, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে রাহুল-মমতারা মিছিল করে যাবেন সুপ্রিম কোর্টে,মিছিলে গোটা ভারত হাঁটবে। সোমবার দিল্লি পুলিশ পরীক্ষায় রোটন তাঁর বাবার চেহলাম আয়োজনে ও বাধা ফজলে করিম চৌধুরী! আমাদের বিড়ি টানা,হাতাকাটা জামা পরার উপর যতক্ষণ না আক্রমণ আসবে ততোক্ষণ ? এই মানুষ এভাবে পচে গেল কেন? অবশেষে ডিপ স্টেট এবং ইউনূস ও খলিল সাহেবদের সাকসেস! রোটন ভাইয়ের জানাজা পড়তে যাওয়া মুসল্লীদের মসজিদ থেকে বের করে, নির্মম নির্যাতন করেছে বিএনপির ক্যাডাররা!! জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম মুসলিম সভাপতি — বদরুদ্দীন তৈয়বজী পাকিস্তানপন্থী খাঁটি মুসলমান ইনকিলাব মঞ্চ বাবা-মায়ের কাছ থেকে যা শিখেছি ত্রপা মজুমদার

সিন্ডিকেট কর্তৃক গৃহীত বহিষ্কার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ:ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি

  • প্রকাশের সময় : ০৬:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৬১ পড়া হয়েছে

অনলাইন বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সম্প্রতি (৩১-০৮-২০২৬) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট কর্তৃক শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. এম অহিদুজ্জামান,
অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমানকে সাময়িক বহিষ্কার ও তাঁদের বিরুদ্ধে
ট্রাইব্যুনাল গঠনের যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে, এবং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. শবনম জাহানের বিরুদ্ধে যে তদন্ত
কমিটি গঠন করা হয়েছে—তার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বায়ত্তশাসিত
প্রতিষ্ঠান, জ্ঞানচর্চার পীঠস্থান এবং বিভিন্ন মত, পথ, যুক্তি ও দর্শনের কেন্দ্রস্থল। এটি পরিচালিত হয় ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
আদেশ ১৯৭৩’-এর আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রযন্ত্রের নির্দেশে নয়। ১৯৭৩-এর আদেশ অনুযায়ী, প্রতিটি তথ্যানুসন্ধান ও তদন্ত কমিটি
অভিযুক্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে আত্মপক্ষ সমর্থন, স্বীয় বক্তব্য প্রদান এবং অভিযোগ উত্থাপনকারীদের সঙ্গে
সরাসরি বা মুখোমুখি সাক্ষাতকারের মাধ্যমে বক্তব্য খণ্ডনের সুযোগ প্রদানের নীতি অনুসরণ করে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ববর্তী অনির্বাচিত প্রশাসন ভয়াবহ মব সৃষ্টির মাধ্যমে উল্লিখিত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন
অভিযোগ উত্থাপন করেছিল। এ সকল ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগের ভিত্তিতেই পরবর্তীতে গঠিত হয়
তথাকথিত তথ্যানুসন্ধান ও তদন্ত কমিটি। শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষকদ্বয়ের বিরুদ্ধে গঠিত তথ্যানুসন্ধান কমিটি কোনো
উপসংহার বা সিদ্ধান্ত ব্যতিরেকেই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। সিদ্ধান্তহীন এ প্রতিবেদনকে ভিত্তি করে পরবর্তী সিন্ডিকেট যে
তদন্ত কমিটি গঠন করে, তা শুধু বিস্ময়কর নয়, বরং চরম প্রহসনমূলক। তথ্যানুসন্ধান কমিটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের সত্যতা খুঁজে
পেলে কেবল তার ভিত্তিতেই পরবর্তীতে তদন্ত কমিটি গঠিত হতে পারে—এটিই তদন্ত কমিটি গঠনের মূল নিয়ম।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্বোক্ত ও বর্তমান প্রশাসন ১৯৭৩-এর আদেশের এসকল নীতিমালা সামান্যতম অনুসরণ না করে যে তদন্ত
কমিটি গঠন করে চলেছে, তা সম্পূর্ণভাবে প্রহসনমূলক, অস্বচ্ছ এবং নিপীড়নমূলক। তথাকথিত ও জবাবদিহিতাহীন এ সকল তদন্ত
কমিটি হয়ে উঠেছে শিক্ষক নির্যাতনের নতুন হাতিয়ার। অদ্যাবধি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো তদন্ত কমিটিতে অভিযুক্ত শিক্ষক ও
অভিযোগকারীদের মুখোমুখি কথোপকথন, যুক্তিতর্ক উপস্থাপন, তথ্যের সত্যতা যাচাইকরণ বা প্রামাণিকরণের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ
করা হয়নি—যা ১৯৭৩-এর আদেশের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। উপরন্তু, পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটির সকল সদস্যের উপস্থিতি ও মতামত
গ্রহণ করে চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রদানের ন্যূনতম প্রক্রিয়াটিও অনুসরণ করা হয়নি। অভিযুক্ত শিক্ষকদের প্রতিনিধিকে চূড়ান্ত রিপোর্ট
প্রদানের বিষয়টি অবহিত না করে এবং স্বাক্ষর গ্রহণ ব্যতিরেকেই সিন্ডিকেটে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমেই
প্রমাণিত হয় যে, এ সকল কমিটি মূলত ফরমায়েশি কমিটি, কোনো প্রকৃত তদন্ত কমিটি নয়। এ তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পূর্বনির্ধারিত,
পূর্বপরিকল্পিত এবং একপাক্ষিক। প্রহসনমূলক ও অস্বচ্ছ এ সকল তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
সিন্ডিকেট একের পর এক শিক্ষক বরখাস্তের যে কৌশল গ্রহণ করেছে, এটি পূর্ববর্তী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রবর্তিত প্রশাসনিক
মবতন্ত্র ছাড়া আর কিছুই নয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন ১৯৭৩-এর আদেশ লঙ্ঘনের মাধ্যমে শিক্ষক নিপীড়নের যে নিম্নমানের রাজনৈতিক সংস্কৃতির
সূচনা করছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি তাতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। একই সঙ্গে অস্বচ্ছ ও জবাবদিহিতাবিহীন
তথাকথিত তদন্ত কমিটি বাতিলের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ভীতির রাজত্বের অবসান ঘটিয়ে শিক্ষকের মর্যাদা ফিরিয়ে
দেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। দমন, পীড়ন ও বহিষ্কার নয়—মেধার লালন ও গবেষণা চর্চা হোক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম।

জনপ্রিয়

গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে

সিন্ডিকেট কর্তৃক গৃহীত বহিষ্কার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ:ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি

প্রকাশের সময় : ০৬:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অনলাইন বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সম্প্রতি (৩১-০৮-২০২৬) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট কর্তৃক শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. এম অহিদুজ্জামান,
অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমানকে সাময়িক বহিষ্কার ও তাঁদের বিরুদ্ধে
ট্রাইব্যুনাল গঠনের যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে, এবং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. শবনম জাহানের বিরুদ্ধে যে তদন্ত
কমিটি গঠন করা হয়েছে—তার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বায়ত্তশাসিত
প্রতিষ্ঠান, জ্ঞানচর্চার পীঠস্থান এবং বিভিন্ন মত, পথ, যুক্তি ও দর্শনের কেন্দ্রস্থল। এটি পরিচালিত হয় ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
আদেশ ১৯৭৩’-এর আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রযন্ত্রের নির্দেশে নয়। ১৯৭৩-এর আদেশ অনুযায়ী, প্রতিটি তথ্যানুসন্ধান ও তদন্ত কমিটি
অভিযুক্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে আত্মপক্ষ সমর্থন, স্বীয় বক্তব্য প্রদান এবং অভিযোগ উত্থাপনকারীদের সঙ্গে
সরাসরি বা মুখোমুখি সাক্ষাতকারের মাধ্যমে বক্তব্য খণ্ডনের সুযোগ প্রদানের নীতি অনুসরণ করে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ববর্তী অনির্বাচিত প্রশাসন ভয়াবহ মব সৃষ্টির মাধ্যমে উল্লিখিত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন
অভিযোগ উত্থাপন করেছিল। এ সকল ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগের ভিত্তিতেই পরবর্তীতে গঠিত হয়
তথাকথিত তথ্যানুসন্ধান ও তদন্ত কমিটি। শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষকদ্বয়ের বিরুদ্ধে গঠিত তথ্যানুসন্ধান কমিটি কোনো
উপসংহার বা সিদ্ধান্ত ব্যতিরেকেই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। সিদ্ধান্তহীন এ প্রতিবেদনকে ভিত্তি করে পরবর্তী সিন্ডিকেট যে
তদন্ত কমিটি গঠন করে, তা শুধু বিস্ময়কর নয়, বরং চরম প্রহসনমূলক। তথ্যানুসন্ধান কমিটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের সত্যতা খুঁজে
পেলে কেবল তার ভিত্তিতেই পরবর্তীতে তদন্ত কমিটি গঠিত হতে পারে—এটিই তদন্ত কমিটি গঠনের মূল নিয়ম।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্বোক্ত ও বর্তমান প্রশাসন ১৯৭৩-এর আদেশের এসকল নীতিমালা সামান্যতম অনুসরণ না করে যে তদন্ত
কমিটি গঠন করে চলেছে, তা সম্পূর্ণভাবে প্রহসনমূলক, অস্বচ্ছ এবং নিপীড়নমূলক। তথাকথিত ও জবাবদিহিতাহীন এ সকল তদন্ত
কমিটি হয়ে উঠেছে শিক্ষক নির্যাতনের নতুন হাতিয়ার। অদ্যাবধি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো তদন্ত কমিটিতে অভিযুক্ত শিক্ষক ও
অভিযোগকারীদের মুখোমুখি কথোপকথন, যুক্তিতর্ক উপস্থাপন, তথ্যের সত্যতা যাচাইকরণ বা প্রামাণিকরণের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ
করা হয়নি—যা ১৯৭৩-এর আদেশের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। উপরন্তু, পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটির সকল সদস্যের উপস্থিতি ও মতামত
গ্রহণ করে চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রদানের ন্যূনতম প্রক্রিয়াটিও অনুসরণ করা হয়নি। অভিযুক্ত শিক্ষকদের প্রতিনিধিকে চূড়ান্ত রিপোর্ট
প্রদানের বিষয়টি অবহিত না করে এবং স্বাক্ষর গ্রহণ ব্যতিরেকেই সিন্ডিকেটে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমেই
প্রমাণিত হয় যে, এ সকল কমিটি মূলত ফরমায়েশি কমিটি, কোনো প্রকৃত তদন্ত কমিটি নয়। এ তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পূর্বনির্ধারিত,
পূর্বপরিকল্পিত এবং একপাক্ষিক। প্রহসনমূলক ও অস্বচ্ছ এ সকল তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
সিন্ডিকেট একের পর এক শিক্ষক বরখাস্তের যে কৌশল গ্রহণ করেছে, এটি পূর্ববর্তী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রবর্তিত প্রশাসনিক
মবতন্ত্র ছাড়া আর কিছুই নয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন ১৯৭৩-এর আদেশ লঙ্ঘনের মাধ্যমে শিক্ষক নিপীড়নের যে নিম্নমানের রাজনৈতিক সংস্কৃতির
সূচনা করছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি তাতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। একই সঙ্গে অস্বচ্ছ ও জবাবদিহিতাবিহীন
তথাকথিত তদন্ত কমিটি বাতিলের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ভীতির রাজত্বের অবসান ঘটিয়ে শিক্ষকের মর্যাদা ফিরিয়ে
দেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। দমন, পীড়ন ও বহিষ্কার নয়—মেধার লালন ও গবেষণা চর্চা হোক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম।