
অনলাইন মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সৈয়দা রুবাবা রহমানের অবৈধ সাম্রাজ্য ও পতনের কাহিনী!!
১. সাবেক স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার অতি ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের স্ত্রী হলেন এই সৈয়দা রুবাবা রহমান।
২. এই দম্পতির বড় সন্তান তথা একমাত্র কন্যা হলেন শামায়লা নারমিন ফজলুর রহমান, যিনি লন্ডনের বিখ্যাত ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (UCL) থেকে আইনে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছিলেন।
৩. কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, শিক্ষা জীবন শেষ করার ঠিক পরপরই ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর লন্ডনে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি অকালেই মৃত্যুবরণ করেন।
৪. পরবর্তীতে তাঁর মরদেহ লন্ডন থেকে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয় এবং ঢাকার আজিমপুর কবরস্থানে পারিবারিক সারিতে সমাহিত করা হয়।
৫. এই দম্পতির অন্য সন্তান অর্থাৎ একমাত্র ছোট ছেলে শায়ান রহমান একজন ব্রিটিশ নাগরিক এবং তিনি বিয়ে করেছেন বিএনপি থেকে পদত্যাগ করা সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোর্শেদ খানের কন্যা শাজরেহ রহমানকে।
৬. এত বড় কন্যাসন্তান হারানোর শোকও এই পরিবারের অর্থলিপসা দমাতে পারেনি, শেখ হাসিনার খপ্পরে পড়ে ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে তাঁরা দেশের মানুষের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটে নিয়েছে।
৭. কিন্তু আজ নিয়তির কী নির্মম পরিহাস, ক্ষমতার সেই বিপুল অন্যায় সাম্রাজ্য আজ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।
৮. দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তে সালমান এফ রহমান, তাঁর স্ত্রী রুবাবা রহমান এবং পরিবারের মোট ৩৭২টি ব্যাংক হিসাবের সন্ধান মিলেছে, যা আদালত সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ বা ফ্রিজ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
৯. রুবাবা রহমানের নিজস্ব ব্যাংক হিসাবগুলোতেও ১০৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন মিলেছে, যা এখন সম্পূর্ণ ক্রোক করা হয়েছে।
১০. তাঁদের পরিবারের মালিকানাধীন ৯৪টি কোম্পানির শেয়ার এবং ৭৯টি বিও (BO) অ্যাকাউন্ট আদালত সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছেন।
১১. দেশ থেকে পাচার করা টাকায় লন্ডনে গড়ে তুলেছিলেন বিলাসবহুল প্রাসাদ, কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি।
১২. যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (NCA) সেন্ট্রাল লন্ডনের অতি অভিনব এলাকা ১৭ গ্রোসভেনর স্কয়ার (17 Grosvenor Square)-এর প্রায় ৬৫ লাখ পাউন্ডের ফ্ল্যাট এবং উত্তর লন্ডনের গ্রেশাম গার্ডেনস (Gresham Gardens)-এর সম্পত্তি ইতিমধ্যেই জব্দ করেছে।
১৩. বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা যায়, এই সৈয়দা রুবাবা রহমান পৃথিবীর নামিদামি ব্র্যান্ডের হিরের গহনা ব্যবহার করতেন; দেশের সাধারণ মানুষ ব্যাংকে কষ্টার্জিত টাকা রাখত, আর সেই টাকা ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করে তারা এই চরম বিলাসিতা করত।
১৪. দেশের মানুষের সাথে এত বড় প্রতারণা করা এই সিন্ডিকেটের প্রত্যেক সদস্যের দৃষ্টান্তমূলক কঠিন শাস্তি হওয়া উচিত।
১৫. দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে রুবাবা রহমানের ওপর ঢাকা সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত দেশত্যাগে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।
১৬. কিন্তু আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে তিনি ও তাঁর ছেলে শায়ান রহমান দেশ ছেড়ে পালিয়ে বর্তমানে বিদেশে আত্মগোপন করে আছেন।
১৭. অন্যদিকে সালমান এফ রহমান পালানোর সময় ধরা পড়ে আজ বাংলাদেশের অন্ধকার কারাগারে বন্দি।
১৮. এত লুটপাট করে লাভ হলো কী? আজ কোটি কোটি টাকার সেই সম্পদ বা লন্ডনের প্রাসাদ কোনো কাজে আসছে না।
১৯. রুবাবা রহমানের নামে ইতিমধ্যেই অর্থ পাচার ও দুর্নীতির মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাঁর দেশত্যাগে কড়া নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তিনি পালিয়ে যাওয়ায় বর্তমান সরকারের উচিত ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাঁকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দেশে ফিরিয়ে আনার সর্বোচ্চ উদ্যোগ নেওয়া।
২০. আজ যদি জেলখানায় সালমান এফ রহমানের মৃত্যু হয়, তবে কারাগার থেকে তাঁর লাশটা নেওয়ার মতো পাশে কোনো আপনজন নেই।
২১. আবার বিদেশে থাকা স্ত্রী-সন্তানের যদি কোনো অঘটন ঘটে বা মারা যায়, তবে এই বন্দিশালা থেকে সালমান এফ রহমান তাঁদের লাশটাও শেষ দেখা দেখতে পারবেন না।
২২. একেই বলে পরিবার থেকে চিরতরে বিচ্ছিন্ন, নিঃসঙ্গ এক অভিশপ্ত জীবন!
২৩. শেখ হাসিনার খপ্পরে পড়ে আজ শুধু দেশের সাধারণ মানুষই সর্বস্বান্ত হয়নি, বরং সৈয়দা রুবাবা রহমানের মতো বহু মানুষের সাজানো সংসার ও পরিবার আজ চিরতরে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে।
২৪. প্রকৃতির প্রতিশোধ সত্যিই বড় ভয়ানক; ক্ষমতার দাপট দেখানো স্বামী আজ অন্ধকার কারাগারে বন্দি, আর পুরো পরিবার আজ দেশ-বিদেশে ফেরারি!!
আমার লেখা ভালো লাগলে দয়া করে লাইক, কমেন্ট, শেয়ার ও ফলো করুন। ধন্যবাদ।
তাছমিনা খন্দকার
লন্ডন
Tasmina Khandoker’s Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।





















