, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘সমকামী কর্মকাণ্ডের’ তদন্ত: শহীদুল্লাহ হলে শিবির-ছাত্রদলের সংঘর্ষ, 

  • প্রকাশের সময় : ০৮:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬
  • ৩৮ পড়া হয়েছে
 অনলাইন রবিবার, ০২ আগস্ট,
মুখোমুখি অবস্থানে ইসলামী ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা। আজ রোববার বিকেলে ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলের প্রাধ্যক্ষের কক্ষে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলের প্রাধ্যক্ষের কক্ষে ইসলামী ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতা–কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। হল সংসদের সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ইব্রাহীম খলিলের কক্ষে দুজন অতিথির বিরুদ্ধে ‘সমকামী কর্মকাণ্ডে’ জড়ানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে আজ রোববার বিকেলে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

ঘটনায় দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছে। উভয় পক্ষের দাবি, সংঘর্ষে তাদের কয়েকজন নেতা–কর্মী আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ‘সমকামী কর্মকাণ্ডে’ জড়ানোর অভিযোগের ভিত্তিতে হলের পক্ষ থেকে গঠিত তদন্ত কমিটির কার্যক্রম চলাকালে প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

মোছাদ্দিক আল হক আরও বলেন, একপর্যায়ে প্রভোস্ট অফিসে তারা উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরাও সেখানে অবস্থান নেন। পরে শিবিরের নেতা–কর্মীরা তাঁদের ওপর হামলা চালান। তখন তাঁরা বাইরে ছিলেন। পরে ভেতরে প্রবেশ করলে আবারও তাঁদের ওপর হামলা হয়। এতে ছাত্রদলের কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

তৌকির হাসান আরও বলেন, এরপর ছাত্রদলের সদস্যরা প্রভোস্ট অফিসের সামনে অবস্থান নেন এবং তাঁরা দ্বিতীয় তলায় অবস্থান করেন। এ সময় ছাত্রদল অভিযোগ তোলে, ছাত্রশিবিরের এক সদস্য তাঁদের ছবি তুলেছেন। এ অভিযোগকে কেন্দ্র করে ওই সদস্যের ওপর হামলা চালানো হয়। পরে তাঁরা সবাই প্রভোস্টের কক্ষে আশ্রয় নেন। সেখানে কী ঘটছে, তা ধারণ করার জন্য আবার ভিডিও করা হলে সেটিকে কেন্দ্র করেও ছাত্রদলের সদস্যরা আবার হামলা চালান। ঘটনাস্থলে পাঁচজন হাউস টিউটর উপস্থিত থাকলেও তাঁদের ভূমিকা অত্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ ছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শহীদুল্লাহ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আমিনুল ইসলাম ভূঞা তাৎক্ষণিকভাবে পদত্যাগ করেছেন বলে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদল—উভয় পক্ষই দাবি করেছে। তবে এ বিষয়ে জানতে তাঁর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

ঘটনার বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ইসরাফিল রতন  বলেন, শহীদুল্লাহ হলে দুই পক্ষের মধ্যে সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। হল প্রাধ্যক্ষ বিষয়টি জানালে সঙ্গে সঙ্গে সহকারী প্রক্টরদের নিয়ে একটি মোবাইল টিম ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।

‘আমরা তো পুলিশ নই, তারপরও দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতা করে পরিস্থিতি মোটামুটি শান্ত করা হয়েছে। বর্তমানে ঘটনাটির তদন্ত কার্যক্রম চলছে বলে আমার জানা আছে,’ বলেন তিনি।

হলের প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রক্টর বলেন, শহীদুল্লাহ হলের প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের বিষয়ে প্রশাসনিকভাবে এখনো তিনি নিশ্চিত নন।

জনপ্রিয়

‘সমকামী কর্মকাণ্ডের’ তদন্ত: শহীদুল্লাহ হলে শিবির-ছাত্রদলের সংঘর্ষ, 

প্রকাশের সময় : ০৮:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬
 অনলাইন রবিবার, ০২ আগস্ট,
মুখোমুখি অবস্থানে ইসলামী ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা। আজ রোববার বিকেলে ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলের প্রাধ্যক্ষের কক্ষে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলের প্রাধ্যক্ষের কক্ষে ইসলামী ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতা–কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। হল সংসদের সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ইব্রাহীম খলিলের কক্ষে দুজন অতিথির বিরুদ্ধে ‘সমকামী কর্মকাণ্ডে’ জড়ানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে আজ রোববার বিকেলে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

ঘটনায় দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছে। উভয় পক্ষের দাবি, সংঘর্ষে তাদের কয়েকজন নেতা–কর্মী আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ‘সমকামী কর্মকাণ্ডে’ জড়ানোর অভিযোগের ভিত্তিতে হলের পক্ষ থেকে গঠিত তদন্ত কমিটির কার্যক্রম চলাকালে প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

মোছাদ্দিক আল হক আরও বলেন, একপর্যায়ে প্রভোস্ট অফিসে তারা উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরাও সেখানে অবস্থান নেন। পরে শিবিরের নেতা–কর্মীরা তাঁদের ওপর হামলা চালান। তখন তাঁরা বাইরে ছিলেন। পরে ভেতরে প্রবেশ করলে আবারও তাঁদের ওপর হামলা হয়। এতে ছাত্রদলের কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

তৌকির হাসান আরও বলেন, এরপর ছাত্রদলের সদস্যরা প্রভোস্ট অফিসের সামনে অবস্থান নেন এবং তাঁরা দ্বিতীয় তলায় অবস্থান করেন। এ সময় ছাত্রদল অভিযোগ তোলে, ছাত্রশিবিরের এক সদস্য তাঁদের ছবি তুলেছেন। এ অভিযোগকে কেন্দ্র করে ওই সদস্যের ওপর হামলা চালানো হয়। পরে তাঁরা সবাই প্রভোস্টের কক্ষে আশ্রয় নেন। সেখানে কী ঘটছে, তা ধারণ করার জন্য আবার ভিডিও করা হলে সেটিকে কেন্দ্র করেও ছাত্রদলের সদস্যরা আবার হামলা চালান। ঘটনাস্থলে পাঁচজন হাউস টিউটর উপস্থিত থাকলেও তাঁদের ভূমিকা অত্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ ছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শহীদুল্লাহ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আমিনুল ইসলাম ভূঞা তাৎক্ষণিকভাবে পদত্যাগ করেছেন বলে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদল—উভয় পক্ষই দাবি করেছে। তবে এ বিষয়ে জানতে তাঁর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

ঘটনার বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ইসরাফিল রতন  বলেন, শহীদুল্লাহ হলে দুই পক্ষের মধ্যে সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। হল প্রাধ্যক্ষ বিষয়টি জানালে সঙ্গে সঙ্গে সহকারী প্রক্টরদের নিয়ে একটি মোবাইল টিম ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।

‘আমরা তো পুলিশ নই, তারপরও দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতা করে পরিস্থিতি মোটামুটি শান্ত করা হয়েছে। বর্তমানে ঘটনাটির তদন্ত কার্যক্রম চলছে বলে আমার জানা আছে,’ বলেন তিনি।

হলের প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রক্টর বলেন, শহীদুল্লাহ হলের প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের বিষয়ে প্রশাসনিকভাবে এখনো তিনি নিশ্চিত নন।