, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে রাহুল-মমতারা মিছিল করে যাবেন সুপ্রিম কোর্টে,মিছিলে গোটা ভারত হাঁটবে। সোমবার দিল্লি পুলিশ পরীক্ষায় রোটন তাঁর বাবার চেহলাম আয়োজনে ও বাধা ফজলে করিম চৌধুরী! আমাদের বিড়ি টানা,হাতাকাটা জামা পরার উপর যতক্ষণ না আক্রমণ আসবে ততোক্ষণ ? এই মানুষ এভাবে পচে গেল কেন? অবশেষে ডিপ স্টেট এবং ইউনূস ও খলিল সাহেবদের সাকসেস! রোটন ভাইয়ের জানাজা পড়তে যাওয়া মুসল্লীদের মসজিদ থেকে বের করে, নির্মম নির্যাতন করেছে বিএনপির ক্যাডাররা!! জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম মুসলিম সভাপতি — বদরুদ্দীন তৈয়বজী পাকিস্তানপন্থী খাঁটি মুসলমান ইনকিলাব মঞ্চ বাবা-মায়ের কাছ থেকে যা শিখেছি ত্রপা মজুমদার

স্ত্রীর বিসর্জন অনেক পুরুষও সুখ বিসর্জন দেন

  • প্রকাশের সময় : ১১:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ১১ পড়া হয়েছে

অনলাইন বুধবার,০৭ অক্টোবর ২০২৬

বরেণ্য অভিনয়শিল্পী আফজাল হোসেন প্রায়ই ফেসবুকে পোস্ট করেন কীভাবে তার স্ত্রী নিজের মেধা-ক্যারিয়ার বিসর্জন দিয়ে তাকে এবং তার পরিবারকে সামলেছে। সেখানে সুধীজনেরা ধন্য ধন্য করে, স্ত্রীর প্রসংসা এভাবে কয়জন করে। অথচ গল্পটা এমনও হতে পারতো স্ত্রীর সাকসেসে তিনি কীভাবে পাশে ছিলেন। যতদূর জানি ওনার স্ত্রীর একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড এমেজিং লেভেলের।কিন্ত এই সোসাইটিতে স্যাক্রিফাইজিং স্ত্রীর গল্প যত শ্রুতিমধুর, সাকসেসফুল স্ত্রীর গল্প ততটা নয়।
“আমারে স্যার ডাকবা” খ্যাত ফারুক আহমেদ ও গর্ব করেই বলেন যে কীভাবে তার স্ত্রী, “আজ রবিবার” নাটকের সেই ফুলিকে তিনি অভিনয় থেকে সরিয়েছেন। অথচ ফুলিও দাপুটে অভিনেত্রী ছিলেন। ফারুকের চাইতে তার যোগ্যতা কোনো অংশেই কম ছিলো না। ফারুক আহমেদ চাইলেই মিডিয়ার বাইরের সাধারন কাউকে বিয়ে করতে পারতেন। সেটা না করে ক্যারিয়ারে সবে লাইম লাইটে আসতে শুরু করেছে এমন একজনকে বিয়ে করে লাইট থেকেই আড়াল করে নিজে ঠিকই লাইট টা নিয়ে নিলেন। তিনি কি পারতেন না স্ত্রী কে সাপোর্ট দিয়ে তার ক্যারিয়ার কে আরো বিকশিত করতে? কিন্ত ওইযে, স্যাক্রিফাইজিং স্ত্রীর গল্প বলতে বেশি আড়াম…
আবার আমাদের হুমায়ুন আহমেদ, উনিও ভালোবেসে বিয়ে করা স্ত্রী গুলতেকিন খান কে বহুবার ঘা*ড় ধাক্কা দিয়ে বাসা থেকে বের করে দিয়েছেন, একই কাজ করেছেন আমাদের সেল্ফ ক্লেইমড নাম্বার ওয়ান শাকিব খানও। কখনো অপু কখনো বুবলি, কি ঘোলটাই না খাওয়াচ্ছেন সবাইকে…
অন্যদিকে শহীদুজ্জামান সেলিমের মতো জাত অভিনেতা পডকাস্টে এসে বুক ফুলিয়ে চিটিং এর গল্প শুনায়। “আমি এমনই। এটা জেনেই আমাকে এক্সেপ্ট করতে পারলে করো নইলে চলে যাও”। অথচ যে চিট করে তার লজ্জা পাওয়ার কথা ছিলো, অনুতাপ করার কথা ছিলো। ক্ষমা চাওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু ওনারা কর্তা, ওনারা প্রভু, ওনাদের অপরাধ ধরে সাধ্য কার…
এই যে মিথিলা কে এতো গালাগালি করা হয় তাহসানের সাথে ঘর করতে পারলো না বলে, তাহসানের লাইফে আদতে একমাত্র এচিভমেন্টই ছিলো মিথিলা। তাহসানের কাছ থেকে সরার পর স্ক্যান্ডাল(!!) ছাড়াও মিথিলার এচিভমেন্টের অভাব নাই। মিথিলার প্রফেশানের জায়গায় সে পিকে উঠছে, যেই ডিগ্রী পেয়েছে ঐটা পড়াশুনা না করলে পাওয়া সম্ভব না। পিএইচডি আছে।
মিথিলা যাওয়ার পর তাহসানের ভ*ন্ডামি ছাড়া কোনো এচিভমেন্ট নাই। উরাধুরা লাফালাফি করা সি গ্রেডেড কিছু গান আছে, ফ্লপ সিনেমা আছে, ফেইল্ড ম্যারেজ আছে, আর কনসার্টে কনসার্টে খুব সস্তা ইমোশনাল ফা*ত্রামি আছে।
তাহসানের আগেকার ফেমাস গান গুলোর অনেকগুলোরই রাইটার মিথিলা, প্রায় সব গানের কো-রাইটার ও। মানে যে কারণে তাহসান ফেমাস ছিলো সেটাতেও তার নিজের ক্রেডিট পুরোপুরি নাই। তবে তাহসানকে কিন্তু কেউ শেইম করে না মিথিলার সাথে সংসার করতে না পারার জন্য।
এদের কাছে বউ মূলত মানুষ না, বউ একটা লাইফটাইম সার্ভিস প্যাকেজ। আর সেই প্যাকেজ একদিন নিজেই ‘ক্যানসেল’ করতে চাইলে অপরাধী তখনও ঘুরে ফিরে বউই। স্যাক্রিফাইজ করলে বউ ভালো, লক্ষী-গুনী, আর নাহলে সব মিথিলা… এই আরকি…
Sharmin Hridi’s Post
 মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।
Muaz Murshed

লেখাটার মূল প্রশ্নটির সঙ্গে আমি একমত—একজন নারীর মেধা, শিক্ষা বা ক্যারিয়ারকে শুধু “সংসারের জন্য ত্যাগ” করার গল্প হিসেবে romanticise করা উচিত নয়। একজন স্বামীর যেমন স্ত্রীর ত্যাগকে সম্মান করা দরকার, তেমনি স্ত্রীর স্বপ্ন ও বিকাশের পাশেও দাঁড়ানো দরকার।
তবে আলোচনাটা যদি সত্যিই equality নিয়ে হয়, তাহলে আমার মনে হয় বিচারটাও equality দিয়েই হওয়া উচিত। সম্পর্কের ব্যর্থতা, sacrifice, selfishness, cheating কিংবা career compromise—এগুলোর কোনোটাই শুধু একটি gender-এর বৈশিষ্ট্য নয়।
অনেক নারী পুরুষের জন্য ত্যাগ করেন, আবার অনেক পুরুষও স্ত্রী-সন্তান-পরিবারের জন্য নিজের স্বপ্ন, সময়, অর্থ, career opportunity কিংবা ব্যক্তিগত সুখ বিসর্জন দেন—সেই গল্পগুলোও সমানভাবে আলোচনায় আসা উচিত।
একজন নারীর প্রতি হওয়া অন্যায়কে তুলে ধরতে গিয়ে সমস্ত পুরুষকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যেমন ন্যায় নয়, তেমনি একজন পুরুষের ত্যাগ দেখিয়ে নারীর কষ্ট অস্বীকার করাও ন্যায় নয়।
আমার কাছে healthy relationship-এর প্রশ্নটা “কে sacrifice করল—পুরুষ না নারী?” নয়। প্রশ্নটা হলো—দুজন কি একে অপরকে মানুষ হিসেবে দেখেছে? একজনের স্বপ্নের জন্য কি অন্যজনের স্বপ্নকে নিয়মিত মরতে হয়েছে, নাকি দুজন মিলে দুজনের জীবনটাকেই বড় করার চেষ্টা করেছে?
Equality তখনই meaningful, যখন empathy-টাও দুই দিকেই কাজ করে।

lity তখনই meaningful, যখন empathy-টাও দুই দিকেই কাজ করে।

 মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।
জনপ্রিয়

গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে

স্ত্রীর বিসর্জন অনেক পুরুষও সুখ বিসর্জন দেন

প্রকাশের সময় : ১১:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

অনলাইন বুধবার,০৭ অক্টোবর ২০২৬

বরেণ্য অভিনয়শিল্পী আফজাল হোসেন প্রায়ই ফেসবুকে পোস্ট করেন কীভাবে তার স্ত্রী নিজের মেধা-ক্যারিয়ার বিসর্জন দিয়ে তাকে এবং তার পরিবারকে সামলেছে। সেখানে সুধীজনেরা ধন্য ধন্য করে, স্ত্রীর প্রসংসা এভাবে কয়জন করে। অথচ গল্পটা এমনও হতে পারতো স্ত্রীর সাকসেসে তিনি কীভাবে পাশে ছিলেন। যতদূর জানি ওনার স্ত্রীর একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড এমেজিং লেভেলের।কিন্ত এই সোসাইটিতে স্যাক্রিফাইজিং স্ত্রীর গল্প যত শ্রুতিমধুর, সাকসেসফুল স্ত্রীর গল্প ততটা নয়।
“আমারে স্যার ডাকবা” খ্যাত ফারুক আহমেদ ও গর্ব করেই বলেন যে কীভাবে তার স্ত্রী, “আজ রবিবার” নাটকের সেই ফুলিকে তিনি অভিনয় থেকে সরিয়েছেন। অথচ ফুলিও দাপুটে অভিনেত্রী ছিলেন। ফারুকের চাইতে তার যোগ্যতা কোনো অংশেই কম ছিলো না। ফারুক আহমেদ চাইলেই মিডিয়ার বাইরের সাধারন কাউকে বিয়ে করতে পারতেন। সেটা না করে ক্যারিয়ারে সবে লাইম লাইটে আসতে শুরু করেছে এমন একজনকে বিয়ে করে লাইট থেকেই আড়াল করে নিজে ঠিকই লাইট টা নিয়ে নিলেন। তিনি কি পারতেন না স্ত্রী কে সাপোর্ট দিয়ে তার ক্যারিয়ার কে আরো বিকশিত করতে? কিন্ত ওইযে, স্যাক্রিফাইজিং স্ত্রীর গল্প বলতে বেশি আড়াম…
আবার আমাদের হুমায়ুন আহমেদ, উনিও ভালোবেসে বিয়ে করা স্ত্রী গুলতেকিন খান কে বহুবার ঘা*ড় ধাক্কা দিয়ে বাসা থেকে বের করে দিয়েছেন, একই কাজ করেছেন আমাদের সেল্ফ ক্লেইমড নাম্বার ওয়ান শাকিব খানও। কখনো অপু কখনো বুবলি, কি ঘোলটাই না খাওয়াচ্ছেন সবাইকে…
অন্যদিকে শহীদুজ্জামান সেলিমের মতো জাত অভিনেতা পডকাস্টে এসে বুক ফুলিয়ে চিটিং এর গল্প শুনায়। “আমি এমনই। এটা জেনেই আমাকে এক্সেপ্ট করতে পারলে করো নইলে চলে যাও”। অথচ যে চিট করে তার লজ্জা পাওয়ার কথা ছিলো, অনুতাপ করার কথা ছিলো। ক্ষমা চাওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু ওনারা কর্তা, ওনারা প্রভু, ওনাদের অপরাধ ধরে সাধ্য কার…
এই যে মিথিলা কে এতো গালাগালি করা হয় তাহসানের সাথে ঘর করতে পারলো না বলে, তাহসানের লাইফে আদতে একমাত্র এচিভমেন্টই ছিলো মিথিলা। তাহসানের কাছ থেকে সরার পর স্ক্যান্ডাল(!!) ছাড়াও মিথিলার এচিভমেন্টের অভাব নাই। মিথিলার প্রফেশানের জায়গায় সে পিকে উঠছে, যেই ডিগ্রী পেয়েছে ঐটা পড়াশুনা না করলে পাওয়া সম্ভব না। পিএইচডি আছে।
মিথিলা যাওয়ার পর তাহসানের ভ*ন্ডামি ছাড়া কোনো এচিভমেন্ট নাই। উরাধুরা লাফালাফি করা সি গ্রেডেড কিছু গান আছে, ফ্লপ সিনেমা আছে, ফেইল্ড ম্যারেজ আছে, আর কনসার্টে কনসার্টে খুব সস্তা ইমোশনাল ফা*ত্রামি আছে।
তাহসানের আগেকার ফেমাস গান গুলোর অনেকগুলোরই রাইটার মিথিলা, প্রায় সব গানের কো-রাইটার ও। মানে যে কারণে তাহসান ফেমাস ছিলো সেটাতেও তার নিজের ক্রেডিট পুরোপুরি নাই। তবে তাহসানকে কিন্তু কেউ শেইম করে না মিথিলার সাথে সংসার করতে না পারার জন্য।
এদের কাছে বউ মূলত মানুষ না, বউ একটা লাইফটাইম সার্ভিস প্যাকেজ। আর সেই প্যাকেজ একদিন নিজেই ‘ক্যানসেল’ করতে চাইলে অপরাধী তখনও ঘুরে ফিরে বউই। স্যাক্রিফাইজ করলে বউ ভালো, লক্ষী-গুনী, আর নাহলে সব মিথিলা… এই আরকি…
Sharmin Hridi’s Post
 মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।
Muaz Murshed

লেখাটার মূল প্রশ্নটির সঙ্গে আমি একমত—একজন নারীর মেধা, শিক্ষা বা ক্যারিয়ারকে শুধু “সংসারের জন্য ত্যাগ” করার গল্প হিসেবে romanticise করা উচিত নয়। একজন স্বামীর যেমন স্ত্রীর ত্যাগকে সম্মান করা দরকার, তেমনি স্ত্রীর স্বপ্ন ও বিকাশের পাশেও দাঁড়ানো দরকার।
তবে আলোচনাটা যদি সত্যিই equality নিয়ে হয়, তাহলে আমার মনে হয় বিচারটাও equality দিয়েই হওয়া উচিত। সম্পর্কের ব্যর্থতা, sacrifice, selfishness, cheating কিংবা career compromise—এগুলোর কোনোটাই শুধু একটি gender-এর বৈশিষ্ট্য নয়।
অনেক নারী পুরুষের জন্য ত্যাগ করেন, আবার অনেক পুরুষও স্ত্রী-সন্তান-পরিবারের জন্য নিজের স্বপ্ন, সময়, অর্থ, career opportunity কিংবা ব্যক্তিগত সুখ বিসর্জন দেন—সেই গল্পগুলোও সমানভাবে আলোচনায় আসা উচিত।
একজন নারীর প্রতি হওয়া অন্যায়কে তুলে ধরতে গিয়ে সমস্ত পুরুষকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যেমন ন্যায় নয়, তেমনি একজন পুরুষের ত্যাগ দেখিয়ে নারীর কষ্ট অস্বীকার করাও ন্যায় নয়।
আমার কাছে healthy relationship-এর প্রশ্নটা “কে sacrifice করল—পুরুষ না নারী?” নয়। প্রশ্নটা হলো—দুজন কি একে অপরকে মানুষ হিসেবে দেখেছে? একজনের স্বপ্নের জন্য কি অন্যজনের স্বপ্নকে নিয়মিত মরতে হয়েছে, নাকি দুজন মিলে দুজনের জীবনটাকেই বড় করার চেষ্টা করেছে?
Equality তখনই meaningful, যখন empathy-টাও দুই দিকেই কাজ করে।

lity তখনই meaningful, যখন empathy-টাও দুই দিকেই কাজ করে।

 মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।