, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে রাহুল-মমতারা মিছিল করে যাবেন সুপ্রিম কোর্টে,মিছিলে গোটা ভারত হাঁটবে। সোমবার দিল্লি পুলিশ পরীক্ষায় রোটন তাঁর বাবার চেহলাম আয়োজনে ও বাধা ফজলে করিম চৌধুরী! আমাদের বিড়ি টানা,হাতাকাটা জামা পরার উপর যতক্ষণ না আক্রমণ আসবে ততোক্ষণ ? এই মানুষ এভাবে পচে গেল কেন? অবশেষে ডিপ স্টেট এবং ইউনূস ও খলিল সাহেবদের সাকসেস! রোটন ভাইয়ের জানাজা পড়তে যাওয়া মুসল্লীদের মসজিদ থেকে বের করে, নির্মম নির্যাতন করেছে বিএনপির ক্যাডাররা!! জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম মুসলিম সভাপতি — বদরুদ্দীন তৈয়বজী পাকিস্তানপন্থী খাঁটি মুসলমান ইনকিলাব মঞ্চ বাবা-মায়ের কাছ থেকে যা শিখেছি ত্রপা মজুমদার

সতেরো বছর ধরে আমরা যে ভয় দেখেছি, সেটাই কি আবার অন্য রূপে ফিরে আসছে?

  • প্রকাশের সময় : ১২:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬
  • ৫৭ পড়া হয়েছে
অনলাইন রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬
সতেরো বছর ধরে আমরা যে ভয় দেখেছি, সেটাই কি আবার অন্য রূপে ফিরে আসছে?
সতেরো বছর বাংলাদেশের রাজনীতি খুব কাছ থেকে দেখেছি। শেখ হাসিনার সরকারের মতো এত শক্তিশালী, এত প্রভাবশালী কোনো সরকার আমার চোখে পড়েনি।
তখন মনে হতো—রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠান যেন ক্ষমতাকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে। পুলিশ, র‍্যাব, প্রশাসন—সবকিছু মিলিয়ে এমন একটা পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, যেখানে সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলাটাই অনেকের কাছে ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
মানুষ ফেসবুকে কী লিখছে, কী বলছে, কার বিরুদ্ধে কথা বলছে—এসব নিয়েও আতঙ্ক ছিল।
২০২৪ এলো।মানুষ সেই ভয় ভেঙে রাস্তায় নেমেছিল
হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ দিয়েছে।
হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছে।
অনেকে চিরদিনের জন্য শরীরের অঙ্গ হারিয়েছে।
কেন?
একটা মানুষের মতো বাঁচার জন্য।
একটা স্বাধীন দেশের নাগরিক হওয়ার জন্য।
নিজের কথা বলার অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য।
কিন্তু আজ এই ছবিগুলো দেখার পর আবারও বুকের ভেতর একটা প্রশ্ন জেগে উঠছে।
ছবিতে যে নারীকে দেখা যাচ্ছে, তিনি নিজের অভিযোগ বা অধিকার নিয়ে কথা বলছিলেন—আর তাঁকে ঘিরে যে মারধর, ধস্তাধস্তি ও হয়রানির দৃশ্য দেখা যাচ্ছে, সেটি যদি সত্যিই তাঁর অভিযোগ করার কারণেই হয়ে থাকে, তাহলে প্রশ্নটা শুধু ওই একজন নারীকে নিয়ে নয়।
প্রশ্নটা পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ে।
একজন সাধারণ নাগরিক অভিযোগ করবে—এটাই তো তার অধিকার।
সে ভুলও হতে পারে।
তার অভিযোগ ভিত্তিহীনও হতে পারে।
কিন্তু তার বিচার করবে আইন, কোনো দলীয় কর্মী, হকার্স গ্রুপ, প্রভাবশালী ব্যক্তি কিংবা রাস্তায় থাকা কোনো গোষ্ঠী নয়।
আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই।
আর সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হলো—যদি একজন নারীকে প্রকাশ্য রাস্তায়, পুলিশের উপস্থিতিতে এভাবে মারধর করা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তা চাইবে কার কাছে?
যে পুলিশের সামনে ঘটনা ঘটছে, সেই পুলিশের কাছেই?
নাকি পুলিশের চোখের সামনে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের ভিডিও করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে বিচার চাইবে?
এখানেই ২০২৪-এর প্রশ্নটা আবার ফিরে আসে।আমরা আসলে কী চেয়েছিলাম?
একজন শাসককে সরিয়ে আরেকজন শাসক বসানো?একটি দলকে সরিয়ে আরেকটি দলকে ক্ষমতায় আনা?নাকি আমরা চেয়েছিলাম এমন একটি বাংলাদেশ—
যেখানে একজন সাধারণ মানুষ ক্ষমতাবানকে প্রশ্ন করতে পারবে।যেখানে একজন নারী তার অভিযোগ নিয়ে দাঁড়াতে পারবে।
যেখানে পুলিশ তাকে রক্ষা করবে।
যেখানে অপরাধীর পরিচয় নয়, অপরাধটাই গুরুত্বপূর্ণ হবে।
যেখানে কোনো রাজনৈতিক পরিচয়, কোনো দলীয় ছত্রছায়া কিংবা কোনো গোষ্ঠীর শক্তি আইনের চেয়ে বড় হবে না।
শেখ হাসিনার সময় যদি রাষ্ট্রের শক্তি মানুষের কণ্ঠ বন্ধ করার জন্য ব্যবহার হয়ে থাকে—তাহলে আজ রাষ্ট্রের সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হলো, সেই একই সংস্কৃতি যেন অন্য কোনো রূপে ফিরে না আসে।
কারণ স্বৈরাচার শুধু একজন মানুষের নাম নয়।
স্বৈরাচার একটি মানসিকতা।
আজ যদি আমরা শুধু শাসকের মুখ পরিবর্তন করি, কিন্তু মানুষের ওপর ক্ষমতার দাপট, ভয় দেখানো, অন্যায়ের প্রতিবাদকারীর ওপর হামলা—এসব বন্ধ করতে না পারি, তাহলে ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না।
২০২৪-এ যারা রাস্তায় প্রাণ দিয়েছে, তারা কোনো নতুন অত্যাচারী তৈরি করার জন্য প্রাণ দেয়নি।
তারা চেয়েছিল-
মানুষ যেন ভয় ছাড়া কথা বলতে পারে।
মানুষ যেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারে।
মানুষ যেন আইনের আশ্রয় নিতে পারে।
একজন সাধারণ নাগরিক যেন ক্ষমতাবানের সামনে মাথা নত করতে বাধ্য না হয়।
তাই আজ প্রশ্ন একটাই—
ক্ষমতার মানুষ বদলেছে, কিন্তু ক্ষমতার চরিত্র কি বদলেছে?
যদি বদলে থাকে—তাহলে প্রমাণ করতে হবে মানুষের অধিকার রক্ষা করে।
যদি সত্যিই ২০২৪-এর আত্মত্যাগকে সম্মান করি—তাহলে কোনো নারী, কোনো পুরুষ, কোনো সাধারণ নাগরিককে আর কখনো তার ন্যায্য কথা বলার অপরাধে রাস্তায় অপমানিত, নির্যাতিত বা মারধরের শিকার হতে দেওয়া যাবে না।
বাংলাদেশ কারও বাবার সম্পত্তি নয়।
বাংলাদেশ কোনো দলের সম্পত্তি নয়।
বাংলাদেশ কোনো গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়।
বাংলাদেশ তার মানুষের।
আর মানুষের সবচেয়ে বড় অধিকার—
ভয় ছাড়া কথা বলা।
ন্যায়ের জন্য দাঁড়ানো।
এবং আইনের কাছে সমান থাকা।
২০২৪-এর রক্তের কাছে আমাদের ঋণ আছে।
সেই ঋণ ক্ষমতার চেয়ার দিয়ে শোধ হবে না।
সেই ঋণ শোধ হবে—যেদিন একজন সাধারণ মানুষ সত্যিই বলতে পারবে-
আমি স্বাধীন।
Saydul Islam Sayed’s Post
 মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।
জনপ্রিয়

গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে

সতেরো বছর ধরে আমরা যে ভয় দেখেছি, সেটাই কি আবার অন্য রূপে ফিরে আসছে?

প্রকাশের সময় : ১২:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬
অনলাইন রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬
সতেরো বছর ধরে আমরা যে ভয় দেখেছি, সেটাই কি আবার অন্য রূপে ফিরে আসছে?
সতেরো বছর বাংলাদেশের রাজনীতি খুব কাছ থেকে দেখেছি। শেখ হাসিনার সরকারের মতো এত শক্তিশালী, এত প্রভাবশালী কোনো সরকার আমার চোখে পড়েনি।
তখন মনে হতো—রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠান যেন ক্ষমতাকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে। পুলিশ, র‍্যাব, প্রশাসন—সবকিছু মিলিয়ে এমন একটা পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, যেখানে সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলাটাই অনেকের কাছে ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
মানুষ ফেসবুকে কী লিখছে, কী বলছে, কার বিরুদ্ধে কথা বলছে—এসব নিয়েও আতঙ্ক ছিল।
২০২৪ এলো।মানুষ সেই ভয় ভেঙে রাস্তায় নেমেছিল
হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ দিয়েছে।
হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছে।
অনেকে চিরদিনের জন্য শরীরের অঙ্গ হারিয়েছে।
কেন?
একটা মানুষের মতো বাঁচার জন্য।
একটা স্বাধীন দেশের নাগরিক হওয়ার জন্য।
নিজের কথা বলার অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য।
কিন্তু আজ এই ছবিগুলো দেখার পর আবারও বুকের ভেতর একটা প্রশ্ন জেগে উঠছে।
ছবিতে যে নারীকে দেখা যাচ্ছে, তিনি নিজের অভিযোগ বা অধিকার নিয়ে কথা বলছিলেন—আর তাঁকে ঘিরে যে মারধর, ধস্তাধস্তি ও হয়রানির দৃশ্য দেখা যাচ্ছে, সেটি যদি সত্যিই তাঁর অভিযোগ করার কারণেই হয়ে থাকে, তাহলে প্রশ্নটা শুধু ওই একজন নারীকে নিয়ে নয়।
প্রশ্নটা পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ে।
একজন সাধারণ নাগরিক অভিযোগ করবে—এটাই তো তার অধিকার।
সে ভুলও হতে পারে।
তার অভিযোগ ভিত্তিহীনও হতে পারে।
কিন্তু তার বিচার করবে আইন, কোনো দলীয় কর্মী, হকার্স গ্রুপ, প্রভাবশালী ব্যক্তি কিংবা রাস্তায় থাকা কোনো গোষ্ঠী নয়।
আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই।
আর সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হলো—যদি একজন নারীকে প্রকাশ্য রাস্তায়, পুলিশের উপস্থিতিতে এভাবে মারধর করা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তা চাইবে কার কাছে?
যে পুলিশের সামনে ঘটনা ঘটছে, সেই পুলিশের কাছেই?
নাকি পুলিশের চোখের সামনে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের ভিডিও করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে বিচার চাইবে?
এখানেই ২০২৪-এর প্রশ্নটা আবার ফিরে আসে।আমরা আসলে কী চেয়েছিলাম?
একজন শাসককে সরিয়ে আরেকজন শাসক বসানো?একটি দলকে সরিয়ে আরেকটি দলকে ক্ষমতায় আনা?নাকি আমরা চেয়েছিলাম এমন একটি বাংলাদেশ—
যেখানে একজন সাধারণ মানুষ ক্ষমতাবানকে প্রশ্ন করতে পারবে।যেখানে একজন নারী তার অভিযোগ নিয়ে দাঁড়াতে পারবে।
যেখানে পুলিশ তাকে রক্ষা করবে।
যেখানে অপরাধীর পরিচয় নয়, অপরাধটাই গুরুত্বপূর্ণ হবে।
যেখানে কোনো রাজনৈতিক পরিচয়, কোনো দলীয় ছত্রছায়া কিংবা কোনো গোষ্ঠীর শক্তি আইনের চেয়ে বড় হবে না।
শেখ হাসিনার সময় যদি রাষ্ট্রের শক্তি মানুষের কণ্ঠ বন্ধ করার জন্য ব্যবহার হয়ে থাকে—তাহলে আজ রাষ্ট্রের সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হলো, সেই একই সংস্কৃতি যেন অন্য কোনো রূপে ফিরে না আসে।
কারণ স্বৈরাচার শুধু একজন মানুষের নাম নয়।
স্বৈরাচার একটি মানসিকতা।
আজ যদি আমরা শুধু শাসকের মুখ পরিবর্তন করি, কিন্তু মানুষের ওপর ক্ষমতার দাপট, ভয় দেখানো, অন্যায়ের প্রতিবাদকারীর ওপর হামলা—এসব বন্ধ করতে না পারি, তাহলে ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না।
২০২৪-এ যারা রাস্তায় প্রাণ দিয়েছে, তারা কোনো নতুন অত্যাচারী তৈরি করার জন্য প্রাণ দেয়নি।
তারা চেয়েছিল-
মানুষ যেন ভয় ছাড়া কথা বলতে পারে।
মানুষ যেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারে।
মানুষ যেন আইনের আশ্রয় নিতে পারে।
একজন সাধারণ নাগরিক যেন ক্ষমতাবানের সামনে মাথা নত করতে বাধ্য না হয়।
তাই আজ প্রশ্ন একটাই—
ক্ষমতার মানুষ বদলেছে, কিন্তু ক্ষমতার চরিত্র কি বদলেছে?
যদি বদলে থাকে—তাহলে প্রমাণ করতে হবে মানুষের অধিকার রক্ষা করে।
যদি সত্যিই ২০২৪-এর আত্মত্যাগকে সম্মান করি—তাহলে কোনো নারী, কোনো পুরুষ, কোনো সাধারণ নাগরিককে আর কখনো তার ন্যায্য কথা বলার অপরাধে রাস্তায় অপমানিত, নির্যাতিত বা মারধরের শিকার হতে দেওয়া যাবে না।
বাংলাদেশ কারও বাবার সম্পত্তি নয়।
বাংলাদেশ কোনো দলের সম্পত্তি নয়।
বাংলাদেশ কোনো গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়।
বাংলাদেশ তার মানুষের।
আর মানুষের সবচেয়ে বড় অধিকার—
ভয় ছাড়া কথা বলা।
ন্যায়ের জন্য দাঁড়ানো।
এবং আইনের কাছে সমান থাকা।
২০২৪-এর রক্তের কাছে আমাদের ঋণ আছে।
সেই ঋণ ক্ষমতার চেয়ার দিয়ে শোধ হবে না।
সেই ঋণ শোধ হবে—যেদিন একজন সাধারণ মানুষ সত্যিই বলতে পারবে-
আমি স্বাধীন।
Saydul Islam Sayed’s Post
 মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।