, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে রাহুল-মমতারা মিছিল করে যাবেন সুপ্রিম কোর্টে,মিছিলে গোটা ভারত হাঁটবে। সোমবার দিল্লি পুলিশ পরীক্ষায় রোটন তাঁর বাবার চেহলাম আয়োজনে ও বাধা ফজলে করিম চৌধুরী! আমাদের বিড়ি টানা,হাতাকাটা জামা পরার উপর যতক্ষণ না আক্রমণ আসবে ততোক্ষণ ? এই মানুষ এভাবে পচে গেল কেন? অবশেষে ডিপ স্টেট এবং ইউনূস ও খলিল সাহেবদের সাকসেস! রোটন ভাইয়ের জানাজা পড়তে যাওয়া মুসল্লীদের মসজিদ থেকে বের করে, নির্মম নির্যাতন করেছে বিএনপির ক্যাডাররা!! জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম মুসলিম সভাপতি — বদরুদ্দীন তৈয়বজী পাকিস্তানপন্থী খাঁটি মুসলমান ইনকিলাব মঞ্চ বাবা-মায়ের কাছ থেকে যা শিখেছি ত্রপা মজুমদার

সাদা রঙের পকেট নেই

  • প্রকাশের সময় : ১১:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
  • ২৬ পড়া হয়েছে

অনলাইন শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬

সাদা রঙের পকেট নেই

খামাখা এ জীবন নিয়ে
কেন এত হৈচৈ,
কেন এত বাড়াবাড়ি-
কেন এত কামড়াকামড়ি,
এত চুরি-ধারি, এত বাটপারি?

কিসের জন্য এত দৌড়,
কিসের জন্য এত আয়োজন?
মুঠো মুঠো স্বপ্ন জমিয়ে
কেন এত অহংকার,
কেন এত ক্ষমতার নেশা,
কেন এত সম্পদের পাহাড়?

একবারও কি ভেবে দেখেছ-
সাদা কাফনের কোনো পকেট নেই।
সেখানে রাখা যায় না
এক মুঠো সোনা,
একটি বাড়ির দলিল,
ব্যাংকের চেকবই,
ক্ষমতার চাবি
কিংবা জমানো সম্পদের হিসাব।

তবু মানুষ ছুটে চলে-
অন্ধকারের দিকে,
লোভের দিকে,
অন্যের প্রাপ্য কেড়ে নিয়ে
নিজের ঘর ভরানোর দিকে।

হঠাৎ একদিন-
কিছু লোক হেঁটে যায়
কাঁধে নিয়ে সাদা রং।
সাদা রং বড় ভারী,
চলার ভঙ্গি দেখলেই বোঝা যায়-
সে ভার শুধু কাঠের নয়,
সে ভার এক জীবনের,
সে ভার অসংখ্য অসমাপ্ত গল্পের।

কেউ আর বলে না-
এই মানুষটি কত সম্পদ রেখে গেল,
কত জমি কিনেছিল,
কত টাকা জমিয়েছিল,
কত মানুষকে ঠকিয়েছিল!

শুধু নীরবে হেঁটে যায়
কয়েক জোড়া ক্লান্ত পা,
কাঁধে একটি সাদা কাফন,
আর পেছনে পড়ে থাকে
এক পৃথিবী রঙিন মোহ।

সাদা রং চলে যায়,
যেতে যেতে বলে যায়-
একদিন সব রং
সাদা রঙে মুছে যায়।

লাল রঙের ক্ষমতা,
সবুজ রঙের প্রাচুর্য,
নীল রঙের স্বপ্ন,
সোনালি দিনের অহংকার-
সবশেষে এসে
একই সাদায় মিশে যায়।

যে হাত আজ
অন্যের ঘর ভাঙে,
সেই হাতই একদিন
নিশ্চুপ হয়ে বুকের ওপর পড়ে থাকে।

যে চোখ আজ
লোভে জ্বলে,
সেই চোখ একদিন
চিরঘুমে বন্ধ হয়ে যায়।

যে মুখ আজ
মিথ্যার বাজার বসায়,
সেই মুখ একদিন
কাফনের আড়ালে
চিরতরে নীরব হয়ে যায়।

তাহলে এত কামড়াকামড়ি কেন?
এত হিংসা, এত বিদ্বেষ কেন?
এত চুরি-ধারি, এত বাটপারি কেন?

জীবন তো খুব অল্প-
এক মুঠো শ্বাসের মতো,
এক ফালি বিকেলের আলোর মতো,
একটি পাখির ডানায় ভর করে
কখন যে সন্ধ্যা নামে
বোঝাই যায় না।

তাই এসো-
যতদিন এই পৃথিবীতে
রঙিন জীবন হাতে আছে,
ততদিন মানুষকে ভালোবাসি,
অন্যের মুখে হাসি ফোটাই,
কারও অশ্রুর কারণ না হই।

কারণ শেষ যাত্রায়
কেউ একা যায় না-
সঙ্গে যায় শুধু
কিছু মানুষের ভালোবাসা,
কিছু মানুষের অশ্রু
আর কাঁধে ওঠে
সেই চিরচেনা-

সাদা রং।

সাদা রং ভারী,
খুব ভারী-
কারণ তার ভেতরে লুকিয়ে থাকে
একটি জীবনের সমস্ত হিসাব।

আর আশ্চর্য-
সেই সাদা রঙের
কোনো পকেট নেই।

টিটন /উত্তরা /১৮.০৮.২০২৬

জনপ্রিয়

গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে

সাদা রঙের পকেট নেই

প্রকাশের সময় : ১১:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

অনলাইন শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬

সাদা রঙের পকেট নেই

খামাখা এ জীবন নিয়ে
কেন এত হৈচৈ,
কেন এত বাড়াবাড়ি-
কেন এত কামড়াকামড়ি,
এত চুরি-ধারি, এত বাটপারি?

কিসের জন্য এত দৌড়,
কিসের জন্য এত আয়োজন?
মুঠো মুঠো স্বপ্ন জমিয়ে
কেন এত অহংকার,
কেন এত ক্ষমতার নেশা,
কেন এত সম্পদের পাহাড়?

একবারও কি ভেবে দেখেছ-
সাদা কাফনের কোনো পকেট নেই।
সেখানে রাখা যায় না
এক মুঠো সোনা,
একটি বাড়ির দলিল,
ব্যাংকের চেকবই,
ক্ষমতার চাবি
কিংবা জমানো সম্পদের হিসাব।

তবু মানুষ ছুটে চলে-
অন্ধকারের দিকে,
লোভের দিকে,
অন্যের প্রাপ্য কেড়ে নিয়ে
নিজের ঘর ভরানোর দিকে।

হঠাৎ একদিন-
কিছু লোক হেঁটে যায়
কাঁধে নিয়ে সাদা রং।
সাদা রং বড় ভারী,
চলার ভঙ্গি দেখলেই বোঝা যায়-
সে ভার শুধু কাঠের নয়,
সে ভার এক জীবনের,
সে ভার অসংখ্য অসমাপ্ত গল্পের।

কেউ আর বলে না-
এই মানুষটি কত সম্পদ রেখে গেল,
কত জমি কিনেছিল,
কত টাকা জমিয়েছিল,
কত মানুষকে ঠকিয়েছিল!

শুধু নীরবে হেঁটে যায়
কয়েক জোড়া ক্লান্ত পা,
কাঁধে একটি সাদা কাফন,
আর পেছনে পড়ে থাকে
এক পৃথিবী রঙিন মোহ।

সাদা রং চলে যায়,
যেতে যেতে বলে যায়-
একদিন সব রং
সাদা রঙে মুছে যায়।

লাল রঙের ক্ষমতা,
সবুজ রঙের প্রাচুর্য,
নীল রঙের স্বপ্ন,
সোনালি দিনের অহংকার-
সবশেষে এসে
একই সাদায় মিশে যায়।

যে হাত আজ
অন্যের ঘর ভাঙে,
সেই হাতই একদিন
নিশ্চুপ হয়ে বুকের ওপর পড়ে থাকে।

যে চোখ আজ
লোভে জ্বলে,
সেই চোখ একদিন
চিরঘুমে বন্ধ হয়ে যায়।

যে মুখ আজ
মিথ্যার বাজার বসায়,
সেই মুখ একদিন
কাফনের আড়ালে
চিরতরে নীরব হয়ে যায়।

তাহলে এত কামড়াকামড়ি কেন?
এত হিংসা, এত বিদ্বেষ কেন?
এত চুরি-ধারি, এত বাটপারি কেন?

জীবন তো খুব অল্প-
এক মুঠো শ্বাসের মতো,
এক ফালি বিকেলের আলোর মতো,
একটি পাখির ডানায় ভর করে
কখন যে সন্ধ্যা নামে
বোঝাই যায় না।

তাই এসো-
যতদিন এই পৃথিবীতে
রঙিন জীবন হাতে আছে,
ততদিন মানুষকে ভালোবাসি,
অন্যের মুখে হাসি ফোটাই,
কারও অশ্রুর কারণ না হই।

কারণ শেষ যাত্রায়
কেউ একা যায় না-
সঙ্গে যায় শুধু
কিছু মানুষের ভালোবাসা,
কিছু মানুষের অশ্রু
আর কাঁধে ওঠে
সেই চিরচেনা-

সাদা রং।

সাদা রং ভারী,
খুব ভারী-
কারণ তার ভেতরে লুকিয়ে থাকে
একটি জীবনের সমস্ত হিসাব।

আর আশ্চর্য-
সেই সাদা রঙের
কোনো পকেট নেই।

টিটন /উত্তরা /১৮.০৮.২০২৬