
ইসব দিনরাত্রি নামে হুমায়ূন আহমেদের একটি ধারাবাহিক নাটক প্রচারিত হয়েছিল। নিমেষেই সারা দেশে পরিচিত হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। এইসব দিনরাত্রি তাঁকে স্বাচ্ছন্দ্যও দিয়েছে। এটা লেখার টাকা দিয়ে রঙিন টিভি কিনেছেন। এইসব দিনরাত্রি নাটকটি নিয়ে পরে উপন্যাসও লিখেছিলেন। অনিন্দ্য প্রকাশনীর নাজমুল হক বইটি বের করেন। বইটি দারুণ জনপ্রিয় হয়। হুমায়ূন আহমেদকে নাজমুল একটি সাদা গাড়ি উপহার দিয়েছিলেন। সে সময় প্রকাশনাজগতে সেটি ছিল বড় ঘটনা।
.হুমায়ূন আহমেদ প্রথমবার মিসির আলি লিখলেন। সেই পাণ্ডুলিপি আমি সাপ্তাহিক বিচিত্রার জন্য নিয়ে গেছি সকালে। মিসির আলির পাণ্ডুলিপি পড়েছি ইলাস্ট্রেশন করার জন্য। বিকেলে হুমায়ূন আহমেদকে ফোন করলাম। জিজ্ঞেস করলাম, ‘হুমায়ূন ভাই, মিসির আলি কে?’
গম্ভীর গলায় হুমায়ূন আহমেদ বললেন, ‘আমিই মিসির আলি। শোনো মাসুক, আমাকে আঁকবে না। তোমার যা মনে হয়েছে, সে রকম আঁকো।’
.
একদিন হুমায়ূন আহমেদের বাসায় গিয়ে দেখি বারান্দায় তিনি ঝিম মেরে বসে আছেন। জানা গেল, তিনি একটা পরীক্ষা করছেন। আনারস খেয়ে দুধ খেলে কী হয়, তা দেখার জন্য তিনি একটি প্রমাণ সাইজের আনারসের সঙ্গে এক গ্লাস দুধ খেয়ে বসে আছেন। মাঝেমধ্যে এ ধরনের পরীক্ষা–নিরীক্ষাগুলো তিনি করতেন। কেউ কিছু বললে সহজে বিশ্বাস করতেন না।
স্বাধীন পথিক
বহুমাত্রিক প্রতিভাবান মানুষ ছিলেন হুমায়ুন আহমেদ। তিনি যেমন অতি সাধারণ বিষয়টি অসাধারণ করে তুলে ধরতে পারতেন তেমনি অতি জটিল বিষয়টিকে খুবই হাস্যোজ্জ্বল কমেডির মাধ্যমে প্রকাশ করতে পারতেন।
ভালো থাকুন হুমায়ুন আহমেদ।।





















