, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে রাহুল-মমতারা মিছিল করে যাবেন সুপ্রিম কোর্টে,মিছিলে গোটা ভারত হাঁটবে। সোমবার দিল্লি পুলিশ পরীক্ষায় রোটন তাঁর বাবার চেহলাম আয়োজনে ও বাধা ফজলে করিম চৌধুরী! আমাদের বিড়ি টানা,হাতাকাটা জামা পরার উপর যতক্ষণ না আক্রমণ আসবে ততোক্ষণ ? এই মানুষ এভাবে পচে গেল কেন? অবশেষে ডিপ স্টেট এবং ইউনূস ও খলিল সাহেবদের সাকসেস! রোটন ভাইয়ের জানাজা পড়তে যাওয়া মুসল্লীদের মসজিদ থেকে বের করে, নির্মম নির্যাতন করেছে বিএনপির ক্যাডাররা!! জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম মুসলিম সভাপতি — বদরুদ্দীন তৈয়বজী পাকিস্তানপন্থী খাঁটি মুসলমান ইনকিলাব মঞ্চ বাবা-মায়ের কাছ থেকে যা শিখেছি ত্রপা মজুমদার

১৬ দিনে সাড়ে ১৮ কোটি টাকা চাঁদা দাবি ৬২৭ অভিযোগখুলনাতে বেশি

  • প্রকাশের সময় : ০৯:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫২ পড়া হয়েছে
অনলাইন বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাত্র ১৬ দিনে সারাদেশ থেকে ৬২৭টি চাঁদাবাজির অভিযোগ জমা পড়েছে বেনামে অভিযোগ গ্রহণকারী প্ল্যাটফর্ম ChandaBD.com-এ, যেখানে দাবিকৃত অর্থের সম্মিলিত পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ কোটি ৬৫ লাখ ৭৩ হাজার ৬২ টাকায়। অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ১৬ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ জমা পড়ছে — প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৪৮ হাজার টাকা।

২৫ আগস্ট থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংগৃহীত এই তথ্য বিশ্লেষণে উঠে এসেছে চমকপ্রদ চিত্র — অভিযোগের সংখ্যায় ঢাকা এগিয়ে থাকলেও, টাকার অঙ্কে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে খুলনা, যেখানে মাত্র ৪২টি অভিযোগেই দাবি করা হয়েছে ২ কোটি ৮ লাখ টাকার বেশি — জনপ্রতি দাবির অঙ্কে যা চট্টগ্রামের প্রায় চার গুণ।

সংখ্যায় চাঁদাবাজির চিত্র:

মোট অভিযোগ: ৬২৭টি (প্রকাশিত)
মোট দাবিকৃত অর্থ: ১৮,৬৫,৭৩,০৬২ টাকা
ঢাকা বিভাগ: ২৬৯ অভিযোগ, ১২ কোটি ২৮ লাখ ৮০ হাজার ৯৬০ টাকা (মোট দাবির ৬৫.৯%)
খুলনা বিভাগ: ৪২ অভিযোগ, ২ কোটি ৮ লাখ ৩১ হাজার ৭০ টাকা — মাথাপিছু দাবি সর্বোচ্চ
চট্টগ্রাম বিভাগ: ১৩৭ অভিযোগ (সংখ্যায় দ্বিতীয়), ১ কোটি ৫৭ লাখ ৭৬ হাজার ৩৩ টাকা
রাজশাহী: ৫৬ অভিযোগ, ১ কোটি ৭ লাখ ৭৩ হাজার ২৮০ টাকা
রংপুর: ৪৩ অভিযোগ, ৯৭ লাখ ৫৩ হাজার ৮৮০ টাকা
সিলেট: ২২ অভিযোগ, ৩৫ লাখ ৭১ হাজার ৫৬৪ টাকা
বরিশাল: ৩৩ অভিযোগ, ১৫ লাখ ৭১ হাজার ৫৩৫ টাকা
ময়মনসিংহ: ২৫ অভিযোগ, ১৪ লাখ ১৪ হাজার ৭৪০ টাকা

ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, সরাসরি ‘হুমকি বা ভয় দেখানো’র মাধ্যমে চাঁদা দাবির ঘটনা সংখ্যায় কম (৫৯টি) হলেও, প্রতিটি ঘটনায় গড় দাবির অঙ্ক সবচেয়ে বেশি — মোট ৪ কোটি ৬১ লাখ ৬৬ হাজার ৭০০ টাকা। অন্যদিকে সরাসরি ‘চাঁদা দাবি’ শীর্ষক অভিযোগ ২০৫টি, যাতে মোট দাবি ৭ কোটি ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ৮০৩ টাকা — মোট দাবির প্রায় ৩৯ শতাংশ। সংখ্যায় সর্বাধিক ২৩৭টি অভিযোগ ‘জোরপূর্বক অর্থ আদায়’ সংক্রান্ত।

প্রকাশিত অভিযোগগুলোতে দর্শনার্থীরা এ পর্যন্ত ৫ হাজার ৩৫৮ বার ‘সঠিক’ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন — অর্থাৎ প্রতি ৭ জনের মধ্যে প্রায় ৬ জনই অভিযোগগুলোকে সত্য বলে মনে করছেন। তবে সাইট কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে, এ ধরনের প্রতিক্রিয়া কোনো অভিযোগের আইনি বা চূড়ান্ত সত্যতা প্রমাণ করে না।

প্রতিটি অভিযোগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে ইমেইলে পাঠানো হয়। এ পর্যন্ত মোট ৮৭৭টি ইমেইল প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

ChandaBD.com কর্তৃপক্ষ দেশের সকল গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, তারা যেন সাইটে প্রকাশিত অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করে সংবাদ প্রস্তুত ও প্রকাশ করেন। কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, “চাঁদাবাজির মতো একটি জাতীয় অভিশাপ থেকে দেশকে মুক্ত করতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চাই, এই তথ্য-উপাত্ত জনসম্মুখে আসুক, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সজাগ হোক, এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একটি চাঁদাবাজিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে গণমাধ্যম, প্রশাসন ও জনগণের যৌথ প্রচেষ্টাই একমাত্র পথ।”

সাইটটি থেকে সংগৃহীত তথ্য যেকোনো সংবাদমাধ্যম স্বাধীনভাবে ব্যবহার করতে পারবে বলেও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাতে দেশের প্রতিটি প্রান্তে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা গড়ে ওঠে এবং এই অভিশাপ চিরতরে বিলুপ্ত হয়।

তথ্যসূত্র: ChandaBD.com, সংগৃহীত ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জনপ্রিয়

গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে

১৬ দিনে সাড়ে ১৮ কোটি টাকা চাঁদা দাবি ৬২৭ অভিযোগখুলনাতে বেশি

প্রকাশের সময় : ০৯:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অনলাইন বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাত্র ১৬ দিনে সারাদেশ থেকে ৬২৭টি চাঁদাবাজির অভিযোগ জমা পড়েছে বেনামে অভিযোগ গ্রহণকারী প্ল্যাটফর্ম ChandaBD.com-এ, যেখানে দাবিকৃত অর্থের সম্মিলিত পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ কোটি ৬৫ লাখ ৭৩ হাজার ৬২ টাকায়। অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ১৬ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ জমা পড়ছে — প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৪৮ হাজার টাকা।

২৫ আগস্ট থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংগৃহীত এই তথ্য বিশ্লেষণে উঠে এসেছে চমকপ্রদ চিত্র — অভিযোগের সংখ্যায় ঢাকা এগিয়ে থাকলেও, টাকার অঙ্কে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে খুলনা, যেখানে মাত্র ৪২টি অভিযোগেই দাবি করা হয়েছে ২ কোটি ৮ লাখ টাকার বেশি — জনপ্রতি দাবির অঙ্কে যা চট্টগ্রামের প্রায় চার গুণ।

সংখ্যায় চাঁদাবাজির চিত্র:

মোট অভিযোগ: ৬২৭টি (প্রকাশিত)
মোট দাবিকৃত অর্থ: ১৮,৬৫,৭৩,০৬২ টাকা
ঢাকা বিভাগ: ২৬৯ অভিযোগ, ১২ কোটি ২৮ লাখ ৮০ হাজার ৯৬০ টাকা (মোট দাবির ৬৫.৯%)
খুলনা বিভাগ: ৪২ অভিযোগ, ২ কোটি ৮ লাখ ৩১ হাজার ৭০ টাকা — মাথাপিছু দাবি সর্বোচ্চ
চট্টগ্রাম বিভাগ: ১৩৭ অভিযোগ (সংখ্যায় দ্বিতীয়), ১ কোটি ৫৭ লাখ ৭৬ হাজার ৩৩ টাকা
রাজশাহী: ৫৬ অভিযোগ, ১ কোটি ৭ লাখ ৭৩ হাজার ২৮০ টাকা
রংপুর: ৪৩ অভিযোগ, ৯৭ লাখ ৫৩ হাজার ৮৮০ টাকা
সিলেট: ২২ অভিযোগ, ৩৫ লাখ ৭১ হাজার ৫৬৪ টাকা
বরিশাল: ৩৩ অভিযোগ, ১৫ লাখ ৭১ হাজার ৫৩৫ টাকা
ময়মনসিংহ: ২৫ অভিযোগ, ১৪ লাখ ১৪ হাজার ৭৪০ টাকা

ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, সরাসরি ‘হুমকি বা ভয় দেখানো’র মাধ্যমে চাঁদা দাবির ঘটনা সংখ্যায় কম (৫৯টি) হলেও, প্রতিটি ঘটনায় গড় দাবির অঙ্ক সবচেয়ে বেশি — মোট ৪ কোটি ৬১ লাখ ৬৬ হাজার ৭০০ টাকা। অন্যদিকে সরাসরি ‘চাঁদা দাবি’ শীর্ষক অভিযোগ ২০৫টি, যাতে মোট দাবি ৭ কোটি ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ৮০৩ টাকা — মোট দাবির প্রায় ৩৯ শতাংশ। সংখ্যায় সর্বাধিক ২৩৭টি অভিযোগ ‘জোরপূর্বক অর্থ আদায়’ সংক্রান্ত।

প্রকাশিত অভিযোগগুলোতে দর্শনার্থীরা এ পর্যন্ত ৫ হাজার ৩৫৮ বার ‘সঠিক’ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন — অর্থাৎ প্রতি ৭ জনের মধ্যে প্রায় ৬ জনই অভিযোগগুলোকে সত্য বলে মনে করছেন। তবে সাইট কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে, এ ধরনের প্রতিক্রিয়া কোনো অভিযোগের আইনি বা চূড়ান্ত সত্যতা প্রমাণ করে না।

প্রতিটি অভিযোগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে ইমেইলে পাঠানো হয়। এ পর্যন্ত মোট ৮৭৭টি ইমেইল প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

ChandaBD.com কর্তৃপক্ষ দেশের সকল গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, তারা যেন সাইটে প্রকাশিত অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করে সংবাদ প্রস্তুত ও প্রকাশ করেন। কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, “চাঁদাবাজির মতো একটি জাতীয় অভিশাপ থেকে দেশকে মুক্ত করতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চাই, এই তথ্য-উপাত্ত জনসম্মুখে আসুক, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সজাগ হোক, এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একটি চাঁদাবাজিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে গণমাধ্যম, প্রশাসন ও জনগণের যৌথ প্রচেষ্টাই একমাত্র পথ।”

সাইটটি থেকে সংগৃহীত তথ্য যেকোনো সংবাদমাধ্যম স্বাধীনভাবে ব্যবহার করতে পারবে বলেও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাতে দেশের প্রতিটি প্রান্তে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা গড়ে ওঠে এবং এই অভিশাপ চিরতরে বিলুপ্ত হয়।

তথ্যসূত্র: ChandaBD.com, সংগৃহীত ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬