, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাসানুল হক ইনু :বয়স ৭৯ইতিহাসের প্রত্যক্ষদর্শী

  • প্রকাশের সময় : ১২:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • ১৫ পড়া হয়েছে

অনলাইন ০১ জুলাই, ২০২৬

” যারা অতীত মনে রাখে না, তারা অতীত থেকে শিক্ষা নিতে ব্যর্থ হয়। ইতিহাস আমাদের একজন ব্যাক্তির অতীত , বর্তমান ও ভবিষ্যৎ দেখায়। ইতিহাস হচ্ছে মানব সভ্যতার আয়না।”
জার্মানির ন্যুরেমবার্গ ট্রায়ালের আদলে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়েছিল যুদ্ধাপরাধী/ রাজাকারদের বিচার জন্য। আজ সেই অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অপব্যবহার করে মুক্তিযোদ্ধাদের বিচার করা হচ্ছে। পৃথিবীর মানব সভ্যতার ইতিহাসে বিচারের এমন নির্মম
উপহাসের খুব কমই উদাহরণ আছে।
গ্রীক শিক্ষক প্রোটোগোরাস তার ছাত্র ইউয়াথলাসকে একটি শর্তে আইন শিখিয়েছিলেন যে , ” প্রথম মামলায় জিতলে সে শিক্ষকের ফি পরিশোধ করবে ‌।” ইউয়াথলাস আইনি পড়া শেষ করে কোন মামলা না লড়ে যোগ দিয়েছিলেন রাজনীতিতে ।এতে ক্ষুদ্র হয়ে প্রোটোগোরাস তার ছাত্রের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দিয়েছিলেন আদালতে।যার সমাধান আদালত দিতে পারেনি।এটাকে প্রোটোগোরাস প্যারাডক্স বলে।১৪৩১ সালে ইংল্যান্ডের আদালত ফরাসী বীর জোন অব আর্ককে ধর্মদ্রোহীতার অভিযোগে জীবন্ত পুড়িয়ে মারে।
কিন্তু যতদিনে সেই আদালত জোয়ান আব আর্ককে নির্দোষ প্রমাণ করে আবার রায় দেয় তখন জোয়ান আর বেঁচে ছিলো না।
হাসানুল হক ইনুর বর্তমান বয়স ৭৯ বছর। বিএনপি ও জামায়াতের টমেটো ট্রায়াল তাকে বিনাবিচারে দশ বছরের প্রতিহিংসামূলক কারাদণ্ড দিয়েছে। সাবেক সরকারের তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর প্রতি বিএনপি ও জামায়াতের এই প্রতিহিংসা বেশ পুরনো। তারেক রহমানের বাবা জিয়াউর রহমান এই হাসানুল হক ইনুকে অন্যায়ভাবে পাঁচ বছর জেলে ভরে রেখেছিলেন।
বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত রাজনৈতিক দল জাসদের নেতা হাসানুল হক ইনু। মেধাবী এই ছাত্রনেতা ঢাকা নটরডেম কলেজের ছাত্র ছিলেন।১৯৭০ সালে পূর্ব পাকিস্তান ( বাংলাদেশ ) প্রকৌশল ও কারিগরী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করেছেন।১৯৬৯ সালে হাসানুল হক ইনু সার্জেন্ট জহুরুল হক স্মরণে মার্চপোস্টে নেতৃত্বে দিয়েছেন।১৯৭০ সালে ৭ জুন জয়বাংলা বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছেন মেধাবী ছাত্র নেতা।১৯৭১ সালে পাকিস্তানী সৈন্যের বন্দুকের গুলি উপেক্ষা করে , মৃত্যভয় তুচ্ছ করে স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের অধীনে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করেছেন।
হাসানুল হক ইনুর সবচেয়ে বড় অপরাধ তিনি বাংলাদেশের একজন মেধাবী ছাত্রনতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা।১৯৭১ সালে ভারতের তান্দুয়া মুজিব বাহিনী প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে ১০ হাজার মুক্তিযোদ্ধার প্রশিক্ষক ছিলেন ২৫ বছর বয়সী হাসানুল হক ইনু।১৯৭২ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ দুই গ্রুপ হয়ে জাসদ প্রতিষ্ঠিত হলে হাসানুল হক ইনু জাসদের প্রতিষ্ঠাতা সহ সভাপতি ছিলেন।১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর জিয়াউর রহমানের দল বিএনপি যে ” সিপাহী ও জনতা বিপ্লব” ছিনতাই করে নিজেদের দাবি করে আদতে তা ছিল জাসদের। বিএনপির কোন অর্জনই ছিলো না এবং বিএনপির জন্মও তখন হয়নি। এই সিপাহী জনতা বিপ্লবের মূল কারিগর ছিলেন জাসদের কর্ণেল তাহের ও হাসানুল হক ইনু।
” সিপাহী জনতা বিপ্লব” নিয়ে গর্ব করা বিএনপি ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি ছদ্মবেশী গুপ্তচর দল। এজন্য ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর জিয়া বাংলাদেশে জাসদের কবর রচিত করেন। জাসদের সিরাজুল আলম খান , আসম আব্দুর রব , মেজর জলিল ও হাসানুল হক ইনু সহ সবাইকে বন্দী করেন।ক্ষমতা দখল করেই জিয়াউর রহমান যে কর্ণেল তাহের তাকে মুক্ত করেছিলেন তাকে ১ মিনিটের বিচারে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেন। পৃথিবীতে এমন অমানবিক বিচার ও জিয়াউর রহমানের নৃশংসতায় ১৯৭৭ সালে মাত্র ২ মাসে সেনাবাহিনীর ১,১৪৩ জন কর্মকর্তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে বিনাবিচারে হত্যা করেছিলেন জিয়াউর রহমান। হাসানুল হক ইনুর মত মেধাবী ছাত্রনেতাকে জিয়াউর রহমান যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিলেন।কারণ জিয়ার অবৈধ মন্ত্রীসভায় হাসানুল হক ইনু, সিরাজুল আলম খান , আসম আব্দুর রব ও মেজর জলিল সহ জাসদের নেতারা যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে জাসদের হাজার হাজার নেতাকর্মী হত্যা করেছেন এই জিয়াউর রহমান। কিন্তু গুজব ওরফে প্রোপাগান্ডা বাহিনী বিএনপি ও জামায়াত সবসময় বঙ্গবন্ধুর উপর এই দোষ চাপিয়ে আসছে। জাসদ নেতারা সবাই ছিলেন বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া ।তাই তাদের বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়েছে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল ছিল জাসদ। হাসানুল হক ইনুর মতো নেতারা কখনোই ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করেননি। বরং জিয়া থেকে শুরু কর এরশাদ সব আমলেই গ্রেফতার হয়েছেন দেশের মানুষের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে।এই হাসানুল হক ইনুরা স্বৈরাচার জিয়া ও এরশাদের পতনে অন্যতম বড় ভুমিকা পালন করেছেন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘ ১৫ টি বছর জিয়া ও এরশাদ সেনাবাহিনীর বন্দুকের নল দিয়ে রাষ্ট্রশাসন করেছেন। জিয়ার বন্দুকের নলে বাংলাদেশের অসংখ্য মেধাবী ছাত্রনেতাদের মৃত্যু হয়েছে। জিয়াউর রহমান তার দীর্ঘ শাসনামলে ৫ টি বছর সারাদেশে জরুরি অবস্থা জারি করে সরকার পরিচালনা করেছিলেন। জাতি এসব ইতিহাস কোনদিনও ভুলবে না।
বাংলাদেশের ইতিহাসে ষাটের দশকে হাসানুল হক ইনু ছিলেন বাংলাদেশের নামকরা একজন ফুটবল খেলোয়াড়।ইনু বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ফুটবল ক্লাব মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের গোলরক্ষক ছিলেন।১৯৬৫ সালে পাকিস্তান সরকার ক্ষমতায় হাইজাম্পে সমগ্র বাংলাদেশে দ্বিতীয় অবস্থান অধিকার করেন।১৯৬৬ সালে পাক – জার্মান হাইজাম্পে তৃতীয় অবস্থান অধিকার করেন।২০০৮ সালে আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে মহাজোট গঠিত হলে ইনু কুষ্টিয়া -২ আসন থেকে দীর্ঘ ষাট বছরের রাজনৈতিক জীবনে প্রথম এমপি নির্বাচিত হন ।এরপর তিনি আওয়ামীলীগ সরকারের তথ্যমন্ত্রী হিসেবে কাজ করেছেন।
হাসানুল হক ইনু শুধু একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা , মেধাবী ছাত্রনেতা ও পূর্ব পাকিস্তানের নামিদামি ফুটবল খেলোয়াড় ছিলেন না, তিনি বাংলাদেশের একজন স্বনামধন্য কলম লেখক।তার নিজের লেখা ” তিন দাগে ঘেরা বাংলাদেশ” , বাংলাদেশের রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি সহ দুই শতাধিকের উপরে প্রবন্ধ লিখেছেন। জাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি আফরোজা হক রীনা তার স্ত্রী। তাদের ছেলের নাম ইঞ্জিনিয়ার শমিত আশফাকুল হক। দীর্ঘ ৬০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে জীবনবাজি রেখে যুদ্ধ করার পাশাপাশি হাসানুল হক ইনু বারবার কারা নির্যাতিত নেতা।
তারেক রহমানের পিতা জিয়াউর রহমান বিচারপতি সায়েমের মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছিলেন। নিজের গদি পাকাপোক্ত করতে অন্যায়ভাবে হাসানুল হক ইনুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিলেন । তার পুত্র তারেক রহমান একই মার্কিন ডিপ স্টেটের ষড়যন্ত্রের ফসল হিসেবে ২০২৬ সালের এক ভোট ডাকাতির নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচনের মাত্র তিনদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মুচলেকা দিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন।১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে হাসানুল হক ইনুদের বীরত্বের কাছে পরাজিত হয়েছিল আমেরিকা ও পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। তাই ১৯৭১ সালের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিচ্ছে আমেরিকা। ত্রিশ লক্ষ শহীদের খুনী জামায়াত শিবির রাজাকারের বিচার এই দেশে না করে মুক্তিযোদ্ধাদের বিচার করা হচ্ছে। পৃথিবীর ইতিহাসে আইনের নির্লজ্জ উপহাসের উদাহরণ হিসেবে হাসানুল হক ইনুর এই বিচার উদাহরণ হিসেবে থাকবে।
যে আদালত রাজাকারের বিচারের জন্য গঠিত হয়েছে সে আদালতে হাস্যকরভাবে আজ মুক্তিযোদ্ধাদের বিচার করা হচ্ছে।
ইতিহাস তুমি সাক্ষী থেকো
সত্য সবসময় সুন্দর

জনপ্রিয়

হাসানুল হক ইনু :বয়স ৭৯ইতিহাসের প্রত্যক্ষদর্শী

প্রকাশের সময় : ১২:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

অনলাইন ০১ জুলাই, ২০২৬

” যারা অতীত মনে রাখে না, তারা অতীত থেকে শিক্ষা নিতে ব্যর্থ হয়। ইতিহাস আমাদের একজন ব্যাক্তির অতীত , বর্তমান ও ভবিষ্যৎ দেখায়। ইতিহাস হচ্ছে মানব সভ্যতার আয়না।”
জার্মানির ন্যুরেমবার্গ ট্রায়ালের আদলে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়েছিল যুদ্ধাপরাধী/ রাজাকারদের বিচার জন্য। আজ সেই অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অপব্যবহার করে মুক্তিযোদ্ধাদের বিচার করা হচ্ছে। পৃথিবীর মানব সভ্যতার ইতিহাসে বিচারের এমন নির্মম
উপহাসের খুব কমই উদাহরণ আছে।
গ্রীক শিক্ষক প্রোটোগোরাস তার ছাত্র ইউয়াথলাসকে একটি শর্তে আইন শিখিয়েছিলেন যে , ” প্রথম মামলায় জিতলে সে শিক্ষকের ফি পরিশোধ করবে ‌।” ইউয়াথলাস আইনি পড়া শেষ করে কোন মামলা না লড়ে যোগ দিয়েছিলেন রাজনীতিতে ।এতে ক্ষুদ্র হয়ে প্রোটোগোরাস তার ছাত্রের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দিয়েছিলেন আদালতে।যার সমাধান আদালত দিতে পারেনি।এটাকে প্রোটোগোরাস প্যারাডক্স বলে।১৪৩১ সালে ইংল্যান্ডের আদালত ফরাসী বীর জোন অব আর্ককে ধর্মদ্রোহীতার অভিযোগে জীবন্ত পুড়িয়ে মারে।
কিন্তু যতদিনে সেই আদালত জোয়ান আব আর্ককে নির্দোষ প্রমাণ করে আবার রায় দেয় তখন জোয়ান আর বেঁচে ছিলো না।
হাসানুল হক ইনুর বর্তমান বয়স ৭৯ বছর। বিএনপি ও জামায়াতের টমেটো ট্রায়াল তাকে বিনাবিচারে দশ বছরের প্রতিহিংসামূলক কারাদণ্ড দিয়েছে। সাবেক সরকারের তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর প্রতি বিএনপি ও জামায়াতের এই প্রতিহিংসা বেশ পুরনো। তারেক রহমানের বাবা জিয়াউর রহমান এই হাসানুল হক ইনুকে অন্যায়ভাবে পাঁচ বছর জেলে ভরে রেখেছিলেন।
বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত রাজনৈতিক দল জাসদের নেতা হাসানুল হক ইনু। মেধাবী এই ছাত্রনেতা ঢাকা নটরডেম কলেজের ছাত্র ছিলেন।১৯৭০ সালে পূর্ব পাকিস্তান ( বাংলাদেশ ) প্রকৌশল ও কারিগরী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করেছেন।১৯৬৯ সালে হাসানুল হক ইনু সার্জেন্ট জহুরুল হক স্মরণে মার্চপোস্টে নেতৃত্বে দিয়েছেন।১৯৭০ সালে ৭ জুন জয়বাংলা বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছেন মেধাবী ছাত্র নেতা।১৯৭১ সালে পাকিস্তানী সৈন্যের বন্দুকের গুলি উপেক্ষা করে , মৃত্যভয় তুচ্ছ করে স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের অধীনে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করেছেন।
হাসানুল হক ইনুর সবচেয়ে বড় অপরাধ তিনি বাংলাদেশের একজন মেধাবী ছাত্রনতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা।১৯৭১ সালে ভারতের তান্দুয়া মুজিব বাহিনী প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে ১০ হাজার মুক্তিযোদ্ধার প্রশিক্ষক ছিলেন ২৫ বছর বয়সী হাসানুল হক ইনু।১৯৭২ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ দুই গ্রুপ হয়ে জাসদ প্রতিষ্ঠিত হলে হাসানুল হক ইনু জাসদের প্রতিষ্ঠাতা সহ সভাপতি ছিলেন।১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর জিয়াউর রহমানের দল বিএনপি যে ” সিপাহী ও জনতা বিপ্লব” ছিনতাই করে নিজেদের দাবি করে আদতে তা ছিল জাসদের। বিএনপির কোন অর্জনই ছিলো না এবং বিএনপির জন্মও তখন হয়নি। এই সিপাহী জনতা বিপ্লবের মূল কারিগর ছিলেন জাসদের কর্ণেল তাহের ও হাসানুল হক ইনু।
” সিপাহী জনতা বিপ্লব” নিয়ে গর্ব করা বিএনপি ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি ছদ্মবেশী গুপ্তচর দল। এজন্য ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর জিয়া বাংলাদেশে জাসদের কবর রচিত করেন। জাসদের সিরাজুল আলম খান , আসম আব্দুর রব , মেজর জলিল ও হাসানুল হক ইনু সহ সবাইকে বন্দী করেন।ক্ষমতা দখল করেই জিয়াউর রহমান যে কর্ণেল তাহের তাকে মুক্ত করেছিলেন তাকে ১ মিনিটের বিচারে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেন। পৃথিবীতে এমন অমানবিক বিচার ও জিয়াউর রহমানের নৃশংসতায় ১৯৭৭ সালে মাত্র ২ মাসে সেনাবাহিনীর ১,১৪৩ জন কর্মকর্তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে বিনাবিচারে হত্যা করেছিলেন জিয়াউর রহমান। হাসানুল হক ইনুর মত মেধাবী ছাত্রনেতাকে জিয়াউর রহমান যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিলেন।কারণ জিয়ার অবৈধ মন্ত্রীসভায় হাসানুল হক ইনু, সিরাজুল আলম খান , আসম আব্দুর রব ও মেজর জলিল সহ জাসদের নেতারা যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে জাসদের হাজার হাজার নেতাকর্মী হত্যা করেছেন এই জিয়াউর রহমান। কিন্তু গুজব ওরফে প্রোপাগান্ডা বাহিনী বিএনপি ও জামায়াত সবসময় বঙ্গবন্ধুর উপর এই দোষ চাপিয়ে আসছে। জাসদ নেতারা সবাই ছিলেন বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া ।তাই তাদের বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়েছে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল ছিল জাসদ। হাসানুল হক ইনুর মতো নেতারা কখনোই ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করেননি। বরং জিয়া থেকে শুরু কর এরশাদ সব আমলেই গ্রেফতার হয়েছেন দেশের মানুষের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে।এই হাসানুল হক ইনুরা স্বৈরাচার জিয়া ও এরশাদের পতনে অন্যতম বড় ভুমিকা পালন করেছেন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘ ১৫ টি বছর জিয়া ও এরশাদ সেনাবাহিনীর বন্দুকের নল দিয়ে রাষ্ট্রশাসন করেছেন। জিয়ার বন্দুকের নলে বাংলাদেশের অসংখ্য মেধাবী ছাত্রনেতাদের মৃত্যু হয়েছে। জিয়াউর রহমান তার দীর্ঘ শাসনামলে ৫ টি বছর সারাদেশে জরুরি অবস্থা জারি করে সরকার পরিচালনা করেছিলেন। জাতি এসব ইতিহাস কোনদিনও ভুলবে না।
বাংলাদেশের ইতিহাসে ষাটের দশকে হাসানুল হক ইনু ছিলেন বাংলাদেশের নামকরা একজন ফুটবল খেলোয়াড়।ইনু বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ফুটবল ক্লাব মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের গোলরক্ষক ছিলেন।১৯৬৫ সালে পাকিস্তান সরকার ক্ষমতায় হাইজাম্পে সমগ্র বাংলাদেশে দ্বিতীয় অবস্থান অধিকার করেন।১৯৬৬ সালে পাক – জার্মান হাইজাম্পে তৃতীয় অবস্থান অধিকার করেন।২০০৮ সালে আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে মহাজোট গঠিত হলে ইনু কুষ্টিয়া -২ আসন থেকে দীর্ঘ ষাট বছরের রাজনৈতিক জীবনে প্রথম এমপি নির্বাচিত হন ।এরপর তিনি আওয়ামীলীগ সরকারের তথ্যমন্ত্রী হিসেবে কাজ করেছেন।
হাসানুল হক ইনু শুধু একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা , মেধাবী ছাত্রনেতা ও পূর্ব পাকিস্তানের নামিদামি ফুটবল খেলোয়াড় ছিলেন না, তিনি বাংলাদেশের একজন স্বনামধন্য কলম লেখক।তার নিজের লেখা ” তিন দাগে ঘেরা বাংলাদেশ” , বাংলাদেশের রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি সহ দুই শতাধিকের উপরে প্রবন্ধ লিখেছেন। জাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি আফরোজা হক রীনা তার স্ত্রী। তাদের ছেলের নাম ইঞ্জিনিয়ার শমিত আশফাকুল হক। দীর্ঘ ৬০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে জীবনবাজি রেখে যুদ্ধ করার পাশাপাশি হাসানুল হক ইনু বারবার কারা নির্যাতিত নেতা।
তারেক রহমানের পিতা জিয়াউর রহমান বিচারপতি সায়েমের মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছিলেন। নিজের গদি পাকাপোক্ত করতে অন্যায়ভাবে হাসানুল হক ইনুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিলেন । তার পুত্র তারেক রহমান একই মার্কিন ডিপ স্টেটের ষড়যন্ত্রের ফসল হিসেবে ২০২৬ সালের এক ভোট ডাকাতির নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচনের মাত্র তিনদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মুচলেকা দিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন।১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে হাসানুল হক ইনুদের বীরত্বের কাছে পরাজিত হয়েছিল আমেরিকা ও পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। তাই ১৯৭১ সালের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিচ্ছে আমেরিকা। ত্রিশ লক্ষ শহীদের খুনী জামায়াত শিবির রাজাকারের বিচার এই দেশে না করে মুক্তিযোদ্ধাদের বিচার করা হচ্ছে। পৃথিবীর ইতিহাসে আইনের নির্লজ্জ উপহাসের উদাহরণ হিসেবে হাসানুল হক ইনুর এই বিচার উদাহরণ হিসেবে থাকবে।
যে আদালত রাজাকারের বিচারের জন্য গঠিত হয়েছে সে আদালতে হাস্যকরভাবে আজ মুক্তিযোদ্ধাদের বিচার করা হচ্ছে।
ইতিহাস তুমি সাক্ষী থেকো
সত্য সবসময় সুন্দর