, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে রাহুল-মমতারা মিছিল করে যাবেন সুপ্রিম কোর্টে,মিছিলে গোটা ভারত হাঁটবে। সোমবার দিল্লি পুলিশ পরীক্ষায় রোটন তাঁর বাবার চেহলাম আয়োজনে ও বাধা ফজলে করিম চৌধুরী! আমাদের বিড়ি টানা,হাতাকাটা জামা পরার উপর যতক্ষণ না আক্রমণ আসবে ততোক্ষণ ? এই মানুষ এভাবে পচে গেল কেন? অবশেষে ডিপ স্টেট এবং ইউনূস ও খলিল সাহেবদের সাকসেস! রোটন ভাইয়ের জানাজা পড়তে যাওয়া মুসল্লীদের মসজিদ থেকে বের করে, নির্মম নির্যাতন করেছে বিএনপির ক্যাডাররা!! জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম মুসলিম সভাপতি — বদরুদ্দীন তৈয়বজী পাকিস্তানপন্থী খাঁটি মুসলমান ইনকিলাব মঞ্চ বাবা-মায়ের কাছ থেকে যা শিখেছি ত্রপা মজুমদার

স্লোগান দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করা যায় না

  • প্রকাশের সময় : ০৯:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
  • ১০৬ পড়া হয়েছে

Mezba Uddin Khan’s Post


অনলাইন ০৪ জুলাই২০২৬
বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনা কখনোই শুধু অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বিষয় নয়; এটি একই সঙ্গে একটি জটিল ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার অংশ। ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং মিয়ানমারকে ঘিরে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তির প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। ফলে যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক, তাকে দেশের জনগণের প্রত্যাশার পাশাপাশি বহির্বিশ্বের নানামুখী কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপও সামাল দিতে হয়।
এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করে শুধুমাত্র অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ব্যর্থতা বা সাফল্যের ভিত্তিতে কোনো সরকারকে মূল্যায়ন করলে পূর্ণ চিত্রটি ধরা পড়ে না। শেখ হাসিনার সরকারের সময়ও এই চাপ ছিল, আর বর্তমান সরকারের সামনেও একই ধরনের চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। পার্থক্য শুধু পরিস্থিতির রূপে; বাস্তবতা একই—বাংলাদেশকে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন পরাশক্তির স্বার্থের ভারসাম্য রক্ষা করে চলতে হচ্ছে।
আজ যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন, তারাও ক্রমেই উপলব্ধি করছেন যে বিরোধী দলে থেকে রাষ্ট্র পরিচালনা নিয়ে বক্তব্য দেওয়া যত সহজ, বাস্তবে সিদ্ধান্ত নেওয়া ততটাই কঠিন। উন্নয়ন, বৈদেশিক বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা, রপ্তানি বাজার, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নে কোনো একক শক্তির ওপর নির্ভর করে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। প্রতিটি সিদ্ধান্তের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে আন্তর্জাতিক সমীকরণ।
বর্তমান সরকারকে নিয়েও বিভিন্ন রাজনৈতিক মূল্যায়ন রয়েছে। সমর্থকদের মতে তারা নতুন দিকনির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করছে, আবার সমালোচকদের মতে তারা একই ধরনের আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ সংকটে পড়েছে, যার মুখোমুখি পূর্ববর্তী সরকারও হয়েছিল। এই পরিস্থিতি দেখায় যে বাংলাদেশের সমস্যা কেবল ব্যক্তি বা দলের নয়; বরং রাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক শক্তির প্রতিযোগিতার মধ্যেই এর বড় অংশ নিহিত।
তাই আজ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—ক্ষমতায় কে আছে, সেটি নয়; বরং যে-ই রাষ্ট্র পরিচালনা করুক, তিনি কতটা দক্ষতার সঙ্গে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি রক্ষা করতে পারেন। কারণ রাজনৈতিক স্লোগান দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করা যায় না; বাস্তবতার কঠিন পরীক্ষায় শেষ পর্যন্ত সবাইকে একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়।
ইতিহাসের শিক্ষা হলো, সরকার পরিবর্তন হতে পারে, নেতৃত্ব পরিবর্তন হতে পারে, কিন্তু বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা পরিবর্তন হয় না। সেই বাস্তবতাকে বুঝে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়াই হওয়া উচিত যেকোনো সরকারের প্রধান দায়িত্ব
জনপ্রিয়

গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে

স্লোগান দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করা যায় না

প্রকাশের সময় : ০৯:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

Mezba Uddin Khan’s Post


অনলাইন ০৪ জুলাই২০২৬
বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনা কখনোই শুধু অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বিষয় নয়; এটি একই সঙ্গে একটি জটিল ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার অংশ। ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং মিয়ানমারকে ঘিরে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তির প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। ফলে যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক, তাকে দেশের জনগণের প্রত্যাশার পাশাপাশি বহির্বিশ্বের নানামুখী কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপও সামাল দিতে হয়।
এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করে শুধুমাত্র অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ব্যর্থতা বা সাফল্যের ভিত্তিতে কোনো সরকারকে মূল্যায়ন করলে পূর্ণ চিত্রটি ধরা পড়ে না। শেখ হাসিনার সরকারের সময়ও এই চাপ ছিল, আর বর্তমান সরকারের সামনেও একই ধরনের চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। পার্থক্য শুধু পরিস্থিতির রূপে; বাস্তবতা একই—বাংলাদেশকে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন পরাশক্তির স্বার্থের ভারসাম্য রক্ষা করে চলতে হচ্ছে।
আজ যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন, তারাও ক্রমেই উপলব্ধি করছেন যে বিরোধী দলে থেকে রাষ্ট্র পরিচালনা নিয়ে বক্তব্য দেওয়া যত সহজ, বাস্তবে সিদ্ধান্ত নেওয়া ততটাই কঠিন। উন্নয়ন, বৈদেশিক বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা, রপ্তানি বাজার, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নে কোনো একক শক্তির ওপর নির্ভর করে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। প্রতিটি সিদ্ধান্তের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে আন্তর্জাতিক সমীকরণ।
বর্তমান সরকারকে নিয়েও বিভিন্ন রাজনৈতিক মূল্যায়ন রয়েছে। সমর্থকদের মতে তারা নতুন দিকনির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করছে, আবার সমালোচকদের মতে তারা একই ধরনের আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ সংকটে পড়েছে, যার মুখোমুখি পূর্ববর্তী সরকারও হয়েছিল। এই পরিস্থিতি দেখায় যে বাংলাদেশের সমস্যা কেবল ব্যক্তি বা দলের নয়; বরং রাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক শক্তির প্রতিযোগিতার মধ্যেই এর বড় অংশ নিহিত।
তাই আজ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—ক্ষমতায় কে আছে, সেটি নয়; বরং যে-ই রাষ্ট্র পরিচালনা করুক, তিনি কতটা দক্ষতার সঙ্গে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি রক্ষা করতে পারেন। কারণ রাজনৈতিক স্লোগান দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করা যায় না; বাস্তবতার কঠিন পরীক্ষায় শেষ পর্যন্ত সবাইকে একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়।
ইতিহাসের শিক্ষা হলো, সরকার পরিবর্তন হতে পারে, নেতৃত্ব পরিবর্তন হতে পারে, কিন্তু বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা পরিবর্তন হয় না। সেই বাস্তবতাকে বুঝে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়াই হওয়া উচিত যেকোনো সরকারের প্রধান দায়িত্ব