বিষয়, ইউরোপীয় দেশগুলো ভারতের এই প্রস্তাবে কতটা সাড়া দেয় এবং বাংলাদেশের বর্তমান সরকার এই আন্তর্জাতিক তৎপরতাকে কীভাবে গ্রহণ করে





















